সাফির আবদুল্লাহ, লেখালেখি করতে পছন্দ করেন । লিখতে গেলে কোন জিনিস্তা বেশি প্রয়োজন সেটা জানতে চাইলে তার উত্তর,  “অনেক  বই পড়তে হবে, আমার কাছে মনে হয় এটা এনাফ না। এখানে ফিলোসফি থাকা লাগে, শুধু বই পড়লে ভালো পাঠকই হওয়া যায়। সব ভালো পাঠকরা কিন্তু লেখক না”।

সবকিছু সামাল দিতে গিয়ে আমি এভারেজ হয়ে গেছি

লিখেছেন...admin...জুন 1, 2016 , 11:26 পূর্বাহ্ন

sf

খোশগল্প.কম: তুমি এখন একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে পড়ছ, কিন্তু তোমার আগ্রহের বড় একটা জায়গা জুড়ে আছে লেখালেখি। এটা কি তোমার মধ্যে সেলফ কন্ট্রাডিকশন তৈরী করে না?

সাফির: আমি এটা বিশ্বাস করি না, যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে সে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া অন্য কিছুকে ভালোবাসতে পারবে না। বাংলাদেশে খুব কম মানুষ তার স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছতে পারে। একটা জিনিস আমি ভালো করতেছি বা পারতেছি তার মানে আমি এটা ভালোবাসি। অনেক সময় অনেক কিছুই করতে হয় সামাজিকতার চাপে পড়ে। আমার এখন মনে হয় আমার সাহসহীনতার জন্য আমি ডিফারেন্ট চয়েস মেক করতে পারিনি। আমি হয়তো হিউমেনেটিস এ ভালো করতে পারতাম বা ঐ সাবজেক্টে আমি চলে যেতে পারতাম। কিংবা ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে “ডি” ইউনিটে চলে যেতে পারতাম। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ভালো ছাত্র ট্যাগের জন্য সবার এক্সপেকটেশন বেশি ছিল। আমার আসলে এমন সাহস হয় নাই সবকিছু ভেঙ্গে নিজের মত কিছু গড়ার। এখন প্রশ্ন হল, আমি আফসোস করছি কিনা?  আফসোস হয়, কিছু সাবজেক্টে ভালো করছি যে গুলো আমার মতন। আমি স্কুল-কলেজেও এই সাবজেক্টে ভালো ছিলাম। আফসোস হয় সেই সাবজেক্ট গুলো রেখে আমি এখানে চলে আসছি। আবার এটাও বিশ্বাস করি, আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি বলে লেখালেখি করতে পারব না এমন তো না। মানুষ সবসময়ই স্বাধীন থেকে এসেছে। প্যাশনের জায়গা যদি প্রফেশন হয়ে যায় তাহলে  হয়তো ভালো নাও লাগতে পারে।  আমি আসলে এই জায়গাটা নিয়ে পুরোপুরি কনফিউশনে না। আমার কখনও কখনো খারাপ লাগে আবার কখনও মনে হয় ইটস এনাফ।

খোশগল্প.কম: তোমার লেখালেখির উপর আগ্রহ কেন কিভাবে তৈরী হল?

সাফির: এটার উত্তর হল অনেক  বই পড়তে হবে। আমার কাছে মনে হয় এটা এনাফ না। এখানে ফিলোসফি থাকা লাগে, শুধু বই পড়লে ভালো পাঠকই হওয়া যায়। সব ভালো পাঠকরা কিন্তু লেখক না। আমি একটা জয়েন ফ্যামিলিতে ছিলাম। আমাদের বাসায় অনেক বড় একটা বইয়ের সেলফ ছিল। আমার বাবাও অনেক বই পড়ত। আমি পড়তে পড়তে ছোটবেলায় ভাবলাম লিখা যায়। লিখে লিখে ফেলে দিলাম, কিছু রেখেও দিছি। আমি কলেজ উঠার পর ফিল করছি যে আমার লেখা দরকার। কলেজে উঠার পর আমি খুব ডিপ্রেশনে ছিলাম। তখন অনেক গল্পের বই পড়া শুরু করলাম। তখন মোটামুটি সবকিছু নিয়েই ডিপ্রেশনে ছিলাম। তো তখন মনে হত কেন বেঁচে আছি, এক্সিস্টিয়াল ক্রাইসিস যেটাকে বলে। তখন এই ক্রাইসিসকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই আসলে লেখা শুরু করি।

খোশগল্প.কম: সবাই তোমাকে লেখক, মানুষ, ভালো ছাএ হিসাবে অনেক প্রশংসিত করে। তবুও কেন তুমি ফেসবুকে নিজের লেখায় হতাশা ফুটিয়ে তোল, তুমি কি করলে অসাধারণ হিসাবে দাবী করতে? “মানুষের সমুদ্রে বুনেছি ঢেউ” নামে নিজের একটা ব্লগেও লেখ তুমি। তোমার সবচেয়ে বড় অসহায়ের জায়গাটা কি?

সাফির: এটা বলা আসলে কষ্টকর। আমার না সবসময়ই হতাশ লাগে। অনেকেই এটাকে নিহিলিজম বলে, যদিও আমি ইজমে বিশ্বাস করি না। একটা ভয়েড থেকে আসছি, ভয়েডের মধ্যে চলে যাব, মাঝখানে কেন আছি জানি না? এই জন্য অর্থহীন লাগে। আবার এরমধ্যে সবকিছুকে অর্থপূর্ণ বানাইয়া ফেলছি আবার তার জন্য কেন আফসোস করব!  আমি পরীক্ষায় খারাপ নাম্বার পাচ্ছি তার জন্যেও আমার হতাশ লাগে। আমার কাছে মনে হয় আমি সবসময় ওভাররেটেড। এই জন্যও হতাশা আসে। লাইফে এভরি মোমেন্টে হতাশ এটা যে কতটা যন্ত্রণার এটা ফেস করা বেশ কষ্টের । আর মানুষের সমুদ্রে বুনেছি ঢেউ এটা হচ্ছে কি, আমি আসলে  ইন্ট্রোভাট, জোর করে এক্সট্রোভার্ট হওয়ায় চেষ্টা করে আলটিমেটলি ২টার মাঝখানে পড়ে গেছি। মানুষের সাথে মিশতে আমার ভালো লাগে না, কিন্তু মানুষ দেখতে আমার ভালো লাগে। অনেক মানুষ দেখতে ভালো লাগে। ক্যাফেটেরিয়ার সামনে কনসার্ট হচ্ছে আমার কনসার্টে মন নেই, মানুষ নাচছে এটা দেখতেই আমার ভালো লাগছে। আমার কাছে মনে হয় পুরা একটা সমুদ্রে আমি তুচ্ছ একটা মানুষ এই ঢেউ টা বুনতে সাহায্য করেছি। এটা আমার জোর করে সাধারণের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা বলতে পার।

খোশগল্প.কম: তুমি হিউমেনস অব বুয়েট নামে একটা পেইজ চালাও, সে পেইজে বুয়েটিয়ানের গল্প শেয়ার করা হয়। পেইজের আইডিয়াটা কিভাবে মাথায় আসল, এই গল্পটা…

সাফির: আমি যদি ২০১৫ এ কোন ভালো কাজ করে থাকি তাহলে মনে হয় এটা। এই কাজ করতে গিয়ে আমার যে পরিমাণ আইডিয়া হইছে। এটা খুব ডিটেলস গল্প। আসলে আমি গল্প শুনতে ভালোবাসি। যখন দেখলাম মানুষের এত ভিন্ন ভিন্ন গল্প। আমরা প্রথমে একজন মানুষকে রেনডমলি পছন্দ করি ইন্টারভিউর জন্য। তারপর তার কাছে গিয়ে এপ্রোচ করি, যদি সে রাজি হয় তাহলে তার গল্পটা আমরা ইংলিশে কনভার্ট করে ছবি সহ পেইজে ইন্টারভিউর মত করে আপ দেই। এটা যে এত অল্প এত ইমপ্যাক্ট হবে আমি চিন্তা করি নাই। পরে আমি অবাক হয়েছি যে কত ডাইভারসাইড গল্প আমরা এখানে পেয়েছি। আমাদের পেইজের থিম হচ্ছে” এভরি হিউমেন ইজ ইউনিক এন্ড এভরি স্টোরি ইজ ইজি ”। আমরা এমন না যে খুব সেলিব্রেটি মানুষের কাছে গিয়েছি। আমরা আমাদের ব্যাচের বা বুয়েটের খুব সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছি। আসলে সাধারণ মানুষের গল্পই অসাধারণ হয়। মাঝেমধ্যে আমার একটা চিন্তা কাজ করে, আসলে আমি হিউমেনস অব বুয়েটের কতখানি মালিক?  ছবি তুলতেছে প্রত্যয়। ছবির মালিক প্রত্যয়। যে গল্প বলতেছে সে গল্পের মালিক। আমার জায়গাটা আসলে কোথায়?  আমি হয়তো ঐ লেখাগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করি। হয়তো ঐ ভাষাগুলোর মালিক আমি। এখানে আমার খুব ক্ষুদ্র একটা কন্ট্রিবিউশন। তবে এই কাজটা করে আমি অসম্ভব মজা পাই। এক একজনের কাছে গিয়ে এক এক ধরনের এপ্রোচ করতে মজা পাই। অনেকেই কথা বলতে চায় না, এটা নিয়ে হাসাহাসি সহ অনেক কিছু। আমরা গল্পের একটা সিরিজ করছি সে গুলো খুব বিখ্যাত হয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের গল্প তুলে ধরা। মানুষ যদি নিজের গল্পের সাথে রিলেট করতে পারে, আচ্ছা এইটা তো আমার গল্প, এটার সাথে তো আমার মিল আছে তখন মানুষ যে রিএকশান দেয় তখন এটা দেখতে খুব ভালো লাগে। আমাদের পেইজে বুয়েটের এলামনাই থাকে তারা আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। তাদের কারণে অনেক আমেরিকানরা টিচার, স্টুডেন্ট ফলো করেন পেইজটাকে। তারা যখন বুয়েট নিয়ে তাদের ফিলিংস এর কথা তখন খুব অসাধারণ লাগে। ছোট্ট একটা গল্প কত জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। আসলে আমি, আমরা, আমাদের কাজ বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

খোশগল্প.কম: এই পেইজের একটা ইউনিক দিক হচ্ছে, সবাই বুয়েটের। বুয়েটের ফটোকপি দোকানের মালিক থেকে শুরু করে ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত সবাই আছে। প্রতিটা মানুষের গল্প ইউনিক, কিন্তু তোমার কি কখনও মনে হয়েছে একটা প্রতিষ্ঠানে থাকার  কারণে এমন কোন দিক পেয়েছে যা একটা জায়গায় মিলে যায়?

সাফির: আমি বাংলাদেশে এই টাইপ যত পেইজ দেখছি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাইভারসিটি হচ্ছে হিউমেনস অব বুয়েট এ। বুয়েটে কিন্তু একটা ছোট্ট প্রতিষ্ঠান, মাএ ৫০০০ ছাএের। কিন্তু অন্য পেইজ গুলোর থেকে আমার অপশনস কম। আমরা যখন ইন্টারভিউ নেই দেখা যায়, অনেক সময় ধরে নেই। একপ্রকার জোর করে খুঁজে বের করি তার কোন গল্পটা ইউনিক। তবে কেউ যদি প্রশ্ন করে কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মিল ছিল, সেটা হচ্ছে ৮৫%  ই হতাশ ।

খোশগল্প.কম: তোমার জীবনের এমন কোন ঘটনা যা তোমার দর্শনকে প্রভাবিত করেছে?

সাফির: ক্লাস এইট ছিল আমার লাইফের টার্নিং পয়েন্ট। তখন আমি মোটামোটা বই পড়া শুরু করি। আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন “পার্থিব” বইটা আমাকে রেবা আপু গিফট করে। বইটাতে ফিলোসফিক্যাল লাইনগুলো দাগানো ছিল। বইটা আমি ৭ দিনে পড়ে শেষ করে  ফেলছি।  বইটা পড়ার পর আমার মনে হইছে আমি একটা অন্য জগতে চলে গেছি। নিজকে ঐ গল্পের চরিএ ভাবতে শুরু করি । এটা পড়ার পর আমার থিঙ্ক প্রসেস পুরাই পাল্টে গেছে। বইটাতে একটা লাইন ছিল, ”মায়াও একধরনের পরাধীনতা”।  এই বইটা আমাকে এত বেশি এফেক্ট করছে যে তা বলার বাইরে। তারপর আমি আশেপাশের মানুষের সাথে এডজাস্ট করতাম না। আমি যা ভাবতাম তা হয়তো আমার বন্ধুরা ভাবত না। তাই আমি নিজেকে মিসফিট মনে করতাম। তারপর একসময় নিজেকে জোর করে এক্সট্রোভার্ট বানানোর চেষ্টা করলাম। এখন মানুষের সাথে মিশতে পারি, তাদের মত করে চিন্তা করতে পারি। এটা আমার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সোশ্যাল এচিভমেন্ট।

খোশগল্প.কম: তাহলে ইন্ট্রোভার্ট হওয়ায় কারণে কি উন্নতির বা অগ্রগতির বাধা  আসবে?

সাফির:  ইন্ট্রোভার্ট হইলে ফ্রেন্ড কম থাকবে। নিজেকে তুচ্ছ মনে হওয়ার প্রকট আরও বেশি থাকবে । ইন্ট্রোভার্ট আমি যখন ছিলাম তখন আমার জগত ছোট ছিল। আমি যখন  নটরডেমে আসলাম তখন দেখি আমার আশেপাশের সবাই কিছু না কিছু করছে। আমিই একমাত্র স্টুপিড যে কিছুই করছি না। আইডিয়ালে থাকতে আমি কিছুই করি নাই, শুধু বই পড়ছি। কোন কালচারাল প্রোগামেও যাই নাই। এমনকি মিলাদেও না। একবার মিলাদে গিয়েছিলাম তখন আমার জুতা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে আমি আর যাই নাই। নটরডেমে উঠার পর আমি সোশ্যাল গেদার গুলোতে একটু মিশতে চাইলাম। দেখি পারি কিনা?  তারপর দেখলাম আমি ভালোই পারি। এখন আমার অনেক ফ্রেন্ড। আগে আমি নিজের তুচ্ছতার জন্য অন্যের সাথে মিশতে পারতাম না আর ঐ ছেলেটা ভাবত ওর ভাব বেশি তাই আমার সাথে কথা বলে না। আমি কি ভাবছি সে কিন্তু তা জানত না। সবসময়ই একটা বিভিন্নতা আমার মধ্যে কাজ করত। তবে অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাঁধা এটা আমি বিশ্বাস করি না। ইন্ট্রোভার্ট মানুষও উন্নতি করে।

খোশগল্প.কম: অনেক কাজে যুক্ত হলে মানুষের হতাশা কমে যায়, নাকি প্রায়োরিটির জায়গাটাকে ফোকাসড করা উচিত?

সাফির: অনেক কাজে জড়িত হইলে হতাশা কিছুটা কমে যায় তা ঠিক। কিন্তু যার বেসিকটাই হতাশা তার তো কোন ওয়ে নাই। আমি অনেকটা ভূতগ্রস্তের মত হয়ে গেছি এটা আমার সাথে লেগে গেছে। আমি আসলে কি নিয়ে হতাশ এটা আমি নিজেও জানি না। আমি নটরডেমে অনেক কাজে জড়াইছি। আমি আগে অনেক ভালো ছাএ ছিলাম, জড়ানোর পর সেই যে হারালো আর ফিরে আসে নাই। আমার মনে হয় আমি এক্সট্রা কারিকুলাম জড়ানোতে আমি যেই জায়গাটা তে ভালো ছিলাম সেখানে আমি আর ভালো নাই। সবকিছু সামাল দিতে গিয়ে আমি এভারেজ হয়ে গেছি। কিন্তু আমি এটা ইনজয় করতে ছিলাম। আর ইনজয় করতে থাকার  কারণে আমি এর থেকে বের হতে পারিনি। একই সাথে আমার বের হয়ে আসতে ইচ্ছা করতে আবার একই সাথে করছে না। এই ২ টা মিলেই এখনও চলতেছে। আমার এখনও মনে হয় আমি বুয়েটে আসার পর কিছুই করি নাই। নটরডেমে আমার লাইফে সে ক্ষেত্রে অনেক গ্লোরিফাই সময় ছিল।

খোশগল্প.কম: তোমার লাইফে এমন কোন মানুষ ছিল যার চিন্তাধারা তোমাকে প্রভাবিত করেছে?

সাফির: এটা আসলে বলা টাফ।  আমি আসল একটা মানুষের ভালো দিক অবজার্ভ করার চাইতে অনেক গুলা ভালো মানুষের দিক গুলো নেওয়ার চেষ্টা করি যে গুলো আমাকে আকর্ষণ করে।  একজনকে কখনও ফলো করা হয়ে উঠে নি আমার।

খোশগল্প.কম: তুমি তো একটা যৌথ পরিবারে বড় হয়েছ, যেখানে অনেক কমপ্লেক্সসিটির ছিল, অনেক সম্প্রীতিও ছিল। সে অভিজ্ঞতাটা তোমার কেমন ছিল?

সাফির: যৌথ পরিবার বলতে আসলে আমরা মিরপুরে ভিন্ন ভিন্ন বাসায় খুব কাছাকাছি ছিলাম। চাইল্ড গ্রুপ টাকে আমি অনেক পছন্দ করি এই জন্য। আমরা কাজিনরা সবাই একসাথে অনেক আড্ডা এবং অনেক ঘুরোঘুরি করেছি।  এরা সবাই আমার থেকে অনেক বড় ছিল তাই তাই সবার থট প্রসেস আমার সাথে শেয়ার করত। যার ফলে আমার ম্যাচুরিটি অনেক তাড়াতাড়ি চলে আসছে। আমরা যখন মিরপুরে ফুপুর বাসার পাশে থাকতাম, তখন আমরা একরুমে আমি বাবা-মা, আমি থাকতাম। আমি এখন ১৮০০ স্কয়ার ফুটের ফ্লাটে থাকি। এ ব্যাপারগুলো আমাকে রিচ করেছে। আসলে সবকিছুই তোমাকে রিচ করবে। আমি জীবনে সব রকমের ইকোনমিক পরিস্থিতি দেখে আসছি। এটা আমার গড়ে উঠার পিছনে অনেক ভূমিকা রেখেছে। একসাথে আমি ফ্যান্টাসিতে ভুগি লেখক ফিলোসফির কারণে,  আবার অনেক রিয়েলিস্টিকও আমি। সবখানে খাপ খাইয়ে নিতে পারি।

খোশগল্প.কম: তোমার জীবনের যদি কোন চাওয়া থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় চাওয়া কি?

সাফির: আমি এত রেশনালি চিন্তা করিনা। আমি মনে করি আমার ইনটিউশন অনেক ভালো। লাইফে অনেক কিছু ছিল আমি হুট করেই ডিসিশন নিছি। যা কিছু ঘটে সবই আমার সহজাত। তাই এখন আর আমার কোন এক্সপেকটেশন নেই। যা কিছু হয়েছে ভালো সবকিছুই হুটহাট হয়েছে। তাই এখন আর কোন এক্সপেকটেশন নেই। আমার কাছে মনে হয় এখন যেভাবে চলি সেভাবে চলতে থাকি। নতুন কিছুতে জড়ানো আর ক্রিয়েটিভ কিছু করে যেতে চাই। ঐ রকম চিন্তা আমি করি না এটা হতে হবে, ঐটা হতে হবে। আর সম্পর্কের ব্যাপারে ও আমি অনেকটা লাকি ফিল করি,  কারণ একটা মানুষের লাইফে বেস্ট সময়ে বেস্ট মানুষটা খুঁজে পাওয়া জরুরী , আমি সেটা পেয়েছি। যেমন হিউমেনস অব বুয়েট এর কথা বলি। প্রত্যয় এর সাথে আমি দেখা পেয়ে গেছি। ওর সাথে আমি স্কুল-কলেজ এ ছিলাম না। ওর সাথে আমার থট প্রসেস মিলতেছে। এইখানে যদি অন্য কেউ থাকত সে অনেক ভালো ফটোগ্রাফার বা অনেক ভালো রাইটার। তারপরেও না কম্বিনেশন এর জন্য কিছু এক্স ফ্যাক্টর লাগে। এই কাজের জন্য এই মানুষটাই। তখন ঐ কাজেই ভালো ফলাফল আসবে। এইটা কখনোই চিন্তা করে আসবে না যে, আমি ঐ মানুষটার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করব। আমি খুব ই হ্যাপি আমার ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়ে, সম্পর্কগুলো নিয়ে। আমার মনে হয় আমি এলিট সার্কেলের মধ্যে বসবাস করছি। আমি কিছু না করি কিন্তু এরা সবাই অনেক কিছু করবে। একসময় আমার বলতে ভালো লাগবে যে আমি এদের চিনি। এর পেছনে হয়তো ইনিস্টিটিউশনের অনেক বড় ভূমিকা আছে। আমার এটা ভাবতে ভালো লাগে।

খোশগল্প.কম: বইমেলায় একটা বইয়ে তোমার একটা গল্প প্রকাশ হয়েছে, এই গল্পটা তুমি বইমেলায় প্রকাশের জন্য লিখনি। বরং এটার পেক্ষাপটটা ভিন্ন ছিল। এখানে তোমার কোন জিনিসটা কাজ করল।

সাফির: এটা লিখার পিছনের গল্পটা বলি।গল্পটার নাম ছিল “গড় মানুষ তত্ত্ব”। আমি যখন অন্যরকম গ্রুপে কাজ করতাম তখন পিঁপড়া টিম ছিল। হিমালয় ভাই এটা চালাতেন। তখন উনি বললেন, একটা উৎসব হবে নুসরাত নাসির নামের একজনকে নিয়ে। সে প্রায় সময়ই পাগলামী করে থাকে, সেই পাগলামী তে আমরাও আসি। তখন মজা লাগত আমরা যখন ছিলাম। সেই উপলক্ষে আমাকে একটা গল্প লিখতে বললেন, অনেক সময় দিলেন প্রায়ই এক সপ্তাহের মতন। যেইদিন লাস্ট ডেট ছিল আমি ঐদিন রাতে লিখছি। আসলে গল্পটা আমি একরাতে লিখছি জমা দিতে হবে বলে।কিন্তু গল্পের চিন্তা গুলো আমার মাথায় অনেকদিন ধরে ছিল। এভারেজ মানুষের চাওয়া পাওয়া, না পাওয়ার গল্প। একবার পড়লে মনে হতে পারে এটা একটা প্রেমের গল্প। কিন্তু এটা আসলে এতটা লিনিয়ার না।। এভারেজনেসে ভুগতে থাকে প্রত্যেকটা মানুষ। আমি যাকে দেখি ইনফিরিয়রিটি তে ভুগছি সে ও হয়তো আমাকে দেখে ইনফিরিয়রিটিতে ভুগছে। ঐ একটা সাইকোলজি থেকে আমার মাথার গল্পটা  আসছে। যেটা আমরা কলেজ লাইফের চিন্তা ভাবনা থেকে লেখা ছিল, লিখে আমি রেখে দিছিলাম। পরে দেখলাম আফসার ব্রাদার্স একটা ইভেন্ট খুলে নতুন লেখকের থেকে গল্প চেয়েছে। আমি একদম চিন্তা ভাবনা ছাড়া গল্পটা পাঠিয়ে দিয়েছি। এমনকি আমি এডিট ছাড়াই পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আর কিছুই না। এরপর আমাকে মেইল করা হয়েছে যে আপনার গল্পটা আমাদের পছন্দ হয়েছে, আমরা এটাকে বই আকারে ছাপাবো। আমার কাছে ব্যাপারটা বিশাল বড় ছিল। আমি আসলে কখনও ভাবি নাই যে ইউনিভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় আমার লেখা বই আকারে বের হবে। যেহেতু আমি লেখালেখি করি, সেহেতু আমি একটা স্বপ্ন ছিল নিজের লেখা বই আকারে দেখা। যদিও এটা আমার বই না, এটা একটা সংকলন ছিল। আমি অনেক আগ থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। অনেক এক্সপেরিমেন্ট করি আমার ভাষা নিয়ে, গল্প বলার ধরন নিয়ে। ফেসবুকে মূলত লেখালেখি করি। অনেক এক্সপেরিমেন্ট করি তখন দেখছিলাম মানুষ আসলে কেমনটা চাচ্ছে, বা যেমনটা চাচ্ছিল। ঐ ব্যাপারটা চলতেছিল, আমি হয়তো আরও প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করতাম। তারপর তো হুট করেই হয়ে গেল। জানি না, আমি এটার বিশ্লেষণ করতে চাই না।

খোশগল্প.কম: ফেসবুকের আড়িপাতা গ্রুপে একটা পোস্ট ছিল, ” বুয়েটে কালচারাল প্রোগাম বেড়েছে এবং ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্টরাও জড়িত হচ্ছে”। একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনের জন্য এটা কি কোন সতর্ক সংকেত ছিল?  তুমি কি মনে কর?

সাফির: আমার কাছে মনে হয় না। এটা হওয়ার ই কথা ছিল, ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল কেন্দ্র হওয়ার কথা  ছিল। আমার কাছে এটা হতাশ লাগে ব্যক্তিগত কারণে। আমি যখন এখান দিয়ে যাই আমার খুব শিহরণ লাগে যে, এই জায়গাটা থেকে বাংলাদেশ তৈরী হয়েছে, বিপ্লব আর চেতনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় কারণে হোক আর যে কারণে হোক এখানে একটা কিছু করতে গেলে রাজনৈতিক সাপোর্ট লাগে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে এই জিনিসটা কমে গেছে। এগুলো আসলে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে আসার কথা ছিল। এটা হয়ে গেছে উল্টা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে আসার কথা ছিল কি নতুন কালচার র‍্যাভুলেট হইছে এগুলো ? বাংলাদেশ আসলে উল্টা কাজ করতেছে। বুয়েটে আসার কথা ছিল টেকনোলজির কেন্দ্র, কিন্তু এখানে আসছে মিসফিটরা। এরা হয়তো এখানে হাঁসফাঁস করতেছে। এরা হয়তো নিজকে কালচারালি নিজকে জড়াইয়া ফেলতেছে। ওরাই নিজের মধ্যে এটা ফিল করছে। এরা হয়তো নিজের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার টাইপ না। এরা হয়তো গান গাইতে ভালোবাসে, নাটক লিখতে ভালোবাসে। কিন্তু তাদের সিজি খারাপ। তারা খুব হতাশ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই কাজটা করে তারা মজা পাচ্ছে। তাহলে ওরা যে রকম কাজ করার কথা ছিল তা হচ্ছে না। বুয়েট আসলে যে সার্ভিস আসার কথা ছিল তা আসছে না। বুয়েট থেকে বস্তা বস্তা ইঞ্জিনিয়ার বের হয়ে বিদেশ দৌড়াইতেছে। আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে, তুমি দেশের সেরা একটা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশনে পড়ছে, ৪০ বছরে এই ইনস্টিটিউশন কি দিয়েছে দেশকে?  আমি বলতে পারব না।  আমাদের সমস্যা আমাদের ট্রাফিক জ্যামে, বিল্ডিং এ। অথচ এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কিন্তু বুয়েটে কি হচ্ছে?  রোবটিক্স কম্পিটিশন হচ্ছে!  কেন হচ্ছে?  কারণ বিদেশ রোবটিক্স কম্পিটিশন হচ্ছে!  জানি না কথাগুলো হয়তো একটু ভিন্ন রকম হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আসলে বাংলাদেশের কি হচ্ছে এটা দিয়ে।

খোশগল্প.কম: তোমার বর্তমান জীবনে কি অপূর্ণতা আছে  যা পূর্ণ করতে চাও। আর পেশাগত জীবন নিয়ে তোমার ইচ্ছা টা কি?

সাফির: আমি কেন বেঁচে আছি, আমি জানি না। ঐ যে শুরুতে ই বলেছিলাম অস্তিত্ব সংকট। পরিচয় নাই, কেন বেঁচে আছি, আবার কম্পিটিশনের মধ্যে থেকে হাঁসফাঁস করছি। কি হতে চাই প্রশ্ন করলে?  আমি মানুষের মাঝে বিস্তৃত হতে চাই আমার  কাজের মধ্যে। আমি চাই মরে যাওয়ার পর কিছু চিহ্ন থেকে যাক।

খোশগল্প.কম: বুয়েটে সিভিল এবং আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্ট এর সবাই কালচারাল প্রোগামে বেশি অংশগ্রহণ করছে, এর পেছনে কোন কারণ আছে বলে মনে হয়?

সাফির: এইটা আমার কাছে কিছু না, যার ইচ্ছা হয় সেই করব। আমার কাছে মনে হয় আমাদের ব্যাচেও তো ম্যাকানিকালের পার্টিসিপেট বেশি থাকে।  আমার কাছে মনে হয়, মাঝারিমানের ছাত্র যারা। মাঝারিমান বলতে যারা মেরিট লিস্টের প্রথম থেকে মাঝখানের দিকের জনদের ধরা হলে। এরা আসলে পড়ালেখাই করে না শুধু। এরা আসলে সব কিছু ই করতে পছন্দ করে। আর আর্কিটেকচারে কাজই তো ক্রিয়েটিভ , তাদের অংশগ্রহণ থাকা তো স্বাভাবিক ই।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত