কমেডিয়ান শাওন মজুমদার, এর পর আর আলাদা পরিচয়ের প্রয়োজন পড়ে না ‘মীরাক্কেল’ সেভেনথ সিজনের ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারী এই কমেডিয়ানকে। এখন কাজ করছেন ক্যাপিটাল এফ এম 94.8 এর আরজে এবং প্রডিউসার হিসেবে। কথা বললেন বাংলাদেশের কমেডি  শো, তরুণের জন্য সম্ভাবনা এবং হুট করে ঘটে যাওয়া নিজের কমেডি জীবন নিয়ে…………..

‘রাসেল পিটার আর দিলদার এক না, গোপাল ভাঁড় আর চার্লি চ্যাপলিন এক না’

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 6, 2017 , 4:54 অপরাহ্ন

12802887_10206247347678391_4298097373729997647_n

খোশগল্প.কম: কমেডিয়ান শাওন মজুমদার এর বাইরে  যদি পরিচয় দিতে বলি কী বলবেন।

শাওন: একজন মানুষ হিসেবে পরিচয় দিবো! শাওন মজুমদার আমার নাম আর কমেডিয়ান ছাড়াও আমি এখন বসুন্ধরা গ্রুপের সাথে জড়িত আছি, ক্যাপিটাল এফ এম. 94.8 এর আরজে হিসেবে এবং প্রডিউসার হিসেবে।, ওখানে আমি কমেডি শো করি নাট-বল্টু, আমি আর মীরাক্কেল সিক্সের সজল ভাই। আর এজ এ মানুষ আমি খারাপ না মনে হয়। (হাঁসি)

 

আর স্টুডেন্ট হিসেবে এক্স বিএফ শাহীন স্টুডেন্ট হিসেবে, ইউআইইউ এর স্টুডেন্ট হিসেবে। আর কোন পরিচয় ছাড়া আমি মানুষের সাথে খুব সহজে মিশতে পারি। কোন গেদারিং এ গেলে আমার সাইজের জন্যই আমি দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। (হাঁসি)

 

খোশগল্প.কম: শৈশব, পড়ালেখা কোথায়?

শাওন: আমার ছোটবেলা, বড়বেলা সব ঢাকায়। এই ফার্মগেটেই বড় হওয়া, এখানেই বুড়ো হচ্ছি, মনে হচ্ছে এখানেই মরতে হবে। ইউআইইউ থেকে বিবিএ করেছি, বিবিএ এর পরে আর এমবিএ করা হয় নাই। বিবিএ ফাইনালের পরের সপ্তাহেই ‘মীরাক্কেলে’ সুযোগ পাই, ঐ যে যাওয়া তারপর আর পড়ালেখার দিকে ফেরা হয় নাই।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। প্রথম থেকে শুরু করি, এই যে কমেডিতে সুযোগ নেয়া এই উদ্যোমটা বা সাহসটা কীভাবে আসলো?

শাওন: একচুয়ালি আমি নিজেই জানি না, কখন আমি এটার মধ্যে দাঁড়াই গেছি। অনেকে থাকে গান আগে থেকেই ভালো পারে, বা আদারস এক্টিভিটিস ভালো পারে, আমার ওরকম কিছু ছিল না।

 

খোশগল্প.কম: থাকে না ফ্রেন্ড সার্কেলে হাঁসাতে পারে, বা কমন ফ্রেন্ড যার সেন্স অফ হিউমার ভালো……

শাওন: হ্যাঁ, ভার্সিটিতে আমাদের এরকম ছিল, সপ্তাহে একদিন একটা স্পেসিফিক টাইমে একজন আমাদের হাঁসাবে, যে যেরকম পারতো জোক কালেক্ট করে নিয়ে আসতো, পুরা উইকের মজার ঘটনা শেয়ার করতাম। বেশীরভাগ সময় আমাকে ঘিরেই হতো, ঐ করতে করতে ওদের মনে একটা ধারণা ছিল আমাকে নিয়ে; আমি কখনো ভাবি নাই। সো হাঁ-শো’তে যখন অডিশন হয় তখন আমার এক ফ্রেন্ড বলে এরকম একটা অডিশন হচ্ছে, তুই পারবি। আমি তখন অবাক হয়ে বলি, আমি কথা বলি তোরা হাঁসস, আমার কাছে তো আলাদা হাঁসানোর মত কিছু নাই, আমি কি বলবো। তখন ও বললো আমি জানি না কী বলবি তুই, আমি তোর নাম দিয়ে আসছি, তুই যাবি। আমি বললাম, দোস্ত আমার ভয় লাগে(হাঁসি), আমি পারবো না। পরে ও ইন্টারনেট থেকে ১০টা জোক কালেক্ট করে আমাকে মেসেজে পাঠাইছে, সেগুলাই আমি যেয়ে বলছি।

 

পরে অডিশন ধানমন্ডিতে, আমার ভার্সিটিও ধানমন্ডিতে; ভাবলাম যাই দিয়ে আসি, নাহয় হইলাম একটু অপমান! (হাঁসি) পরে অডিশনে কি বললাম জানি না, কেউ হাঁসে নাই, জানি হবে না। এক সপ্তাহ পরে কল আসলো আপনি সিলেক্টেড হয়েছেন। সেই তো জার্নি শুরু……..

 

খোশগল্প.কম: কমেডির শুরুটা মনে হয় নিজেকে দিয়ে, কৌতুক বলে নিজে হেঁসে ফ্লো টা নিজেকেই তৈরী করতে হয়। এক্ষত্রে আপনার অভিজ্ঞতা কী, আপনাকেও খুব হাসি-খুশি দেখছি………

শাওন: হ্যাঁ, আমার খুব বদনাম আছে আমার নিজের জোকে আমি নিজেই হাঁসি। আর হ্যাঁ, এটা সত্য আমি চিরহ্যাপি মানুষ। আমাকে কেউ কখনো দুঃখে দেখে নাই। ইনফ্যাক্ট আমার বাসার মানুষ চিন্তায় থাকে আমার টেনশন নাই কেন! (হাঁসি)

 

খোশগল্প.কম: হ্যাঁ, এই প্রসঙ্গে আসতাম,  ব্যক্তিগত জীবনে যত যাই ঘটুক কমেডি শো বা রেডিও প্রোগ্রামগুলোর প্রতি শোতে পুরোদস্তুর কমেডিয়ান হিসেবে প্রেজেন্স-  এটা কীভাবে সম্ভব হয়?

শাওন: এটা বড় বড় কিছু মানুষের সাথে কাজ করার এক্সপেরিয়েন্স বলতে পারেন। দেখছি অনেককে অনেক খারাপ পরিস্থিতিতেও খুব সাবলীল প্রেজেন্স। বড় ইন্সপিরেশন মীর’দা কে দেখছি, তাঁদের কাছে অনেকে গল্প শুনছি। অনেকের মা মারা গেছে বাট ইন টাইম শো’তে তারা পারফর্ম করছে।

 

আমার কেউ মারা যায় নাই বাট অনেক পার্সোনাল ইস্যু’জ থাকে, বাট শো’য়ের টাইমে ঠিক হাসি-খুশি। যে ফিডব্যাকটা আসে ঐটাই আসলে ইন্সপিরেশন। আমি হয়তো একা খুশি না, কিন্তু বাকি একশো মানুষের হাঁসি আমি কেড়ে নিতে পারবো না।

 

খোশগল্প.কম: আপনি প্রথমে হাঁ-শো এর কন্টেস্ট্যান্ট ছিলেন?

শাওন: হ্যাঁ, এর আগে হাঁ-শো’তে ছিলাম।

 

খোশগল্প.কম: এটা কোন সময়?

শাওন: এটা ২০১০ সালে, তখন হাঁ-শো এর প্রথম সিজনে।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। এইবার মীরাক্কেলপ্রসঙ্গে আসি, মীরাক্কেলে যাওয়া কীভাবে?

শাওন: সত্যি বলতে সাহসটা পাই আবু হেনা রনির কাছ থেকে। আমি আর রনি একসাথেই হাঁ-শো করছিলাম, ও চ্যাম্পিয়ন, আমি ফিফথ বা সিক্সথ হইছিলাম বোধহয়। ও যখন চ্যাম্পিয়ন হইলো ওকে দেখে একটা সাহস হইলো, মনে হইলো চেষ্টা করলে হয়তো পারবো। সিক্সথ সিজন অসাম সালা’য় অডিশন দিই, অইটাই হয় নাই, পরেরটায় সেভেনথ সিজনে টিকি। প্রথমবার যখন টিকি নাই তখন অনেক মন খারাপ হয়, তারপর হাঁ-শোতে মেন্টর হিসেবে সুযোগ পাই। তখন নিজেকে গ্রুম করছিলাম, শিখাচ্ছিলাম, শিখছিলাম। বলা যায় গ্রুমিং থেকে চুরি করেই অডিশন দিতে যাই, কারণ আমি তখন শিক্ষক; শিক্ষক হয়ে যদি হেরে যাই (হাঁসি) কাউকে না জানিয়ে অডিশন দেয়ার পরে ঐদিন সন্ধ্যায় শুনি প্রাইমারি সিলেকশনে সিলেক্ট হইছি। তারপরে কলকাতা গিয়ে জার্নি শুরু হইলো।

 

খোশগল্প.কম: ঐ সময়ের অভিজ্ঞতার একদম বেস্ট কিছু অংশ শুনি……

শাওন: ঐ সময় এত এত স্মৃতি যে বলতে শুরু করলে দুই-তিনদিনে শেষ হবে না। জীবনের বেস্ট সাত মাস, শিক্ষণীয় সাত মাস, লাইফ টার্নিং এর সাত মাস।

 

খোশগল্প.কম: আপনিও একসময় মেন্টর ছিলেন, আবার মেন্টদের অধীনেও ছিলেন; তো মেন্টর হিসেবে কাজের ক্ষেত্র কী, মেন্টরদের কি পুরো গল্পই বলে দিতে হয় বা কাজ কী থাকে?

শাওন: মীরাক্কেল পুরো একটা টিমওয়ার্ক, আমি যদি বলি ওয়ান ম্যান শো, ভুল হবে। মেন্টর বলি বা পারফর্মার বলি সবাই মিলে একটা জোক। একটা ছেলে যদি দশটা জোক বলে, সেই দশটা যে কোথা থেকে আসছে ঠিক নাই। একটা জোক হয়তো সে নিজে বানাইছে, একটা রাস্তা থেকে দেখে এক্সপেরিয়েন্স করা, কিংবা মেন্টররা সবাই মিলে বসে ভেবে বানাইছে, এক একটা জোক এক একটা টিমওয়ার্ক। আর মেন্টররা তো অসাধারণ, আমার যে মেন্টর ছিল সৌরভ, কৃষ্ণেন্দু, অর্ণব, শুভদ্বীপ এই চারজন মেন্টর আমার লাইফ চেইঞ্জ করে দিছে, এরা যে সাপোর্ট করে নিজের ভাইয়ের মত।  আমার কখনো মনে হয় নাই দেশের বাইরে আছি।

 

খোশগল্প.কম: কমেডির জোকস স্ক্রিপ্টটা কীভাবে কীভাবে করেন; যতটুকু ফাঁস করলে সমস্যা নেই

শাওন: ফাঁস করার কিছু নাই। আর যদি ফাঁস করে আরো দুইটা যদি কমেডি স্ক্রিপ্ট রাইটার হয় আমি খুশিই হবো।  চেষ্টা করি যাতে হিউমারটা থাকে। অনেকে অনেক কিছু বলতে পারে না, সেগুলোই জোকস আকারে বলার চেষ্টা করি। একটা স্ক্রিপ্ট যদি ২০ মিনিটের হয়, আমরা চেষ্টা করি প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একটা করে হাঁসির এলিমেন্ট রাখা।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের নাট-বল্টু শোয়ের সজল এবং আপনি দুজনের শারীরক আকৃতি ভিন্নরকম এবং সজল ভাই ওনার হাত নাড়ানো, শরীর এদিক-সেদিক করা কিংবা ভয়েস সবই আলাদা লাফটার যোগ করে, আপনার ক্ষেত্রেও তাই; তো কমেডির জন্য শারীরিক আকৃতি বড় ফ্যাক্টর কি না?

শাওন: মনে হয় প্লাস পয়েন্ট, আমাদের দেখলে এমনিই মানুষ পাঁচ মিনিট হাঁসে। আর সজল ভাই শুকনা, আর ভয়েস খ্যাচখ্যাচে, মানুষ শুনেই হসবে। তো বডি ল্যাংগুয়েজ ফ্যাক্ট।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে কমেডি কী অবস্থায় আছে, আপনার অভিজ্ঞতা কী?

শাওন: কমেডি জিনিসটা বাংলাদেশে ছিলই না একসময়, এখন অনেক অনেক বাড়ছে। আগে যেমন একটা অনুষ্ঠানে গান-নাচ এগুলোই থাকতো, এখন কমেডিটা যুক্ত হইছে। এখন গান না থাকলেও কমেডি থাকছে, কমেডিটা অপরিহার্য হয়ে উঠছে, বা একটা বিশাল প্লাটফর্ম হচ্ছে।

 

খোশগল্প.কম: কিন্তু মীরাক্কেল যত মানুষ দেখছে, মীরাক্কেলের পারফর্মারদের যত মানুষ চিনছে বাংলাদশের নাভীদ মাহবুব বা সোলাইমান সুখন বা আদারস কমেডিয়ানদের তত মানুষ চেনে না তো এটার কারণ কী?

শাওন: ওদের চ্যানেল আমাদের দেশে পরিচিত তাই। আমাদের দেশের চ্যানেল ওদের ওখানে এভেইলএবল হলে ওরাও দেখতো। ওরা ইউটিউবে আমাদের নাটক দেখে, ওরা আমাদের ভালো ভালো নাটকের ডিভিডি চায়। সুতরাং ডিমান্ড আছে, মীরাক্কেল বাংলাদেশে আমাদের দেশ থেকে প্রতিযোগী যাওয়াও জনপ্রিয়তা পাওয়ার বড় কারণের মধ্যে একটা।

 

খোশগল্প.কম: কমেডি শো, বা লাইভ কমেডি তরুণদের মধ্যে যতটা জনপ্রিয় কম্পারেটিভলি মধ্য বয়স্কদের মধ্যে ততটা না। আবার এন্টারটেইনমেন্টের জন্য নাচ-গান মধ্যবিত্তের জন্য যতটা আকঙ্খিত, কমেডি ততটা না-কারণ কী?

শাওন: ওই লেভেল বা ঐ অবস্থান থেকে যদি কেউ উঠে আসে, তাহলে সে তাদের নিয়ে কমেডি করতে পারবে। আমার যদি নিয়ে ওদের নিয়ে কমেডি করতে হয় তাহলে আমার ওদের সাথে মিশতে হবে। ওই সুযোগ বা সময়টা তো আমরা পাচ্ছি না। ওদের মধ্যে থেকে কেউ যদি কমেডি করতে আসে তাহলে হিউজ একটা এরিয়া খুলে যাবে। আমি বড় জোর ঢাকার জ্যাম নিয়ে কমেডি করতে পারি, মানুষ নিয়ে করতে পারি। একদম রুরাল নিয়ে তো আমি অবজার্ভ করি নি, ঐটা তো ওদের জন্যে হবে না। দূর থেকে দেখা আর ভেতরে থাকা আলাদা জিনিস, তো ঐটার জন্য ওদের ভেতরের কাউকে দরকার হবে।

 

খোশগল্প.কম: আপনি আপনার একটা ইন্টারভিউতে বলেছিলেন মীরাক্কেলে বাংলাদেশেরই একটা বড় কোম্পানী স্পনসর করে, সো ওদের শো আমাদের চাইতে এগিয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাহলে দেশীয় কোম্পানী নিজেদের শো গুলোকে কেন স্পনসর করে না?

শাওন: ব্যবসা! এত বড় একটা কোম্পানী বুদ্ধি ছাড়া তো চলে না (হাঁসি) আপনি বলেন এখানে যদি এড দেয় শুধু বাংলাদেশের লোকেরা দেখবে, আর বাংলাদেশের চ্যানেল কে দেখবে? ওদের তো ব্যবসা করা লাগবে। ওরা যখন জি বাংলায় দিবে, ওই দেশের সব লোক তো দেখবেই, বাংলাদেশের ৮০% লোকও দেখবে। এখানে কেন করবে ওরা?

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। পরিবার প্রসঙ্গে আসি, আপনি যখন কমেডি শুরু করলেন, আপনার বাবা-মার এক্সপ্রেশন কেমন ছিল?

শাওন: এটা খুব ভালো প্রশ্ন। আমি জানি না কেন আমাকে সাপোর্ট করছে, বাট আমাকে কখনো না করে নাই। আমার কপালটা এত ভালো বিবিএ টা জাস্ট শেষ করছি আর তারপরই সুযোগ আসে। আমার ইন্টার্নিটা একটু ক্ষতিগ্রস্থ হইছে। আমি তখন অন্যরকমে ইন্টার্ন করতাম, হা-শো তে গ্রুমিং করাতাম, গ্রুমিং এর জন্য অফিসে যাইতে পারতাম না। রোজ বকা খাইতাম হিমালয় ভাই’র কাছে। আবার গ্রুমিং এর ওখানেও বকা খাইতাম সারাদিন কোথায় ছিলাম। তখন হিমালয় ভাই বলতো আচ্ছা ঠিক আছে দুইটাতেই সময় দাও। সুব্রত বড়ুয়া স্যারও ছিলেন, স্যারও অনেক সাপোর্ট করছেন। বাসা থেকেও সাপোর্ট করছে। কিন্তু আমার ইউনিভার্সিটি সাপোর্ট করে নাই, খুব খারাপ একটা গ্রেড দিয়ে দিছে (হাঁসি) । বাসায় সাপোর্ট করে, পিঠ চাপড়ায়, মাঝে মাঝে দু’একটা চাপড় জোরেও দেয় (হাঁসি)

 

খোশগল্প.কম: এজ এ কমেডিয়ান, আপনার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনরা কীভাবে দেখে, কখনো বাসায় কমেডি করেছেন?

শাওন: বাবা-মার ধারণা আমি সারাদিন বাসায় মুখ গোমড়া করে থাকি, আমি কীভাবে বাইরে মানুষ হাঁসাই। তাঁদের আমি কখনো জোক বলে শোনাই নাই। আমি আত্মীয়-স্বজনদের গেদারিং এ চুপচাপ থাকি। বাসায় আমি সবচেয়ে চুপচাপ, ভদ্র।

 

খোশগল্প.কম: এই মূহুর্তে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

শাওন: আমি এইমলেস মানুষ। এই মূহুর্তের পরিকল্পনা একটা ভালো আরজে হওয়া, আমাকে নিয়ে সবার অভিযোগ আমি খাইতেছি, যাইতেছি, বলতেছি এই আঞ্চলিকতা ছাড়তে পারি না, এটা ছাড়তে হবে।

 

খোশগল্প.কম: আঞ্চলিকতাটা কি কমেডির জন্য প্লাস পয়েন্ট না? অডিয়েন্সও এঙ্গেজড হয়?

শাওন: আমার তাই মনে হয়। কিন্তু এজ এ আরজে একদম শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে হবে। আমি উপদেশ শুনি, অন এয়ারে ঢুকে আমি হারাই যাই।

 

আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে আছে, কমেডি নিয়ে আমরা গুটিকয়েক কমেডিয়ান মিলে একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাইছি ‘বুনোপায়রা’ নামে। জোকার আর কমেডিয়ান এক না। রাসেল পিটার আর দিলদার এক না, গোপাল ভাঁড় আর চার্লি চ্যাপলিন এক না, তো কমেডিটাকে আগাই নেয়ার জন্য বুনোপায়রার অধীনে প্রতিটা জেলায় আমাদের একটা কমেডি ক্লাব আছে। আমরা ব্যানার নিয়ে খোলা মাঠে দাঁড়াই থাকি, কে শিখতে চাও, জানতে চাও, আগ্রহ আছে, আমরা তোমাদের ট্রেইন করবো। প্রতি সপ্তাহে একটা মিট আপ করি। আমাদের কাছে অপকর্ম করার চেয়ে, সন্ত্রাসের চেয়ে কমেডি করা ভালো। আমরা একটা প্রোডাকশন হাউজ করতেছি, একটা বড় ভবিষ্যৎ আছে সামনে।

 

খোশগল্প.কম: এটা কি প্রফিটেবল প্রতিষ্ঠান আর উদ্দেশ্য কী?

শাওন: এটা এখন পর্যন্ত লাভজনক  প্রতিষ্ঠান না, বরং লসজনক প্রতিষ্ঠান (হাঁসি)। আমরা নিজেরা টাকা খরচ করে এগুলা করে বেড়াচ্ছি আর উদ্দেশ্যটা হচ্ছে, আমরা যে কমেডি যুদ্ধটা শুরু করেছি এটা যেন শেষ না হয়ে যায়। এটার সবচেয়ে বড় স্বপ্নদ্রষ্টা আবু হেনা রনি। ওর জীবন, টাকা-পয়সা সব কমেডির জন্য দিয়ে দিছে। আমাদের একটাই ইচ্ছা কমেডি টা হোক।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। শেষের দিকে চলে আসছি, একজন তরুণের জন্য কমেডিকে প্রফেশন হিসেবে নেওয়া, কতটা যুক্তিযুক্ত?

শাওন: এটা ভাবার আগে তাকে বুঝতে হবে সে কেন করতে চায়? আর এটা আমার বলা উচিৎ হবে না আসলে। যে কমেডিয়ান হওয়ার জন্য রওনা দিয়ে কমেডিয়ান হইতে পারছে সে বলতে পারবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষিতে আমার মনে হয় কমেডিয়ান হইতে চাইলে তার পাশাপাশি একটা রুটি-রুজির ব্যবস্থা থাকা উচিৎ।

 

খোশগল্প.কম: আপনি মনে হয় একটা নাটকও করেছিলেন……

শাওন: নাটক না টেলিফিল্ম, কিন্তু কোন কারণে সেটা টেলিকাস্ট হয় নাই। কেন হয় নাই সেটা জানি না, নাম ছিল ডাবল এক্সেল। আমার সাথে ছিল সুমন পাটোয়ারী, খালিদ ভাই। খুব মজার একটা নাটক ছিল। ঘটনা ছিল এক ডনের কোন দামি জিনিস হারিয়ে যায়, দরবেশ ডনকে বলে একজন মোটা মানুষ জিনিসটা নিছে, তখন ডন এলাকার সব মোটা মানুষকে কিডন্যাপ করে। এভাবে ঘটনা আগায়…

 

খোশগল্প.কম: কোন  পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া নাটক করাটা কেমন ছিল আপনার জন্য?

শাওন: একচুয়ালি আমি যখন ভার্সিটিতে পড়ি তখন আমি নাটক করতাম, এক্টিং এ ফার্স্ট ছিলাম, নাটক, যাত্রা করেছি। নাটক করার স্বপ্ন আছে, সুযোগ পেলে ভালো নাটক করবো।

 

খোশগল্প.কম: আপনাকে ধন্যবাদ এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য।

শাওন: আপনাকেও।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত