‘নৌকাডুবি’ রবীন্দ্র রচিত ঘটনা বহুল উপন্যাসগুলোর মধ্যে একটি ।পিতা ব্রজমোহন হঠাৎ করেই বিয়ে ঠিক করে পুত্র রমেশের ।নববধূকে নিয়ে নদীপথে আসার সময় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে বেঁচে থাকে শুধু রমেশ। এদিকে কলকাতায় আইন পড়াকালীন হেমনলিনীর সঙ্গে রমেশের প্রেম ছিল।এইসকল নানা কাহিনী নিয়েই গড়ে উঠেছে “নৌকাডুবি”র কাহিনী। আজকের আলাপ রমেশের সাথে……

‘আমাদের অগোচরে ঘটছে বলে তা কি মিথ্যা? তাকে অস্বীকার করা যাবে বা করা উচিৎ?’

লিখেছেন...admin...আগস্ট 23, 2017 , 4:09 অপরাহ্ন

komola 1

খোশগল্প.কম: কমলাকে বিয়ের আগে আপনার জীবন কেমন ছিল?

রমেশ: উপন্যাসে যেমন দেখেছ। ঐ সময়ের আর দশটা তরুণের মত। হেমনলিনীর সাথে সম্পর্ক গাঢ় হচ্ছে, অক্ষয়বাবুর সাথে কাঁচা বয়সের তর্ক জমে ওঠা, হেমনলিনী কিংবা তার বাবার কাছে আরেকটু শ্রদ্ধা-স্নেহাষ্পদ হয়ে ওঠা এইতো…

 

খোশগল্প.কম: আপনি  কমলাকে আগে কেন জানালেন না?

রমেশ: বলে কি হত? তাকে বললে অনাবশ্যক চিন্তায় তাঁকে ফেলে দিতাম। তার মামী তাকে বিয়ে দিয়ে বেঁচে যেতে চেয়েছেন। আর শ্বশুরবাড়ি পাঠালেও এতদিন পর তারা তাকে গ্রহণ করতো না। নিরপরাধ বালিকাকে আমি অপদস্থ করতে পারি না।

 

খোশগল্প.কম: এতদিক যখন চিন্তাই করেছেন তাহলে বোর্ডিং স্কুলে কেন পাঠালেন? পরিচয়স্থলে আপনি তার কেউ নন বলে ধিক্কার দেয়া, সেটিও তো কমলাকে অপদস্থ করা?

রমেশ: আমার কি করবার ছিল? আমি সব কিছু জেনে কেন্দ্রে বসে ছিলাম, আমার পক্ষে কমলাকে ছেড়ে বেরুনো সম্ভব না, তাকে দুঃখ দেবার অভিপ্রায় আমার ছিল না তাই তাকে জানাই নি।

 

খোশগল্প.কম: হেমনলিনীর বাবা আপনাকে খুব স্নেহ করতেন।

রমেশ: হ্যাঁ, ভালো ছাত্র হিসেবে, আর তার একমাত্র কন্যার আস্থাভাজনীয় হিসেবেও আমার উপর স্নেহ বজায় ছিল। যদিও তাদের সাথে আমার পরিচয় হেমনলিনীর ভাইয়ের বন্ধু হিসেবে।

 

খোশগল্প.কম: মনের বিরুদ্ধে বিয়ে, ঝড়, নৌকাডুবি, সকল স্বজনকে হারিয়ে সবশেষে জনহীন বালু তীরে ভেসে আসার পর যখন জ্ঞান ফিরলো; তখন কি মনে হয়েছিল?

রমেশ: হঠাৎই জীবনের সকল অনিয়শ্চতা, অজানাকে ক্ষণকালের জন্য জেনে ফেলেছি সম্মুখে উন্মুক্ত দেখে ফেলেছি  মনে হয়েছিল।  হেমনলিনীর সাথেকার দীর্ঘ সখ্যতা তখন ঐ বালু তীরের কাছে ক্ষুদ্র বালু কণা সমান বোধ হয়েছে। তোমাদের রবিবাবুর মত ‘জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার?’

 

খোশগল্প.কম: সব শেষে, সত্যি করে বলুন তো  আপনার কাছ থেকে কে বেশী ভালবাসা আদায় করে নিল? কমলা নাকি হেমনলিনী?

রমেশ: বলতে দ্বিধা নেই, কমলার। সে এক সম্মান মিশ্রিত ভালোবাসা।

 

খোশগল্প.কম: অক্ষয়বাবু ছাড়া আপনার সঙ্গে বিরূপ আচরণ করবার মত মানুষ কিন্তু কেউ ছিল না, তবুও কেন শেষটা ঠিক আপনার অনুকূলে গেলো না……

রমেশ: হ্যাঁ, অক্ষয়বাবু ব্যতীত আমার সাথে খারাপ আচরণ করবার মত কেউ ছিল না। কিন্তু জানো কি, জীবন তোমার নিয়ন্ত্রণহীন হবার জন্য বন্ধু কিংবা শত্রুর তো প্রয়োজন নেই। মন্দকে খুঁজে বের করতে হয় না, সে আপনি এসে পড়ে। এমন নয় সেটি তৈরী হতে শত্রুর প্রয়োজন।

 

খোশগল্প.কম: পুরো উপন্যাস জুড়ে আপনি থাকলেও, শেষদৃশ্যে আপনার,  হেমনলিনীর ইতিবাচক কোন পরিণতি দেখা যায় নি। যেটা কমলা, নলিনাক্ষ পেয়েছে। বিষয়টা অদ্ভুত না?

রমেশ: আমাদের জীবনও কি এমন নয়? তুমি হয়তো শ্রম খাটিয়ে, সময় খরচ করে কোন কিছুর জন্য প্রার্থনা করছো, হঠাৎই জানলে সেটি অন্য কেউ পেয়ে গেছে। তার মানে কি? সে শ্রম না করেই পেয়ে গেছে ? যেমন তুমি বলছো। তোমার-আমার অগোচরে  ঘটছে বলে তা অস্বীকার করা যাবে বা করা উচিৎ?  সবকিছুই তো আমাদের প্রত্যাশা মত ঘটবে না। তাহলে তো কমলার সাথে আমার বিয়েই হতো না।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। তাহলে নলিনাক্ষকে চরিত্র হিসেবে দাঁড় করানোর কারণ কি? শুধু একটা পজিটিভ এন্ডিং?

রমেশ: আমি আমার শেষ সংলাপে বলেছিলাম, মনে আছে? জীবনটুকু সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করে পৃথিবীর পথে বের হইলাম, আমার আর পিছনে তাকাবার প্রয়োজন নাই…….

 

বইটি কিনতে চাইলে-www.rokomari.com/book/37706/নৌকাডুবি?ref=null

 

ছবিসূত্র: সামহোয়্যার ইন ব্লগ

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত