হাউন্ড অব দি বাস্কারভিল  শার্লক হোমসকে নিয়ে রচিত ৪টি উপন্যাসের মধ্যে একটি। এটির প্রধান বিশেষত্ব এটির রচয়িতা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল যখন শার্লক হোমসকে নিয়ে ক্লান্ত তখন দি মেমোয়ার্স অব শার্লক হোমসে  হোমসের মৃত্যু রচনা করেন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে অগণিত পাঠক প্রিয় শার্লকের এ মৃত্যু মেনে নিতে পারেন নি। অতঃপর ডয়েল হাউন্ড অব দি বাস্কারভিল  উপন্যাসে হোমসকে ফিরিয়ে আনেন। যেখানে দেখা যায় হোমস তার চিরচেনা রূপে রহস্যের কিনারা করছেন।

 

 

পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে সফল না হওয়া পর্যন্ত বিন্দুমাত্র আভাস তার কাছ থেকে পাবার উপায় নেই

লিখেছেন...admin...সেপ্টেম্বর 24, 2017 , 3:12 অপরাহ্ন

দ্য হাউন্ড অব দি বাস্কারভিলস মূলত উত্তরাধিকার পাবার জন্য প্রকৃতিবিদ স্টেপলটনের নিষ্ঠুর এক ছক। বাস্কারভিল হাউজের উত্তরাধিকার দু’জন; চার্লস এবং হেনরী। স্টেপলটন বিশালাকার হাউন্ডকে লেলিয়ে দিয়ে চার্লসকে ইতিমধ্যে হত্যা করেছেন। হেনরীও ছিল তার প্রায় নাগালে। কিন্তু শার্লক হোমসের ছদ্মবেশ এবং ক্ষিপ্র গোয়েন্দা কৌশলে স্টেপলটন ধরা পড়ে যান।

 

খোশগল্প.কম: প্রকৃতিবিদ স্টেপলটন দোষী সাব্যাস্ত হলেও, তার মৃত্যুদশা রচিত হয় নি, ধারণা থেকে নিশ্চিত করা হলো তিনি জলায় ডুবে মারা গেছেন।

ডা. ওয়াটসন: হ্যাঁ , কারণ মি. স্টেপলটন কোন পথে গিয়েছিলেন কীভাবে এগিয়েছেন বুঝবার উপায় ছিল না।

 

কেবল বুট জুতার পাটিই সাক্ষী দিয়েছিলে তিনি এই পথে এসেছেন।শেষ পর্যন্ত দ্বীপের ঘরে পৌঁছেছেন এ কথা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমরা। গ্রিমপেনের ঐ বীভৎস কর্দমভূমিই তাকে টেনে নিয়েছে মাটির তলায়। নিষ্ঠুর মানুষটির চিরসমাধি ঘটেছে-এখানেই নিঃশব্দে।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, মিসেস স্টেপলটন চরিত্রটিকে তৈরী করার কারণ ঠিক বোধগম্য নয়, তাকে ছাড়াও তো চলে যেত।

ডা. ওয়াটসন:স্ত্রীকে যন্ত্র হিসেবে কাজে লাগানোর নিখুঁত একটা পরিকল্পনা তার ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্ত্রীকে পরিচয় দিলেন বোন হিসেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশৎ স্ত্রী তাতে বেঁকে বসলেন। এতে অবশ্য আমাদেরই লাভ হলো। যেমন লরা লায়েন্স ভদ্রমহিলাটিকে জালে ফেলেছিলেন তিনি এবং তার মাধ্যমেই আমরা চার্লস এর মৃত্যুর তথ্য জানতে পারি। অন্যদিকে তার পরিকল্পনাও বুঝতে অসুবিধে হয় না আমাদের।

 

baskervilles

ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত  ছবিতে শিল্পীর কল্পনায়  শার্লক হোমস ও হেনরী ।      

 

খোশগল্প.কম: পুরো জট খুলতে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে, শার্লক হোমস নিজে পাহাড়ের আড়ালে ছদ্মবেশে ছিলেন বেশ কিছুদিন। সব প্রমাণ হাতে থাকা সত্বেও স্টেপলটনকে ধরা যাচ্ছিলো না। বড় সময় ব্যয় করেছেন- আপনার কাছে ব্যাখ্যা আছে এটার ?

ডা. ওয়াটসন: আমার কাছে ব্যাখ্যাটা এরকম- সব রহস্য উন্মোচন করে দিলে পাঠক লেখাটি নিয়ে কি ভাববে? যদি পাঠক লেখাটি হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ নাই ভাবেন তাহলে লেখক লিখবে কেন?

 

খোশগল্প.কম: ভাল প্রশ্ন- হাঁ হাঁ। শেষের দিকে বাস্কারভিলস হাউজ থেকে নাটকীয় প্রস্থান, গোয়েন্দা পুলিশ লেসট্রেডকে খবর দেয়া সবই হোমস করে গেছেন আপন মনে। আপনি পাশে থেকে কিছু জানতে পারেন নি। আপনার মনে হয় না, সব জেনেও কখনো কখনো আপনাকে অন্ধের মত অনুসরণ করতে হয়েছে হোমসকে ?

ডা. ওয়াটসন:এ এক অদ্ভুত স্বভাব শার্লক হোমসের। পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে সফল না হওয়া পর্যন্ত বিন্দুমাত্র আভাস তার কাছ থেকে পাবার উপায় নেই।

 

খোশগল্প.কম: শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো, একজন প্রকৃতিবিদ এই নিষ্ঠুর ও দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন; বিষয়টি অদ্ভুত না?

ডা. ওয়াটসন: হ্যাঁ। আমার কাছে মনে হয়েছিল স্টেপলটন একজন মানসিক ভাবে অসুস্থ মানুষ। ভদ্রলোক বারবার নাম বদল করেও একটা বিষয় বদলাতে পারেন নি। সেটা হলো কীটবিদ্যার সখ। এই সূত্র ধরেই তার পূর্ব পরিচয় বের করেছে হোমস।

 

 

 

বইটি সংগ্রহে রাখতে চাইলে-  www.rokomari.com/book/14420/

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত