জর্জ হ্যারিস।  নিজের ক্রীতদাস ভাগ্যকে মেনে না নিয়ে ভাগ্য রচনা করার লক্ষ্যে যিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন কানাডায়।  হ্যারিয়েট বিচার স্টোর লেখা ‘Uncle Tom’s Cabin’ কে ইতিহাসের মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়।  এই বইটি যতটা প্রশংসিত হয়েছে, নিন্দাও কম অর্জন করেনি।  বইটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ লেখক বইটিতে অনেকগুলো ‘শ্বেতাঙ্গ’ চরিত্রকে মানবতাপূর্ণ করে দেখিয়েছেন।  তবে অনেক সমালোচকের মতে, লেখক এটা করেছেন তার কারণ এটি না হলে শ্বেতাঙ্গরা ব্যাপারটি বুঝবে না। শ্বেতাঙ্গরা যতই শোষণ নির্যাতন করুক তারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী।  তাই গল্পের নায়ক টম চাচার চরিত্রটা আঁকা হয়েছে জন্মগতভাবে ভালবাসাপূর্ণ, জন্মগতভাবেই বিশ্বাসী হিসেবে।  তিনি জন্মগতভাবে প্রেমপূর্ণ হৃদয়ের।  বইতে ধর্মের বিপক্ষে একটি মন্তব্য ও করেননি (যদিও তা বাস্তবতার সাথে খাপ খায় না) শেষ পযন্ত একজন মহান খ্রিস্টান হিসেবে তার মৃত্যু দেখানো হয়েছে। লেখক যদি কৃষ্ণাঙ্গদের দু:খ কষ্ট তুলে ধরতে না পারতেন, দেখাতে না পারতেন যে একজন মহান খ্রিস্টানকেও নির্যাতিত হতে হয়, তাহলে বইটি লেখার আসল উদ্দেশ্য পূরণ হত না। আঙ্কল টমকে যদি মহান খ্রিস্টান হিসেবে না দেখানো হত তাহলে শ্বেতাঙ্গরা বইটি পড়ে তার উপর নির্যাতনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতো।  তাই বইটির নায়ক বিপ্লবী, দুঃসাহসী জর্জ হ্যারিস নয়, আঙ্কল টম।

আমরা কথা বলেছিলাম ‘Uncle Tom’s Cabin’ –এর অন্যতম প্রধান চরিত্র জর্জ হ্যারিসের সাথে-

‘সোনামণি, ওঁরা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছেন! তবু তোমার মা যেভাবে হোক তোমাকে বাঁচাবেই!’

লিখেছেন...admin...জুন 10, 2017 , 4:30 অপরাহ্ন

 

খোশগল্প.কম: বিপ্লবী হয়ে ওঠার আগের আপনার ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল?

জর্জ হ্যারিস: আমার স্ত্রী এলিজার পাশের জমিদারিতে ক্রীতদাস ছিলাম আমি।  মনিব মিস্টার হ্যারিস চট তৈরির একটা কারখানায় ভাড়া খাটাতেন আমাকে।  কারখানার দিনগুলো ছিল সব চাইতে সুখের।  কারখানার বৃদ্ধ মালিকের মনটাও ছিল তেমনি উদার।  কারখানায় থাকার সময় শেষের কয়েকটা বছর খুশিমতো এলিজার কাছে আসা-যাওয়া করতে পারতাম।  বিশেষ করে হ্যারির জন্মের পর থেকে আমার আর এলিজার জীবনে সুখের অন্ত ছিলো না।

 

খোশগল্প.কম: হঠাৎ কী এমন ঘটলো যে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ বেছে নিলেন?

জর্জ হ্যারিস: দিন দিন সবকিছু সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল।  তা সত্ত্বেও আমি সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করতে রাজি ছিলাম। কিন্তু একটা সময় এলিজাকে ত্যাগ করে অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে থাকার জন্যে মিস্টার হ্যারিস এমন পীড়াপীড়ি শুরু করলেন যে ব্যাপারটা আমার কাছে অসহ্য হয়ে উঠল।

 

খোশগল্প.কম: কিভাবে পালালেন কানাডাতে?

জর্জ হ্যারিস: ছদ্মবেশে আত্মগোপন করলাম।  বাদাম গাছের ছাল দিয়ে গায়ের রঙ হলুদ করলাম, কলপ দিয়ে কালো করলাম চুলের রঙ।  একটা ছেলের সাথে বন্ধুত্ব হল।  বছরখানেক আগে ও কানাডায় পালিয়ে গিয়েছিল।  সেখানে ও শুনতে পায় ওর মনিব ওর ওপর এত ক্রুদ্ধ হয়েছে যে ওর বুড়ো মাকে নির্মমভাবে চাবুক মেরেছে।  সেখান থেকে ও ছুটে এসেছে মাকে স্বান্তনা দেওয়ার জন্য।  সুযোগ পেলে মাকে নিয়েই পালিয়ে যাবে।  পলাতক নিগ্রোরা সাধারণত যা করে আমি তা করিনি।  দিনের বেলাতেই পথ চলতাম, রাত্তিরে আশ্রয় নিতাম সবচাইতে নামী কোন সরাইখানায়।  এলিজাকে কথা দিয়েছিলাম, ধরা আমি কিছুতেই পড়ব না। হয় এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পাব, নয়ত মরব। জীবিত অবস্থায় ওরা আমাকে কোনদিনই ধরতে পারবে না।

 

খোশগল্প.কম: আপনার স্ত্রী এলিজাও কম সাহসী ছিলো না।  তিনিও তো প্রায় অসম্ভবকে যুদ্ধে হারিয়ে তার শিশু সন্তানটিকে রক্ষা করেছিলেন!

জর্জ হ্যারিস: মিস্টার ও মিসেস শেলবি ভাবতেই পারেননি রাতের নিস্তব্ধতায় ওঁদের কোনো শব্দই এলিজার কান এড়িয়ে যায় নি। সেই মুহূর্তটার বর্ণনা দেই। তখন বিহ্বল আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে সে একসময় চোরের মতো নিঃশব্দ-পায়ে ফিরে এল। তার নম্র লাজুক চেহারায় তখন এমন অদ্ভুত এক পরিবর্তন ঘটে গেছে যে, হঠাৎ দেখলে কেউ তাকে চিনতেই পারবে না। ঠোঁটে ঠৌঁট চেপে এলিজা নিজের ঘরে প্রবেশ করে সোজা বিছানার দিকে এগিয়ে গেল, বিছানায় ঘুমন্ত ছেলের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে সে বলল, ‘সোনামণি, ওঁরা তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছেন! তবু তোমার মা যেভাবে হোক তোমাকে বাঁচাবেই!’ তার চোখে জলের কোনো চিহ্ন নেই। যেন হৃদয়ের উৎসধারা থেকে যদি এখন কিছু ঝরে পড়ে তা অশ্রু নয়, রক্তের ফোঁটা।

 

tom's cabin

 

 

অনেক যুদ্ধ করে যখন এলিজা ওহিও নদীর কাছে এসে পৌঁছালো তখন এলিজার মনে হয়েছিলো নদীটা তার আর ওপারের মুক্তির মধ্যে দিয়ে আপন মনে বয়ে চলেছে। সবে বসন্তের শুরু। ঘোলা জলে নদীটা ফুলে ফেঁপে রয়েছে। তাতে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে বড় বড় সব তুষারের চাঁই। কেন্টাকির দিক থেকে ক্রমশ ঢালু হয়ে নেমে যাওয়া তুষার ছাওয়া তীরটা অনেকখানি বেঁকে একেবারে নদীর মধ্যে গিয়ে পড়েছে এবং দুপার থেকে নদীটাকে এমনভাবে ঢেকে ফেলেছে যে ওহিওর জলধারা প্রায় চোখে পড়ে না বললেই চলে। তুষারের বড় বড় চাঙর ভরা নদীটাকে এখন মনে হচ্ছে এবড়ো-খেবড়ো বিশাল একটা ভেলার মতো।

 

সবুজ শ্যাওলাপড়া তুষারের বিশাল চাঁঙরটা এলিজার ভারে সহসা চিড় খেয়ে দুলে উঠল। এলিজা কিন্তু মুহূর্তের জন্যেও ওটার ওপর দাঁড়িয়ে রইল না, তুষারের চাঁইটা ঘুরে স্রোতে ভেসে যাবার আগেই সে সামনেই অন্য আর একটা। এমনিভাবে লাফিয়ে পিছলে ডিঙিয়ে একটা তুষারপিণ্ড থেকে আর একটা তুষারপিণ্ডের ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে। পা থেকে জুতো মোজা আগেই খুলে গেছে, ক্ষতস্থান থেকে রক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে শুভ্র তুষারের ওপর। এলিজা কিন্তু সেদিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না, কিংবা কিছু অনুভবও করছে না। সে অস্পষ্ট একটা স্বপ্নের মধ্যে দিয়েই সে ওহিওর অন্যপারে গিয়ে পৌঁছল আর দেখল কে যেন তাকে ডাঙায় টেনে তোলার জন্যে সাহায্য করছে। এরপরেও শেষ নয়। আরও অনেক যুদ্ধের পর অবশেষে আমরা মুক্তির সন্ধান পেলাম।

 

খোশগল্প.কম: কারখানার কাজগুলোকে সহজ করার জন্যে আপনি একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন।  অনেকেই বলেন এটি আপনার মত একজন স্বল্পশিক্ষিত তরুণের পক্ষে ইটনির তুলো পাকানোর যন্ত্র-উদ্ভাবনী প্রতিভার চাইতে কোনো অংশে কম ছিলো না।

জর্জ হ্যারিস: হুমমমম …. অনেক মাথা খাটিয়ে শন পরিষ্কার করার একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলাম। কিন্তু সেই কৃতিত্বটাই জীবনের সবচেয়ে ভুল হয়ে দাঁড়ালো।

 

খোশগল্প.কম: এরকমটি কেন বলছেন?

জর্জ হ্যারিস: আমার যন্ত্র আবিষ্কারের কথা শুনে মনিব যখন কারখানায় এলেন তখন আমি বিপুল উৎসাহে যন্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে তাঁকে বোঝাতে লাগলাম। খুশিতে ঝলমল করা মুখ, মাথা উঁচিয়ে রাখা পৌরুষদীপ্ত সুন্দর চেহারার আমার তুলনায় মনিবকে কেমন যেন নিকৃষ্ট মনে হতে লাগল। মিস্টার হ্যারি মনে মনে ভাবলেন, নিগ্রো ক্রীতদাসটার কী দরকার ছিল এই যন্ত্রটা আবিষ্কার করার? ও কি ভদ্রলোকদের মতো মাথা উঁচু করে চলতে চায়? তখনি তিনি মনে মনে ঠিক করলেন খুব তাড়াতাড়ি ওর দর্প চূর্ণ করা দরকার। মিঃ হ্যারিস তাই আমার পাওনা মিটিয়ে যখন নিজের খামারবাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার কথা বললেন সবাই তখন অবাক হয়ে গেল।

 

কারখানায় আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময় কাটছিলো। আমার সুখ মনিবের সহ্য হল না। উনি আমাকে বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জন আর যা যা ভালোবাসতাম সবকিছু থেকে সরিয়ে নিয়ে এলেন। কিন্তু কেন? সে শুধু নোংরা আর কদর্যতার মধ্যে আমাকে পিষে ফেলার জন্যে, আমাকে শেখানোর জন্যে যে আমি একজন নিগ্রো ক্রীতদাস ছাড়া আর কিছুই নই।

 

খোশগল্প.কম: কেনাবেচার সময়ে ঘটে যাওয়া কোন একটি নিষ্ঠুরতার ঘটনা বলবেন?

জর্জ হ্যারিস: এই ঘটনা ঘটে যখন হ্যালি টম চাচাকে বিক্রি করার জন্য নিলামে নিয়ে যাচ্ছিল। লুসি নামের একটি মেয়ের বাচ্চাকে হ্যালি বিক্রি করে দেয়। মেয়েটির সাথে এমনিতেই ধোঁকা দেয়া হয়েছিলো, বিক্রি করার সময় সে একবার বিষয়টি জানায়ও নি ঝামেলার ভয়ে। পুরো ঘটনা জানার পরে লুসি কাঁদলো না বা চিৎকার চেঁচামেচি করল না, এমন কী একটা কথাও বললো না। শেলটা সোজা গিয়ে বিঁধেছে ওর হৃৎপিণ্ডের একেবারে মাঝখানে।

 

যদিও আইনসঙ্গত ব্যবসায় এ ধরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, তবু টম চাচার মনে হল এর চাইতে নিষ্ঠুর বর্বরতা আর কিছু হতে পারে না। অথচ তার মতো অতি তুচ্ছ একজন মানুষের পক্ষে এর বিরুদ্ধে কিছুই করার ছিল না, কেবল মেয়েটির দুঃখে নিজের হৃদয়কে নিভৃতে রক্তাক্ত করে তোলা ছাড়া।

 

শেষ পযন্ত গভীর রাতে জলে ঝাঁপ দিয়ে হতভাগিনী মেয়েটা শেষপর্যন্ত চিরদিনের মতো শান্তি লাভ করলো।

 

খোশগল্প.কম: মিঃ উইলসন আপনাকে খুব স্নেহ করতেন।  কানাডা পালাবার আগে তিনিও আপনাকে দেশের আইন কানুন ভাঙতে নিষেধ করেছিলেন।

জর্জ হ্যারিস: মিস্টার উইলসনের ভালোবাসার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।  কিন্তু কিছু বিষয় উনি আমার জায়গায় না দাঁড়িয়ে কখনোই বুঝতে পারবেন না।  মুক্তি চাওয়াটা কি অপরাধ? স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে আমি কি কোনো অন্যায় করেছি?

মিস্টার উইলসনকে প্রশ্ন করেছিলাম, যদি কখনো এমন হতো, একদল রেড ইন্ডিয়ান এসে হঠাৎ আপনাকে জোর করে ধরে অনেক দূরে নির্জন কোনো একটা জায়গায় সারা জীবনের মতো বন্দী করে রাখল, তখন আপনি কী করবেন? পালাবার কি কোনোরকম চেষ্টা করবেন না? ধরুন দীর্ঘদিন বন্দী থাকার পর হঠাৎ দলছুট কোনো ঘোড়া কিংবা অপ্রত্যাশিত একটা সুযোগ এসে গেল আপনার হাতের সামনে, তখনো কি চুপ করে বসে থাকবেন? পালাবার কোনোরকম চেষ্টাই করবেন না?

ঈশ্বর বা মানুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেশের আইনই আমাদের মনিবদের এই অন্যায় আচরণ করার প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশের আইনই আমার মা, বোন, স্ত্রী, এমন কী আমার নিজের হৃদয়কেও ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। দেশের আইনই মানুষকে এমন শক্তিশালী করে তুলেছে যে কেন্টাকির একটা লোকও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় নি। এই আইনকে মিস্টার উইলসন বলেন আমাদের দেশের আইন? না , আমার যেমন বাবা নেই, তেমনি আমার কোনো দেশও নেই। তাই আমি চললাম অন্য একটা দেশের খোঁজে। শুধু শান্তিতে চলে যাওয়া ছাড়া আমি এই দেশের কাছে আর কিছুই চাই না।  তাঁকে বললাম, কানাডায় যদি একবার পৌঁছতে পারি, সে দেশের আইন আমাকে আশ্রয় দিবে, আর তাকেই আমার দেশের আইন বলে মেনে নেব। কিন্তু কেউ যদি আমার স্বাধীনতা অর্জনের পথে বাধা দিতে আসে, আমি ছেড়ে কথা কইব না, কেননা এখন আমি মরিয়া হয়ে উঠেছি। মুক্তির জন্যে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্তও যুদ্ধ করতে রাজি আছি। আপনাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম করেছিলেন। সেটা যদি তাঁদের পক্ষে ন্যায়সঙ্গত হয়ে থাকে, তাহলে আমার পক্ষেই বা এটা অন্যায় হবে কেন?

 

খোশগল্প.কম: এই গল্পে ভালো মনিবও যে একেবারে দেখা যায় নি তা নয়।  মিঃ শেলবি ও সেন্ট ক্লেয়ার তো তাদের দাসদাসীদের সাথে ভালো আচরণই করতেন।

জর্জ হ্যারিস: তারপরও কিন্তু মিস্টার শেলবি ঋণগ্রস্ত হয়ে টম চাচা, এলিজার ছোট্ট শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এই ব্যাপারে সততার সাথে সবচেয়ে সত্য কথাটি বলেছিলেন সেন্ট ক্লেয়ার। তিনি এক প্রসঙ্গে তারঁর বোন ওফেলিয়াকে বলেছিলেন, ’এ পৃথিবীতে ওরা সৎ হয়ে কী করবে শুনি? জন্মের মুহূর্ত থেকেই ওরা দেখে, আমরা মনিব, ওরা ক্রীতদাস। ওরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত পরিশ্রম করে, আর ওদের সেই শ্রমলব্ধ ঐশ্বর্যের বদলে আমরা বিলাসিতা করি। ওরা দুর্বল, আমরা শক্তিশালী। ওরা লেখাপড়া জানে না, আমরা শিক্ষিত। আমরা চাবুক মারি, ওরা চাবুক খায়। ওরা কিসের জন্য সৎ হতে যাবে, তুমিই বলো? নিজেদের জাতটাকে টিকিয়ে রাখার জন্যে ওদের পক্ষে যতটা সৎ হওয়া সম্ভব, ওরা নিশ্চয়ই ততটা সৎ। আমরা ওদের চাইতে কত অসৎ,  সে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না, ওফেলিয়া।’

 

খোশগল্প.কম: জর্জ শেলবি শেষ পযন্ত কি করেছিলেন তার দাস দাসীদের জন্য?

জর্জ হ্যারিস: টম চাচা মারা যাওয়ার এক মাস পরে জর্জ শেলবি একদিন তাদের ভূসম্পত্তিতে নিয়োজিত সমস্ত ক্রীতদাস-দাসীদের ডেকে বিরাট হলঘরটাতে জড়ো করল।  এরপরে প্রত্যেকের হাতে একটা করে দলিল দিয়ে বলা হল এগুলো ওদের মুক্তিপত্র।  তখন বেশিরভাগ দাস দাসীরাই দলিলটা ফেরত দিতে চেয়েছিলো।  কিন্তু জর্জ তাদের বুঝিয়ে বলে তারা এতদিন যেভাবে কাজ করছিলো সেভাবেই সবকিছু থাকবে।  কিন্তু কাজের বিনিময়ে তারা মজুরি পাবে, কারণ আজ থেকে তারা স্বাধীন।  যদি তিনি কখনও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে বা মারা গেলেও কেউ তাদের আর বিক্রি করে দিতে পারবে না।

 

’আঙ্কল টমস কেবিন’ অনুবাদ বইটি অনলাইনে কিনতে চাইলে

https://www.rokomari.com/book/22769

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত