নাম সুরভী,কিন্তু চন্দ্রবিন্দু নামে বেশি পরিচিত । ঢাকা ইউনিভার্সিটির চারুকলার গ্রাফিক্স ডিজাইনে পড়ছেন সাথে অন্যরকম গ্রুপে ইন্টার্ন করছেন।দিন শেষে ভালো থাকা টাই সফলতা তার কাছে ।জীবনের সবচেয়ে মুখ্য চাওয়া ছিল স্বাধীনতা। চন্দ্রবিন্দু ভাবেন , “মানুষ যা চায় তা পাবে, সে যদি এ কথা বিশ্বাস করে তা হলে সে তা পাবে, আমি বিশ্বাস করতাম, আমি হয়তো তাই পেয়েছি ” তার বাকি গল্পগুলো তার কাছ থেকেই শোনা যাক ।

স্বাধীনতার মানে আমার কাছে বক্সের মধ্যে থেকে জীবন দেখা, কিন্তু দেয়াল দেখা না

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 5:45 অপরাহ্ন

934036_194300520921110_7049466625754528893_n

খোশগল্প.কম: শীত কেমন উপভোগ করছেন?

চন্দ্রবিন্দু: অন্তত এবার ভালো না কিন্তু বরাবরই ভালো লাগে । এখন ও ক্লাস চলছে,ব্যাস্ততা ।শীতকালটা উপভোগের সময় ছিল ছোটকালে ।ডিসেম্বর মানেই শীতকাল,আর ডিসেম্বর মানেই কোন পড়ালেখা নাই,স্কুল নাই ।তারপর জানুয়ারি তে নতুন ক্লাস ,নতুন বই ।মজাই ছিল আলাদা । এখন হয়তো ব্যাস্ততায় সময় পাল্টে গেছে ।

 

খোশগল্প.কম: ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সংজ্ঞা কেমন আপনার কাছে ?
চন্দ্রবিন্দু: স্বাধীনতার মানে আমার কাছে বক্সের মধ্যে থেকে জীবন দেখা,কিন্তু দেয়াল না দেখা ।সার্ফেস থেকে আমার দেখার সীমানাটা খুলে দিতে হবে ।এক কথায় বলতে গেলে,” শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই সব টুকু উপভোগ করাই স্বাধীনতা।

 

খোশগল্প.কম:স্বাধীনতার সাথে অপব্যবহার খুব সম্পর্ক যুক্ত ,তাহলে স্বাধীনতার অপব্যবহার বলতে কি বুঝেন?
চন্দ্রবিন্দু:আমি সব কিছু করে বা করার আগে পিছু ফিরে তাকাই। কেননা আমি কোথা থেকে আসেছি, কোথায় যাব? এই জন্য আমি পিছু ফিরে তাকাই।আর পিছনে ফিরে তাকালে আমি আমার সীমাবদ্ধতা দেখতে পাই ।তবে তারপরে ও অপব্যাবহার সম্পর্কে সচেতন থাকে।

 

খোশগল্প.কম:সফলতা এক এক জনের কাছে এক এক রকম তো আপনার কাছে সফলতা কি?
চন্দ্রবিন্দু: বলা হয় ,পৃথিবীতে নীট শক্তির পরিমান শূন্য ।আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে যেতে ধারনা তৈরি হয় যে,আমি এটা পেলে হলে সুখি হব ।আমার কাছে মনে হচ্ছে,দিন শেষে ভালো থাকা টাই সফলতা ।

 

খোশগল্প.কম:আচ্ছা,সফল মানুষ কি সুখী নাকি সুখী মানুষ সফল? মোদ্দা কথা,সফলতা আর সুখ কি একে অপরের পরিপূরক ? 
চন্দ্রবিন্দু: আমার কাছে মনে হয় না এটা সম্পর্কযুক্ত, সুখী মানুষই সফল ।এখন ভিন্ন ভাবে মানুষের ভিন্ন ধারণা নিয়ে থাকতে পারে ।

 

খোশগল্প.কম:এবার আপনার শৈশবের কিছু গল্প শুনি?
চন্দ্রবিন্দু:আমার ছোটবেলা কেটেছে গাজীপুরে ।আমরা জয়েন্ট ফ্যামিলিতে ছিলাম । এক সময় চাচা রা ,মামা রা আস্তে আস্তে আলাদা হয়ে যেতে শুরু করে ।শেষ পর্যন্ত আমার ৩ খালামনি আমাদের সাথে থেকে যান । তো আমাদের বাসায় আত্মীয় স্বজনদের আনাগোনা কম ছিল ।আমার বাবা অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছেন , তাই পরিবারের সবাই কে খুব ভালো ভাবে চিনেন।মানুষ কষ্ট করে বড় হলে হয় কি, আত্মীয় স্বজনদের সবাইকে চেনা যায়।কে কতটা বিপদে এগিয়ে আসে।তাই আমরা হয়তো আত্মীয় স্বজনদের খুব একটা কাছে ভিড়তাম না ।স্কুল ছুটি হলে ও আমরা বাসায়ই থাকতাম ।
এভাবে করতে করতে আমাদের বাবা মা একটা গণ্ডিতে নিয়ে ফেলছেন আমাদের ।একটা নিয়ম মাফিক জীবনে আটকিয়ে দিয়েছিলেন। মানে একটা রোবট বাননোর প্রক্রিয়া ছিল ।

 

খোশগল্প.কম:আপনার কাছে কি মনে হয় ,এই সীমাবদ্ধতা আপনার ভালোর ত্থেকে ক্ষতি করেছে?
চন্দ্রবিন্দু: সীমাবদ্ধতা বোধহয় ভালোই করছে আমার।কারন আমার মনে হয় ,এই সীমাবদ্ধতার কা্রনে আমি কিছু পারিবারিক মূল্যবোধ পেয়েছি । কি করতে হয় এবং কি না করা উচিৎ তাও হয়তো এখান থেকে শিখছি ।
এবার অনেক খারাপ দিক ও আছে।যেমন, আমি এখন ও মানুষের সাথে মিশতে পারি না ,ইউনিভার্সিটিতে এসে আমার অনেক বন্ধু হ্ইছে এবং আমি মানুষের সাথে মেশা শিখছি।

 

খোশগল্প.কম:আপনি সারাদিন এত হাসিখুশী থাকেন, এত প্রাণশক্তি কোথায় পান?
চন্দ্রবিন্দু: আমি খুব কম কিছু চাই ,চাইলে ও খুব আহামরি কিছু চাই না।তাই আমার দুঃখ বোধ অনেক কম । আর আমার জীবনে এমন কিছু হয় নাই যে আমি মন খারাপ করে থাকব।আচ্ছা আপনি অন্যকে দুঃখের কথা বললে তো আর আপনার দুঃখ কমে যাবে না ।তার চেয়ে আমি যদি হাসিখুশী থেকে অন্য একজনের মন ভালো করে দিতে পারি ,তা হলে ভালো কিছুই হল ।

 

খোশগল্প.কম:আপনার চিন্তা ভাবনাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে কে?
চন্দ্রবিন্দু: আমি নিজেই ,কেননা আমি আমার চিন্তার ভুল আমি নিজেই ধরি ।সারাদিন শেষে আমিও নিজের ভুল নিয়ে ভাবি,কি কি করলাম,আর কি করা উচিৎ ছিল।
সে কথায় বলতে গেলে আমি ই এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক ।

 

খোশগল্প.কম:জীবনের সবচেয়ে মুখ্য চাওয়া কি ছিল ?
চন্দ্রবিন্দু: আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি চেয়েছি আমি স্বাধীনতা ,আর আমি টা পেয়েছি ।দেখেন মানুষ যা চায়,তা পাবে সে যদি এ কথা বিশ্বাস করে টা হলে সে তা পাবে ।আমি বিশ্বাস করতাম ।আমি হয়তো তাই পেয়েছি ।

 

খোশগল্প.কম:ইচ্ছা কে কতটা প্রাধান্য দেন? কেননা স্বাধীনতার সাথে ইচ্ছা কে প্রাধান্য দেওয়া তা অনেক বেশি পারস্পারিক
চন্দ্রবিন্দু: অনেক খানি, আমি আমার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেই ।অন্যের কথা বার্তা আমাকে প্রভাবিত করে না ।আমি কি আমি জানি ! তো অন্যের কথা আমি খুব একটা কানে না নেওয়ার চেষ্টা করি ।

 

খোশগল্প.কম: নিজের সীমারেখা কখন টানেন ?
চন্দ্রবিন্দু: আমি দিনশেষে নিজের কাছে নিজের হিসাব দেই যে আমি আজকে দিনে মানুষের কতটা ক্ষতি করেছি, বা কী করেছি ।তা হলে আমি বুঝতে পারি ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি তো ছোটবেলায় BTVতে গান গাইতেন আবার থিয়েটার ও করেছেন ,কিন্তু মাঝপথে ছেড়ে দিলেন কেন?
চন্দ্রবিন্দুঃ আমার মার খুব ইচ্ছা ছিল গান শিখবেন,কিন্তু পরিবারের নানা রকম কারনে মার আর গান শিখা হল না ।তাই মা চাইতেন যে আমরা গান শিখি । তাই শিখছিলাম এবং BTV তে গানের আসর এ গাইতাম । আর ইন্টারের বছর থেকে আমি থিয়েটার এ ভর্তি হই ।কিন্তু ভালো লাগা চলে গেলে সব কিছুই অফ করে দেই ।

 

খোশগল্প.কম:এখন তো চারুকলায় ,গ্রাফিক্স ডিজাইনে পড়ছেন , চারুকলায় পড়বেন তা কি আগ থেকেই ঠিক করা ছিল ?
চন্দ্রবিন্দু: না,আমি Architecture এ পড়তে চেয়েছিলাম ,কিন্তু ফিজিক্স এ+ মিস করায় বুয়েট এ পরীক্ষা দিতে পারি নাই ।আমি তখন খুব হতাশ ছিলাম এটা নিয়ে ।তবে আমি আঁকাআকি নিয়ে কিছু একটা পড়তে চাইছিলাম ।তখন চান্স হয়ে গেল গ্রাফিক্স ডিজাইনে,তারপর পথ চলা ।

 

খোশগল্প.কম:গ্রাফিক্স ডিজাইনে পড়াটা কি খুব উপভোগ করছেন ?
চন্দ্রবিন্দু: করছি,তবে অতটা না,আমার মনে হয় চারুকলা আমাকে আর ও অনেক বেশি কিছু দিতে পারত ।

 

খোশগল্প.কম: শেষদিকে নিজেকে কিভাবে দেখতে চান?
চন্দ্রবিন্দু: আমি দিনশেষে প্রতিদিন আমাকে সুখী মানুষ হিসাবে দেখতে চাই ।

 

খোশগল্প.কম: আপনাকে ধন্যবাদ ।
চন্দ্রবিন্দু: আপনাকে ও ধন্যবাদ ।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত