মানুষ দেখতেই ধরণীতে আসা।তাই সবকিছুর পর রহস্য,বিভ্রান্তি নিয়ে মানুষ দেখেন।প্রতিটি মানুষ,প্রতিটি কথা,প্রতিটি সময় তাকে নতুন অভিজ্ঞতা দিয়ে সমৃদ্ধ করে।ক্রমাগত সময়ের বেড়াজালে জীবন কে নতুন রং এ রাঙগায়। কামরুন্নাহার মুন্নী,জীবনীশক্তি হিসেবে রয়েছে তার ভালোবাসার মানুষদের অনুপ্রেরণা এবং কতিপয় মানুষের বিষোদগার। বিশ্বাস করেন পৃথিবী তে শান্তি নেমে আসববে,মানুষ ভালোবাসবে মানুষকে।

মানুষ হয়ে জন্মেছেন বলেই পৃথিবী তে দাগ কেটে দিতে হবে। মানুষ হয়ে জন্মেছেন বলেই মানুষকে ভালোবাসতে হবে।

আমার ইচ্ছে আজন্ম শিল্পের সান্নিধ্যে থাকা

লিখেছেন...admin...মার্চ 21, 2016 , 5:28 পূর্বাহ্ন

munni

খোশগল্প.কম: নজরুলের নার্গিস নামটা আপনার আইডি তে দেখা যায়,এর পিছনে কোন কারণ আছে কি?

মুন্নী: জি আছে।  নজরুল বিয়ের রাতে নারগিস কে ফেলে যায়।নব বধু দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলেন, তিনি ফিরলেন না।এক সময় তার বিয়ে হয়ে গেলো এবং সে চলে গেলো দেশের বাইরে।তাঁদের চিঠিতে যোগাযোগ ছিলো।নজরুল পরে তাকে ফেরত চেয়েছিলো খুব করে, উনি প্রচন্ড ভালোবেসেও ফেরেন নি। আমার কাছে ভালোবাসা মানুষকে অসহায় নয়, শক্তিশালী করে। নারগিস হেরে না যাওয়া এক পোড় খাওয়া নারী।

খোশগল্প.কম: বাহ। ভালোবাসা ব্যাপারটা তাই বলে দূর্বল কি কখনোই করে না?

মুন্নী: করে বলেই আমরা এটাকে ভুলে যাই না।মুছে ফেলি না।গভীর রাতে সবার আড়ালে কাঁদি। কিন্তু দিনশেষে মাথা নোয়াই না।

খোশগল্প.কম: তো লেখালেখির শুরু কবে থেকে?

মুন্নী: ২০০৩  সালে।

খোশগল্প.কম: হঠাৎ করেই?

মুন্নী: আমার মুগ্ধ হবার রোগ জন্ম থেকেই। বাংলা পড়াতেন  জাহানারা ম্যাম।তার যত্ন ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়েই শুরু।

খোশগল্প.কম: প্রথম লেখাটা কোনটা ছিলো?

মুন্নী: সাদা শাড়ি।

খোশগল্প.কম: সবমিলিয়ে কবিতা ছিলো কয়টা?

মুন্নী: কবিতা ছিলো ৪২ টি। বইটা বেশ যুদ্ধ করে বের হয়।বুঝতাম না,সকল জায়গায় মোটামুটি দৌড়াদৌড়ির পর আমি একা পেরেছি।

খোশগল্প.কম: বই বের করা ব্যাপারটা তাও এতো ছোট বয়সে,এই মনের জোরটাই বা পেলেন কোথায়?

মুন্নী: আসলে আম্মার ইচ্ছে ছিলো যে বইটা বের হোক। তার কথা ছোটবেলার বিষয় গুলো ছোটবেলায়ই বের করা উচিত। বড় হলে হয়তো এইগুলান মনে হবে অপরিণত। আম্মা কে পরী বলি, সেখানে আমার একটা কবিতাও আছে পরী”কে। সেই আমার শক্তি অনুপ্রেরণা।

খোশগল্প.কম: এরপর আর কয়টা বই বেরিয়েছে?

মুন্নী: নন্দিত চিঠি শুধু মাত্র চিঠি নিয়ে। আর কবিতা ও কথোপকথন  ছিলো কবিতার ই। চিঠিগুলো  এমন ছিলো যে একটা এবোরশন হওয়া বাচ্চা কিংবা ভাষা আন্দোলনের নাম না জানা ছেলেটি।তবে শুদ্ধ অবগাহন প্রথম বই।

খোশগল্প.কম: প্রকাশনী কোনগুলা ছিলো?

মুন্নী: ভিন্ন চোখ,ঐতিহ্য , রাঁচি গ্রন্থ নিকেতন।

খোশগল্প.কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি স্বপ্ন ছিলো?

মুন্নী: আমি জানতাম আমি এখানেই পড়বো। এটা ছিলো আমার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।আমার স্বপ্ন অন্য…

খোশগল্প.কম: স্বপ্ন অন্য বলতে?

মুন্নী: আসলে প্রতিষ্ঠান,বিষয় নিয়ে আমার কোনদিন বাড়তি উদ্বেগ ছিলো না। আমি স্বপ্ন বলতে বুঝিয়েছি আমার কোন জিনিসটার জন্য লড়াই,বেঁচে থাকা,টিকে থাকা।

খোশগল্প.কম: তাহলে এখন সেই স্বপ্নটার কথা শুনি!!

মুন্নী: স্বপ্ন(ব্যক্তিগত)বাবা চলে যাবার পর মাকে হাসতে দেখি নি।মহিলা কারন ছাড়াই অমন কঠিন আর গম্ভীর হয়ে গেছে।যদিও সে এমন না। আমি আমার পরীকে একটা দোতলা বাড়ি(ক্যাসেল) গড়ে দিতে চাই। যেখানটার নিচ তলায় একটা সিংহাসন থাকবে। আমার সম্রাজ্ঞী গা ভরা গয়নায় প্রতি সকালে ওখানে বসবে। আর আমরা দিন শুরু করবো তার পায়ের কাছে বসে।

খোশগল্প.কম: স্বপ্ন(সারাজীবন নিয়ে)

মুন্নী:আমি একটা স্কুল দিতে চাই, যে স্কুল সাধারণ স্কুল নয়।এটি হবে মুল্যবোধের স্কুল।এখানে ব্যক্তিত্ব,মনুষ্যত্বের দৃষ্টিভঙ্গির,জীবন,নারীত্ব,আত্মশক্তি বিষয়ের উপর কোর্স থাকবে। আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মজিজ্ঞাসা কিভাবে মানুষকে শুদ্ধ করে তার প্রক্রিয়া।এখানকার শিক্ষক হতে পারে নিচু শ্রেনী থেকে যে কোন মানুষ।(বয়স কোন মাপকাঠি নয়)অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।ছাত্র ছাত্রিও তেমনি যে কেউ।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলার কথা শুনতে চাচ্ছি…….

মুন্নী: বড় হয়েছি পাহাড় ঘেঁষা অঞ্চলে। নদী,বালি গায়ে মেখে। আব্বু বাইরে থাকতো, আম্মা আর ছোট ভাই নিয়ে আমাদের সংসার। আব্বু আম্মার ঝগড়া দেখেছি,দুঃসময়ে হাত ধরে থাকতে দেখেছি।তবে সবচেয়ে বড় যেই ব্যাপারটা ছিলো সেটা হচ্ছে স্বীকৃতি। সব কিছুতেই আমার বাসায় বেশ একটা সাপোর্ট ছিলো।

খোশগল্প.কম: গ্রামের বাড়ি কোথায়?

মুন্নী: নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানায়।বিরিশিরি তে। গারো পাহাড়ের মেয়ে আমি।

খোশগল্প.কম: ওখানের এক নদী নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম আপনার।

মুন্নী: সুমেশ্বরী  সই আমার। আমার দুঃখ সুখ অনেক কিছুর স্বাক্ষর রয়েছে এর বুকে।

খোশগল্প.কম: হেলাল হাফিজ আপনাদের ওদিকের না?

মুন্নী: তিনি আমায় বিধু বলে ডাকেন। নির্মলেন্দু গুণ সেও প্রাণের মানুষ।বা রী সিদ্দিকি,কুদ্দুস বয়াতি…  তিনারা যে আমার বাড়ি ঘেঁষে বাস করেন।

খোশগল্প.কম: তাদের সান্নিধ্যও কি লেখায় আগ্রহ আনে?

মুন্নী: না।।তবে তাঁদের লেখা আনে।

খোশগল্প.কম: অনুপ্রেরণা কে?

মুন্নী: জীবনের দুর্বিষহতা।

খোশগল্প: সামনে করার ইচ্ছে কি?

মুন্নী: রাজনীতি নিয়ে লিখবো।শক্তি, সম্পর্ক, উত্থান, পতন রান্নাঘর, প্রণয়, সংগ্রাম, মানবিকতা, বিবেক, বেড়ে ওঠা। মুখ থুবড়ে পড়া সব জায়গায় কিভাবে রাজনীতি সেটা নিয়ে পড়াশুনা এবং লিখার ইচ্ছে।

খোশগল্প.কম: কিন্তু রুটিরুজি?

মুন্নী: লিখাটা আমার বাঁচার উপজীব্য। বলতে পারেন মৌলিক। লিখা ছাড়া বাঁচবো না। আমি কোচিং এ ক্লাস নিই মাঝে সাঝে।কথাবন্ধু হিসেবে ছিলাম অনেক দিন।।টিউশন করি।আর বিসিএস দেবো(সবার জন্য, আমার ইচ্ছে নেই)আমার ইচ্ছে আজন্ম শিল্পের সান্নিধ্যে থাকা।তাই ডিরেকশন নিয়ে কাজ করবো।

খোশগল্প.কম: নিজেতো নাট্যকলায় পড়ছেন,নিজের শিল্পী হওয়ার ইচ্ছা নেই?

মুন্নী: আমার ক্যামেরার পেছনে কাজ করার ইচ্ছে।আমি চাই কিছু ভিন্ন ধারার।আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র,নাটক কিংবা টেলিফিল্ম বা বিজ্ঞাপন আসুক।

খোশগল্প.কম: কোন প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এর মাঝে?

মুন্নী: সাম্প্রতিককালে ক্যামেরা কিনলাম।এবার আস্তে আস্তে আগাবো।আর আমাদের ডিরেকশন কোর্স ফাইনাল ইয়ারে(আমি এর আগেই শেষ করতে চাই।)

খোশগল্প.কম: জীবন সুন্দর?

মুন্নী: অনেক বেশি….  এই জন্যই  কোনকিছুই আমাকে থামায় না।আমি ছুটে বেড়াই।

খোশগল্প.কম: এই সৌন্দর্য অনেকেই খুঁজে  পায় না। তাদের জন্য কিছু বলুন।

মুন্নী: জীবনের বশে নয়, নিজের বশে জীবন কে আনতে হবে।হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে টিকে থাকার যুদ্ধ চালাতে হবে। জীবনের একশোটা মাত্রা, এক মাত্রা চ্যুত হলেই ভিন্ন মাত্রায় গুছিয়ে নিতে হবে। বেঁচে থাকার জন্য,জীবন কে সুন্দর করার জন্য বেশি কিছু লাগে না। উচ্চাভিলাষ কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়।

খোশগল্প.কম: আজ থেকে বেশ কিছুদিন পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মুন্নী: এলোমেলো চুলে মোটা ফ্রেমের চশমায়,  ছেলের সাথে টিএসসিতে। চা খেতে খেতে যখন ছেলে অবাক হবে, মা তোমার মুভি অস্কারের জন্য যাচ্ছে, আর এর তোমায় চেনে না।  আমি হাসবো ছেলের অভিমানী চোখের দিকে চেয়ে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত