মাহবুব সিদ্দিকী, পেশায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক।নিজেকে মনে করেন বাউল ধরণের একজন মানুষ হিসেবে।বাউল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জীবনকে শুনি তার মুখে…

সুখে থাকাটা কোন কিছুর কারণ বা ফলাফল না, সুখে থাকাটা একটা অভ্যাস

লিখেছেন...admin...নভেম্বর 21, 2016 , 2:07 অপরাহ্ন

10428635_10204854637433443_3405597846668404125_n

খোশগল্প.কম: প্রথমে পরিচয় দিয়ে শুরু করি, নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিতে বললে কীভাবে বলবেন?

মাহবুব সিদ্দিকী: নাম মাহবুব সিদ্দিকী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই। আর এর চাইতে বেশী পরিচয় দেবার মত পরিচয় আমার নেই মনে হয়।

 

খোশগল্প.কম: শিক্ষাজীবন?

মাহবুব সিদ্দিকী: মানিকগঞ্জে স্কুল লাইফ ছিল, কলেজ জীবনও ওখানেই কেটেছে।আর ভার্সিটি হচ্ছে ঢাকা ভার্সিটি থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর করেছি।

খোশগল্প.কম: শিক্ষকতাই কি প্রফেশন হিসেবে নেয়ার ইচ্ছা ছিল ?

মাহবুব সিদ্দিকী: সত্যি কথা বলতে কি, আমি ভেবেছিলাম আর যাই করি শিক্ষকতায় ঢুকবো না।

কিন্তু ব্যাপারটা পুরো উল্টে গেছে।কারণ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা আসলে অনেক বেশি উপভোগের, আমি চারুকলায় যেতাম, ওখান থেকে বাঁশির প্রতি একরকম নেশা হয়।চারুকলার সামনে একজন ওস্তাদজী ছিলেন, ওনার পাশে আমি বসে থাকতাম এবং ওখানে বসে থেকে থেকেই আমি একতারা বাজনো শিখেছিলাম।আর মজার ব্যাপার হলো ওখানে ঐ গলায় মালা-টালা দিয়ে বসে থাকতাম তো অনেকেই ভাবতো যে আমি বোধ হয় দোকানদার।অনেকেই জিজ্ঞেস করে বসতো মামা এটার দাম কত, ওটার দাম কত? মজা লাগতো।

 

খোশগল্প.কম: আপনার ব্যাপারে আপনার বড় ভাই মানে হিমালয় ভাইয়ের মন্তব্য ছিল আপনার থট প্রসেস অন্যদের চাইতে আলাদা-এইটা নিয়ে আপনি কি বলবেন?

মাহবুব সিদ্দিকী: আমার মনে হয় জগতের কোন দুটো মানুষের থট প্রসেস এক না।প্রত্যেকটা মানুষের থট প্রসেস আলাদা।আমি জানি না ভাইয়ার কেন এমন মনে হয়েছে, হয়তো ছোট ভাই বলে।আমার যেটা মনে হয় তখন সেটা করি, আলাদা তেমন কিছু নেই।একটা যেটা হয়, আমার কেন যেন কোন কিছুতে নেশা হয় না।যেমন অনেকের অনেক কিছুতে নেশা থাকে। যেমন  ঘুরে বেড়ানো, বা ড্রাগস বা প্রেম বা এমন কিছু যেটা না হলেই নয় এমন অনেক কিছুতে নেশা থাকে।আমি সবকিছু গভীর থেকে করেছি কিন্তু নেশা হয় নি।

 

খোশগল্প.কম: নেশা হয় নি বলতে কি? ইচ্ছা হয় নি বা মনের উপর কন্ট্রোল আছে এজন্য-এরকম?

মাহবুব সিদ্দিকী: না, না।আমার তো প্রচন্ড ইচ্ছে হত, বা কখনো মনে হত আমি এখনি বের হয়ে যাব।না হলেই না, তবুও আমি হইনি।যেমন উদাহরণ আমি আপনাকে একটা বলি, অনেকেরই সকাল বেলায় একটা সিগারেট না খেলে হয়ই না। টু বি অনেস্ট এটা তাদের জীবনের একটা অংশ।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের ছোট বেলাটা নিয়ে শুনি, আপনার বড় আপা বলছিলেন যে আপনাদের শৈশব অনেক সুন্দর ছিল

মাহবুব সিদ্দিকী: সৌন্দর্য্য ছিলো কিনা জানি না, তবে আমার ছোটবেলাটা অনেক বদ্ধ ছিলো।বদ্ধ বলতে আমার মায়ের একটা কাঠামো ছিল।তো ঐ কাঠামোর মধ্যে থাকা মনে হচ্ছে আমার মায়ের কাছে সৌন্দর্য্য।সেটা এমন যে, আমার সব কিছু করতে হবে ভাইয়া যা করছ।ধরেন আমি একটা ক্রিকেট ব্যাট কিনবো বা সন্ধ্যায় একটু বেশী খেলবো তো আমার অজুহাত হতে হবে যে ভাইয়াও তো বেশী খেলছে।আমার এক ঘণ্টা বেশী খেলতে হচ্ছে এটা জরুরী না, ভাইয়া যদি এক ঘণ্টা বেশী খেলে তো সেই যুক্তিতে আমি এক ঘণ্টা বেশী খেলতে পারি।যে কারণে আমার ছোট বেলা বলতে আসলে কিছু ছিল না।ছোটবেলাটা হয়তো আমার ভাইয়ার ছোট বেলা, বা আমার বোনের ছোটবেলা।আমার নিজস্ব কোন ছোটবেলা ছিল না।

 

খোশগল্প.কম: এটা কি আপনার বড় হয়ে মনে হয়েছে না তখনই মনে হয়েছে?

মাহবুব সিদ্দিকী: তখন আমার কাছে সুন্দর এর অর্থটা বড় আপারা যেটা বলছে সেটাই সুন্দর।তখন ভাইয়া বলছে, আপা বলছে সো এটাই তো ভালো।বলতে পারেন যখন আমি থার্ড ইয়ারে তখন আমি বুঝেছি আমার নিজের জীবনেরও তো একটা কাঠামো আছে।আমি সবসময় প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি।চেষ্টা করা বলতে, ধরেন আমার ভাইয়া আমার একটা কিছু অপছন্দ করছে, আমার উদ্দেশ্য থাকতো যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করা যে আমি আমি ঠিক আছি।পরে আমার একটা সময় মনে হল আমার সবকিছু কেন জাস্টিফাইড হতে হবে।আমার ইচ্ছা হলে আমার একটা কিছু তো করতেই পারি, বড় ভাইয়ার ভালো নাই লাগতে পারে।প্রমাণ করে নিরাপদে থাকার কি অর্থ? তখন থেকে প্রমাণ করার চেষ্টাটা বাদ দিয়েছি।আর এখন আমি মনেও করি না সবকিছু প্রমাণ করা দরকার।

 

খোশগল্প.কম: আপনি কি আলাদা ভাবছেন না বা মেন্টাল এটাচমেন্টের জায়গায় দুরত্বে চলে যাচ্ছেন না?

মাহবুব সিদ্দিকী: আসলে কি মেন্টাল এটাচমেন্টের কথা বললেন, অইটা তো আমার মেন্টাল এটাচমেন্ট না।আগে তো আমি যে একটা নিজস্ব সত্তা এই বোধটাই ছিল না।আমাদের অদ্ভুত ব্যাপার ছিল, আমার বড় আপা যেটা বলবে সেটা ড্রপ করে আমার ছোট বোনের কাছে আসতো।এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, আমার ছোট বোনকে আমরা আমাদের দলে ধরতাম না, ধরতাম যে ও তো পড়ালেখা করে না, আর আমরা ধরতাম যে আমরা তিনজন হচ্ছে এক প্রকারের আর ও একাই এক প্রকার।বড় আপার প্রভাবটা সরাসরি আমার উপর আসতো না, অইটা ভাইয়ার উপর দিয়ে কিছুটা ছাঁকনির মত হয়ে আমার উপর আসতো।যে কারণে আমার ফর্মাটা ছিল আমাকে ভাইয়ার মত হতে হবে।ভাইয়া যেটাই করছে সেটা নিয়ে ভাবা যাবে না।অদ্ভুত একটা ব্যাপার ছিল যেটা নিয়ে ভাইয়া পরে আফসোস করেছে যে, ভাইয়া ছোটবেলায় চেয়ার-টেবিলে নিজেকে বেঁধে পড়তো, ভাইয়ার মনে হইতো চেয়ার টেবিল যদি বাঁধা থাকে, মনটাও হয়তো বাঁধা থাকবে, উঠতে ইচ্ছা করবে না।এতে আমার আম্মুর মনে হল আমারও তাই করা উচিৎ।আমার কিন্তু ভালো লাগতো না, আমার অভ্যাস ছিল আমি একটু পড়বো, একটু ঘুরে বেড়াতাম, হাঁটতাম।আমি কখনোই খুব মনযোগী ছাত্র ছিলাম না, ভাইয়া হয়তো একটানা অনেক ঘণ্টা পড়তে পারতেন, আমি পারতাম না, যে কারণে আমার রেজাল্ট ও তো ভাল ছিল না।তো আপনি যেটা বললেন না মেন্টাল এটাচমেন্ট, আমি আসলে আমাকে খুঁজে পাইই নি, খোঁজার চেষ্টাও করিনি তাই মেন্টাল এটাচমেন্টের প্রশ্নটা ভ্যালিড কিনা এটাই আমার মাথায় কখনো আসে নি।

 

খোশগল্প.কম: আপনার মধ্য বয়স বা ইউনিভার্সিটি লাইফ নিয়ে শুনি, ঢাকার বাইরে থেকে আসলেন তারপর…

মাহবুব সিদ্দিকী: বছর দেড়েক ভাইয়ার হলে থাকলাম, তারপরে আমার হলে চলে এলাম।সত্যি কথা বলতে ইউনিভার্সিটিতে এসে অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি যেটা আগে বুঝতাম না, ভাবিও নি।কিছু ব্যাপার থেকে তখনও মুক্ত হতে পারি নি।যেমন বলি আপনাকে, ইউনিভার্সিতি লাইফে গেস্ট রুম সংস্কৃতি জানেন হয়তো, কিছুটা পলিটিক্স, বড় ভাইদের ধমক খাওয়া, তাদের কাজ করা। তো আমার হয়েছে যে আমার চাচার সুবাদে এক বড় ভাই এর সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওনার রুমে উঠে গেলাম, তো আমাকে গেস্ট রুম করতে হল না, পলিটিক্স এর ধারে কাছেও যেতে হত না, তখন আমার কাছে মনে হত যে আমি খুব সৌভাগ্যবান।বাট আমি আসলে ভুল ছিলাম।আমি যদি ঐ সিচুয়েশনের ভেতর দিয়ে যেতাম, আমার মানসিক বলয়টা আরেকটু বড় হত, অনেক কিছু চিনতাম, অনেক কিছু পেতে পারতাম।আমার সব প্রবলেম এমন ছিল, আমার হলে বা ভার্সিটিতে কোন প্রবলেম হল আমি ভাইয়ার কাছে যেতাম, ভাইয়া আপার কাছে যেত, ব্যাস সমস্যার সমাধান হয়ে যেত! গণ্ডিটা সীমিত ছিল, আমি ভার্সিটি লাইফ শেষ করেছি কিন্তু এই গণ্ডিটা থেকে বের হতে পারি নি।অন্যান্য দিক যদি বলেন তাহলে হ্যা, অনেক বড় একটা দিগন্ত চিনেছি।আমি চারুকলায় যেতাম, সোহরাওয়ার্দী যেতাম, গিটার এর প্রতি আকর্ষণ হইয়েছে তখন।আর তার আগে আমার মনে হত না আমি এগুলো পারি, বা কখনো ভাবিনি যে আমিও গলা ছেড়ে গাইতে পারি, আমার মধ্যেও যে একটা সংগঠক আছে।

 

খোশগল্প.কম: বিশেষ কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ ছিলো কখনো?

মাহবুব সিদ্দিকী: হ্যা, আছে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে, আমার বই পড়ার প্রতি ভীষণ রকম, বলা যায় গোঁড়ামি পর্যায়ের ফ্যাসিনেশন আছে, বই পড়া এবং বই সংগ্রহ করার প্রতি।এই প্রসঙ্গে বলি আমার বাসার যে লাইব্রেরী তার বেশির ভাগ বই সংগ্রহের, সংগ্রহ আসলে ভদ্রস্থ শব্দ, খোলামেলা বললে দাঁড়ায় চুরি করা। গানের প্রতি আছে আর বাউলিয়ানার প্রতি আছে।ভার্সিটি লাইফে যখন উদ্দেশ্যহীনভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাঁটাহাঁটি করছি বা অন্য কোথাও বসে থাকছি তখন আমার মনে হয়েছে যে আসলে প্রতিটা মানুষ আসলে একা।আমি হয়তো কাউকে ভালবেসে কারো জন্য কিছু করছি, কিন্তু এই ব্যাপারটাকে আমি যেভাবে অনুভব করছি, সে সেভাবে বুঝবে না।তার মানে হচ্ছে যে আমি তার জন্য যতটুকু করছি, দিন শেষে সবটুকু আসলে বৃথা।আমি যতক্ষণ তার জন্য আছি, সে ততক্ষণই আমাকে ভালবাসবে।আবার হয়তো ছোট একটা ঘটনার সিদ্ধান্তে চলে আসবে আমি আসলে তাকে ঠিক সেভাবে ভালবাসি না।তো অইসময়ে আমার মনে হয়েছে আসলে প্রতিটা মানুষই একা।আর আত্মউন্নয়নটা খুব জরুরী।আত্মউন্নয়ন বলতে বড় বড় ডিগ্রী নেয়া না, নিজেকে বোঝা।লালন যেটাকে বলেন সহজ মানুষকে চেনা।চারুকলার সামনের জায়গাটায় যখন যেতাম তখন আমি নিজেকে খুব পেতাম, আমি মানুষের মুখ দেখতাম। তখন নিজেকে আস্তে আস্তে ফকির টাইপ মানুষ মনে হত।ফকির টাইপ মানুষ বলতে রেফারেন্স দিয়ে বলি, বাউল যারা তারা নিজেদের পরিচয় ভিক্ষা করে বেড়ায়।আমি কি সেটা জানার জন্য আপনার কাছ থেকে পরিচয় ভিক্ষা করছি।তো এগুলো নিয়ে থাকতে গিয়ে আমি খুব বেশী একাডেমিক পড়াশোনা করি নি। আর টিএসসিতে আমাদের অর্গানাইজেশন ছিল প্রভাতফেরি নামে।ওখানে মজার একটা বিষয় ছিল।ওখানে নানারকম বাদ্যযন্ত্র থাকত, আপনি যেটা চান বাজাতে পারেন।বাজাতে পারেন বলতে আপনাকে বাজানো জানতে হবে না, একতারা আছে, দোতারা আছে, বেহালা রাখা আছে, আপনি চাইলে টোকাটুকি করতে পারবেন, কেউ না করবে না।এইখানে আমি খুব আনন্দ পেতাম।তখন আমার একরকম আগ্রহ হয়েছিল বাদ্যযন্ত্রের প্রতি।যখন আমি হলে থাকতাম আমার প্রায় পনেরো থেকে ষোল রকম বাদ্যযন্ত্র ছিলো।হাওয়াই-স্প্যানিশ দু’রকম গিটার, ভাইয়া ভায়োলিন কিনে দিয়েছিল।চারটা বাঁশি ছিল, ঢোল ছিল, খমক ছিল, খঞ্জনি ছিল, হাতবায়া ছিল আরো অনেকগুলা। আর আমার সবচাইতে বেশি দরকার অবসর।আমি এখানে পড়াচ্ছি, এর  বাইরেও আমি চাইলে উদ্ভাস বা অন্য কোথাও ক্লাস নিয়ে টাকা-পয়সা করতে পারি।কিন্তু আমার অনেক সময় দরকার কারণ আমি ঘুরে বেড়াতে চাই, উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরে বেড়ানো।ব্যাপারটা  এমন না আমি কক্সবাজার দেখি নি, সেখানে যাব, এমন না।আমি বের হলাম এবং কখন ফিরব আমি জানি না।এই ব্যাপারটা আমি ভীষণভাবে অনুভব করি, এবং আমি এটা একদিন করব।

 

খোশগল্প.কম: তো এভাবে কি কখনো বের হন নি?

মাহবুব সিদ্দিকী: মাঝে মাঝে করেছি কিন্তু পুরোপুরি কখনো করিনি।যেমন আমি যখন ময়মনসিংহ গিয়েছি উদ্ভাসে ক্লাস নিতে তখন মাঝখানে দু’দিন বা তিনদিন সময় রেখেছি পাশের জেলা নেত্রকোণা বা জামালপুর ঘুরে আসার জন্য।কিন্তু একটা টান থাকত ফিরে আসার।কিন্তু আমি পিছুটান ছাড়া বের হয়ে যেতে চাই।জানি না কবে পারব।

 

খোশগল্প.কম: পুরোপুরি ছেড়ে কোনদিন পারবেন মনে হয়?

মাহবুব সিদ্দিকী: হ্যা, আমি পারব।আমি বিশ্বাস করি আমি পারব। পারিবারিক বা ভালবাসার সম্পর্কের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে যাবে, খুব একটা ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।তো আমি এটাকে একেবারে ব্যবহারঅযোগ্য অবস্থায় নিতে চাই না।আমি যখন দেখবো যে, সম্পর্কগুলো  ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে, এবং এটা সব সম্পর্কের বেলায়ই সত্য।সেটা বাবা-মা, ভাই-বোন সব সম্পর্কের বেলায়ই।ভাইয়ার প্রতি আমার আলাদা একটু টান আছে, কিন্তু ত্রিশ বছর পর বা একটা সময় পর এই টানটাও আর এতটা থাকবে না।আর একটা কথা জানেন কিনা যে কোন জায়গায় একটু টান থাকতে সরে যাওয়া ভাল।আমার বয়স যখন পঁয়তাল্লিশ বা পঞ্চাশ আমার ইচ্ছা আছে যে আমি বেরিয়ে পড়বো।

 

খোশগল্প.কম: এই সময় বা লাইফের এই স্টেজে এসে ‘আমি জীবন থেকে এই একটা বা দুটো ফিলসফি বুঝেছি’-এমন কিছু আছে?

মাহবুব সিদ্দিকী: হ্যা, এরকম কিছু জিনিস আমি পেয়েছি।যেমন মানুষের সুখে থাকাটা কোন কিছুর কারণ বা ফলাফল না, সুখে থাকাটা একটা অভ্যাস।যেমন আমি আমার প্রেমিকাকে বলতাম, তোমার যদি সুখে থাকার অভ্যাস থাকে তাহলে আমি কেমন সেটা নিয়ে তোমার কোন সমস্যা হবে না।কিন্তু তুমি যদি মনে কর তুমি সুখী না, তাহলে আমি সমস্ত জগত এনে দিলেও তোমার মনে হবে একটু খুঁত আছে।তো সবকিছুর জন্য আসলে আমি সুখে আছি এই অনুভূতিটা জরুরি। আরেকটা যেটা হচ্ছে আমি যা কিছুই করি আসলে সেটা নিজের জন্যই করি।স্বার্থপরতা হিসেবে বলছি না।অবশ্যই আমাদের অন্যের জন্যেও করা উচিৎ।এটা এইভেবে বলছি যে ধরেন ধর্মীয় বা দর্শনের ক্ষেত্রে বা কোন একটা ক্ষেত্রে সফল মানুষ, তার সব উক্তি, চিন্তা-ভাবনা, মতবাদ সব তার জন্যে ভাল হতে পারে কিন্তু আমার জন্য না।কারণ আমি সেই মানুষটা না।আমি আলাদা আরেকটা মানুষ।এই জিনিসটা বা এই ধারণাটা আমি যদি প্রচার না করে নিজে প্র্যাক্টিস করি তাহলে আপনি আমাকে দেখে শিখবেন, আর যদি আপনাকে আমি ইনসিস্ট করি বা বলি আমার মত করতে তাহলে সেটা আপনার জন্য বার্ডেন হয়ে যাবে।আপনি দেখে শিখেন, আর এপ্লাই করার সময় আপনার নিজের মত করে এপ্লাই করা উচিৎ।

 

আমার কাছে ধর্ম, রাজনীতি কিংবা মঙ্গল এসব কিছুর বোধটা হচ্ছে যা অন্যের জন্য অমঙ্গলজনক না।অন্যের জন্য যেটা অমঙ্গলের না, সেটা আমি করি সেটাতে দোষ কোথায়?কে কি বললো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।ধরেন আপনি আমার বড়, আপনি আমাকে ভালবাসেন, স্নেহ করেন; এইজন্য আমাকে আপনার মত হতে হবে, আপনাকে ফলো করতে হবে ব্যাপারটা যদি তাই হয়, তাহলে আমাকে যে আপনি ভালবাসেন সেটার প্রমাণ কোথায়? আমার কিছু অবাধ্যতা, আমার কিছু গোঁড়ামি, আমার কিছু বাজে দিক আপনি যদি সহ্য নাই করেন তাহলে আপনি আমাকে ভালবাসেন না;প্রশ্রয় দেন কিছু সময়ের জন্য।এ দুটো ব্যাপারের মধ্যে পার্থক্য আছে।

 

খোশগল্প.কম: আপনাকে ধন্যবাদ।

মাহবুব সিদ্দিকী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0