আয়মান সাদিক টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। পড়াশোনা শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে।14123327_10209976518787766_1543485557_o

পড়াশোনা শেষ হবার জন্য অপেক্ষা করো না। Either you win or you learn.

লিখেছেন...admin...অক্টোবর 8, 2016 , 5:33 পূর্বাহ্ন

14123327_10209976518787766_1543485557_o

খোশগল্প.কমঃ কেমন আছেন?

আয়মান সাদিকঃ আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো।

খোশগল্প.কমঃ আপনি টেন মিনিট স্কুলের নামে একটা এডুকেশনাল ওয়েবসাইট চালু করেছেন। একটা শিক্ষামুলক ওয়েবসাইট তৈরির চিন্তাটা কিভাবে মাথায় আসল?

আয়মান সাদিকঃ আমি আসলে ইউনিভার্টি আসার আগে জানতাম না যে আমি পড়াতে পছন্দ করি। ইনফ্যাক্ট আমি এটাও জানতাম না যে আমি ম্যাথ ভালবাসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় আমি মেন্টরস এ ক্লাস নিতে শুরু করি। আস্তে আস্তে ক্লাস নিতে বেশ ভাল লাগে। স্টুডেন্টদের সাথে ইন্ট্রোডাকশন, পড়ানো বিষয়গুলো আমি উপভোগ করতাম খুব।একটা সময় মনে হল আমি আসলে পড়াতে ভালবাসি। পড়ানোর শুরু সেখানেই। একটা সময় এসে দেখলাম ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর ছেলেমেয়ে এখানে কোচিং করতে আসে। ফার্মগেট বা বিভিন্ন জায়গায় মেস/ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতে হিমশিম খায়। এমনকি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ইনফরমেশনগুলোও ঠিকঠাক মত জানে না। অনেকে আবার আর্থিক সমস্যার কারণে কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে পারতো না। মূলত তিনটা বাধা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়তো। প্রথমত, আর্থিক সমস্যা। অনেক স্টুডেন্ট টাকার অভাবে ভালো কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে পারতো না। দ্বিতীয়ত, জিওগ্রাফিক ব্যারিয়ার। আমাদের দেশে যেহেতু সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক, তাই ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে থাকত সবক্ষেত্রেই। আর আরেকটা বাধা ছিল শিক্ষার্থীরা ইনফরমেশনগুলো ঠিকমতো জানতো না। তখনই আসলে চিন্তাটা মাথায় আসে। যদি একটা ওয়েবসাইট করা যায় যেখান থেকে সব ধরনের ইনফরমেশন বা প্রপার টিচিংটা পেতে পারে। সেখান থেকেই মুলত শুরু। ভার্সিটির সেকেন্ড ইয়ারে এসে একটা ড্রাফস তৈরি করি। অনেক সময় লাগে।পরে ফাইনাল ইয়ারে এসে পুরোপুরিভাবে শুরু করি। খোশগল্প.কমঃ শুরুতে কি ধরনের ধরনের বাধার সম্মুখিন হতে হয়েছিল? আয়মান সাদিকঃ প্রথমদিকে বেশকিছু সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আমরা যেহেতু ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারিনা, তাই একটা ফার্মের সাথে যোগাযোগ করি। তারা পঞ্চাশ হাজার টাকা নেয়, ছয় মাস সময় নেয়। কিন্তু কিছুই করে না। পরবর্তীতে অন্য একটা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করি। তাদেরকে ওর্ধেক পেমেন্টও করা হয় তখন। আড়াই মাস সময় নেয়ার পর তারাও আমাদের হতাশ করে। অনেকগুলো টাকা নষ্ট হয়। যেহেতু আমরা সবাই স্টুডেন্ট সেটা আমাদের জন্য বেশ বড় একটা ধাক্কা ছিল। এক সময় বুঝতে পারি যে এভাবে আসলে না। তখন রাইদ নামে আমাদের এক ছোট ভাই বুয়েটে চান্স পায়। তো বুয়েটে চান্স পাওয়ার পর সাত-আট মাসের মতো একটা ব্রেক থাকে। এই ফাকে ছেলেটা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ শিখে। রাইদ কে রিকুয়েস্ট করি কাজটা করার জন্য। প্রথমে অবশ্য ও রাজি হয় নি। রাইদ বলেছিল, ভাইয়া আমি মাত্র কাজ শিখেছি এত বড় প্রজেক্ট করতে পারব না।আমি ওকে চেস্টা করতে বলি। যাই হোক শেষমেশ ওকে নিয়েই ওয়েবসাইট টা করি। তারপর আস্তে আস্তে আমাদের স্টুডেন্ট বাড়তে থাকে, ভালো রেসন্স পেতে থাকি। এইতো এভাবেই।আমাদের ফেইসবুক পেজে লাইক বাড়তে থাকে। পাচ হাজার থেকে শুরু করে এখন আমাদের শিক্ষার্থী প্রায় দেড় লাখ।

খোশগল্প.কমঃ আপনারা অনলাইনে লাইভ ক্লাস নিচ্ছেন। রেসপন্স কেমন দেখছেন?

আয়মান সাদিকঃ রেসপন্স খুবই ভালো। প্রতিদিন প্রায় দশ থেকে বিশ হাজার স্টুডেন্ট একসাথে ক্লাস করছে, যেটা একটা ক্লাসরুমে কোনভাবেই সম্ভব না।

খোশগল্প.কম: আপনারা ফেইসবুকে লাইভ ক্লাসগুলো চালাচ্ছেন। আমাদের দেশে অভিভাবকরা অনেক সময় ইন্টারনেট বা ফেইসবুক ব্যবহার করতে দিতে চাই না। এ ব্যাপারে অভিবাবকদের মধ্যে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছেন।

আয়মান সাদিক: হ্যা, এটা খুব ইন্টারস্টেটিং একটা ব্যাপার। আমাদের প্রথম লাইভ ক্লাসে প্রায় সতের হাজার স্টুডেন্ট ছিল। আমরা লাইভে ক্লাসে একটা কথা সবসময় বলি যে, তোমাদের বাবা-মাকে দেখাও আমাদের ক্লাসগুলো। সবার একটা ধারণা যে মানুষ ফেইসবুকে কেবল টাইম নস্ট করে। ফেইসবুকের মাধ্যমেও যে পড়ানো যায়, পজেটিভ কিছু করা যায় মানুষকে এই ধারণাটা তাদের কাছে পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছি আমি মনে করি।

খোশগল্প: একটু ভিন্ন প্রশ্ন করি, টেন মিনিট স্কুলের পিছনে যারা কাজ করে, তারা সবাই কি ভলান্টিয়ার নাকি কোন পারিশ্রমিক দিতে হয়? আয়মান সাদিক: আমাদের বেশিরভাগই আসলে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করে। তবে ভিডিও ইডিটিং, প্রোডাকশন এই ব্যাপারগুলো যারা দেখে, তাদেরকে তো আসলে নিজের কাজ রেখে দিনরাত এটার পেছনে সময় দিতে হয়। আমরা তাদের কে সামান্য কিছু পারিশ্রমিক দিয়ে থাকি। সেটা অবশ্য তাদের প্রাপ্যের তুলনায় খুবই নগণ্য।

খোশগল্প.কমঃ টেন মিনিট স্কুল নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার ব্যাপারে একটু জানতে চাই।

আয়মান সাদিকঃ সত্যি বলতে আমাদের অনেক বড় বড় কিছু প্ল্যান আছে। ডিজিটাল কনটেন্ট না থাকায় স্কুল,কলেজগুলোতে এখনো ডিজিটাল কনটেন্ট দেখানো হয় না। ফাইনালি আমরা সেটা তৈরি করছি। প্রতিটি স্কুল, কলেজে আমরা ডিজিটাল কনটেন্ট প্রভাইডার হতে চাই। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের আইডিয়া টা আমাদের দেশে এখনো নতুন। ইন্টারনেট কানেকশন, প্রজেক্টর আর সাউন্ড সিস্টেম থাকলেই লাইভ ক্লাসগুলো দেখানো সম্ভব। আমরা লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে পৌছতে চাই।

খোশগল্প.কমঃ ছোটবেলা থেকে কি একটা নিদির্ষ্ট কোন সপ্ন ছিল মানে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার টাইপের?

আয়মান সাদিকঃ আসলে ওভাবে নির্দিষ্ট কোন সপ্ন ছিল না। ছোটবেলায় বাবার মত আর্মি হতে চাইতাম, ক্লাস নাইন-টেনের দিকে এসে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইতাম। ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় ঠিক করি আইবিএ তে পড়বো। তারপর ভার্সিটিতে এসে সিন্ধান্ত নেই টিচার হওয়ার।

খোশগল্প.কমঃ ভার্সিটিতে আপনি কোন ধরনের ভলান্টিয়ারিং অর্গানাইজেশনের সাথে কাজ করতেন?

আয়মান সাদিকঃ আমি আসলে ভলান্টিয়ারিং একটিভিটিস এর সাথে তেমনভাবে ছিলাম না। তবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছি। আমি গ্রামীনফোনে একমাস ইন্টার্ন ছিলাম। তাছাড়া বেশ কিছু কমপিটিশনে অংশগ্রহণ করেছি। খোশগল্প.কমঃ আপনি তো বোধহয় ইউনিলিভার ফিউচার ইয়াং লিডার আওয়ার্ডও পেয়েছিলেন? আয়মান সাদিকঃ হ্যা, এ বছরই হয় প্রতিযোগিতাটা।

খোশগল্প.কম: নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কি ভাবছেন?

আয়মান সাদিক: টেন মিনিট স্কুল নিয়েই থাকতে চাই,যে পরিকল্পনাগুলোর কথা বললাম সেগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই, এইতো।

খোশগল্প.কমঃ নিজেকে কিভাবে পরিচয় দিতে সাছন্দ্যবোধ করেন, শিক্ষক নাকি উদ্যোক্তা? আয়মান সাদিকঃ অবশ্যই শিক্ষক।

খোশগল্প.কমঃ ভবিষ্যত যারা উদ্যোক্তা হতে চাই তাদের জন্য কি পরামর্শ দিবেন?

আয়মান সাদিকঃ যদি কোন উদ্যোগ নিতে চাও, তবে ভার্সিটি লাইফ থেকেই শুরু করো। পড়াশোনা শেষ হবার জন্য অপেক্ষা করো না। Either you win or you learn.

খোশগল্প.কমঃ বর্তমানে উদ্যোক্তা হতে যারা ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের দুর্বলতাটা আসলে কোথায় বলে আপনি মনে করেন?

আয়মান সাদিকঃ আমাদের দেশের নতুন উদ্যোক্তারা আসলে রাতারাতি সফল হতে চাই। আজকে একটা উদ্যোগ নিলে কালকেই সিলিকন ভ্যালিতে সেটা পুরষ্কার পাবে এরকম একটা ধারণা তাদের মধ্যে কাজ করে। সাফল্য আসলে রাতারাতি আসে না। তোমাকে চেস্টা করতে হবে, লেগে থাকতে হবে। এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত