মেহেদি হাসান রানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রিতে ভর্তি হয়েছেন কিন্তু আকর্ষণ বোধ করেন নি পাঠ্য বিষয়ের উপর, তাই দু’বছর পর ছেড়ে দিয়েছেন।তারপর করেছেন রিকশার ব্যাবসা, কাপড়ের ব্যাবসা, ট্যাক্সী-যখন না করতে ইচ্ছে করেছে।কিন্তু কখনো অনুশোচনা বোধ করেননি ইচ্ছার স্বাধীন বাস্তবায়নের উপর।এখন কাজ করছেন রকমারি.কম এ। রকমারি’র একজন সুখী মানুষ হিসেবে কথা বলেছেন খোশগল্পের সাথে…..

আমি পরিশ্রম করলে আমি পাবো, তুমি করলে তুমি পাবে।

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 12, 2016 , 9:41 পূর্বাহ্ন

11163233_1084536028226823_5450687667030860861_o

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

রানা:ভালো।

খোশগল্প.কম: রকমারিতে আপনার কাজ কি মূলত

রানা:আমার কাজ মূলত অনলাইন ব্রান্ডিং এর যে জিনিসগুলা আছে, সেগুলা দেখি।

খোশগল্প.কম: এই মূহুর্তে কি নিয়ে ব্যাস্ত আছেন?

রানা:এই মূহুর্তে ব্যাস্ত আছি কাস্টমার কেয়ার এর ট্রেইনিং নিয়ে, আর প্রতি মান্থে আমাদের একটা ডেইলী মিনিমাম অর্ডার আছে সেইটা নিয়ে কাজ করতে হয়।এভারেজ অর্ডার থেকে কিভাবে আরো বাড়ানো যায়, সার্ভিসগুলো কিভাবে আরো বেশী বেশী মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, আর ব্রান্ডিং এর জন্য SMS পাঠানো, ই-মেইল পাঠানো, SMS এর জন্য কন্টেন্ট লিখা, অনলাইনে এড. চালানো, এইগুলোই ডেইলি মনিটর করছি।

এছাড়া কাস্টমার এজেন্টদের ট্রেইনিং চলছে।

খোশগল্প.কম: এত এত বই এর মধ্যে থাকেন, কখনো বই লিখতে ইচ্ছা হয় না?

রানা:না, ঐভাবে কখনো বই লিখতে ইচ্ছা হয়  না, টুকটাক যেটা মনের আনন্দে লিখতে ইচ্ছা করে বা কোন ঘটনা সেগুলো ফেইসবুক বা ব্লগে লিখি।

খোশগল্প.কম: এখানে কাজ করছেন কতদিন ধরে?

রানা:আমি এখানে সাড়ে তিন বছর ধরে।

খোশগল্প.কম: এর আগে কি করতেন?

রানা:এর আগে ওরকম অফিসিয়ালি কিছু করতাম না।

খোশগল্প.কম: এই কাজটা দায়িত্ব থেকে করছেন নাকি প্যাশন থেকে ?

রানা:আমি বলবো যে ভালোবাসা থেকে, আমাদের এনভায়রনমেন্ট টা ফ্যামিলির মত, কাজ ও করি ঐভাবে, যখন কাজ শুরু করি তখন ও সবাই এমন ফ্যামিলির মত ছিলো, কাজটা ভালো লাগতো, পরিবেশ টা ভালো লাগতো, কালচারটা ভালো লাগতো তখন কাজটাই প্যাশন হয়ে গেছে।

খোশগল্প.কম: যখন পড়ালেখা করতেন বা ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা শুরু করলেন তখন কিভাবে ভাবতেন কি করবেন, বা এমবিশান, কিংবা এরকম কিছু করবেন এরকম ভেবে রেখেছিলেন?

রানা:হ্যা, তখন অবশ্য এরকম কাজ করবো ভাবি নাই, আমাদের তো সবারই ট্রাডিশনালি একটা এরকম স্বপ্ন থাকে যে হ্যা, পড়ালেখা করবো, চাকরি-বাকরী করবো, স্বপ্ন ছিলো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বো, কিন্তু ইন্টারমিডিয়েটে রেজাল্টে বুয়েটে পরীক্ষা দেয়ার মত স্কোর আসে নাই তো পরে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বায়োকেমিস্ট্রিতে ভর্তি হলাম, ওইটা ২ বছরের মত পড়ি, তারপর আর ভালো লাগেনাই, তারপর ছেড়ে দি, তারপর পড়শুনা করতে হবে এই চিন্তা থেকে ‘এসিসিএ’ ভর্তি হই, মিনটাইম রকমারির সাথে কানেক্ট হই, ইন্টার্ন করি, এখানে এসে আমার এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ডের পুরা অপজিটে কাজ করি, ঐ যে বললাম ভালোবাসা থেকে, এখন রকমারির যে কাজটাই করি না কেন ঐটাই একটা প্যাশনের জায়গা হয়ে যাবে।

খোশগল্প.কম: প্যাশন আর ফ্যাসিনেসন কি আলাদা?

রানা:অলমোস্ট সেইম, বাট আলাদা।

খোশগল্প.কম: তাহলে আপনার ফ্যাসিনেসনের জায়গা কোনটা?

রানা:আমার আসলে ওরকম পার্টিকুলার ফিল্ডে ফ্যাসিনেসন নাই।

খোশগল্প.কম: ছোটবেলা থেকে কোন বিষয়ের প্রতি ক্রেইজ বা এই মুহুর্তে চরম আগ্রহ এরমকম কোন ফ্যাসিনেসনই নাই?

রানা:ঐভাবে বলতে মুভি দেখা, বই পড়া, গিটার বাজানো, বাঁশী বাজানো এগুলা হতে পারে।

খোশগল্প.কম:বাঁশী বাজাতে পারেন?

রানা:পারি বলতে টুকটাক পারি, আসলে কোন জিনিস যখন শুরু করি তখন হয়তো ফ্যাসিনেসন নিয়েই শুরু করি পরে আগ্রহটা এভারেজ লেভেলে চলে আসে।চলে যায় না বাট লেগে থেকে ভালো একটা অবস্থানে যাওয়া হয়তো হয় না, এভারেজ থাকে।

আর কোন ফ্যাসিনেসন বলতে ভালো থাকতে চাই এটা হলো কথা।

খোশগল্প.কম: সামনের জন্য কোন পরিকল্পনা?

রানা:হ্যা, সামনের জন্য প্রফেশনাল-পার্সোনাল দুটাকে এলাইন করে একটা পরিকল্পনা আছে।বিয়ে করেছি ৬ মাস হয়েছে, তো পারিবারিক দিক থেকে ভালো থাকার জন্য আমার সবার আগে যে জিনিসগুলা দরকার ঐ জিনিসগুলা পাওয়ার জন্য হয়তো রকমারিকে এমন একটা অবস্থানে নিয়ে যেটা দিয়ে আমার ঐটা নিয়ে আর আলাদা করে ভাবতে হবে না।

আর রকমারিকে নিয়ে আমরা বলি আমরা সবচাইতে সুখী কোম্পানি হতে চাই, তো এই পরিকল্পনাটা বাস্তবায়নে দেখতে চাই।

খোশগল্প.কম: ফেইসবুকটাকে কিভাবে দেখছেন আপনার জন্য?

রানা:আমি যদি আমার প্রফেশন এর দিক থেকে দেখি তো আমাদের অলমোস্ট ৫০% অর্ডার আসে ফেইসবুক এর রেফারেন্স থেকে, ফেইসবুকের এড. দেখেই, তো আমাদের কাজের ক্ষেত্রে ফেইসবুক ইম্পর্টেন্ট একটা জায়গা আর এর বাইরে পার্সোনাল অপিনিয়ন থেকে বললে ফেইসবুকটা সোশাল মিডিয়াম, সবার সাথে কানেক্টেড থাকতে পারা যায় প্লাস কারো কিছু লিখতে ইচ্ছে হলো তার জন্য একটা ভালো জায়গা, এর আগে যখন ব্লগ ছিলো তখন হয়তো অনেক কিছু লিখতে হতো, এখন মাইক্রো ব্লগিং এর কাজটা ফেইসবুকে খুব ভালো মত হচ্ছে, মত প্রকাশ করতে পারছে।

খোশগল্প.কম: ক্রাইসিস মোমেন্ট আর ম্যাচুরিটি এই দুইটা কি পরিপূরক নাকি সাংঘর্ষিক?

রানা:দুইটাই রিলেটেড, সাংঘর্ষিক না।এক একটা ক্রাইসিস এক একটা ম্যাচুরিটি দিয়ে যায়, একটাকে ওভারকাম করলে নেক্সট ক্রাইসিসে ঐ টা কাজে লাগে।

খোশগল্প.কম: কাজ আর আনন্দ কতটুকু সাংঘর্ষিক?

রানা:আমার কাছে পরিপূরক।কারণ আমি যে কাজটা করছি এইটাতে যদি আমি আনন্দ না পাই তাহলে আমি এই কাজটা করবো না।

খোশগল্প.কম: কিন্তু প্রেক্ষাপট তো ভিন্ন, এভারেজ মানুষতো অর্থসংস্থান করার চিন্তা থেকে বা অন্য কোন সুযোগ না থাকায় কাজ করে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে আনন্দ নেই বলে ছেড়ে দিচ্ছে না।

রানা:যাই হোক টাকা উপার্জন করার জন্য করুক বা বাঁচা দরকার এজন্য করুক, এভাবে আসলে খুব বেশীদিন সাসটেইন করা যায় না, হয়তো সে বছরের পর বছর ধরে করে যাচ্ছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে, সো একসময় না এক সময় সে ফল করবেই, মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আসলে কতদূর!

আর ঐ সময় আসলে সে কম্প্রোমাইজ করছে, অলটাইম কিন্তু সে বেটার একটা অপশন খুঁজবে।যখন ই সে স্কোপ পাবে সে সুইচ করবে।

খোশগল্প.কম: তাহলে কোনটা হওয়া উচিত, মজার বিষয়ে কাজ নাকি কাজের মধ্যে মজা খোঁজা?

রানা:এটা ডিপেন্ড করে, যে কাজটা করছি ঐটার ভেতরে মজা খুঁজে নেয়া, আরেকটা হচ্ছে যে বিষয়ে কাজ করতে মজার কাজটা খুঁজে বের করা।আমাদের দেশে আসলে এটা খুবই কমপ্লিকেটেড, শুধু আমাদের দেশেই না যে সে যে বিষয়ে চাচ্ছে সেই বিষয়ে কাজ করতে পারা।

খোশগল্প.কম: খুব প্রচলিত একটা প্রবাদ আছে তাল মিলিয়ে চলা ব্যাক্তিত্বহীনতার লক্ষণ এই তাল মিলিয়ে চলা আপনার কাছে কোন অর্থ পায়?

রানা:আসলে আমাদের কিছু কমন টেম্পটেশন থাকে, বাংলায় বললে প্রবণতা বলি, বাই ডিফল্ট আমাদের মধ্যে কিছু জিনিস আসছে ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে আমাদের কম্প্রোমাইজ করতে শেখানো হয়।কিন্তু বড়বেলায় আমরা পপুলার থাকতে চাই, ধরেন আমি আমার এমন কোন ছোট ভাই যে আমাকে খুব পছন্দ করে এমন কাউকে যদি কোন কাজের জন্য প্রেশার দিই, আমি কিন্তু কাজটা পাবো, কিন্তু প্রেশার দিলে আমি ভয়েও থাকবো আমার প্রতি ওর পছন্দের জায়গাটা যদি নষ্ট হয়।কিংবা কোন আলোচনায় আমরা অধিকাংশ সময় এমন কাউকে সাপোর্ট করি যার থেকে আমার বেনিফেটেড হওয়ার সম্ভাবনা আছে।কিন্তু এন্ড অফ দা ডে যেটা হয় ঐটা কিন্তু সাসটেইন করে না, এটা আমাদের সবার মধ্যে আছে, আমার মধ্যে আছে, অন্যদের মধ্যে আছে।তো যেটা করতে হবে, প্রচুর প্রচুর পড়তে হবে, পড়তে পড়তে এই বিষয়গুলো ওভারকাম করা যায়।দু;খের সাথে বলতে হয় সব জায়গায় কিন্তু এভাবেই চলছে।

খোশগল্প.কম: আপনি বলছিলেন আমরা পপুলারিটি পছন্দ করি, আমরা ভয়ে থাকি আমার প্রতি অন্যদের পছন্দের জায়গা বা ফেইম যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে কি দাঁড়ায় আমরা আসলে বড় হতে চাই কিন্তু পাশাপাশি অন্যদেরকে আমাদের থেকে নীচেই রাখতে চাই? জেলাস করি না তবে সাবকনশাসলি অন্যদের কম ভালো রেখে আমি বেটার থাকতে চাই?

রানা:জিনিসটা আসলে সাবকনশাসলি না, কনশাসলি।এটা আমাদের সবার মধ্যে আছে, এটার জন্য রুট লেভেলের এডুকেশনের কথা বলতে পারি, ওখান থেকেই শুরু হচ্ছে, আমি যদি ফার্স্ট না হই আমার মা-বাবা অফিসে গিয়ে বলতে পারবে না তার ছেলেকে নিয়ে, মাও হয়তো গর্ব করতে পারবে না, তো দেখা যায় আমাকে ফার্স্ট হতে হবে।প্রফেশনালি হোক কিংবা নাটক করি, যেখানেই যাই আমাকে ভালো করতে হলে হয় আমাকে পরিশ্রম করতে হবে নয়তো অন্যকে সামহাউ নিচে নামাতে হবে।প্রচুর পরিশ্রম করার পার্টটা যেহেতু কঠিন, আর অন্যকে নামানোর বুদ্ধিটা যেহেতু সোজা তো আমরা ঐটাই প্রেফার করি।এর থেকে যদি এভাবে ভাবতাম আমিও আগাচ্ছি, ও আগাচ্ছে, স্কুলের রেজাল্ট কোন ফ্যাক্ট না।আমি পরিশ্রম করলে আমি পাবো, তুমি করলে তুমি পাবে।এভাবে ভাবনা টা যদি প্রাক্টিস হয় তাহলে ঐ জিনিসগুলা চলে যাবে।আর জেলাসির যে বিষয়টা ঐটা ন্যাচারাল, এটা সে করবেই।বাট কন্ট্রোলে আনা যায়।

খোশগল্প.কম: আফসোস আর বর্তমান এ দুটোকে সমন্বয় করলে কি আসে?

রানা: আফসোস না ঠিক, বায়োকেমিস্ট্রি ২বছর পর ছেড়ে দিলাম, তখন তো অর্থসংস্থান করতে হবে, তখন কাপড়ের ব্যবসা করলাম, মাস দু’য়েক ট্যাক্সি চালিয়েছি, রিকশার বিজনেস করেছি, মাছের ব্যাবসা করেছি, ফ্যামিলি সাপোর্ট ছিলো না, আবার কিছু বলতো এমন ও না।তো এই জিনিসগুলার পর আজকে যেখানে আছি এখান থেকে মনে হয় আরো বেটার করতে পারতাম, যদি পড়াশুনা শেষ করতাম।মেট্রিক শেষ করার পর লম্বা প্লান করেছিলাম, কিন্তু খাম-খেয়ালি করে সেগুলো বাদ দিলাম।এখন এসে রিগ্রেট ফিল করি না, রিগ্রেট ফিল করিনা এই কারণে আমি যা করেছি এটা আমার গতকালের করা কাজেরই আউটপুট।গতকাল বা লাস্ট পাঁচ বছর যখন যা করেছি তখন কিন্তু ভেবে-চিন্তে করেছি, হয়তো এটার থেকে বেটার থাকার স্কোপ ছিল, কিন্তু যেসময় গুলা পাস করে আসছি তখন কিন্তু আমি হ্যাপি ছিলাম।ট্যাক্সি যখন চালিয়েছি তখন মনে হয়েছে এটাই সব থেকে ভালো কাজ।হয়তো স্ট্রাগল করেছি কিন্তু আনন্দ নিয়ে ছিলাম, তাই রিগ্রেট ফিল হয় না।

খোশগল্প.কম: ট্যাক্সি চালানো, কাপড়ের ব্যাবসা এগুলা কখন করতেন?কেন করতেন?

রানা:একটা কারণেই করতাম, টাকা।এই টোটাল টাইম ২০০৮-২০১২।আমার রিকশা ছিলো

অনেক গুলা।আউটসোর্সিং ও করতাম।টুকটাক অনেক কিছুই করতাম, এগুলো কিন্তু আমাকে ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট এক্সপেরিয়েন্স দিয়েছে।

খোশগল্প.কম: প্রফিট করতেন?

রানা:হ্যা, এখন পর্যন্ত করা সব ব্যবসাতেই প্রফিট করেছি, কিছু হয়তো ব্রেক ইভেনে ছিলো, বাট লস করি নাই।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত