সঞ্জীব ভট্টাচার্য সূর্য। সুখী হওয়ার উপায় কি জানতে চাইলে তার উত্তর, “আমরা ভাবি যে টাকা পয়সা আমাদের অনেক সুখ দিবে। আবার টাকা পয়সা আসা শুরু করলে তখন আবার মনে হবে এটা নেই ওটা নেই আমার।  আমার মনে হয় পৃথিবীর সভ্যতা এতদূর এসেছে মানুষ কি করলে সুখী হবে এটা জানার জন্যই। ২০০ বছর আগে যখন প্রযুক্তি ছিল না তখন তারা ভাবত হয়তো প্রযুক্তি আসলে সুখী হবে। কিন্তু প্রযুক্তি তো আরাম-আয়েশে দেয় । আরাম-আয়েশ তো আর সুখের মানদন্ড হতে পারে না। যতদিন মানুষ বেঁচে থাকবে ততদিন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবে না। আমার মনে হয় ঈশ্বর ইচ্ছা করেই এমন একটা কৌতুহল মানুষের মনে জাগিয়ে দিয়েছেন কি করে সুখী হওয়া যায়?  তা না হলে মানুষের মধ্যে কাজের উৎসাহ কমে যেত”।

সৃষ্টিশীল কাজগুলো প্রতিযোগীতা বিহীনই থাকুক, না হলে সৃজনশীলতা হারিয়ে যাবে

লিখেছেন...admin...মে 30, 2016 , 2:12 অপরাহ্ন

sj

খোশগল্প.কম: তুমি লেখালেখি কর কেন?

সূর্য: ভালো লাগে তাই।

খোশগল্প.কম: এই ভালো লাগার কোন যৌক্তিক কারণ?

সূর্য: আমার মা প্রচুর বই পড়ত। তাই ছোটবেলা থেকেই আশেপাশে অনেক বই ছিল। মার বই পড়ার অভ্যাস থেকে আমার বই পড়ার অভ্যাস আসছে। আমার মনে হয় যারা অনেক পড়ে তারা একটা সময় কিছু লেখালেখি করে।

খোশগল্প.কম: তুমি তো গল্প, উপন্যাস লিখ না,  কবিতা লিখ। সাহিত্যের এই ধারাতে লিখার কারণ কি?

সূর্য: ছোট থাকতে লিখতাম, তখন লিখে নিজে নিজেই  জাজ করতাম কেমন হয়েছে?  দেখতাম গল্পের টুইস্ট এবং চরিত্রগুলোকে সুন্দর মত গুছাতে পারি না। আমি যখন এইচ এস সি তে পড়ি। তখন আমার বাসায় শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর কবিতার বই ছিল। সেখান থেকে কবিতা পড়া শুরু, তারপর অন্য সবার বই পড়া। ছোটবেলায় কিছু কবিতা লিখেছিলাম স্কুলের ম্যাগাজিনের জন্য। পড়ি সব রাইটারের বই ই কিন্তু তবুও কবিতার প্রতি একটু ভিন্ন ঝোঁক আছে।

খোশগল্প.কম: তোমার মতে একজন ভালো কবি হওয়ায় বৈশিষ্ট্য কী? 

সূর্য: প্রচুর পড়তে হবে। সব কিছু পড়তে হবে তাকে। গল্প, উপন্যাস,  কবিতা। রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটা কথা বলে গিয়েছেন কবিদের জন্য, ” কবিরা হল শব্দ শ্রমিক”। শব্দ নিয়ে খেলা করে। না পড়লে মাথায় কিছু আসবে না। কেউ যদি একটা ভালো লাইন লিখতে চায়, তাকে অবশ্যই ১০০ ভালো লাইন পড়তে হবে। কেউ যদি খুব ভালো লিখতে চায়, তার জন্য তাকে অবশ্যই কয়েকগুণ ভালো পড়তে হবে।।

খোশগল্প.কম: ইঞ্জিনিয়ারিং এ কেন আসলে, সাহিত্যে তো যেতে পারতে?  এর জন্য কোন অনুশোচনা-বোধ হয়?

সূর্য: ট্র্যাডিশনাল সাইন্সে পড়া মানেই মেডিকেলে-বুয়েটে পড়া। আমার বোন মেডিকেলে পড়ে, তাই সবাই চাইত ভাই বুয়েটে পড়ুক। আমার ও ইচ্ছা ছিল বুয়েটে পড়ার । বুয়েটের প্রতি একটা মোহ ছিল। কোচিং পড়ার সময় ভাইয়ারা একটা ফ্যান্টাসির মধ্যে রাখতো বুয়েট নিয়ে। আমার মনে হয় যারা বুয়েটে আসছে সবাই ঔ রকমের একটা মোহ নিয়েই আসছে। খুব কম ছেলেমেয়ে বুয়েট সম্পর্কে জেনেশুনে আসছে। সবাই ই ভালো ছাএ ছিল, তাই তাদের ইচ্ছা ছিল বুয়েটে পড়তেই হবে। সেই মোহ থেকেই আসছে। আমি ও সেই স্রোতে আসছি।

খোশগল্প.কম: তোমার অনেক ফেসবুক পোস্টে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের প্রতি অনেক আবেগ, স্কুল ও কলেজের প্রতি আবেগ দেখাও। এটার পিছনে কোন কারণ আছে?

সূর্য: হ্যাঁ, আমি যখন ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসি তখন বুঝতে পারি । ছোট শহর থেকে কেউ যখন বড় শহরে আসে তখন ছোট শহরের জন্য টান টা বেশিই লাগে। আমি ছোটবেলা থেকেই ময়মনসিংহে বড় হয়েছে। মানুষের জীবনে বয়ঃসন্ধিটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এটা অনেক বেশি দাগ ফেলে জীবনে। স্কুল কলেজে পড়ার সময় সেই রাস্তা দিয়ে আমি পড়তে যেতাম যে রাস্তাগুলো আমার সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই বিষয়গুলো অনেক এফেক্ট ফেলে। আমি আমার এইচ এস সি পযর্ন্ত অনেক ভালো সময় কেটেছে। যদিও বুয়েটেও খুব ভালো সময় যাচ্ছে।

খোশগল্প.কম: হল জীবনের সাথে খাপ খাওয়াতে কি খুব একটা সমস্যা হয়েছে?

সূর্য: মোটেও না । আমার মনে হয় বুয়েটের হল এ খাপ খাওয়ানো খুব একটা টাফ না। কারণ এখানে ভিন্ন মানসিকতার মানুষ কম। সবার মানসিকতা সমান। এছাড়া ও আমি হয়তো এক্সট্রোভার্ট তাই হয়তো। যদিও অনেকর সমস্যা হয়।

খোশগল্প.কম: তুমি বললে, তুমি অনেক এক্সট্রোভার্ট ছিলে, এটার প্রমাণ কি তুমি অনেক এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিতে জড়িত ছিলে?

সূর্য: আমি ছোটবেলা থেকেই স্পোর্টসে যুক্ত ছিলাম। এখন থেকে অবশ্যই কম কারিকুলাম একটিভিতে জড়িত ছিলাম। ছোটবেলায় স্কুল শেষ করে কখনোই সরাসরি বাসায় চলে আসতাম না, বন্ধুদের সঙ্গে একটু ঘুরাঘুরি করতাম,  কোচিংয়ের পর খেলতাম। ছোটবেলা থেকেই সবার সঙ্গে মিশতাম। কারোর সঙ্গে মিশার ক্ষেএে কোন জড়তা ছিল না। মানুষের সাথে মিশতে আমার ভালো লাগত।

খোশগল্প.কম: এই  এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটি কি সিজিপিএ এর ভিত্তি হতে পারে?

সূর্য: না, আমার মনে হয় না। সিজিপিএ বা মার্ক যেটা একটা পার্থিব জিনিস। যেটা ভালো থাকার জন্য। সিজিপিএ দিয়ে হয়তো ভালো জব পাব, অনেক টাকা পাব। জীবনে যে একটা সুখের জায়গা আছে সেটা পাব না হয়তো। আমার এখন কবিতা লিখতে ভালো লাগে। আমাকে যদি বলা হয়, কবিতার জন্য মার্কিং করা হবে। তাহলে এটা আমার মাথার উপর একটা এক্সট্রা চাপ ফেলবে।একটিভিটিতে একটা সৃষ্টির আনন্দ আছে, এখানে প্রতিযোগিতা ছাড়া থাকুক। যদিও এথলেটিকে এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিতে ধরা হয়, সেখানে প্রতিযোগীতা আছে, কিন্তু যেমন ছবি আকা, গান গাওয়ার মত সৃষ্টিশীল কাজগুলো প্রতিযোগীতা বিহীনই থাকুক, না হলে সৃজনশীলতা হারিয়ে যাবে।

খোশগল্প.কম: তুমি বুয়েট রেডিও একজন একটিভ মেম্বার, এখানের অভিজ্ঞতা যদি আমাদের সাথে শেয়ার কর

সূর্য: এই আইডিয়া  মেইনলি ছিল পার্থর। আমাদের প্রথম একটা শো হয়েছিল ম্যাকানিকালের একটা প্রোগাম নিয়ে। তারপর যখন এটা ব্যাচের জন্য গেল তখন আমাকে আরজে হতে বলা হল। এখন পর্যন্ত বুয়েট যতগুলো কাজ হয়েছে ভিন্ন, নতুন তারমধ্যে এটা একটা। আমি এখানে যাদের সাথে কাজ করি তাদের সাথে কাজ করতে পারাটা অনেক মজার এবং আনন্দের।

খোশগল্প.কম: বুয়েট রেডিও তো আর প্রতিদিন হয় না, একটা সুনির্দিষ্ট দিনে হয় বা প্রোগাম ভিত্তিক হয়, বুয়েট রেডিও নিয়ে কাজ করার সময়ের কোন মজার অভিজ্ঞতা?

সূর্য: মাঝেমধ্যে দেখা যায় যখন মেসেজ আসে না, তখন আমাদের পরিচিত মানুষরাই মেসেজ করে। আবার মাঝেমধ্যে হয় শোর আগেই সব ঠিকঠাক, প্রোগাম শুরু হয়ে গেলে দেখা যায় একটা সার্ভার চলছে না বা কেউ শুনছে না। তখন ব্যাপারটা খুব মজা লাগে আবার খারাপ ও লাগে।

খোশগল্প.কম: বুয়েটের সব প্রোগামেই তোমার অরগানাইজিং এবং উপস্থাপনা দেখা যায়। এই ব্যাপারগুলো তোমার কেমন লাগছে?

সূর্য: আমি যখন ১/১ এ ক্লাস পার্টি করলাম, তখন আমরা টুয়েলভথ ব্যাচ এর ভাইয়াদের সাথে কথা বললাম। কি করে ডিপার্টমেন্ট হেডের সাথে এপ্রোচ করা উচিৎ, কিভাবে সেমিনার ম্যানেজ করা যাবে, কোথা থেকে খাবার নিলে ভালো হয়,  কি কি করা যায়। এটা আসলে সিস্টেমেটিক কাজ। আমি এত প্রোগাম এরেঞ্জ করে শিখে ফেলেছি কিভাবে ম্যানেজ করতে হবে, কিভাবে সিস্টেমেটিক কাজ গুলো করতে হবে ।

খোশগল্প.কম: সবাই বুয়েটে নিজেদের ব্যাচকে  সেরা বলে, এ ক্ষেত্রে তোমার ও কি নিজেদের অর্থাৎ ১৩ ব্যাচকে তুমি সেরা বলবে?

সূর্য: এখন পর্যন্ত বেস্ট কিনা জানি না। তবে অন্যান্য ব্যাচ থেকে আলাদা। ১৩ ব্যাচকে সবচেয়ে বেশি ক্যাম্পাসে দেখা যায়। একটা ব্যাচের কতটুকু স্বতস্ফূর্ততা একটা প্রোগামের সাথে? আমার ব্যাচের অনেকেই আছে যারা লেখালেখি করে, এবং বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পিটিশানও জিতে আসে আবার আইডিয়া এবং বিতর্ক কম্পিটিশান এ ও জিতে আসে।  অন্য ব্যাচেও সাফল্য আছে, কিন্তু এদের সাফল্য একমুখী, কিন্তু ১৩ ব্যাচের ক্ষেত্রে অনেক  বৈচিত্র্যময়। আমি অনেক সিনিয়রদের কাছ থেকেও শুনেছি ১৩ ব্যাচ এ অনেক বৈচিত্র্যময় ।

খোশগল্প.কম: Rag এর অভিজ্ঞতা আছে ?

সূর্য: আমি খাই নি। তবে সিনিয়রা ডেকে ঝাড়ি দিয়েছে বকা দিয়েছে। আমিও জুনিয়রদের ঝাড়ি দিয়েছি। কিন্তু Rag বলতে যা বোঝানো হয় তা কিন্তু না। Rag বলতে হ্যারাসমেন্ট বোঝানো হয়। আমি সিনিয়রদের থেকেও হ্যারাসমেন্ট হয় নি এবং জুনিয়রদেরও করিনি।

খোশগল্প.কম: ফেসবুকে বুয়েটের আড়িপেতে শোনা গ্রুপের সম্পর্কে তোমার মন্তব্য

সূর্য: মন্তব্য নেই।

খোশগল্প.কম: সাহিত্য নিয়ে তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

সূর্য: আমি এটা নিয়ে কনফিউজ। আমি পড়ালেখা আর লেখালেখি নিয়ে দোটানায় আছি। দেখা যাক কি করা যায়। আগামীবছর থেকে লেখালেখিকে গুছিয়ে আনব। ফেসবুকে লিখলে বা আমার ভার্সিটির একটা ম্যাগাজিনে লিখলে এটার আসলে আল্টিমেটলি কোন লাভ নাই। তাই এটাকে একটু সংগঠিত করব।

খোশগল্প.কম: ফেসবুকে যে গুলো অনেক জনপ্রিয় লেখা, সেগুলোর সাহিত্যমান নিয়ে তোমার মন্তব্য  কি?

সূর্য: ফেসবুক এখন একটা মাধ্যম। আজ থেকে ১০০ বছর আগে যে মাধ্যমে লেখা প্রকাশ হত আর এখন প্রকাশের মাধ্যম খুব ভিন্ন। কিছু কিছু লেখা সত্যিই অনেক ভালো। আগে সুযোগ ছিল না চট্টগ্রামে বসে, ফেনীতে বসে একটা ছেলে কি লেখে সেটা দেখার। সমস্যা হচ্ছে একটা কাজ যখন একসাথে অনেক মানুষ করে তখন সেটার মান কমে যায়। ফেসবুকে সেটাই হয়েছে। কেউ যদি শুরু করতে চায় তাহলে এটা একটা ভালো মাধ্যম। আমি এমন অনেকেই দেখিছি যারা ফেসবুক লেখালেখির মাধ্যমে বইও বের করেছে। সাহিত্য তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যেমন কবিগান কবিদের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমি বলতে চাই সাহিত্য প্রকাশের একটা মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ১০০ বছর পর হয়তো আবার ভিন্ন কোন মাধ্যম আসবে ।

খোশগল্প.কম: অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেখকদের হতাশা অনুপ্রেরণার দেয় লেখার, হতাশা সেটা হোক প্রেম বা বাস্তব জীবনের। এ ব্যাপারে তোমার কোন মতামত আছে?

সূর্য: কেন ফিল দেয় জানি না। হুম হতাশ হলে কেন জানি লেখা আসে। আমি যখন রাতের বেলায় পলাশী থেকে খেয়ে আসি, তখন হাঁটতে হাঁটতে মাথায় আসে। আমি তো ২ বছর পর আর এরকম করতে পারব না। এটা ঠিক হতাশা না। এটার জন্য অন্য রকম অনুভূতি কাজ করে। খুব কম সংখ্যক মানুষ আসলে সুখী হয়। দুঃখটা আসলে সার্বজনীন। দুঃখবোধ বা হতাশবোধ এখন সার্বজনীন।  আমি যখন হতাশবোধ থেকে লিখছি তখন এটা অন্যের কাছে সুখ হয়তো। আমি যখন আমার হতাশবোধ নিয়ে চিন্তা করি, আমার থেকে ও অনেক খারাপ ভাবে আছে মানুষ। এটা একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।

খোশগল্প.কম: কি করলে আসলে জীবনে সুখী হওয়া যাবে?

সূর্য: একটা সিটি খারাপ করলে আমার খুব খারাপ লাগে। ১/২ ঘন্টা পর এটা ভুলে যাই। কিছু দুঃখ ১/২ দিনের আবার কিছু দুঃখ আরও বেশি। আমরা কি করলে সুখী হব তা আমরা নিজেরাও জানি না। আমরা ভাবি যে টাকা পয়সা আমাদের অনেক সুখ দিবে। আবার টাকা পয়সা আসা শুরু করলে তখন আবার মনে হবে এটা নেই ওটা নেই আমার।  আমার মনে হয় পৃথিবীর সভ্যতা এতদূর এসেছে মানুষ কি করলে সুখী হবে এটা জানার জন্যই। ২০০ বছর আগে যখন প্রযুক্তি ছিল না তখন তারা ভাবত হয়তো প্রযুক্তি আসলে সুখী হবে। কিন্তু প্রযুক্তি তো আরাম-আয়েশে দেয় । আরাম-আয়েশ তো আর সুখের মানদন্ড হতে পারে না। যতদিন মানুষ বেঁচে থাকবে ততদিন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবে না। আমার মনে হয় ঈশ্বর ইচ্ছা করেই এমন একটা কৌতুহল মানুষের মনে জাগিয়ে দিয়েছেন কি করে সুখী হওয়া যায়?  তা না হলে মানুষের মধ্যে কাজের উৎসাহ কমে যেত।

খোশগল্প.কম: টাইম মেশিনে করে যদি অতীতে ফিরে যেত পার, তাহলে সামগ্রিক মানবজাতির ইতিহাসে বা তোমার ব্যক্তিগত জীবনে কি চেঞ্জ করতে?

সূর্য: আমি অতীতে ফিরে গেলে বাবা-মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করতাম না। আমার বাবা নেই, আমি বাবার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি, মায়ের সাথেও করেছি। এখন এটা বুঝতে পারছি। আগে অনেক রগচটা ছিলাম। এখন অনেকটা কমে গেছে।

খোশগল্প.কম: পরিবারের কাছ থেকে তোমার জীবনের বড় শিক্ষা কি? 

সূর্য: কষ্ট করতে হবে।

খোশগল্প.কম: তোমার জীবনের আইডল কে?

সূর্য: আমার আসলে কোন আইডল নেই। ছোটবেলায় ছিল, তারপর আবার চেঞ্জ হয়েছে। ছোটবেলায় যাকে ভালো লাগত এখন তার তাকে ভালো লাগে না। তবে আমার বাবা অনেক সৎ ছিলেন এবং অনেক পরিশ্রমী ছিলেন। এই জিনিসটা আমাকে অনেকে অনুপ্রেরণা দেয়।

খোশগল্প.কম: মৃত্যু নিয়ে তোমার চিন্তা ভাবনা কি?

সূর্য: তেমন কোন চিন্তাভাবনা নেই। তবে ভাবতে অবাক লাগে সবকিছুই একদিন শেষ হয়ে যাবে। পরকাল আছে কিনা নাই সেই ব্যাপারে আমি অনেক সন্দিহান।

খোশগল্প.কম: তাহলে কি তুমি সংশয়বাদী?

সূর্য: আমি আসলে খুব ধার্মিক পরিবারের। ৫/৬ পর্যন্ত খুব ধার্মিক ছিলাম। তারপর অনেক বই পড়েছিলাম এবং কিছু সাইন্স রিলেটেড বই পড়ার কারণে কিছু প্রশ্ন মাথায় জমে ছিল। আমি তখন দেখলাম আমার আশেপাশের মানুষকে প্রশ্ন করে এগুলোর উত্তর পাওয়া যায় না। ঐ সময় থেকে আসলে একধরনের সন্দেহ শুরু। পড়াশোনা বেড়েছে, সন্দেহ বেড়েছে। এখন আসলে মাঝখানে আছি। তবে আমি যেটা বিশ্বাস করি ঈশ্বর আছেন, তবে প্রচলিত ধর্ম পদ্ধতিতে সংশয় আছে। প্রচলিত ধর্ম পদ্ধতিতে ঈশ্বরকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে ।  ঈশ্বর আছেন অবশ্যই।

খোশগল্প.কম: তোমাকে যদি সুযোগ দেওয়া হয় মানবজাতির একটা কর্মকান্ড চেঞ্জ বা কোন নেগেটিভিটি তে চেঞ্জ আনতে চাইবে?

সূর্য: ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তুলনা করা এই ২টা তে পরিবর্তন আনব ।

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত