“একটা শক্তিশালী পেট্রোনাস স্পেল তৈরী করবার জন্য সেই মুহুর্তটাই যথেষ্ট”  কথাটি বলছিলেন রিয়াদ রাব্বি। বুয়েটে পড়াশুনা করছেন আর্কিটেকচার থেকে। সামনের কথা বা প্ল্যান জিজ্ঞেস করাতে কিছুটা নড়েচড়ে বসলেও গান নিয়ে কাজ করেন এবং সামনেও কাজ করতে চান সেটি বলেছেন।

স্থাপত্যের পরিধি আসলে কত বৃহৎ সেটা তখন বা এখনও বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 28, 2016 , 2:30 অপরাহ্ন

ny

খোশগল্প.কম: এখন ব্যস্ততা যাচ্ছে কি নিয়ে আপনার?

রাব্বি: ব্যস্ততার আসলে কোন মাথামুন্ডু খুঁজে পাচ্ছিনা। পড়াশুনা, প্রোজেক্ট, মিউজিক, টুকটাক কাজ সবকিছু মিলে জগাখিচুড়ি অবস্থা। কিছুদিন আগেও ডিপার্টমেন্টের প্রোগ্রাম নিয়ে দৌড়াদৌড়ির শেষ ছিল না। আপাতত দুই চার দিনের ছুটি চলছে।

খোশগল্প.কম: তার আগে জেনে নেই পড়াশুনা করছেন কিসে?

রাব্বি: আর্কিটেকচারে পড়ছি, বুয়েটে। লেভেল থ্রি টার্ম টু তে।

খোশগল্প.কম: আচ্ছা বলছিলেন বন্ধের কথা ; তো সেটা টার্ম ব্রেক?

রাব্বি: না  টার্ম ব্রেক না। মিড টার্ম ব্রেক। ৭ সপ্তাহ টানা ক্লাসের পর ১ সপ্তাহের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বন্ধ।

খোশগল্প.কম: আর্কিটেক্ট হওয়ার ইচ্ছা কি আগে থেকেই ছিলো?

রাব্বি: হা হা। এটা আসলে খুবই সেন্সিটিভ প্রশ্ন স্থাপত্য পাড়ায়। সবাইকেই এক বা একাধিকবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হইসে। আমার আর্কিটেকচার সম্পর্কে খুব বেশী ধারনা ছিল না আসলে। শুধু অল্প স্বল্প ছোট খাটো করে জানতাম বিল্ডিং টিল্ডিং সংক্রান্ত ব্যাপারস্যাপার। কিন্তু স্থাপত্যের পরিধি আসলে কত বৃহৎ সেটা তখন বা এখনও বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। এডমিশন কোচিং এর সময় আর্কিটেকচারের ক্লাস গুলো খুবই ভালো লাগত। সেখান থেকে মেইনলি ইচ্ছা টা ভালোভাবে জাগে।

খোশগল্প.কম: স্থাপত্যের পরিধি ব্যাপারটি কি একটু বুঝিয়ে বলা যায়?

রাব্বি: আসলে আমরা যারা বাইরে থেকে এই স্থাপত্য ব্যাপার টাকে দেখি, খুব কম, খুবই কম অংশটুকু চোখে পড়ে। আর্কিটেকচারের ভেতরে না এসে আসলে একে চেনা যায় না, বোঝাও যায় না। অন্য সব প্রফেশন থেকে এই আর্কিটেকচার টা কেন জানি সকলের কাছে একটু বেশীই দুর্বোধ্য। স্থাপত্য শুনলেই মনে হয়, এই রে এটা তো স্থাপনা সম্পর্কিত ব্যাপার। কিন্তু আসলে আর্কিটেকচার শুধু বিল্ডিং আর স্ট্রাকচারের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। আর্কিটেকচার কি সেটা ডিফাইন করতে গিয়ে অনেক বড় বড় আর্কিটেক্টকেও বেশ বেগ পেতে হয়, আমি বরং সেই স্পর্ধা আর না দেখাই। ছোট্ট করে একটা কথা মনে করিয়ে দেই শুধু “Architecture is the mother of all art.”

খোশগল্প.কম: “art” ব্যাপারটার কথা যেহেতু আসলই তো জানতে চাই আর্কিটেকচারে পড়তে ড্রয়িং ব্যাপারটা কি ম্যান্ডাটরি?

রাব্বি: হ্যাঁ ড্রইং/স্কেচ এসব সব আর্কিটেকচার স্কুলেই একটা বেসিক রিকোয়ার্মেন্ট থাকে। ড্রইং বা স্কেচ আসলে আর্কিটেকচারে কোথায় লাগে সেটা হচ্ছে বুঝবার বিষয়। যেমন ধরুন আপনি একটা ডিজাইন প্রোপোজাল দিচ্ছেন আপনার ক্লাইন্ট কে। আইডিয়া টা আপনার মাথায় আছে, কিন্তু শুধু সেখানে থাকলে তো হবে না, যার জন্য ডিজাইন টা করছেন তাকে দেখাতে হবে বা অন্তত বোঝাতে হবে। সেই আইডিয়া শেয়ারিং এর জন্য স্কেচ টা দরকার। আর ড্রইং এর ব্যাপার টা, আর্কিটেক্ট যখন একটা ডিজাইন করেন, সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের বুঝিয়ে দেন, সেটার মাধ্যম। যারা কন্সট্রাক্টর, তারা সেসব স্কেল ড্রইং থেকেই তো আর্কিটেকচার টা তুলবেন। তো অনেকে বোধহয় চারুকলার সাথে ব্যাপার টা কনফিউজ করে ফেলেন। আসলে ব্যাপার টা তেমন না। আর্কিটেকচারে স্কেচ বা ড্রইং দরকার হয় সেটা ঠিক, কিন্তু এটাই যে সবকিছু, বা খুব ফাইন স্কেচ পারতে হয়, এ ধারনাটা ঠিক না। মোটামুটি ধরনের ড্রইং/স্কেচ পারলেও আর্কিটেকচার পড়া যায় কোন সমস্যা হয় না।

খোশগল্প.কম: এটাই বলতে চাচ্ছিলাম চারুকলার সাথে ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলার চান্স কিন্তু অনেক……..

রাব্বি: না না চারুকলা আর আমাদের ব্যাপারগুলোর মধ্যে অনেক তফাত। কিছু কিছু বিষয় মিল আছে, যেমন স্কাল্পচার, পেইন্টিং, স্কেচ এসব। এগুলো মেইনলি আমাদের শেখানো হয় ডিজাইন এলিমেন্ট হিসেবে। আমাদের ডিজাইনে এসব ইম্পলিমেন্ট করার জন্য। পিওর আর্টওয়ার্ক হিসেবে না। আবার সব আর্কিটেকচার স্কুলেই যে এগুলো করানো হয় তাও না। ডিফার করে স্কুল টু স্কুল।

খোশগল্প.কম: ছবি তোলা বা ফটোগ্রাফি ব্যপারটাও তো রিলেট করা যায় তাইনা?

রাব্বি: হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই। আর্কিটেকচারে একটা বেশ বড় ব্যাপার হচ্ছে প্রেজেন্টেশন এন্ড ডকুমেন্টেশন। ফটোগ্রাফি তো আসবেই এতে।

খোশগল্প.কম: আর্কিটেকচার ছাড়াও আরো বেশ কিছু সাবজেক্ট রয়েছে সেগুলোকে প্যায়োরিটি কম দেয়া হয়েছিল ভর্তির সময়?

রাব্বি: আসলে ইন্টেনশনালি সেটা না করলেও অনেকটা তাইই হয়েছিল শেষ পর্যন্ত। কিন্তু অন্য সাবজেক্টগুলোকে কম গুরুত্ব দিয়েও আসলে লাভ নেই, কারন আর্কিটেকচার (বি ইউনিট) এর জন্য ড্রইং এক্সাম দিতে তো হয়, তার সাথে এ ইউনিটের ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সামটাও দিতেই হয়। আর শুধু ড্রইং এক্সাম দিয়ে চান্স পাওয়া সম্ভব না। ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টগুলোতে আলাদা আলদা পাশ মার্ক থাকতে হয়।

খোশগল্প.কম: যেদিন চান্স পাওয়া কনফার্ম হয়েছিলো সেই অনুভূতি কেমন ছিলো?

রাব্বি: অবশ্যই জীবনের সবথেকে ভালো অনুভূতিটাই সেটা ছিল। বুয়েটিয়ান মাত্রই চান্স পাবার খবর জানার মুহুর্ত টা সবথেকে মুল্যবান আর খুশির। হ্যারি পটার যদি পড়ে থাকেন, এভাবে বলা যায়, একটা শক্তিশালী পেট্রোনাস স্পেল তৈরী করবার জন্য সেই মুহুর্তটাই যথেষ্ট। আমার রেজাল্ট পাবার ঘটনাটাও বেশ ড্রামাটিক আর ঘটনাবহুল। বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে। থাক বরং।

খোশগল্প.কম: তবে থাক আপাতত।অবসরে কি করা হয়?

রাব্বি: অবসর আসলে আর আগের মত পাওয়া যায় না। বয়স বাড়ার সাইড ইফেক্ট। সাইড না আসলে মেইন ইফেক্টই। যেটুকু পাওয়া যায়, আড্ডাবাজি, অল্প স্বল্প ঘুরাঘুরি, আর হালকা পাতলা মিউজিক-টিউজিক এইতো। আগে বই পড়তাম প্রচুর। এখন আর হয়ে ওঠে না।

খোশগল্প.কম: মিউজিক কি একদমই বাদ আপাতত?ভালো গান করেন শুনেছি!!

রাব্বি: আরে না না এতোটাও না। ওইতো শখের বশে একটু গিটার আর গান যা করি তাকে না করাই বলা চলে। বাদ না। চলে একটু করে করে। ডিপার্টমেন্টের প্লিন্থে প্রায়ই ক্লাসমেট, জুনিওর, বড় ভাইয়ারা আপুরা মিলে বসে গান টান করা হয়।

খোশগল্প.কম: গান কি প্যাশন?

রাব্বি: প্যাশন না বলে শখ বললে ভালো হয় আসলে। ছোটবেলা থেকেই গান শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। আর যেটা ভালো লাগে সেটা করার ইচ্ছা তো জাগেই। এভাবে অল্প অল্প করে শুরু। দোয়া করবেন যাতে কন্টিনিউ করতে পারি।

খোশগল্প.কম: অবশ্যই।অনেক শুভ কামনা আপনার জন্য।

রাব্বি: ধন্যবাদ খোশগল্পকে। আমি আসলে কথা কম বলি,  মানে বলতে পারিনা।

খোশগল্প.কম: আপনার সাথে কথা বলে ভালো লেগেছে অনেক।

রাব্বি: আমিও গল্পের ছলে অনেক কিছুই বলে আপনাদের সাহায্য করতে পেরেছি আশা করি।

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত