“বড়দিদি” শরতচন্দ্রের একটি   হৃদয়স্পর্শী  উপন্যাস।উপন্যাসের বড় দিদি, মাতৃমূর্তি, সকলের জন্য তাঁর ভালবাসা সমান।আত্মভোলা সুরেন্দ্রনাথ জমিদারের সন্তান, বাড়ি পালিয়ে বড়দিদি’র বাড়িতে থাকতে শুরু করে।গৃহ শিক্ষকের ভূমিকায় বড়দিদির সাথে তাঁর কথা। অভিমানী সুরেনের বাড়ি ছাড়ার যন্ত্রনায় দগ্ধ বড়দিদি। তাঁদের শেষ দেখা, প্রথম কথা হয় সুরেন্দ্রর বাড়িতে, তাঁর মৃত্যুশয্যায়।

‘কোনটির উপরই তাঁর স্পৃহা নাই,বৃদ্ধের মত বৈরাগ্য, অথচ বালকের ন্যায় সরলতা, পাগলের মত উপেক্ষা’

লিখেছেন...admin...আগস্ট 19, 2017 , 3:09 অপরাহ্ন

বর দিদি

খোশগল্প.কম: অল্প বয়সে বিধবা হয়েছিলেন, বৈধব্যকে কি ধারণ করতে পেরেছিলেন?

বড়দিদি: কতকটা পেরেছিলাম। সুরেন্দ্রনাথকে আমি ভাইয়ের মতই দেখতাম, স্নেহ নিম্নগামী তাই প্রকাশে বাৎসলতা ছিল।

 

খোশগল্প.কম: সুরেন্দ্র আসলে কি চেয়েছিল? স্বাধীনতা নাকি তাঁর বিমাতার শৃঙ্খলা থেকে ছাড়া পেতে।  আপনার কি মনে হয়?

বড়দিদি: ওঁর মায়ের শৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে। অতিশয় স্নেহ দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরী করে। বিমাতার যত্নে যতখানি স্নেহ ছিল, তাঁর চাইতে বেশী আরোপিত শৃঙ্খল ছিল।

 

খোশগল্প.কম: সেজন্যই কি সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল?

বড়দিদি: শুধু এজন্যই বলে মনে হয় না। সুরেন এম. এ করেছিল, চাকরি করবার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও সে চাকরি করছিল না, বিলেত যেতে চাইলে সেখানেও মায়ের সম্মতি ছিল না। এত পড়ালেখা করেও তার করার কিছু ছিল না। কি নিদারুণ অপরাগতা!

 

খোশগল্প.কম: আপনি তাঁকে ভালবাসতেন, স্নেহ করতেন সত্বেও তাঁকে কেন যেতে দিলেন?

বড়দিদি: সে পালিয়ে এসেছিল, সুস্থ হয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গেছে। এতে আমি কি হিসেবে তাঁকে আটকে রাখি!

 

খোশগল্প.কম: বহু বছর পর যখন, আপনারই কোলে সে মৃত্যুশয্যায়, তখন কি মনে হয়েছিল?

বড়দিদি: আমার সমস্ত স্নেহ, মাতৃত্বপরায়ণতা সমস্তই ব্যার্থ! আমার জন্যই সে আমাদের বাড়ি ছেড়েছিল, অথচ আমাকে সে ভোলে নাই! আমার নামের সম্মান করতে সে ভোলে নি।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত