শান্ত-শিষ্ট অন্তর্মুখী স্বভাবের একটা ছেলে। মাথা গরম করে ভুল কিছু করে ফেলার দৃষ্টান্ত নাই। যখন রাগ দেখায় তার শতভাগ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চাল। ইকবাল হাসানী।পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে।ছবি তুলতে ভালোবাসেন।প্রদর্শনিও হয়ে গিয়েছে দুইটা। ফটোজার্নালিষ্ট হিসেবে সামনে কাজ করতে চান।কাছের মানুষগুলোকে অনেক বেশি ভালোবাসেন তবে তার মতেই তার একটা বদ অভ্যাস আছে। বেশি আপন মানুষগুলোকে কিছুদিনের জন্য মানসিক পীড়নের ভেতর দিয়ে নিয়ে যান……

শুধু এতটুকু আত্মবিশ্বাস জন্মেছে যে আমার ছবি জনমানুষের সামনে প্রদর্শিতও হতে পারে

লিখেছেন...admin...মার্চ 22, 2016 , 12:36 অপরাহ্ন

ikbal

খোশগল্প.কম: ফটোগ্রাফির শুরুটা কবে থেকে?

ইকবাল: ২০১৪ সালের জানুয়ারির ১৮ তারিখ থেকে।

খোশগল্প.কম: এতো নির্দিষ্ট করে মনে রাখার কোন নির্দিষ্ট কারন আছে কি?

ইকবাল: ক্যামেরা এর আরোও দশদিন আগে হাতে নেওয়া। কিন্তু ১৮ তারিখেই প্রথম ক্যামেরা নিয়ে বাইরে বের হওয়া। মিরপুর ডিওএইচএস গিয়েছিলাম কয়েক বন্ধুর সাথে। এর মধ্যে একজন ফটোগ্রাফার।

খোশগল্প.কম: কোন নির্দিষ্ট টপিক কি রয়েছে?

ইকবাল: তখন তো আর ফটোগ্রাফির নানা জেনার সম্পর্ক ধারণা ছিলনা। শুধুমাত্র ক্যামেরা অপারেট করা শেখার জন্যই বন্ধুদের সাথে যাওয়া।তবে ওইদিন আমি ক্লিক করেছিলাম হাতে গুণা কয়েকটা ছবি। বাকি সব ক্লিক আমার বন্ধুরই। সব আমাদের পোর্ট্রেইট আর গ্রুপ ছবি।

খোশগল্প.কম: আপনার ছবি নিয়ে তো শুনেছি exhibition ও হয়েছে!!

ইকবাল: হ্যাঁ। এর মধ্যে দুটো এক্সিবিশন করেছি। একটি আয়না বাংলার উদ্যোগে নোয়াখালীতে। এখানে বিভিন্নজিনের সর্বমোট ৭১ টি ছবি প্রদর্শিত হয়।  আরেকটি হয় 71Pix এর উদ্যোগে ঢাকার দ্রিক গ্যালারিতে যেখানে সর্বমোট ২০০টির মত ছবির মধ্যে আমার দুটি ছবি স্থান পায়।

খোশগল্প.কম: বাহ।এচিভমেন্ট বলা যায় কি বলেন?

ইকবাল: নাহ। এটাকে আমি তেমন অর্জন ভাবছিনা। সবে মাত্র তো শুরু হল। শুধু এতটুকু আত্মবিশ্বাস জন্মেছে যে আমার ছবি জনমানুষের সামনে প্রদর্শিতও হতে পারে। লুকিয়ে রাখার মত না। আরোও অনেক দূর যেতে হবে। তবে আর্থিক কারণে আপাতত কিছুদিন এক্সিবিশন করার চিন্তাভাবনা করছিনা।

খোশগল্প.কম: অবসর মানে ফটোগ্রাফি না ফটোগ্রাফি মানে অবসর?

ইকবাল: ফটোগ্রাফিকে এখনও অতটা প্যাশনের জায়গা থেকে নিতে পারিনি। তাই খুব বেশি ছবি তোলা হয়না। ক্যাম্পাসে কোন ডিপার্টমেন্টাল প্রোগ্রাম থাকলে, কোথাও ঘুরতে গেলে শুধু তখনই ছবি তোলা হয়। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, দর্শনীয় স্থানগুলোতে হাতে লম্বা সময় নিয়ে যাওয়া হয়না। গেলাম আর দেখা মাত্রই বেএ হয়ে গেলাম। সময় নিয়ে যে ‘ফটোগ্রাফি’ করব সেই সুযোগটা হয়ে উঠেনা। যারা সাথে থাকে শুধু তাদের ছবি তুলে ফটোগ্রাফার বা সন্তুষ্ট কোনটিই হওয়া যায়না। এই দুই বছরে হাতে গুনা কয়েকটি মাত্র ‘ফটোওয়াক’ এ গিয়েছি। দুইটি এক্সিবিশনের তিনটি ছবি ওই কয়েকটা ফটোওয়াকেরই ফসল। ‘ফটোওয়াক’ এর জন্য একটা ভাল ফটোগ্রাফার সার্কেল দরকার। কিন্তু আলসেমির কারণে তা আর করা হয়ে উঠেনা।

খোশগল্প.কম: তাহলে প্যাশনের জায়গা কোনটা আপাতত?

ইকবাল: ঘুরাঘুরি,  আড্ডাবাজি। রাতে রাতে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ,  হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্যুরে যাওয়া।

খোশগল্প.কম: সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ছেন তো সেক্ষেত্রে তো ফটোগ্রাফি সম্ভবত কাজে দেয়,তাই কি?

ইকবাল: হ্যাঁ। তা দেয়। অবশ্য সাংবাদিকতা ডিপার্টমেন্টের বেপারে যা ভেবেছিলাম, নিত্যনতুন ক্যামেরা, যন্ত্রপাতি নিয়ে হাতে কলমে কাজ শেখাবে তার কিছুই নেই। ফটোগ্রাফি করে এতটুকু নিশ্চিন্তে থাকতে পারি যে পাস করার পর ফটোজার্নালিস্ট হতে পারব অন্তত। প্রিন্ট বা ইলেকট্রিক মিডিয়ায় সাংবাদিকতা করার সুযোগ তো আছেই।

খোশগল্প.কম: তাহলে প্রফেশন কি দুটার একত্রেই আসবে?

ইকবাল: প্রফেশন হিসেবে কি বেছে নিচ্ছি তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নিতে পারিনি।

খোশগল্প.কম: অনার্স চতুর্থ বর্ষে এসেও কনফিউজড?

ইকবাল: ব্যাপার হল কোন পেশাকে বড় করে দেখিনা। আবার কোন পেশাকে ছোট করেও দেখিনা (যারা শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদের অবশ্যই বড় করে দেখি)। তাই কোন পেশাকে যে টার্গেট করে, তা অর্জন করে আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগব তার উপায় নেই। তবে এটা সবসময় চাই যাতে আমার কখনও অভাব না থাকুক।

খোশগল্প.কম: বাহ।ছোটবেলার কিছু মজার ঘটনা শুনতে চাই যদি…..

ইকবাল: কঠোর অনুশাসনের নিয়ে বড় হওয়া। আমার সাথে ঘটেছে এমন কোন মজার ঘটনা এই মুহূর্তে মনে পড়ছেনা।

খোশগল্প.কম: জীবনে পাওয়ার ইচ্ছে কি এখন পর্যন্ত?

ইকবাল: ইচ্ছেটা খুব বড় না। পরিবারের সবাই সুস্থ থাকুক সবসময়।  ছোট বেলায় আব্বু আম্মুকে যেরকম স্বাস্থ্যবান শক্তপোক্ত মানুষ দেখেছিলাম আজীবন তাঁরা ওভাবেই থাকুন। ভাইয়ার পরিবার, আমার ভবিষ্যত মানুষগুলো সুস্থ থাক। মানসিক দ্বন্দ্ব কোথাও না থাকুক।

খোশগল্প.কম: “ভালো থাকি” “ভালো থাকুক” এই চাওয়াগুলোই বেশি কঠিন,নয় কি?

ইকবাল: মনে তো তাই হয়। এই ভালা থাকার বাসনা নিয়েই মানুষে মানুষে এত যুদ্ধ। ওই যুদ্ধই মানুষের শান্তি কেড়ে নেয়। কখনও আমাদের শারীরিক মৃত্যু ঘটায়, কখনও বা মানসিক।

খোশগল্প.কম: ভালো বলেছেন।জীবনে আপনি সুখী?

ইকবাল: অবশ্যই।  জীবনটা ‘সঙ্গীহীন’ বেহেশত আমার। এইকালে এতটা পেয়ে গেলাম যে পরকালেরটা আর উনি দেবেন কিনা সন্দেহে থাকি।

খোশগল্প.কম: সবশেষে “ইকবাল হাসানী” কে নিয়ে যদি ছোট করে কিছু বলতে বলি?

ইকবাল: শান্ত-শিষ্ট অন্তর্মুখী স্বভাবের একটা ছেলে। মাথা গরম করে ভুল কিছু করে ফেলার দৃষ্টান্ত নাই। যখন রাগ দেখায় তার শতভাগ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চাল। কারো উপকার করুক আর না করুক কারো ক্ষতি করেনা।  আর ‘ইকবাল কারো টাকা মাইরা খায়না’। তবে একটা বদ অভ্যাস আছে। বেশি আপন মানুষগুলোকে কিছুদিনের জন্য মানসিক পীড়নের ভেতর দিয়ে নিয়ে যায় যেখানে ভুক্তভোগী কারণটা ধরতেই পারেনা কেন তার/তাদের সাথে এমন করা হচ্ছে। ভাবে তাদের ইগনোর করা হচ্ছে বা তাদের আর ‘প্রয়োজন নেই’।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত