লাইফ ইজ আ মিস্ট্রি বক্স”

” দিন শেষে আমার কাছে আসলে আমিই সেরা”এই সহজ স্বীকারোক্তি গুলো যার তার নাম খাদেমুল বাশার। যে কিনা নিজের কার্যক্ষেত্র,পড়াশুনা কোন কিছুর সাথে কিছুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ।পড়ছেন প্রকৌশল বিভাগে।তার সাথে একটি অফিসে চাকরী এবং “ক্যাম্পাসের কথা” নামক জনপ্রিয় রেডিওভিত্তিক একটা অনুষ্ঠানেও কন্ঠ দিচ্ছেন। নিজেকে সবসময় দৌড়ের প্রথমে দেখতে চান,চেষ্টাও করছেন সেইমাফিক।আজ কথা হচ্ছে তার সাথে-

সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে, জীবনে যে দুটো জায়গায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

লিখেছেন...admin...মার্চ 28, 2016 , 6:30 পূর্বাহ্ন

khadem

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

খাদেমুল:ভাল….আপনি?

খোশগল্প.কম: জি ভালো। ব্যস্ত কিছুটা?

খাদেমুল: জি..একটু, কিন্তু সমস্যা নাই।

খোশগল্প.কম: ব্যস্ততা কি নিয়ে একটু শুনতে চাচ্ছিলাম।

খাদেমুল: আসলে সকাল থেকে দুপুর 3 টা পর্যন্ত অফিস প্রতিদিন,তারপর বিকেলে ক্লাস রাত 9 টায় স্টুডেন্ট পড়ানো বাসায় যেতে যেতে রাত 11 টা; এভাবেই চলছে প্রতিদিন।যেদিন যেদিন অফিস থাকেনা সেদিন রেডিও তে শো করি।

খোশগল্প.কম: কিসে পড়ছেন?

খাদেমুল: IUBAT ইউনিভার্সিটি তে মেকানিক্যাল নিয়ে BSC পড়ছি,ফাইনাল ইয়ারে। এ বছরের ডিসেম্বরে আমার graduation সম্পন্ন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আসলে আমার ভার্সিটি লাইফটা বাকি 8/10 ভার্সিটির স্টুডেন্ট এর মত না,তারা ভার্সিটি অনেক মজা করছে কিন্তু আমার ক্যাম্পাসে অতিথি হয়ে যাই বলা চলে;ক্লাসের ঠিক 15 মিনিট আগে যাই ক্লাস শেষের ঠিক 10 মিনিটের মধ্যই আবার বের হয়ে চলে আসি।

খোশগল্প.কম: এটা কি বাড়তি রিস্পন্সিবিলিটি বা ঐ অফিসের ইনভলভ এর জন্য?

খাদেমুল: আসলে আমার কাছে কেন জানি মনে হয় graduation সম্পন্ন করার পর কেউ যখন চাকরি খুজে তখন তাকে 2/3 বছরের experience এর কথা বলে যে কোন জায়গায়। আর আমি যদি তাই ছাত্রজীবনে সম্ভব করতে পারি তাহলে পড়াশোনা শেষে কোন প্রভাব ফেলবে না।আর আমার নিজের একটা লক্ষ আছে, সেটা কে চোখের সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। এটা কোন বাড়তি দায়িত্ব নয় এটা খুব সাধারণ।

খোশগল্প.কম: তবে লক্ষ্যটা কী?

খাদেমুল: লক্ষ টা অনেক বড়, জীবনের প্রতিটা কাজেই পদচারণ করতে চাই। কিন্তু সবশেষে যে লক্ষ আমার আছে সেটা হচ্ছে,সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভীড়ে আমি যেন মাথা উচু করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারি আমার কর্মক্ষেত্রে প্রকৌশলীকর্মে।

খোশগল্প: আচ্ছা। প্রথম দিকে বলছিলেন রেডিও তে শো করার কথা…সেটা একটু খুলে বলুন।

খাদেমুল: এখন যেমন একই সাথে শিক্ষা, মিডিয়া, টেলিকমিউনিকেশন খাতে নিরলস কাজ করেই যাচ্ছি।সব জায়গায়ই আমাকে সবাই এক নামেই চেনে বা জানে। আর আপনি যেটা বলছিলেন মিডিয়া জীবনে পদচারণ করার ইচ্ছা সেই ছোট্ট বেলা থেকেই।যখন কোর্সগুলি করলাম মিডিয়ার ওপর,তখন সেই অজানা তথ্যগুলি যেন বুকে সবসময় ধারণ করে রাখতে পারি সেই জন্যই প্রথমে বিভিন্ন রেডিওগুলোতে সিভি দিয়েছিলাম,তারপর একটা রেডিওতে ইন্টারভিউ দেয়ার পর সিলেক্ট হলাম আর সেখান থেকেই শুরু মিডিয়া জীবন।

খোশগল্প.কম: কোর্সের ব্যাপারে জানলেন কিভাবে?

খাদেমুল: যেহেতু ছোট্টবেলা থেকেই খুব আগ্রহ আর এই আগ্রহের কারণেই সব সময় পেপার পড়ার একটা অন্যরকম মনোযোগ ছিল।একদিন পেপার পড়তে যেয়েই সেই রকম একটা এ্যাড দেখে আর বসে থাকতে পারলাম না।সুযোগটা লুফে নিলাম এবং কোর্সে ভর্তি হলাম; এখন এই মিডিয়া নিয়ে আমার অনেক কোর্স করা হয়েছে আর সবগুলি কোর্সই আমায় নতুনত্ব দিয়েছে সবসময়ই। আরও জানার ইচ্ছা আছে মিডিয়া নিয়ে অনেককিছু।

খোশগল্প.কম: প্রকৌশল সেক্টরে থেকে মিডিয়ায় যাওয়া ব্যাপারটি আপনার ফ্যামিলি কিভাবে নেয়?

খাদেমুল: আমার পরিবার আমার কোন কাজে কখনও বাধা দেয়নি আর দিবেও না।কারণ তারা জানে আমি সবসময়ই আমার ভালটাই করি।আর প্রকৌশলী সেক্টর যখন পড়াশোনা সম্পন্ন হবে তখন আমি দুটো সেক্টরেই কাজ করে যাব। সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে জীবনে যে দুটো জায়গায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

খোশগল্প.কম: দুটো সেক্টরেই একসাথে কাজ করা কিছুটা কঠিন কি?

খাদেমুল: কখনই কঠিন কিছু না।সবচেয়ে বড় ব্যাপার যে কোন কাজকে আপনি যদি কাজ মনে করে করেন তাহলে তাই কখনই আপনার কাছে কঠিন মনে হবে না তখন খুব সহজ হয়ে যাবে।আমি কাজের মধ্যে থাকতে খুব পছন্দ করি। কারণ আমার জীবন তো আমাকেই গড়তে হবে।অন্য কেউ তো আর গড়ে দিয়ে যাবে না।তাই না?

খোশগল্প.কম: জ্বি অবশ্যই তাই। সহজ কথায় বলতে গেলে আপনি একজন আর জে  তাই তো?

খাদেমুল: জি, কিন্তু আমার সংবাদ উপস্হাপনা করতে খুব ভাল লাগে আর তাই ভবিষ্যতে আমি আরজে না থেকে একজন সংবাদ উপস্হাপক হওয়ার জন্য খুব কষ্ট করে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ একদিন সফল হব।

খোশগল্প.কম: কিন্তু আর জে পেশাটি বর্তমান তরুন সমাজে অনেকটা উপরের দিকে চলে যাচ্ছে।সেক্ষেত্রে?

খাদেমুল: আপনি হয়তো জানেন না একজন আরজে চাইলে সবকিছু করতে পারে।উপস্হাপনা বলেন, নিউজ পড়া বলেন। সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই আমার ভিত্তিটা সব সময়ই মনে রাখবো,সুযোগ পেলেই শো করবো,কিন্তু সংবাদও করব।

খোশগল্প.কম: আপনার শো গুলো কেমন হয়?

খাদেমুল: আমার শোগুলি ক্যাম্পাস ভিত্তিক শো।অনেক সময় আমরা দেখি অনেক শিক্ষার্থী মফস্বল থেকে শহরে এসে নিজেদের পথ হারিয়ে ফেলে,তারা যদি সব ক্যাম্পাস এর ধারণা নিয়ে থাকে আমাদের শো এর মাধ্যমে,অবশ্যই আমাদের খুব ভাল লাগবে।

খোশগল্প.কম: রেস্পন্স কেমন পান?

খাদেমুল: সর্বশেষ শো তে আমাদের শ্রোতা সংখ্যা ছিল 16000 এর ওপরে; আশা করি লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।

খোশগল্প.কম: অনেক তো।শোটার নাম  কী?আর সময়সূচী?

খাদেমুল: শো এর নাম “ক্যাম্পাসের কথা”সময়টা-প্রতি সোম ও মঙ্গলবার।সকাল 10:00-12:00 পর্যন্ত।

খোশগল্প.কম: অনেকেই এই প্রফেশন বা সংবাদ উপস্থাপনায় আসতে চায় কিন্তু হয়তো সঠিক ওয়ে টা জানে না, তাদের জন্য কোন উপদেশ কি রয়েছে?

খাদেমুল: অবশ্যই।আপনার একটা ভুল পদক্ষেপ আপনার ও আপনার পরিবারের ধ্বংসের কারণ হতে পারে।সেই জন্য আপনার পদক্ষেপ যেন সেই দিকে কড়া নজর রাখবেন,আর সংবাদ উপস্হাপনায় অনেক প্রতিষ্ঠান আছে।এদের মধ্যে সবাই বিজেম, জবস এ ওয়ান এই দুটো প্রতিষ্ঠানকে খুব ভাল বলে। এছাড়াও রেডিও টুডে, রেডিও দুরবীন,বিশ্ব পাঠশালা, বিশ্ব কলাকেন্দ্র, কন্ঠশীলন ইত্যাদি অনেক প্রতিষ্ঠান আছে।

খোশগল্প.কম: যাক ছোটবেলার কথা কিছু শুনতে চাই।কেমন কেটেছে স্কুলকলেজ এর সময়গুলি?

খাদেমুল: ছোটবেলার জীবনটা অনেক মজায় মজায় কেটেছে।একই স্কুলে 11 বছর ছিলামতো।তাই অনেক অনেক স্মৃতি আছে,যা লিখে শেষ করা যাবে না। আর কলেজ জীবনে পুরো কলেজ একনামে চিনতো আমায় আসলে আমি ছোট বেলা থেকেই চেয়েছি সবাই যেন আমায় চেনে আমার পড়াশোনা,খেলাধুলা বা অন্য কোন কাজের মধ্য দিয়ে।এখনো সবাই আমায় জানে, স্কুল বা কলেজের শিক্ষক রা দেখলেই ডেকে ডেকে কথা বলে।

খোশগল্প.কম: বেশি জনপ্রিয়তা কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগেরও কারন, কি বলেন?

খাদেমুল: উদ্বেগের কারণ হলেও আমি এই ব্যাপারটা অনেক ইনজয় করি। কারণ একটা খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী না হলে কি খেলা জমে বলেন?

খোশগল্প.কম: তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি কোনভাবে হিংসার সমার্থক?কি মনে হয়?

খাদেমুল: কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বী কে হিংসার চোখে দেখিনা আমি।তুমি ভাল করলে তুমি সফল হবেই।এটাই আমার কথা। আমি সবসময়ই মনে করি।আমার দিনে আমিই সেরা,অন্য কেউ না। আবার এটাও মনে করি,প্রতিটা দিনই আমার সেরা।

খোশগল্প.কম: অনেক কনফিডেন্ট আপনি নিজের কাজে তা বোঝা যাচ্ছে…..

খাদেমুল: আমি নবম শ্রেণীর শেষে বুঝতে পারলাম কারো সাথে কথা না বললে,কোন কিছুই একা সমাধান সম্ভব নয়।নবম শ্রেণীর আগে আমি মেয়েদের খুব ভয় পেতাম,জানি না কেন।তারা যখন আমার সাথে কথা বলতে আসতো আমি উত্তর দিতে যেয়ে ঘেমে যেতাম।অনেক ভীতু ছিলাম।

খোশগল্প.কম: ফটোগ্রাফিতেও ইচ্ছে আছে শুনেছিলাম…….

খাদেমুল: প্রাক়ৃতিক দ়ৃশ্যগুলি আমায় খুব টানে,সে জন্যই ছবি তোলার সময় সেই দৃশ্যকে সবসময় ফ্রেমে ধরার চেষ্টা করি।

খোশগল্প.কম: সামনে প্ল্যানিং কেমন সবমিলিয়ে?

খাদেমুল: লাইফ ইজ আউ মিস্ট্রি বক্স। তাই এটা সারপ্রাইজ হয়েই থাক…সবার জন্য।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত