মুরাদ, পড়ছেন ইলেক্ট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে।কাজ করছেন অন্যরকম গ্রুপে ইন্টার্ন এবং দারাজ.কমে কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে।কথা বললেন খোশগল্পে

মানুষ কথাটা কিন্তু অনেক সস্তা, কিন্তু এটার জন্যে অনেক ডিপলি অনুভূতি লাগে

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 9, 2016 , 7:09 পূর্বাহ্ন

murad

খোশগল্প.কম: প্রথমে আপনার পরিচয় দিয়ে শুরু করি।

মুরাদ: এই ব্যাপারটা এরকম যে, আমার বাবা ছোটবেলায় বলতো আগে ‘মানুষ হ বাবা’।ঠিক এরকম করে বলতো, তখন বুঝতাম না যে নতুন করে আর কীভাবে মানুষ হবো, যখন বড় হলাম, বোধ বাড়তে শুরু করলো, তখন বুঝলাম বোধ বলে একটা জিনিস আছে, বিবেক বলে একটা জায়গা আছে, জাজমেন্ট বলে একটা জিনিস আছে, তখন আমি বুঝলাম এইসব জায়গায় আসলে মানুষ হতে হয়।তো পরিচয়ের ক্ষেত্রে বলতে হয় যে আমি মানুষ।মানুষ কথাটা কিন্তু অনেক সস্তা, কিন্তু এটার জন্যে অনেক ডিপলি অনুভূতি লাগে।এক বছর আগেও মানুষ শব্দটা আমার কাছে আলাদা কোন অর্থ পাইতো না, কিন্তু এখন শব্দটাকে ডিপলি উচ্চারণ করি, ডিপলি বলতে ভেতর থেকে।শব্দটা মোটেও হালকা না।২য় কমন যে পরিচয় সেটা হচ্ছে সম্ভ্রান্ত ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের ছেলে।

 

খোশগল্প.কম: মানুষ হয়ে আপনার লক্ষ্য কী? মানে কেন মানুষ হয়েই জন্মেছি?

মুরাদ: কিছু মানুষ থাকে না উদ্দেশ্য-বিধেয়র বাইরে, দুইপক্ষ মারামারি করলে আরেকটা পক্ষ থাকে যারা দেখবে, আমি হচ্ছি দূর থেকে দেখা ৩য় পক্ষের মানুষ।লুকিয়ে, ছাপিয়ে বাঁচা মানুষ।

 

খোশগল্প.কম: অনেক মানুষের মধ্যে নিজের সিগ্নিফিকেন্ট রিকগনিশনটা কী দিবেন?

মুরাদ: ঐরকম যোগ্যতা আমার আসলে তৈরী হয় নাই, আমি এইটা নিয়ে ভাবছি আমার এক্সট্রা অর্ডিনারী কী আছে, আমার রিকগনিশন কি, আমার আসলে তৈরী হয় নাই।মানুষের বেসিক ট্যাগলাইন থাকে, সেটা প্রফেশনালিজমের মধ্যেও থাকে, আবার নিজের মধ্যেও থাকে।বাট আমার মধ্যে তৈরী হয় নাই, আশা করছি হবে।রিসেন্টলি আমি একটা গোল ফিক্স করেছি যে এই এই জিনিস আসলে আমার হইতে হবে।

 

খোশগল্প.কম: কী কী গোল?

মুরাদ: আমি চিন্তা করতেছি ইদানিং আইটি নিয়ে কিছু পড়াশুনা করবো, এক্সপার্ট হবো।আমার সাবজেক্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিকাল কমিউনিকেশন, এখন ওয়েব ডেভেলপিং এর মত কিছু ফ্রিল্যান্স কাজ শিখছি।পড়ার বাইরে শিখছি।

 

খোশগল্প.কম: আপনার শৈশবের সময়ে কী বলবেন?

মুরাদ: মানুষের জীবনে সবসময় ভালো সময় হচ্ছে তার শৈশব, সুখস্মৃতি খুঁজতে বলা হলে মানুষ শৈশবে চলে যাবে।কারণ তখন মানুষ তখন হিসেবে-নিকেশের বাইরে থাকে।যখন হিসেব-নিকেশের সময় আসে যেমন এখন এই সময়গুলো মস্তিষ্ক এলিমিনেট করে দেয়।সো শৈশব বিষয়টা হচ্ছে একটা সুন্দর জিনিস যেটা মস্তিষ্কে থাকে।আমার বেলায় যেটা হইছে আমরা মফস্বলে ছিলাম, ঐ এলাকায় আমাদের কোন আত্নীয়-স্বজন ছিলো না, আমরা একা একা বড় হইছি, আমি আর আমার বোন এই হচ্ছে গন্ডি।আমার আম্মু ছিলো খুব চুপচাপ মানুষ, প্রয়োজনের বাইরে উনি কোন কথা বলতেন না।আমাদের দুপুরের খাবার পরে আমাদের বলে দিতো যাও ঘুমাও, তো কখনো ঘুমাতাম, কখনো জানালায় বসে ভাই-বোন মিলে বাইরের নারিকেল গাছ, রোদ, ছাগল এইগুলোই ছিলো শৈশব।বিকালবেলা হবে, দৌড়ে মাঠে যাবো, ছেলেপেলেদের খেলা দেখবো কিন্তু কখনো খেলবো না।সন্ধ্যার আগে বাসায় এসে পড়তে বসো।

 

খোশগল্প.কম: ‘খেলবো না’ কেন?

মুরাদ: আমি যেখানে ছিলাম ঐখানে ছেলেপেলে দুইভাবে বড় হইছে, একদল ছিলো সভ্য-শান্ত, আরেকদল বাউন্ডুলে।ওরা আমাকে কীভাবে জানি সভ্য-শান্তর দলে ফেলে দিছে।এরা খেলা দেখতো না, এরা খেলতো।যেমন স্কুলে সিক্স-সেভেনে ছেলেমেয়েরা বন্ধুত্ব এগুলার উপর ঝুঁকে যায়।তো ঐ সময়ে আমার এক মামাতো ভাই, বন্ধুদের সাথে মারামারি করে মারা গেলো, আমার বাবা-মার আমি এক ছেলে, বাবা-মা খুব শকড, তারা আমাকে সারাদিন এটা বলে রাখতো তোমাকে যেন কোন বন্ধুর সাথে না দেখি।পড়া মুখস্থ করার চাইতে এইটা বেশী মুখস্থ করতে হইতো তোমার কোন বন্ধু থাকবে না।সো আমার বন্ধু ছিলো সময়ের সাপেক্ষে, প্রয়োজনের সাপেক্ষে।আমার স্কুল লাইফ, টোটাল লাইফটা অনেক বাজে ছিলো যেটা আমি এখন বুঝতে পারি।একটা সাইকেলে করে স্কুলে যেতাম, বিকেল বেলায় বের হয়ে আবার বাসায় চলে আসতাম, একটা ছেলে ছিলো শুধু ওর সাথেই কথা বলতাম।

 

খোশগল্প.কম: সেক্ষেত্রে ডিসিশান মেকার আপনার বাবা-মা ছিলো, এইটা নিয়ে পরে সমস্যায় পরেন নাই?

মুরাদ: ভালো একটা প্রসঙ্গে আসছো, এই ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে আমার ডিসিশান নেয়া জিনিসটা আমার বাবা-মা কখনো আমাকে শেখায় নাই।আমার এমনো ঝামেলা হইছে ডিসিশান নেয়ার জন্যে আমার টস করা লাগে।এত বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছি।এখন অনেকটা উতরে গেছি, আগামীকাল সকালে কি করবো এটা ঠিক করার জন্যে আমার রাত্র ৩টা পর্যন্ত ভাবা লাগতো।

 

খোশগল্প.কম: এখন আইটি নিয়ে পড়ছেন, শৈশবে কী চাইতেন?

মুরাদ: ছোটবেলার কোন ভাবনা আমার মনে নাই, শৈশবে বাচ্চাদের কল্পনায় কত সুপার পাওয়ার থাকে না? আনফরচুনেটলি আমার এরকম কিছু ছিলো না, এটা সত্যি কথা।

আমার বন্ধু ছিলো এক একটা টার্মের ফ্রেন্ড, সেভেনে একটা, এইটে একটা আবার কলেজে দুই বছরের জন্যে একটা।মানে এমন ভাবে বন্ধুত্বটা হইতো যে যারা সবাই মাথায় রাখতো দুই বছর পর আমাদের বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে।কলেজে যে ফ্রেন্ড ছিলো ও এখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, ওর সাথে অই দুই বছরই ভালো সম্পর্ক ছিলো।এখন আর তেমন যোগাযোগ নাই।মানে টার্মস মেইন্টেন করে।কীভাবে জানি থাকে না, শেষ হয়ে যায়।এখন যারা ফ্রেন্ড আছে, কী হবে জানেন দেখা যাবে যে এরা নাই।

 

 

খোশগল্প.কম: সেক্ষেত্রে ল্যাকিংস কার?

মুরাদ: সম্পূর্ণ ল্যাকিংস আমার, আমার আমিত্বে বড় হওয়ার কারণে।এখন বের হয়ে আসার চেষ্টা করতেছি।ঠিক এই কারণে আমি অনেক কিছুতে ইমম্যাচিউর, অনেক অগোছালো, আমার মনে হয়  এই জিনিসগুলা গুছিয়ে নেয়ার জন্যে আরো একবছর লাগবে।এই ঝামেলা গুলো কোথা থেকে কীভাবে হইছে আমি জানি না, বাট হয়ে গেছে।এটার জন্য শুধুমাত্র পরিবার দায়ী না, আমিও ছিলাম।

 

 

খোশগল্প.কম: এখন কী পরিকল্পনা কী আপনার?

মুরাদ: কি হইতে চাই এইটার চাইতে বড় কথা হচ্ছে সময় আমাকে কী বানাইতে চায়, এটা বেশী ইম্পোর্টেন্ট ইস্যু।হ্যাঁ আমার একটা প্যাশন থাকতে পারে, চেষ্টা করে যাবার একটা জায়গা থাকতে পারে কিন্তু  সময়ই আসলে আমাদের নিয়ে যায়।যদি বলো চেষ্টা করছেন কোথায়, আমি আসলে চেষ্টা করছি ভিন্ন কিছু একটা করার, আমি জানি না ভিন্ন কিছু একটা কী হবে।আমার কাছে ভিন্ন কিছু ডেফিনেশন নাই।আমি জানি না, শুধু জানি ভিন্ন কিছু করব।আর আমার বিশ্বাসের উপর আমার প্রচন্ড আস্থা আছে।হ্যাঁ, আমার কাছে মনে হয় সময়ের একটা অংশ।আমি আসলে কি কি করবো টাইম ট্রাভেল আমাকে নিয়ে যাবে।আমার কাছে সবচেয়ে বেশী স্টাবলিশড জিনিস মনে হয় টাইমকে।আর এখন আমি অনেক সামাজিক মানুষ হওয়ার চেষ্টা করছি, সামাজিকতা নিয়ে বাঁচতে হবে।

 

খোশগল্প.কম: প্রফেসনালিজমের জায়গায়?

মুরাদ: আমি রিসেন্টলি ভাবছি আইটির উপরেই ক্যারিয়ার করবো।যেমন ওয়েব ডেভেলপিং, প্রোগ্রামিং শেখার ইচ্ছা আছে।আগে এই ইচ্ছাটা ছিলো না।একসময় ভাবতাম ট্র্যাকের বাইরে থাকবো, এখন দেখছি ট্রাকের বাইরে চরিত্র থাকে না, চরিত্র হারিয়ে যায়।এইজন্য আবার ট্র্যাকে আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছি।

 

খোশগল্প.কম: আপনি অন্যরকমে কাজ করছেন বা ………

মুরাদ: হ্যাঁ, আমি আমার ফ্যামিলির পরে সবচেয়ে বেশী শিখছি অন্যরকমে’, এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখছি।প্রফেশনালিজম শিখছি, দায়িত্ববোধ শিখছি।এটা আমি অন্যরকমে’ আছি বলে বলছি না।আমি যখন গ্রাজুয়েশন শেষ করে চাকরীতে ঢুকতাম আমি খুব ঝামেলায় পরে যেতাম অফিসিয়াল ব্যাপার নিয়ে, গ্রাজুয়েশনের আগেই এই জিনিসগুলা আমি শিখেছি এই প্রতিষ্ঠান থেকে।এইটা আমার জন্য অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।আমার ল্যাকিংস গুলো আমি এখন বুঝতে পারছি।আরো দুইবছর পরে যদি আমি ল্যাকিংসটা ধরতে পারতাম তাহলে আমার কি অবস্থা হত চিন্তা করো।

 

 

খোশগল্প.কম: কাজের বাইরে পরিকল্পনা কী, যেগুলো ভবিষ্যতে করতে চান?

মুরাদ: বাবা-মা নিয়ে একসাথে হজ্জ্ব করতে চাই, রিসেন্টলি পড়লাম কাবা হচ্ছে নাকি আল্লাহতায়ালার আরশের সরাসরি নিচে, তো ঐখানে দাঁড়িয়ে একবার আকাশের তাকাতে চাই, ইজিপ্ট ভ্রমণ করতে চাই।তারপরে এভারেস্টের এলাকায় প্রচন্ড ঠান্ডায় একরাত কাটাতে চাই।এগুলো তো আহামরি স্বপ্ন না আশা করি সব কয়টাই হয়ে যাবে আশা করি।

 

 

খোশগল্প.কম: নিজেকে অন্যদের চাইতে আলাদা ভাবতে পারেন এমন কোন ক্ষেত্র আছে?

মুরাদ: আমার অনুভূতিবোধটা প্রবল এবং প্রখর।আমি সস্তায় বিকিয়ে যাওয়া মানুষ হইতে পারতাম, যেটাকে বলে বুর্জোয়া টাইপ।কিন্তু আমি হই নাই।এইটাই আমার কাছে অনেকবেশী পাওয়া মনে হয়।

আক্ষেপ ও আছে, বড় আক্ষেপ হচ্ছে সময়কে মূল্য দেই নাই, সময় ব্যাপারটা এত হেলাফেলা না।হেলাফেলা করলে এইটার জন্য মূল্য দিতে হয়, অনেক কঠোর ভাবে মূল্য দিতে হয়।সময়কে যত স্বস্তাভাবে দেখি সময় আসলে তত স্বস্তা ব্যাপার না।

 

খোশগল্প.কম: আপনার পার্সোনালিটির স্ট্রং পয়েন্ট কী আপনার কাছে?

মুরাদ: শার্প পার্সোনালিটি হচ্ছে ইগো দেয়, আর গড়পড়তা পার্সনের আত্নসম্মানবোধ খুব প্রবল থাকে।এইটা বলা আসলে খুব মুস্কিল নিজের জন্য।একটা শক্ত জায়গা আছে যেমন কারো থেকে একটা কলম নিলাম, তারপর পকেটে করে নিয়ে চলে আসলাম, এই ব্যাপারগুলো মনের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খুঁত তৈরী করে।পারফেকশন অনেক ভারী শব্দ, কিন্তু পারফেকশন আসে কিন্তু খুব ছোট ছোট জায়গা থেকে।আমি এখন কারো থেকে একটা কলম নিলে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসি।সো শক্ত ব্যাপার হচ্ছে এথিক্স, এবং বায়াসড না হওয়া।অন্যের মন্তব্যে আমি খুব প্রভাবিত হই, এইজন্য চেষ্টা করছি না হওয়ার।

 

 

খোশগল্প.কম: আপনি ফেইসবুকের লেখালেখিগুলো অনেকটা প্রেম-ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ-এইটা কী সচেতনভাবে?

মুরাদ: এইটা হইছে কি একবার চিন্তা করলাম ফেইসবুকে একটু সিরিয়াসভাবে হ্যানডেল করতে হবে, একবার নাগরিক জীবন, যান্ত্রিকতা এগুলা নিয়ে লিখলাম দেখলাম রেসপন্স খুব কম, ভাবলাম আমার পোস্টে অনেক লাইক পরতেছে না কেন।যখন প্রেম-টেম নিয়ে লিখলাম তখন হুমড়ি খেয়ে পরলো।ভাই ভালো লিখছেন।চিন্তা করলাম আমজনতা যা পছন্দ করে তাই নিয়ে লিখি না কেন।এখন আবার এই ইচ্ছাটা নাই, এখন স্ট্যাটাসই দিতে ইচ্ছা করে না।তখন হাতে সময় ছিলো, তো অনেকটা এক্সপেরিমেন্ট ছিলো মানুষ আসলে কি চায়।একটু সাড়া পাওয়ার পর ধারাবাহিকতার মধ্যে পড়ে গেছিলাম।

 

 

খোশগল্প.কম: কী নিয়ে আগ্রহ অনুভব করেন এখন?

মুরাদ: প্রচন্ড জানতে ইচ্ছা হয়, এভ্রিথিং নিয়ে।সবকিছু নিয়ে জানার এবং একটা ধারাবাহিকতা রেখে।

 

 

খোশগল্প.কম: জীবনের এই পর্যন্ত এসে জীবন থেকে কী শিখেছেন মনে করেন?

মুরাদ: অনেক ভালো একটা জিনিস শিখছি, সেটা হচ্ছে লাইফ ইজ এন ইকো, জীবন প্রতিদ্ধনি।আমি যা করবো আমি তা ফিরে পাবো যে কোন ওয়েতে, ইউনিভার্সাল ট্রুথ।এইজন্য আমার ব্যক্তিগত ধারণা যে পাপবোধ থেকে সরে আসা।বাহ্যিকতা আসলে সুখ না, সুখ ভিন্ন জিনিস।আর প্রতিফলের যে মানসিক কষ্ট এইট শারীরিক যন্ত্রণার চাইতেও বেশি।আমি একটা লেখায় পড়ছিলাম ‘আমাকে দশ বস্তা চাল দেয়া হোক, আমি প্রতিদিন দশ তলায় উঠাবো, আমার মানসিক শাস্তি কমিয়ে দেয়া হোক’ মানসিক শাস্তি খুব প্রকট জিনিস।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত