A Study in Scarlet, আর্থার কোনান ডয়েল রচিত গোয়েন্দা কল্প কাহিনী। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি শার্লক হোমস  কে প্রথম নির্মাণ করেন।

এই কাহিনী মূলত এক দুর্ভাগ্য অপরাধীর।যার বাগদত্তাকে জোরে করে বর্বর মর্মোনদের সাথে বিয়ে দেয়া হয় এবং তাঁর পিতাকে হত্যা করা হয়। এর জের ধরে অপরাধী জেফারসন ইউরোপ পাড়ি দিয়ে বহু বছর দীর্ঘ প্রস্তুতির পর তাঁর শিকার ড্রেবার আর স্টেনজারসনকে পেয়ে যান এবং কোন ক্লু ছাড়াই হত্যা করে রেখে যান দু’জনকে, লিখে রেখে যান ‘RACHE’ জার্মান শব্দ, যার অর্থ প্রতিশোধ। আর সেই কেসের জট খোলেন শার্লক হোমস, হত্যা হয়েছিল কীভাবে বিষ প্রয়োগে নাকি স্রেফ খুন করেই? সেই গল্পের গল্প শুনি ড. ওয়াটসনের মুখে…..

মানুষ সম্ভবত বেঁচে থাকে মনের জোরের উপর

লিখেছেন...admin...মে 11, 2017 , 3:14 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: বন্ধু স্ট্যানফোর্ডেরর মাধ্যমে পরিচয়, থাকা-খাওয়ায় আধাআধি বখরায় চুক্তি হিসেবে থাকার সঙ্গী খোঁজার মাধ্যমে হোমসের সাথে পরিচয়- কি অদ্ভুতভাবেই না পরিচয় ?

ড. ওয়াটসন: হ্যাঁ, যার সঙ্গে পরবর্তীতে জীবনে জড়িয়ে গিয়েছি তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের প্রথম প্রহরাটা অবশ্যই অদ্ভুত।

 

খোশগল্প.কম: হোমস পদ্ধতিগত পড়াশোনার পক্ষপাতী ছিলেন না, কিন্তু তার জ্ঞানের কমতি ছিল বলা যাবে না

ড. ওয়াটসন: হ্যাঁ, তার পড়াশোনা তাঁর কাজের উপর নির্ভরশীল ছিল কাজেই সে গুটিকয়েক কিংবা কাজের জন্য প্রয়োজন যেমন উদ্ভিদবিদ্যা, ভূ-তত্ব, ব্রিটিশ আইন, রসায়নবিদ্যা, শারীরবিদ্যায় স্বচ্ছ জ্ঞানের অধিকারী। পদ্ধতিগত পড়াশোনায় এতসব কিছুর সম্মিলন সম্ভব ছিল না। যদিও কেমব্রিজ আর অক্সফোর্ডে গবেষণা যুদ্ধ চলে হোমস তাঁদের ছাত্র বলে। তবে যাই হোক শার্লকের একটা কথা এখানে চলে ‘মানুষের মগজ একটা খালি কুঠুরি বিশেষ। বুদ্ধিমানরা সেই কুঠুরি প্রয়োজনমত আসবাব দিয়ে সাজিয়ে রাখে। বোকার দলই যা নয় তা দিয়ে গুদাম ঘর করে তোলে’

 

খোশগল্প.কম: তাহলে কি আপনিও সেই

ড. ওয়াটসন: হ্যাঁ! তুমি যদি বিশেষ কোন বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জন করতে চাও, সেই বিষয় এবং সম্পৃক্ত আরো কিছু বিষয়ে তোমার অগাধ পান্ডিত্য থাকতে হবে। আর যদি একই সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাহিত্যজ্ঞান, রাজনীতি সব জানতে চাও তাহলে সব কিছুর প্রাথমিক ধারণা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

 

খোশগল্প.কম: ক্রিমিনাল কেস হিসেবে শুরু হলেও সলভে গিয়ে দেখা গেল জেফারসন হোপ আসলে পেশাদার খুনী নন। স্রেফ প্রতিশোধের বশেই ড্রেবার আর স্ট্যানজারসনকে খুন করেছেন। এবং শেষ দৃশ্যে জেফারসনের মৃত্যু তাঁর প্রতি করুণাই তৈরী করেছে। সেই হিসেবে এটিকে কি অপরাধ  বলা চলে?

ড. ওয়াটসন: আমাদের প্রচলিত ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী এটি অবশ্যই অপরাধ।

 

খোশগল্প.কম: এটা কি সাবেক মিলিটারি সার্জন হিসেবে বলছেন নাকি শার্লক হোমসের সহযোগী ড. ওয়াটসন হিসেবে?

ড. ওয়াটসন: দু’ হিসেবেই। দেখ হোমসও কিন্তু কখনো খুনের পক্ষ করে কথা বলতো না।

তুমি যদি জেফারসনের প্রতি করুণার কথা বলো, হ্যাঁ জেফারসনের মৃত্যু এই প্রতিহিংসার অলৌকিক সমাপ্তির মত। প্রতিশোধ এক ভাবে দেখলে হয়তো মারাত্মক অপরাধ না। আবার ক্রোধে খুন করে ফেলাও অপরাধ। আইনের শাস্তি লুসি ফেরিয়ার আর তাঁর বাবাকে হয়তো ফিরিয়ে দিতো না। তবে গ্রেফতার হবার পরপরই জেফারসনের মৃত্যু একটা ইঙ্গিত দেয় খেয়াল করেছো কিনা, তুমি যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকো, মৃত্যুর পূর্বে হলেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। মানুষ সম্ভবত বেঁচে থাকে মনের জোরের উপর।

 

খোশগল্প.কম: জেফারসন স্ট্যানজারসনকে হত্যা করবার জন্য দু’রকমের বিষের বড়ির মধ্যে যে কোন একটি বিষ বেছে নেবার কথা বলেছিল ছিল। যেখানে একটা স্বাভাবিক বড়ি, আরেকটা বিষাক্ত। এবং স্ট্যানজারসন দুর্ভাগ্যবশত বিষাক্ত বড়িটি নিলো এবং মারা গেলো। এটিকে ঈশ্বরের ন্যায় বিচার বলেছে জেফারসন। জেফারসনও তো বিষাক্ত বড়িটি নিতে পারতো

ড. ওয়াটসন: হ্যাঁ, পারতো। এটা অনেকটা দৈব চয়ন। লুসির মৃত্যুর পর দৃশ্যত জেফারসনের আর কোন প্রাপ্তির আশা ছিল না। লুসির অমানবিক কষ্টকর মৃত্যু তাঁকে মারাত্মক ভাবেই আহত করেছে। আর মর্মোনদের নিয়ে তারও সন্তুষ্টি ছিল না। টগবগে রক্তের জেফারসনের জীবন থেকে আর কিছু পাবার ছিল না তখনই সে হত্যার প্রতিশোধ নেয়াকেই জীবনের লক্ষ্য করেছিল।  এ কাজে যদি তার মৃত্যুও হতো সম্ভবত সে পরোয়া করতো না।

 

.-holmes

 

 

খোশগল্প.কম: এবার আসি, হোমস প্রসঙ্গে। হোমসের কাজের ধারা সঙ্গে সেবারই প্রথম আপনার পরিচয়

ড. ওয়াটসন: হ্যাঁ, তাঁর কাজের ধারা প্রকৃতই আলাদা। এজন্য তাঁর অহংকারও আছে বটে। অপরিচিতদের  চমকে দিতে তাঁর ভালো লাগতো, প্রথম প্রথম আমার কাছে জালিয়াতি মনে হত। গোয়েন্দাগিরিতে যে আতশ কাঁচের প্রয়োজন পড়ে সেটাও তাঁর কাছেই আমার প্রথম দেখা।

 

খোশগল্প.কম: এত এত কেস স্টাডির মধ্যে হোমস কি কখনো মানবিক হয়ে পড়তেন না বা অপরাধীর প্রতি করুণা অনুভব করতেন না?

ড. ওয়াটসন: না, যেহেতু সে শখের গোয়েন্দা ছিল তাই তাঁর কাজ সূত্র ধরিয়ে দেয়া পর্যন্তই কিংবা পুলিশে দেয়া পর্যন্তই।  এর পর আর সে মাথা ঘামাতো না। আর এ নিয়ে তার  কথা ছিল ‘যথেষ্ট সূত্র না পাওয়া পর্যন্ত কোন ধারণা না করা, তাতে কেস একপেশে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে’ এতটাই সতর্ক ছিল সে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত