সৈয়দা কামরুন আহমেদ, বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু পেশাগত জীবনে হয়েছেন একজন উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ও জনপ্রিয় ই-কমার্স প্লাটফরম  বাগডুম ডট কম এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। নিজে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখাচ্ছেন হাজারো তরুণকে নিজের মতো কিছু করার সাহস সঞ্চারণের।

হ্যাভিং এ গুড টিম ইজ সো ক্রুশিয়াল ফর সাকসেস- এটার কোন বিকল্প নাই

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 15, 2017 , 2:53 অপরাহ্ন

IMG_2541

 

খোশগল্প: আপনি তো ইঞ্জিনিয়ারআপনাদের ব্যাচমেটদের অনেকেই বিদেশে পড়তে গেছে, ওখানেই সেটেল হওয়ার চেষ্টা করছেকিন্তু আপনি দেশে থেকে গেছেন; এর সুনির্দিষ্ট কারণ আছে কোন?

কামরুন আহমেদ: অনেক গুলো। প্রাইমারিলি ছিল আমাদের ফ্যামিলি। আমার পরিবারের সাথে আমি অনেক বেশি এটাচড। কখনও চিন্তা করিনি তারা বেঁচে থাকতে আমি তাদের ফেলে রেখে দূরে যাব। প্রথমত এটা, আর দ্বিতীয়ত ছিল দেশের বাইরে গেলে কোন উদ্দেশ্য থাকতে হবে।শুধুমাত্র আমি দেশের বাইরে সেটেল হইতে চাই, এটা আমার কাছে কোন বড় কারণ মনে হয়নি কখনও।

 

খোশগল্প: শুনেছি আপনি আপনি টিচিংয়েও ছিলেন?

কামরুন আহমেদ: প্রায় সাড়ে তিন বছর এর মত।

 

খোশগল্প: টিচিং  থেকে হঠাৎ করে আপনার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা কীভাবে হল, যদি বলতেন  

কামরুন আহমেদ: আমি টিচিং এর পাশাপাশি ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলাম। আসলে এখানে আসার মূল কারণ হল আমার হাজবেন্ড। বিয়ের পরেই আমার হাজবেন্ড এর কারণেই ব্যবসায় জড়িয়ে যাই। এসোসিয়েশন, ইন্ড্রাস্ট্রি এসব কাজে উনি অনেক বেশি সময় দিতেন। শুরুতে এতটা সিরিয়াস হয় নাই, শুরুটা হয়েছে যে অল্প সময়ের জন্য উনাকে হেল্প করব, পরে আমি বের হয়ে আসব। এভাবে চাইনি যে,  কেউ বলুক যে আমি আমার হাজবেন্ড এর সাথে ব্যবসা করি, বলতে পারেন কমপ্লেক্স ছিল তারপর একটা সময় আসলে বের হয়ে আসতে পারিনি। টিচিংটা আসলে ঐখান থেকে শুরু। হ্যা আমিও ইন্ডিপেন্ডেটাল কিছু করছি। টিচিং আমার ভালও লাগছিল। এবং আমার ইচ্ছা ছিল এটা কন্টিনিউ  করার। এভাবে আমি দুইটাই করছিলাম এবং ব্যবসা থেকে বের হয়ে আসতে পারছিলাম না। আমার হাজবেন্ড অন্যান্য ব্যবসাতে আরও বেশি জড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং আমারও ই-কমার্স  মার্কেট তৈরি করার কাজটি খুব এক্সাইটিং মনে হল ব্যবসাতে। তারপর একটা পর্যায়ে আমার ফ্যামিলি বড় হয় এবং আমার মেয়েকে সময় দেয়ার জন্য আই হ্যাড টু টেক এ কল যে, এখন যে কোন একটাতে আসলে পারমানেন্ট হতে হবে।

 

খোশগল্প:  সেক্ষেত্রে ট্র্যাডিশনাল বিজনেসের চেয়ে  ই-কমার্স  তো বাংলাদেশে স্ট্যাবলিশ  না, সুতরাং এই ধরণের একটা রিস্কি সেক্টরে ইনভলভ হওয়ার পেছনে কী ধরনের চিন্তা কাজ করেছিল?

কামরুন আহমেদ: আসলে আমার ও আমার হাজবেন্ড এর সবসময় ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থাকে। আমরা সবসময় চিন্তা করি আমরা একটা কোম্পানি করব না। আমরা একটা প্রবলেম সলভ করব বা একটা নীড সেটা পূরণ করব। সো ইন 2011 উই স্টার্টেড। আমাদের কো-ফাউন্ডার তখন ইমরান খান ছিলেন যিনি এখন স্নাপচ্যাঁটের চীফ স্ত্রাটেজি আফিসার। আমার হাজবেন্ড ছিল, আমি ছিলাম।  চায়নাতে দেখছি ‘আলী বাবা’ ওয়াজ ফাউন্ড ইন 1991. উই ওয়্যার ইন 2011. অনেক সময় পার হয়ে গেছে। ইন্ডিয়ায় স্ন্যাপডিল ফ্লিপকার্ট ফাউন্ডেড 2007. সো তখনও ৪-৫ বছর চলে গেছে অলরেডি। তখন আমাদের মনে হচ্ছিল আসলে আমাদের শুরু করতে হবে ,কারণ আমাদেরও কিন্তু এই চাহিদাটা আছে। ‘আলী বাবা’র  ওনার তিনি একটা কথা বলেছেন, চীনের মত মার্কেটে  ই-কমার্স তাড়াতাড়ি বড় হবে তার একটা কারণ ডেভেলপ ইকোনমি’র মত বা ডেভেলপ মিশনগুলোর মত চীনের একদম রুরাল এরিয়াতে ভাল ব্র্যান্ড এর দোকান নাই। যে কারণে ওখানে ই-কমার্সের চাহিদাটা অনেক বেশিই থাকবে। যে কারণে বাংলাদেশে কিন্তু অনলাইনে পেমেন্টের চেয়ে মোবাইল পেমেন্ট এগিয়ে গেছে অথচ অনলাইন পেমেন্ট আগে এসেছে। সেই কারণে আমরা চিন্তা করেছি, মে বি বাংলাদেশ ইজ রেডি বাট সামওয়ান নীড টু স্টার্ট ইট। সো হোয়াই নট আস? বাট উই নো দিস ইজ এ বিগ চ্যালেঞ্জ, উই নীড টু ওয়ার্ক হার্ড,  দেয়ার ইজ নো ইজি ওয়ে।

 

খোশগল্প: ধরনের বিজনেসের ক্ষেত্রে ইনিশিয়াল ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট অনেক বড় চ্যালেঞ্জ থাকে, এই চ্যালেঞ্জটা আপনারা কিভাবে নিচ্ছেন?

কামরুন আহমেদ: এইটা তো এখনও ফেস করতেছি (হাসি)। বাংলাদেশের আরো দুই-একটা ফ্যামিলি আছে যারা আমাদের সাথে ইনভেস্টমেন্ট করেছে। দ্যাট ইজ হোয়াই আমরা এখন ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কনসেপ্ট’ এটা নিয়ে কাজ করেছি। বিকজ এই ধরনের টেক কোম্পানি গুলোতে স্পেশালি, আমেরিকার মত মার্কেটে যদি দেখি গুগল, ফেসবুক এরা কেউ ট্র্যাডিশনাল ফান্ডিং থেকে টাকা পায়না। এর সবাই কিন্তু মানি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের উপর চলছে। এই ধরনের ইন্ড্রাস্ট্রি যদি বাংলাদেশে চলতে হয় উই নীড একসেস টু ভিসি মানি। যার কনসেপ্ট  ২-৩ বছর আগেও ছিল না। গত দুই বছর ধরে এটা নিয়ে আমরা স্ট্রংলি কাজ করছি। অলরেডি বিদেশের কয়েকটা কোম্পানি বাংলাদেশে চলে এসেছে, কিছু লোকাল ভিসি ও তৈরি হচ্ছে।  উই আর ট্রাইং, আসলে এটা একদিনে হবে না, এটার জন্য লেগে থাকতে হবে।

 

খোশগল্প:  যে কোন উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে লিডারশিপ স্কিল, ম্যানেজমেন্ট স্কিল খুব গুরুত্বপূর্ণ । আপনার প্রিভিয়াস লাইফে এমন কিছু বা কেউ ছিল যা বা যিনি আপনার লিডারশিপ স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য ইনফ্লুয়েন্স করেছেন?

কামরুন আহমেদ: এবসল্যুটলি দ্যাট ইজ মাই ড্যাড। আমি আসলে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় লিডারশিপ শিখি নাই। “ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে যেটা আমি শিখেছি সেটা হচ্ছে বিয়িং এনালিটিকাল.. একটা সিচুয়েশনকে বিভিন্ন দিক থেকে দেখা। একটা জিনিসের সলিউশন আমি জানিনা, কিন্তু আমি তাতে ভয় পাইনা বিকজ আই নো হাউ টু এনালাইজ ইট, আই নো হাউ টু লুক এট ইট ম্যাথমেটিকালি। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে আমি এটাই শিখেছি। বাট লিডারশিপ, ম্যানেজমেন্ট দ্যাট আই হ্যাড লার্নট ফ্রম মাই ড্যাড”

 

আমার আব্বা ব্যাংকে টপ ম্যানেজমেন্টে ছিলেন, অনেক দিন চালিয়েছেন। দেখেছি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ৫০০০ -১০০০ এমপ্লয়ি আছে, তাদের ম্যানেজ করতেন। ছোট বেলা থেকে এটা দেখেই বড় হয়েছি। আমি যখন সেভেন এইটে উঠেছি তখন তিনি বাসায় ম্যানেজমেন্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। তখন থেকেই আমার ম্যানেজমেন্ট লার্নিং শুরু।

 

খোশগল্প: সেক্ষেত্রে পারিবারিক একটা ইনফ্লুয়েন্স ছিল?

কামরুন আহমেদ:  অবশ্যই । তার পর আমি আমার হাজবেন্ডের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি  এবং এখনও শিখছি ।

 

খোশগল্প: আপনার কি মনে হয়, লিডারশিপ কি বর্ন কোয়ালিটি নাকি কেউ নিজে নিজে গড়ে নিতে পারে?

কামরুন আহমেদ:  সত্যি কথা বলতে আমি এটা জন্মগত ভাবে পেয়েছি এটা আমি বলবনা। আমি আসলে ছোট বেলা থেকেই অনেক শাই ছিলাম, ইভেন আমার ফ্রেন্ডও ছিল না ছোট বেলায়। আমি কারও সাথে কথা বলতাম না। ছোট বেলায় আমার টিচার আমার আম্মাকে বলেছিল যে আপনার মেয়ের পেটে বোমা ফাটানো উচিৎ। তাহলে যদি মুখ থেকে একটা কথা বের হয়। ফার্স্ট ব্রেক থ্রু কেইম এট ক্লাস সেভেন। আমি আমার বাবাকে সারা জীবন থ্যাংকস দিই, কারণ আমার বাবা আমাকে ক্লাস সেভেনে ডিবেটে পাঠায়। ফার্স্ট স্টেজে এ উঠে আমার হাত পা কেঁপে অস্থির অবস্থা। তখন বাবা বলেছিল তুমি নামতেই পারবে না, ইউ ফেইস ইট। প্রথম দিন আমার মনে হয়েছে আমি মরে যাব(হাসি)। দ্বিতীয় দিন আমার খুব জেদ চাপছে, খুব অপমান লাগছে এ রকম কেন হবে(হাসি)? দ্যান আই গ্রাজুয়েলি বিকেইম দ্য বেস্ট ডিবেটার ইন মাই স্কুল। তখন থেকেই কনফিডেন্স বেড়েছে। কিন্তু এখনও নতুন একটা জায়গায় যেতে ভয় লাগে। কমফোর্ট হয়ে গেলে আমার কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু ভয় টা এখনও কাজ করে মনে।

 

খোশগল্প:  যে উদাহারণটা আপনি দিলেন যে, প্রথম দিন আপনি নার্ভাস ছিলেন এবং পরের দিন জেদ চলে আসল এরকম তো অনেক হয় যে নার্ভাসনেসের কারণে হেরে গেল বা ট্র্যাক থেকে সরে গেল, এইটার পার্সেন্টেজ তো আসলে অনেক বেশি তো কিছু মানুষ সরে যায়, কিছু মানুষ সরে না এর পেছনে কারণটা কী?

কামরুন আহমেদ: আসলে আমার পেছনে ছিল আমার বাবা। প্রথম দিন যখন আমি কান্নাকাটি করেছি যে আমি স্কুলে যাবই না তখন আমার বাবা আমার কানে বারবার বলতেই থাকে, বলতেই থাকে তুমি পারবা, তুমি পারবা, তুমিই পারবা। তোমার থেকে ভাল কেউ নাই। আসলে উনি আমাকে এমন ভাবে বিশ্বাস করিয়েছেন যে একটা সময় আমার ব্রেইনও বিশ্বাস করতে শুরু করল। আমার কাছে মনে হয়েছে ওদিক থেকে আই ওয়াজ লাকি। এটা আমার হাজবেন্ডও বলে, সেইম থিং হ্যাপেনড টু হিম। হি ওয়াজ টেনিস চ্যাম্পিয়ন। সাফ গেইমস এ বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছে। আমার শ্বশুর যখন প্রথম তাকে টেনিস খেলতে নিয়ে যায় সেইম জিনিসটা তার মাঝেও হয়েছে। এমন না যে তোমাকে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। “জাস্ট বিশ্বাস করানো যে তোমার থেকে ভাল কেউ না, এটাই কনফিডেন্টটা বাড়াতে সাহায্য করে”

 

খোশগল্প: আপনি বললেন যে আপনার ছোটবেলায় কোন বন্ধু ছিল না; পরে সোশ্যালাইজেশনটা কেমন করে হয়েছে?

কামরুন আহমেদ: হ্যা, ক্লাস টু-থ্রি পর্যন্ত আমার কোন বন্ধু ছিল না। তারপর ডিবেটিং এর পর থেকেই আমি একটু পপুলার হলে আমার ফ্রেন্ডস বাড়তে থাকে। তখন আমার যেটা হয়েছে ডিবেটিং এর আগ পর্যন্ত ক্লাসে সিক্সথ, সেভেনথ হতাম। যখন আমার কনফিডেন্স বাড়া শুরু করল তখন ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড হওয়া শুরু করলাম। তখন আমার ফ্রেন্ডের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করল। আমি বলব না যে সবাই সুবিধাবাদী, আমি ভাল করছি বলেই আমার বন্ধু হচ্ছে তা না। আমার সোশ্যাল স্কিল  বাড়া শুরু করল আমি আরও বেশি ইন্টিরেক্ট করা শুরু করলাম। তাতে আমার ফ্রেন্ডস বাড়তে শুরু করল।

 

খোশগল্প: ইঞ্জিনিয়ারিং করে আবার এমবিএ করলেন..

কামরুন আহমেদ: আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি তখনই আমি সিদ্ধান্ত নেই এমবিএ করার। কারণ আমি ডিসাইড করেছিলাম আমি দেশের বাইরে যাব না। তখন আমার চিন্তা আসল, আমার ক্যারিয়ার অপশন কী আছে? বিয়িং এ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, আমি দেখলাম যে আমি যদি জবে ঢুকি তাহলে ঢুকতে হবে ফ্যাক্টরি জবে। ফ্যাক্টরি জবে প্রথম কথা হচ্ছে আমাদের দেশে আরএনডি বলে কিছু ছিল না ঐ সময়। এখনো আছে কিনা আমি জানি না। তবে ইউনিলিভার বোধহয় ইদানিং করছে। কিন্তু এই যে সারাদিন বসে একটা মেশিন চালাব হাই টেম্পারেচারে ঘেমে ঘেমে, এটা আমার কাছে সহনীয় ছিল না। বেতন ছিল ৬০০০ টাকা এবং ঐ জবে আমাকে সুপারভাইজার পদে যেতে লাগবে ৩ বছর। এত পড়াশোনা করে আমার কী লাভ হল? আমার সোসাইটির কী লাভ হবে? আমার ফ্যামেলির কী লাভ হবে? তখন আমি চিন্তা করা শুরু করলাম হোয়াট ক্যান আই ডু? তখন থার্ড ইয়ার শেষে ডিসাইড করলাম আমি বিজনেস নিয়ে পড়ব।আমি এমবিএ করতে করতে জিএশীপ করেছিলাম। ভার্সিটিতে প্রায় ২টা সেমিস্টারের বেশি ৭-৮ মাসে।এক সময় জিএশীপও আমার কাছে বোরিং লাগা শুরু করে। তখন আমি কি করব পড়াশোনাও শেষ হয় না। প্রোপার কিছু করতেও পারব না। তখন ব্যাংকে জব ওপেন ছিল।

 

খোশগল্প: আপনার জব ক্যারিয়ার কতদিনের?

কামরুন আহমেদ: এন্ট্রাপ্রেনারিশপ  মিলিয়ে প্রায় ১০ বছরের মত।

 

খোশগল্প: জব প্রসঙ্গে এটা বলার মূল কারণ হচ্ছে যে,  দেখা গেছে জব সেক্টরে মানুষের স্যাটিসফেকশনটা খুবই কমএটা কি আসলে বাংলাদেশের সমস্যা না গ্লোবাল সমস্যা?

কামরুন আহমেদ: আমি এখন টেবিলের অন্য সাইডটাতে বসি,কিছু জিনিস বলতে পারি। ভাল-খারাপ দুইটাই বলি, বাংলাদেশের প্রবলেম হচ্ছে আমাদের লাইফটা একটু বেশিই স্ট্রেসফুল। এই ধরেন প্রথমত ট্রাফিক একটা জিনিস। বাসা থেকে বের হয়ে দুইটা ঘন্টা আমাদের প্রোডাক্টিভিটি অনেক কমিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত হল সিকিউরিটি ইস্যু, এটা আমরা হয়তো এত বেশি ইউজড টু হয়ে গেছি যে আমরা কনসিডার করে ফেলি, বাট দিস ইজ এ ফ্যাক্টর যা বাইরের দেশে এত খারাপ না।আমাদের যাদের বাবা-মা দূরে থাকে, বাচ্চা স্কুলে আসা- যাওয়ার টেনশন, বুয়া এই জিনিসগুলা কিন্তু ব্যাক অফ দ্য মাইন্ড আমরা ইউজড টু হয়ে গেছি। কিন্তু এগুলো আমাদের প্রোডাক্টিভিটি তে অনেক ইফেক্ট করে। তাছাড়া আমাদের কালচার আছে, আমি নেগেটিভলি বলতে চাই না বাট আমাদের দেশের ইয়াং জেনারেশন একটা অর্গানাইজেশনে বেশিদিন থাকতে চাই না। দ্বিতীয়ত, জব ডিসাইডের ক্ষেত্রে আমি আমার জায়গা থেকে অনেক কিছু মনে করতাম, যদি বসের জায়গায় হতাম বা ম্যানেজম্যান্টের জায়গায় থাকতাম,  তাহলে এই বিষয়গুলো হয়তো আমি অন্যভাবে দেখতাম।সো আসলে এটা ডিফিকাল্ট ব্যাপার, চাইলেই সব কিছু করা যায় না এবং আমাদের সবকিছুরই একটা উদ্দেশ্য আছে যা একজন ফ্রেশার হয়তোবা বুঝবে না। কিন্তু যখন সে আমার জায়গাতে বসবে আজ থেকে হয়তো ১০ বছর পরে তখন সে রিয়েলাইজ করবে আসলে আমি কেন এগুলো করেছি। সবকিছু মিলিয়ে আসলে ডিস্যাটিফ্যাকশনের ব্যাপারটা চলে আসে।

 

খোশগল্প: উদ্যোক্তা হওয়ার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইডিয়া নিয়ে বেশি ফোকাসড থাকেম্যানেজমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন এই বিষয় গুলোয় ফোকাস একটু কম থাকেসে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কাজ শুরু করার পর একটা বড় ধাক্কা খায়এই সিচুয়েশন গুলোর ক্ষেত্রে যারা উদ্যোক্তা হয় বা হতে চায় তাদের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

কামরুন আহমেদ: একজনের আইডিয়া থাকতেই পারে তবে সে একা শুরু করবে না। সে একটা বেসিক টিম তৈরি করবে। সে তার একজন ফ্রেন্ডকে কে সাথে নিতে পারে, যে একটা অর্গানাইজেশনে ৫-৬ বছর কাজ করছে। সে দেখেছে কিভাবে একটা প্রফেশনাল সেট আপ কাজ করে। দিস ইজ ভেরি ক্রুশিয়াল। সে এমন একজনকে টিমে নিবে যে ফিন্যান্স বুঝে। হ্যাভিং এ টিম সো ক্রুশিয়াল ফর সাকসেস- এটার কোন বিকল্প নাই, আমার জানা নাই বা আমি দেখিও নাই বা পড়িও নাই। একজনের কোর ডোমেইন নলেজ থাকতে হবে।

Jpg (540 of 728)

খোশগল্প: স্টার্ট আপ এর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ক্যাপেবল লোক ম্যানেজ করা একটা বড় চ্যালেঞ্জআপনি কি এই ব্যাপারটা ফেইস করেছেন?

কামরুন আহমেদ: এটা আমিও ফেইস করেছি, এমনকি এখনও করছি। এটার সমাধান আসলে নাই। আমাদের ক্ষেত্রে আমরা কাইন্ড অফ লাকি, আমরা দুজনে একটা ভাল টিম এবং আমাদের দুজনের কমপ্লিমেন্টারি সেট আপ স্কিল ইজ গুড। আমরা একটা বেসিক টিম তৈরি করে ফেলেছি। উই স্ট্রাগলড ইনিশিয়ালি ফর ফিউ ইয়ারস। কারণ অনেকে মনে করে সিকিউরিটি কি?এটা কি ব্যাবসা? অনেকেই তো বুঝতেই পারছে না ই-কমার্স কী। তাই আমাদের অনেক সময় লেগেছে, অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। এখন এট লিস্ট আমাদের একটা ভাল টিম আছে।

 

খোশগল্প: একটা কৌতূহল, “বাগডুমনামকরণের কারণ কি?

কামরুন আহমেদ: কয়েকটা জিনিস আছে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন এর নাম ছিল এখনি. কম। আমরা একটা প্রবলেম এড্রেস করেছিলাম। তখন মানুষকে ই-কমার্স কী এটা জানানো জরুরী ছিল। সেখান থেকেই আমাদের চিন্তা, মুল থিমটা বোঝানো। দ্বিতীয়ত, তখন ই-কমার্সের বাইরে যারা ছিল ট্রাস্টের কারণে কেউ দামি জিনিস কিনবেনা। একটু কমদামী বা যেটাতে রিস্ক নাই সেগুলোই কিনবে। ওভার দ্য টাইম  মানুষ একটু ইউজড টু এখন হচ্ছে,  যদিও অনেক বেশি সময় লেগেছে। ইয়ুথরা অনেক বেশি ইনভলভড হচ্ছে এখন। এই জায়গা থেকে আমরা মনে করছি যে ঐ যে লুক এন্ড ফিল। একটু কস্ট ইফেক্টিভ প্রোডাক্ট পাওয়া যাচ্ছে, ঐ জায়গা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে চেয়েছি। দ্বিতীয়ত এইটা এত বেশি কপি হচ্ছিল এখানে-ওখানে, এমনকি বড় বড় বিদেশি কোম্পানিগুলোও আমাদের কপি করা শুরু করল। আর আমাদের মার্কেটিং বাজেট এত ছিল না। একটা সময় মানুষ হয়তো ভাবা শুরু করবে আমরাই হয়তো কপি করছি। তখন একটা চিন্তা করলাম এমন একটা জায়গায় যেতে হবে যেখানে কপি করার ডোমেইনটা আশেপাশে নেই। তখন চিন্তা করলাম বাংলায়, মেইড ইন বাংলাদেশ। আমরা এমন একটা ব্রান্ড বের করতে চাই যেটা শুনেই বুঝা যাবে এটা বাংলাদেশী ব্র্যান্ড। তখন চিন্তা করলাম কি হতে পারে? সবগুলো উদ্দেশ্য সফল করেই একটা নাম খোঁজা। তখন অনেকগুলো নাম প্রোপোজ করা হল। “বাগডুম” নামটা আসলে আমাদেরে ব্রান্ড গাইডলাইনে যে জিনিসগুলা লাইক ইয়ুথফুলনেস, এনার্জি এই সবগুলাই যেন “বাগডুম” রিপ্রেজেন্ট করে।

 

খোশগল্প:  সাধারণত মানুষ কোন উদ্যোগ নেয় এবং এটার মধ্যে মানি জেনারেশন অপশন পায় তখন কিছু মানুষ দেখা গেছে বিজনেস জগৎটাকে একটু নেগেটিভলি দেখার চেষ্টা করে  এ বিষয়ে আপনার কোন বক্তব্য আছে কি?

কামরুন আহমেদ: আমি যখন একটা উদ্যোগ নিব তখন উদ্যোগটা সফল করার জন্য আমার একটা টিম লাগবে। এই টিমটা কাউকে কিছু সার্ভ  করছে। যে জিনিসটা আমরা সার্ভ  করছি সেটা হয়তো একটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস। এটা সিকিউর করতে হবে, কোয়লিটি এনশিউর করতে হবে, এই সবগুলোর খরচ আমি কোথা থেকে পাব? আমি যদি মানি জেনারেটিং না হই তাহলে তো মানুষকে ঠকাতে হবে। এতগুলো লোক আমার এখানে কাজ করছে এদের ফ্যামিলির দায়িত্ব তো আমারই। এই টিমটা আরও বড় হবে। আমি মানি জেনারেট  না করলে কেমন করে হবে? আমারতো আমার কাস্টমারকে ভাল কোয়ালিটি প্রোডাক্ট এনশিউর করতে হবে।আমার সাপ্লায়ারদের পেমেন্ট করতে হবে। ইটস সিম্পল!

 

খোশগল্প: আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

কামরুন আহমেদ: আপনাদেরকেও থ্যাংকস। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত