আলিয়া রিফাত, ডাকনাম বর্ষা। কাজ করছেন অন্যরকম গ্রুপের ‘টেক শপ’ এ রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ফাঁকে ফাঁকে জনপ্রিয় ফান ম্যাগাজিন রস+আলো’র আইডিয়াবাজ কিংবা রম্য রচনাও লিখেন। আজ থাকছে তাঁর আলাপ…..

আই ডিড ইট উইথ মাই ওন ইনকাম

লিখেছেন...admin...ডিসেম্বর 28, 2016 , 4:58 অপরাহ্ন

15042097_220731908358758_4453437770801443856_o

খোশগল্প.কম: আপু পরিচয় দিয়ে শুরু করি।
আলিয়া রিফাত: আমি বর্ষা। আমি পড়াশুনা করেছি আহসানউল্লাহ থেকে EEE তে, ২০০৯ এ পাশ করছি। তারপরে ২ জায়গায় কাজ করেছি। এখানে আছি ২০১২ থেকে। এখন অন্যরকম গ্রুপের ‘টেক শপে’ রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছি।

আমি প্রথমে ছিলাম কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্টে এরপরে আমার পদবী চেইঞ্জ করে দেয়া হয় রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার, ডিপার্টমেন্ট হচ্ছে প্রোডাক্ট  রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। আর রিসার্চ বলতে আমরা সার্কিট ডেভেলপ করি যেগুলাকে মডিউল বলে। আর আমাদের বেশ কিছু ওয়ার্কশপ হয় যেমন রোবট বানানো একটা; আমরা স্টুডেন্টদের একদিন ব্যাপী একটা ওয়ার্কশপ নিই যেখানে রোবট বানানো শিখাই। তো ওয়ার্কশপের জন্য কিছু রিসোর্স রেডি করা লাগে।

খোশগল্প.কম: এর আগে কী করতেন?

আলিয়া রিফাত: এর ইমিডিয়েট আগে করতাম ট্রাস্ট এলাইন্স টেকনোলজি লিমিটেডে, ওখানে নয় মাস ছিলাম। তার আগে একটা কোম্পানীতে ছিলাম,  এডেক্স কর্পোরেশন। ওরা সাবস্টেশন ইকুইপমেন্ট বানায়।

খোশগল্প.কম: আপনার স্কুল-কলেজ কোথায় ছিল?

আলিয়া রিফাত: আমার স্কুল হচ্ছে তেজগাঁও গার্লস, কলেজ হলিক্রস কলেজ।

খোশগল্প.কম: ‘অন্যরকম গ্রুপ’ বা ‘টেকশপে’  আসা কীভাবে?

আলিয়া রিফাত: এটা তো অনেক ইন্টারেস্টিং গল্প(হাঁসি) দ্যাট ইজ দ্য মোস্ট বিউটিফুল স্টোরি অফ মাই লাইফ। ইট স্টার্টেড ইন 2010, তখন আমি পাশ-টাশ করে বের হইছি। পাশ করার পর জব হচ্ছিল না কোথাও, পাঁচ মাস ধরে আমি বাসায় বসা। আমি এপ্লাই করছিলাম, যেখানেই যাই অনলি মেলস আর এলাউড। কিংবা এক্সপেরিয়েন্স চাচ্ছে যেগুলো একটাও আমার উপযোগী না। অগাস্টে আমার অনার্সের রেজাল্ট হল আর নভেম্বরে আমার আম্মু’র ক্যান্সার ধরা পড়লো। নভেম্বরে আম্মুর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর ডিসেম্বরে আম্মুর বার্থ’ডে, তখন আমার মনে হইলো আম্মু কি আর বার্থ ডে পাবে? ইজ ইট দ্য লাস্ট? তখন আমি কিছু করি না। তখন আমার এক পরিচিত কার্টুনিস্ট আপু ছিলেন, সাদিয়া আপু। উনি ‘প্রথম আলোর’ ‘রস+আলো’তে আঁকতেন। তখন আমি ওনাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘আপু, আপনি কি সবসময় নিজের আইডিয়াতেই আঁকেন না অন্যের আইডিয়াতেও আঁকেন’? উনি বললেন উনি উনার আইডিয়াই আঁকেন, অন্যের আইডিয়া খুব একটা ইলাস্ট্রেট করেন না। তখন আমি ওনাকে বললাম ‘আপু এইবার আপনি আমার আইডিয়াতে আঁকেন’। আমার কাছে তখন মনে হচ্ছিল আমি যদি আমার আম্মুকে একটা ফুটপাতের ড্রেসও কিনে দিতে পারি তা-ও আমার কাছে ভাল লাগবে। অন্তঃত শান্তি পাব এই ভেবে যে আই ডিড ইট উইথ মাই ওন ইনকাম। আপু পরে আমার আইডিয়ায় তিনটা ড্রাফট আঁকছিলেন, এডিটর ওখান থেকে একটা এক্সেপ্ট করছিলেন। পরে ঐটা ছাপা হইলো, যেদিন আমি বিল আনবো সেদিন আমি এডিটরের সাথে দেখা করলাম। বললাম যে রেগুলার কাজ করতে চাই। তখন রস+আলো’তে একটা সেগমেন্ট ছিল চিরায়ত রস, ওখানে বিভিন্ন ক্লাসিক গল্প অনুবাদ করতে হত। ওখানে সুযোগ দিলেন, আমার চিন্তা ছিল আমি আইডিয়াবাজ হিসেবেই কাজ করবো, মৌলিক লেখালেখি করবো। তারপরেও আই এক্সপ্টেড! তখন মনে হচ্ছিল  সামহাউ আই মাস্ট এন্টার!

খোশগল্প.কম: একটু ইনটেরাপ্ট করি, আপনার আম্মুকে পরে কী গিফট করছিলেন?

আলিয়া রিফাত: পরে আসলে কিছুই করা হয় নাই, যে টাকাটা পেয়েছিলাম অইটাই আম্মুকে দিয়ে দিছি। টাকা’টা পেয়েছিলাম বার্থ ডে’র পরে।

খোশগল্প.কম: তারপর বলেন…..

আলিয়া রিফাত: আচ্ছা। তারপর একদিন একটা বই  থেকে গল্প অনুবাদ করতে দিছিলেন রস+আলো’র এডিটর,  প্রথম আলো থেকে একদিন একজন ফোন দিয়ে বলল ঐ বইটা দিয়ে আসতে। অফিসে যাওয়ার পর দেখি অফিসের লিফট বন্ধ, সিঁড়ি দিয়েই উঠা শুরু করলাম। একটু টায়ার্ড ছিলাম, ছয় তলার সিঁড়িতে দাড়াইছি, জানালা দিয়ে দেখি একটা সাইনবোর্ড লেখা ‘পাই ল্যাবস বাংলাদেশ’ নামটা ক্যাচি লাগছে তখন। তার দু’একদিন আগে ফেসবুক ব্রাউজ করতে গিয়ে পাই ল্যাবসের পেইজটা দেখছিলাম তখন অত বুঝিও নাই। এর পরে বাসায় গিয়ে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে ভাল লাগলো। বাংলাদেশে এরকম হাই টেক ফার্ম আছে জানাই ছিল না। কন্টাক্ট ইনফর্মেশনে একটা পার্সোনাল মেইল আইডি দেয়া, ঐটা ফেসবুকে সার্চ দিলাম এবং বড়-সড় একটা ধাক্কা খাইলাম! আইডিটা ছিল সোহাগ ভাই’র, একটা কোম্পানীর ওনার এবং সে আমার চেয়ে খুব বড় হবে না! তারপরে ইমেইল করলাম, স্ট্রেট ফরওয়ার্ড বললাম যে পাশ করেছি, এখানে আমার অপরচ্যুনিটি হবে কিনা? হলে আমি সিভি নিয়ে আপনার সাথে দেখা করতাম। পরের দিন রিপ্লাই আসলো ‘প্লিজ ফরওয়ার্ড ইউর সিভি। আই নিড গ্রাজুয়েটস উইথ মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং নলেজ। এন্ড এম্ফেসাইজ দ্য প্রজেক্ট ইউ হ্যাভ ডান সো ফার’। মেইল খুলে খুব ভাল লাগলো যে রেস্পন্স পাইছি, আবার খুব মনও খারাপ হইলো। কারণ ভার্সিটি লাইফে মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং নিয়ে তিনটা ক্লাস পাইছি যেগুলাতে কোনরকম দায়সারা ভাবে শেখানো হইছে এন্ড ডেফিনেটলি ইট’স নট গোয়িং টু ফুলফিল হিজ ডিমান্ডস। আমি সেইইই সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে একটা প্রজেক্ট করছিলাম আর ফোর্থ ইয়ারে থিসিস। সো আমি আর কোন রিপ্লাই করলাম না। আমি বরং ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউটে গিয়ে মাইক্রোকন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং নিয়ে একটা কোর্সে ভর্তি হলাম। পাঁচ-ছয়টা ক্লাস করে তারপর মনে হইলো এইবার ভাইয়াকে একটা নক করি। তারপর ফোনে যোগাযোগ করি, তখন সোহাগ ভাই বললেন, তুমি তো কেবল শিখতেছো, আমার এক্সপার্টাইজ স্কিল দরকার। তারপরেও উনি একবার আসতে বললেন, আমি ওনার থেকে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে অফিসে আসলাম, তারপর যেই অবস্থাটা হইলো, আমার তো বই-খাতার সাথে কানেকশন নাই বহুদিন, নাকানি-চুবানি খাইলাম ভালোমত। আমাকে যে খুব কঠিন প্রশ্ন ধরছে তা না, বেসিক কিছু প্রশ্ন। তাও ‘ভাইয়া ভুলে গেছি, ভাইয়া মনে নাই’ এই অবস্থা। শেষমেশ বললেন একটা প্রজেক্ট করো, ‘একটা এসি ভোল্ট মিটার বানায় আনো তো । ডিসি দিব না। ডিসি  ভোল্ট মিটার বেশি সোজা হয়ে যাবে। ’ এখন শুনলে হাসাহাসি করবে সবাই । ভাইয়া যে ডিসি সোজা বললো, ডিসি ক্যামনে করে সেটাই আমি জানতাম  না! বাসায় গিয়ে শুরু করলাম কোনমতে, এর মধ্যে বহু ইন্টারেস্টিং কাহিনী আছে। আমার একটা ফ্রেন্ড ছিল ফাহাদ, ও এই লাইনে এক্সপার্ট আমি জানি। আমি ফাহাদের সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করলাম, তখন ও আমাকে  ওর বানানো ডিসি ভোল্টমিটারের প্রোগ্রাম দিয়ে হেল্প করলো, আর সোহাগ ভাইয়ের নাম্বার নিলো। এবং সাত দিনের মাথায় ওর চাকরি হয়ে গেলো! তারপর যখন প্রোগ্রাম দেখাইতে আনলাম টেকনিকাল ডিরেক্টর কনক ভাই’র কাছে উনি অইটাকে আরো মডিফাই করতে দিলেন, ভোল্টমিটারের ভোল্ট তিনটা ভিন্ন ভিন্ন রেঞ্জে মেপে করো। দেখা গেলো খালি প্রোগ্রাম রান করাইতেই আমার আড়াই-মাস সময় লেগে গেলো, হার্ডওয়্যার তো বাস্তবে নাইই! শেষমেশ আমার আর জব হলনা সেইবার। আমি কয়েকমাস পর এডেক্সে ঢুকে গেলাম।  বাই দিস টাইম আরেকটা ছেলেরও পাই ল্যাবসে জব হয়ে গেলো, ও আমার সাথে মাইক্রোকন্ট্রোলিং শিখতো। তারপর ২০১২ তে মানে প্রায় দুই বছর পর  হঠাৎ একদিন ফাহাদ ফোন দিয়ে বললো “একটা পোস্ট খালি হইছে, আমরা তোমার কথা চিন্তা করতেছি”, তারপর আসলাম, ইজিলি হয়ে গেলো।

খোশগল্প.কম: রস+আলো তে কি এখনো লিখেন?

আলিয়া রিফাত: হ্যাঁ, এখনো কাজ করি। ঐটা একটা শখ আমার।একসময় আমার খুব দুঃখ ছিল আমি হিউমার লিখতে পারি না, এখন আমি প্রফেশনালি অইটাই করি।

খোশগল্প.কম: হিউমেরাস লিখালিখিতে হিউমারটা কি রাইটারের মধ্যে বিল্ট ইন থাকতে হয় নাকি প্র্যাকটিস করে গ্রো করা যায়-আপনার কী ধারণা?

আলিয়া রিফাত: বোথ!

খোশগল্প.কম: তাহলে সেটা আগে কেন লিখেন নাই?

আলিয়া রিফাত: ড্রাইভটা বোধ-হয় দরকার ছিল। পয়সা-কড়ি নাই, আম্মু অসুস্থ,  এই ড্রাইভটা দরকার ছিল সামহাউ।

খোশগল্প.কম: একটা বিষয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লিখা, আরেকটা হলো, ফরমায়েশ দিয়ে কেউ লিখিয়ে নিলো- দ্বিতীয় ক্ষেত্রটা কীভাবে দেখেন? মানে কেউ বলে দেবার পরে জোর করে চিন্তার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা যায়?

আলিয়া রিফাত: যে লাইনে তোমার এক্সপার্টাইজই নাই সেটা তোমাকে জোর করে লিখায় নিতে পারবে না আসলে। সবই চর্চার বিষয় আসলে। আমাকে প্রেশার দিয়ে কিছু লিখিয়ে নেয়া এটা কখনো হয় নাই। অনুবাদটা করতে হইতো, ঐটা বেশ ঝামেলার ছিল। বাংলা করো, পাশে একটা ডিকশনারি খুলে রাখো, এইটা একটু ঝামেলার ছিল এ ছাড়া আমি মৌলিক লিখাই দিতাম।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত