তাসলিমা রহমান মিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে এমবিএ করছেন। শৈশব থেকেই ভেবেছেন লেখক হবার কথা। কথা বললেন, নারীর অধিকারের পাশাপাশি পুরুষও যে বৈষম্যের শিকার কিংবা সম্পর্কের  প্রতিযোগীতা নিয়ে…..

‘আমরা কেউ এঞ্জেল না, কেউ ডেমনসও না’

লিখেছেন...admin...ডিসেম্বর 7, 2016 , 3:02 অপরাহ্ন

10669129_839661406156071_1058034811171399200_o

খোশগল্প.কম: প্রথমে পরিচয় নিবো।
মিতি: আমি তাসলিমা রহমান মিতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ করছি, ইন্টারন্যাশনাল বিজিনেসে। আমরা তিন ভাই-বোন। আমি ছোট, ভাইয়া-আপু দুজনেরই পড়া শেষ। আর আমার সম্পর্কে বলতে গেলে, পড়াশুনা শেষ করছি, টুকি-টাকি কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি। গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে, কবিতা আবৃত্তি করতে ভালো লাগে এই তো।
খোশগল্প.কম: কি কাজ ?
মিতি: একটা বই অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। Seith Godin এর পার্পল কাউ বইটা অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। আর আমাদের ইউনিভার্সিটির একটা নতুন ল্যাব হয়েছে, তো অইটার ফর্মার রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে আছি ডিপার্টমেন্ট থেকে। এই তো!
খোশগল্প.কম: ল্যাবের কাজ  কী নিয়ে?
মিতি:ইনোভেশন এন্ড এন্টারপ্রিনার ল্যাব। এইটার মেইন কাজ হচ্ছে একটা প্লাটফর্ম ক্রিয়েট করা, যে ঢাকা ইউনিভার্সিটির সব ব্যাকগ্রাউন্ডের স্টুডেন্ট লাইক হিউম্যানিটিস, বিজিনেস, সাইন্স -সব স্টুডেন্টদের নিয়ে একটা ইন্ট্রিগ্রেশন ক্রিয়েট করা। লাইক একটা সাইন্সের স্টুডেন্ট, তাঁর কাছে কোন একটা ইনোভেশন আছে বা একটা ক্রিয়েটিভ আইডিয়াই আছে, সে ঠিক জানে না আইডিয়াটা কীভাবে কমার্শিয়ালি ইমপ্লিমেন্ট করা যায়। তাঁর সাথে একটা কমার্সের স্টুডেন্টের কানেকশনটা করে দেয়া। আমরা এখনো ফর্মার স্টেজে, কেবল বিল্ড আপ হচ্ছে, দেখা যাক কতদূর যাওয়া যায়।
খোশগল্প.কম: এটার উদ্যোক্তা কে? মেম্বার কতজন?
মিতি: এটার মেম্বার হচ্ছেন আমাদের ডিপার্টমেন্টের একজন টিচার, এখন উনি আরেকটা ডিপার্টমেন্টে শিফট করেছেন। আর মেম্বার ১৬৪। ব্যাপারটা একদমই চাইল্ডিশ লেভেলে আছে। ডিসেম্বরে স্যার দেশে ফেরার পর আমাদের বড় একটা প্রোগ্রাম লঞ্চ করার প্ল্যান আছে, দেখা যাক।
খোশগল্প.কম: আচ্ছা। আপনার অন্যরকম গ্রুপে কীভাবে আসা?
মিতি: আমরা গ্রামীন ফোনের এপস ডিজাইন একটা কম্পিটিশনে একটা এপ ডিজাইন করেছিলাম, তো ঐটা ইমপ্লিমেন্ট করা যাবে কি না সেই ব্যাপারে সিএসই স্টুডেন্টের সাথে কথা বলা দরকার ছিল, আমার একটা ফ্রেন্ড আছে, ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়তো, ও অক্ষর নামে একজনের লিংক দেয় যে ওর সাথে কথা বলে দেখো, ও বলতে পারবে। তারপরে ওর সাথে ফেসবুকে পরিচয়, তো ওর একটা পোস্ট ছিল যারা ক্রিয়েটিভ কাজ করতে আগ্রহী এরকম বিষয় নিয়ে। তারপর ঐ পোস্ট দেখেই আগ্রহ হয়, তিনদিনের একটা কর্মশালা হলো, গেলাম, তারপর অনেক দিন পর্যন্ত হিমালয় ভাইয়া দেখলো যে আমি আদৌ কোন কাজ করতে পারবো কিনা (হাসি) ওখান থেকে আসা, তারপর অনুবাদের কাজ করা।
খোশগল্প.কম: অনুবাদের আগে কোন কাজ করেছিলেন শুরুতে, এজ স্ট্যামিনা টেস্টে হিমালয় ভাইয়া অনেক কিছু করতে দেন
মিতি: হ্যাঁ, ছিল(হাঁসি) ভাইয়া প্রতিদিন আমাকে তিনটা শব্দ দিত, ঐ তিনটা শব্দ দিয়ে তিনটা বাক্য রচনা করতে হত।
খোশগল্প.কম: ওয়ার্ড মনে আছে আপনার? মানে কি ধরণের শব্দ ছিল?
মিতি: গাংচিল ছিল একটা, পানকৌড়ি না যেন রাজহাঁস এরকম। মানে ওয়ার্ডগুলো নোন না বা ফ্যামিলিয়ার না। তো একটা শব্দ দিয়ে তিনটা বাক্য রচনা করতে হতো। মাঝখানে ভাইয়া আবার ক্রিকেট টিম নিয়ে আমাকে একটা আর্টিকেলের মত লিখতে বলেছিলেন, বাট আমারটা ভাইয়ার পছন্দ হয় নাই। পরে আমাকে বলছে তুমি ক্রিকেট ভালোবাসো না, আমিও বললাম না ভাইয়া। তারপরে অনুবাদের দিকে আসা।
খোশগল্প.কম: এর আগে কি অনুবাদ নিয়ে কাজ করেছিলেন?
মিতি: না, ঐটাই ফার্স্ট।
খোশগল্প.কম: আপনার প্রথম অনুবাদের কাজ কী ছিল?
মিতি: ফার্স্ট অনুবাদ ছিল বাংলা থেকে ইংলিশ। রকমারি বিজ্ঞানবাক্স যে বইটা ছিল অইটার। তারপরে ভাইয়া একটা আর্টিকেল দিয়েছিলেন ক্রিকেটের উপরে, রাহুল দ্রাবিড়ের লেখা, ক্রিকেটের মেন্টাল দিকগুলো নিয়ে যে একজন ক্রিকেটারের যে মেন্টাল ব্যাপারগুলো ইম্প্রুভ করতে হয় সে ব্যাপারগুলো নিয়ে। ঐটা ছিল আমার প্রথম সাকসেসফুল অনুবাদ, ঐটা ভাইয়া পছন্দ করলো অবশেষে; তারপর অনুবাদ কন্টিনিও করা।
খোশগল্প.কম: এখন পর্যন্ত কতগুলা অনুবাদ করেছেন?
মিতি: আর্টিকেল করেছি দশ-বারোটার মত, তারপরে এই বইটা করছি।
খোশগল্প.কম: এখন যখন নিয়মিতভাবেই অনুবাদ করছেন, কোন বইয়ের কথা আপনার ব্যাক্তিগতভাবে মনে হয় যেটাচান অনুবাদ করতে? কিংবা অনুবাদ পেশাকেই দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা আছে?
মিতি: আমার শুরুটা হয়েছে এক্সপেরিমেন্টাল ওয়েতে, যে দেখা যাক কেমন পারি। এখন হ্যাঁ, একটা ভালবাসা তৈরী হয়েছে, প্যাশনের জায়গা ক্রিয়েট হয়েছে। সত্যি কথা বলতে তুমি যে কাজটা করছো সেটা নিয়ে তুমি যদি ভালো ফিডব্যাক পাও, যে হ্যাঁ, ভাল হচ্ছে, তাহলে উৎসাহ অনেক বেড়ে যায়। ভবিষ্যতে কি হবে জানি না, আপাতত টার্গেট হচ্ছে এখন যে বইটা করছি এটা শেষ করবো।
খোশগল্প.কম: এটা তো ইমিডিয়েট টার্গেট। আমি বলেছি এর বাইরে স্পেসিফিক কোন বই আছে যেটা অনুবাদ করতে চান বা অনুবাদ পেশাকেই দীর্ঘায়িত করতে চান কি?
মিতি: ইচ্ছা তো আছে, একটা সময় সিরিয়াসভাবে ভাববো, এখন দেখা যাক।
খোশগল্প.কম: আচ্ছা। অনুবাদের বাইরে পার্সোনাল গোল কি?
মিতি: জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন! (হাসি) আমি পার্সোনালি ফিউচার প্রেডিক্ট করতে পছন্দ করি না, আমার কথা হচ্ছে যে আমি বর্তমানে বাঁচবো, প্রতিদিনে বাঁচবো। দেখা যাক ফিউচার কোথায় নিয়ে যায়।
খোশগল্প.কম: এমবিএ শেষ হলে কী করবেন?
মিতি: এমবিএ শেষ করার পর প্ল্যান একটা চাকরি খুঁজে বের করা।
যদিও আমার চাকরি জিনিসটা পছন্দ না, ছোটবেলায় যখন টিউশনি করতাম দুই মাস কিংবা তিন মাসের পর আমি বিরক্ত হয়ে যেতাম! একটা মানুষের চেহারা কতদিন দেখা যায়! আবার দুই মাস ঘুরে বেড়ানোর পর আচ্ছা, টাকা পয়সার তো দরকার; আবার আরেকটা টিউশনি। আবার সেই আগের সার্কেল। আমি অনেক বেশী ফ্লাকচুয়েট করি, জানিনা এটা ভালো না মন্দ। জব জিনিসটা যখন আমি চিন্তা করি তখনই মনে হয় কিছু একটা যেটা আমাকে বেঁধে ফেলবে। নয়টায় উঠতে হবে, পাঁচটা পর্যন্ত সময় দিতে হবে। আমি আমার জন্য কখন? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আরেকজনের জন্য কাজ করছো। কিন্তু আবার জব না করলে লিভিং কস্টটা কোথা থেকে আসবে। সেটাও একটা বড় ব্যাপার।
খোশগল্প.কম: কিন্তু আপনার প্ল্যান তো এমবিএ করার পর জবে ঢোকা….
মিতি: হ্যাঁ, করবো কিন্তু হয়তো খুব পছন্দ করে করবো বলে মনে হয় না, আবার করতেও পারি। হতে পারে খুব পছন্দের কোন একটা কাজ পেয়ে গেলাম।
খোশগল্প.কম: সেক্ষেত্রে নিজেও কিছু শুরু করতে পারেন,
মিতি: আচ্ছা। হ্যাঁ, মনে হয়েছে কিন্তু চারদিক ভেবে চিন্তে ব্যাপারটা কতটা ফ্রুটফুল হবে বা রিয়েলস্টিক হবে সেটা একটা কথা। তবে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার কথা মাঝে মাঝেই মনে হয়।
খোশগল্প.কম: ফ্রিল্যান্সিং এর কাজের ক্ষেত্র তো অনেক বড়, আপনার কোন স্কিল নিয়ে কাজ করবেন ভাবছেন?
মিতি: কন্টেন্ট রাইটিং হতে পারে, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছি, ওটাকেই বড় পরিসরে করে তারপরে মার্কেটিং নিয়েও হতে পারে।
খোশগল্প.কম: আচ্ছা। শৈশবে তো মানুষের অনেক কিছু হওয়ার প্রতি আকর্ষণ থাকে, আপনার শৈশব কেমন ছিল?
মিতি: আমার রাইটার হওয়ার অনেক ইচ্ছা ছিল কলেজ পর্যন্ত। তখন প্রচন্ড ডিটারমাইন্ড ছিলাম যে আমি একদিন রাইটার হবো। তোমাকে তোমার এনভায়রনমেন্ট অনেক ইনফ্লুয়েন্সড করবে, বিবিএ তো আরো বেশী কমার্শিয়াল কথা-বার্তা। যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম, তখন মনে হলো লাইফে বিজনেসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আবার এখন মনে হচ্ছে লাইফে প্যাশন জিনিসটাকেও গুরুত্ব দেয়াও অনেক দেয়া জরুরী। আই ডোন্ট নো, আমি হয়তো ভালো লিখি না, অনুবাদও ভালো করি না কিন্তু যতটুকু করি ভালোবাসা নিয়ে করি।
আর ছোট-খাটো অনেক কিছু করার ছিল ছোটবেলা থেকে, যেটা এখনো আছে। যেমন আমার অনেক ইচ্ছা আছে আমি দেড়শো তলা কোন ভবনের টপ ফ্লোরে দাঁড়িয়ে সেখান থেকে চারপাশ দেখবো, একদিন স্কাই ড্রাইভিং করবো-এটা আমার খুবই শখ, আমি ফ্রী থাকলে এগুলোর ভিডিও দেখি মাঝে মাঝে, আরেকটা ফ্যাসিনেশন হচ্ছে রাতের বেলায় একদিন হঠাৎ করে বের হয়ে যাবো রাতে মানুষ কী করে দেখার জন্য এগুলা হচ্ছে পাগলামী টাইপের ফ্যাসিনেশন।
খোশগল্প.কম: আর বড় ফ্যাসিনেশন?
মিতি: আর বড় একটা ফ্যাসিনেশন হচ্ছে আমি একটা স্কুল দিবো। স্কুলটা হচ্ছে কর্মজীবি মায়েদের বাচ্চাদের জন্য একটা স্কুল যেখানে অফিস টাইমটা বাচ্চারা থাকবে। পড়াশুনার পাশাপাশি বাচ্চারা খেলবে, ড্রইং শিখবে সেমি-রেসিডেন্সিয়াল যেটাকে বলে। এখন যেটা হয় মায়েরা ওয়ার্কিং ওমেন, বাচ্চারা বুয়াদের সাথে মানুষ হচ্ছে। তুমি নরমালি চিন্তা করএ দেখো, একজন শিক্ষিত কর্মজীবী নারী, যিনি অনেক ভালো কোন জবে আছেন, তার বাচ্চাটা কিন্তু বড় হচ্ছে একজন অল্পশিক্ষিত বুয়ার কাছে। বাচ্চা যতক্ষণ তার মায়ের সাথে থাকে তারচেয়েও বেশি সময় থাকে ঘরের বুয়ার কাছে। অবচেতন মনেই সে কিন্তু বুয়ার কালচারটাই কিছুটা হলেও শিখছে। শিক্ষিত মায়ের শিক্ষা, তারচেয়েও বড় ব্যাপার কালচার সে কতখানি শিখতে পারছে? আল্টিমেটলি কে সাফারার হচ্ছে, বাচ্চাটা হচ্ছে।এখন যদি বুয়ার বিকল্প হিসাবে একটা স্কুল আসে, সেক্ষেত্রে একটা স্কুলিং সেন্টারে সে হয়তো মা’কে পাবে না কিন্তু একটা ভালো এনভায়রনমেন্ট তো পাচ্ছে। সো এরকম একটা ইচ্ছা আছে।
আরেকটা ইচ্ছা হচ্ছে কমন জেন্ডারদের নিয়ে কাজ করা। এটা আমার অনেকদিনের স্বপ্ন। যে কাজটার জন্য আমি রেস্পন্সিবল না, যে ব্যাপারটায় আমার কোন হাত নেই সেটার জন্য আমি সাফারার কেন হবো? তুমি দেখো, তুমি-আমি পারফেক্ট হিউম্যান বিয়িং, সেখানে আমাদের কোন হাত আছে? এই সেক্টরে আমাদের সোসাইটিতে তেমন কোন কাজ নেই। তারা জন্মগতভাবেই সোসাইটির বাইরে। আমরা স্ট্রিট চাইল্ড নিয়ে কাজ করি, আমরা ওমেনদের নিয়ে কাজ করি, ওল্ড হোম নিয়ে কাজ করি; এটলিস্ট আমরা কনসার্ন। বাট এই গোত্রটা নিয়ে আমরা কাজ করি না।
খোশগল্প.কম: এখানে আপনার কন্ট্রিবিউশন কি হবে?
মিতি: আমার কন্ট্রিবিউশন এডুকেটেড করা।
খোশগল্প.কম: এটা তো একটা দীর্ঘ জার্নি……
মিতি: হ্যাঁ, আমি জানি আমি সবাইকে পারবো না, সবাই চায়ও না মে বি। বাট যে কয়জন একটা নরমাল লাইফে আসতে চায় আমরা তো তাদের সাহায্য করতে পারি! হ্যাঁ, কেউ কেউ ব্যাপারটাকে বিজনেস বানিয়ে ফেলেছে, বাট আই এম শিউর কিছু কিছু মানুষ আছে যারা একচুয়ালি সাফারার। এক হাজারের মধ্যে যদি একজনকে তুলে আনতে পারি সেটাই তো একটা এচিভমেন্ট! একটা মানুষের লাইফ চেঞ্জ হয়ে গেলো। হ্যাঁ, লেনদি প্রসেস, বাট আমি যদি স্ট্রাকচারটা রেখে যেতে পারি, অন্য কেউ এসে শেষ করবে।
খোশগল্প.কম: আপনি ভাল পারেন এমন কিছুর কথা শুনি
মিতি: আমি কোন কথা বা কোন বিষয় অনেক গুছিয়ে বলতে পারি।
কোন কষ্টের কাহিনীকে মজার কোন কাহিনী বানিয়ে ফেলতে পারি। ধরো, আমি কোন এক্সিডেন্ট এ পা ভেঙ্গে ফেলেছি। তোমাকে আমি আমার পা ভাঙার কাহিনী এমনভাবে বলবো যেটা শুনে তোমার মনে হবে পা ভেঙে ফেলাটা খুবই হাস্যকর একটা ঘটনা।
খোশগল্প.কম: আপনার বায়োগ্রাফিতে আপনি লিখেছিলেন যে, আপনি বড় হয়েছেন বই পড়ে পড়ে, এর বাইরে আপনার জগত ছিল না, যখন বাইরে আসলেন সেই জগৎটা পুরোপুরি অন্যরকম লেগেছে; আল্টিমেটলি পার্থক্যটা কী লেগেছিল?
মিতি: আমার শৈশব আসলেই অনেক গোটানো ছিল। আমি মানুষের সঙ্গে খুব বেশী মিশতাম না, সো বইয়ের জগতটাই ছিল আমার জগৎ। আমার অভিজ্ঞতাও যদি বলো সেটা বই পড়া। আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে আসলাম আমি অনেক বড় একটা ধাক্কার মধ্যে পড়ে গেলাম, যেটা আমি পড়ে এসেছি, আর যেটা দেখছি দুটো এক না। আমি বই এ যেসব চরিত্র পড়েছি তারা হয় খুব বেশী পজিটিভ অথবা খুবই নেগেটিভ ; মানে এক্সট্রিমিস্ট। এর কারণ, সাধারণ কোন কিছু কখন আমাদের আকর্ষণ করে না। । আমরা হয় চিরতার পানি দিয়ে আকৃষ্ট হই নয়তো বিরিয়ানি দিয়ে আকৃষ্ট হই। আর লেখকের কাজ হচ্ছে পাঠকদের আকৃষ্ট করা ।সেজন্য বইয়ের সব চরিত্রই এক্সট্রিমিস্ট। কিন্তু রিয়েল ওয়ার্ল্ডে যেমন রিয়েল হিরো বলতে কিছু নাই, তেমন রিয়েল ভিলেইন বলতে কিছু নাই। আমরা কেউ এঞ্জেল না, কেউ ডেমনসও না। আমরা সবাই হিউম্যান বিয়িং !
খোশগল্প.কম: সোশ্যালাইজেশন করতে করতে চলমান আর কোন ট্রেন্ড নিয়ে এরকম মনে হয়েছে?
মিতি: হ্যাঁ, মনে হয়েছে। যেমন ধরো, রিসেন্টলি ওমেন এমপাওয়ারমেন্ট নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে, এটা এখনকার একটা হাইপড ইস্যু। কিন্তু আমার কাছে এই ব্যাপারটা এরকম যে আমি রেস্পেক্ট দিলে আমি রেস্পেক্ট পাবো। আমি ছেলেরা এটা করছে, মেয়েরা এটা করছে- এরকম বলে আমরা তো ছেলেদের আমাদের কম্পিটিটর বানিয়ে ফেলছি। যখন তুমি তোমার বাবা, তোমার লাইফ পার্টনার, তোমার কাছের মানুষ এদের কম্পিটিটর বানায় ফেলবা ইউ কান্ট বি হ্যাপি। একটা ছেলেরও কিন্তু পেইনের বিষয় আছে।
ফর এক্সাম্পল, সেইম এইজ রিলেশনশিপ, এখন আর কেউ দূরে গিয়ে রিস্ক নিতে চায় না, সো সেইম এইজ রিলেশনশিপ এখন কমন একটা ব্যাপার। তুমি দেখো ২৪-২৫ বছরের একটা ছেলের এই সময়টা পেইনফুল একটা সময়। আমাদের দেশে একটা ছেলেকে ২৪-২৫ বছরে বিয়ের মানসিকতা নিয়ে কিন্তু বড় করা হয় না। তাকে বড় করা হয় তুমি রেস্পন্সিবিলিটি নিবা, তারপর বিয়ে। আর একটা মেয়েকে বড় করা হয় যতদ্রুত বিয়ে হয় ততই মঙ্গল! দুজনের স্ট্রাগলটা দেখো, একজনকে স্ট্রাগল করতে হচ্ছে বিয়েটাকে আগাই নিয়ে আসার জন্য, আরেকজনকে চেষ্টা করতে হচ্ছে বিয়েটা স্টপ করার জন্য। এই যে একটা টর্চার, মেয়েদের কথা হচ্ছে আমার বাসায় বিয়ের প্রেশার, তোমার বাসায় তো নাই তখন কিন্তু একটা ছেলেও বলতে পারে আমার বাসায় চাকরির প্রেশার আছে, তোমার বাসায় তো নাই! সো, আমার পাশে বসা মানুষটার দুঃখ আমাকে বুঝতে হবে, তাহলে সে আমারটা বুঝবে।
আবার আরেকটা বিষয় দেখো সোসাইটিতে যখন কোন পরিবর্তন আসে, সেটা রিলেশনশিপের ক্ষেত্রে হোক বা যেকোনো অন্য কোন ক্ষেত্রে হোক, যখন এই পরিবর্তনটা আসে তখন সেই সময় যে জেনারেশনটা থাকে তাঁদের উপর দিয়ে হিউজ একটা টর্চার যায়।
আর একটা কথা, একটা মানুষকে তুমি যতই ভালোবাসো না কেন , যখনি সেই মানুষটার তার পরিচিত পরিসরে কোনভাবে আঘাত লাগবে সে তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে! সেটাকে তুমি ট্র্যাজেডি বলো বা ফ্যাক্ট বলো। যে কোন রিলেশন ততক্ষণই ভালো থাকবে যতক্ষণ তুমি স্বার্থ নিয়ে না আসবা। আর মোহ আর ভালোবাসার দুইটা দেখতে একই রকম। কিন্তু বিশাল পার্থক্য।
খোশগল্প.কম: কী পার্থক্য?
মিতি: মোহ থাকবে। কিন্তু ধুম করে তুমি একদিন আবিষ্কার করবে তুমি একজনকে ভালোবাসো। কেন? এই কেন’র কোন উত্তর নেই। এইজন্য এতকিছুর পরেও বোধহয় এখন ভালোবাসা রহস্যময়। রহস্য থাকাও ভালো।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত