চাকরি খোঁজার বদলে নিজেই কিছু করা, সফটওয়্যার-অ্যাপ  উদ্ভাবন; বর্তমান সময়ের তরুণদের  জন্য এটিই অপেক্ষাকৃত বেশী স্বাচ্ছ্যন্দের। সলেহীন সাগর, প্রায় তিন বছর আগে শুরু করেছিলেন বন্ধু পাপ্পু আর নিজেদের দুটি কম্পিউটার নিয়ে। রিয়েল লাইফ প্রবলেম সল্যূশন নিয়ে এ পর্যন্ত ২৫টিরও বেশী সফল অ্যাপ তৈরী করেছেন। এখন কাজ করছেন ‘নবান্ন-কৃষকদের জন্য প্রযুক্তি’ স্লোগানে কৃষকদের জন্য অ্যাপ নিয়ে। উদ্যোক্তার ‘সফলতা-বিফলতা-কৌশল’ নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শুনি।

‘জীবনে শাইন করতে হলে ঐখান থেকেই উঠে আসতে হয়’

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 20, 2017 , 2:29 অপরাহ্ন

12771503_1359129240779186_6346983205100107082_o

খোশগল্প.কম: প্রথমে পরিচয় নিবো, নিজেকে কীভাবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন?

সাগর: একজন উদ্যোক্তা, উদ্যোগের পথে হাঁটছি। নিজের উদ্যোগ নিয়ে একজন সুখী মানুষ। আর প্যাশনেট এবাউট এক্টিং।

 

ইনস্টিটিউশনাল পরিচয় হচ্ছে আমি রুয়েটের সিইসি থেকে ২০১৪ তে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। কলেজ ছিল নটরডেম কলেজ, স্কুল বি এল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ।

 

খোশগল্প.কম: শৈশব তাহলে ঢাকার বাইরে কাটিয়েছেন?

সাগর: হ্যাঁ, এসএসসি পর্যন্ত। তারপর ঢাকা, তারপর আবার রাজশাহী।

 

খোশগল্প.কম: গ্রোয়িং টাইমটা ঢাকার বাইরে, এটা এজ এ মানুষ হিসেবে কোন কিছু যোগ করে কিনা।

সাগর: হ্যাঁ, অবশ্যই। জীবনের একটা নির্দিষ্ট টাইম পর্যন্ত প্যারেন্টস এর কাছে থাকাটা বেটার। কারণ ঐ সময়টা ম্যাচুরিটিটা ঐ লেভেলে হয় না, মেন্টাল স্ট্যাবিলিটি গ্রো করার আগ পর্যন্ত বাবা-মার কাছে থাকাটা আমাকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে যেটা পরবর্তী জীবনে হেল্প করেছে রিয়েল লাইফ ট্যাকলগুলা সহজ করতে।

 

খোশগল্প.কম: এক্টিং নিয়ে প্যাশনেট বলছিলেন, এটার ব্যাপারে শুনি।

এক্টিং স্কুল লাইফ থেকে শুরু, ছোটবেলা থেকে করি। ভালো এপ্রিসিয়েশন পাওয়ার পর অনেকদিন পর্যন্ত করেছি। রুয়েট লাইফে করেছি, ঢাকা ন্যাশনাল ড্রামা কনটেস্টে ফার্স্ট হয়েছি, নটরডেম কলেজের নাট্যক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলাম। ঐটা আমার একটা শখের জায়গা যেটা আমাকে যন্ত্র থেকে মানুষ হিসেবে আলাদা করে রাখে।

 

খোশগল্প.কম: অভিনয় কন্টিনিও করার জন্য কোনটা বেশী তাড়না দেয়, শখ না এপ্রিসিয়েশনটা?

সাগর: করি তো অবশ্যই শখের বশে বাট এপ্রিসিয়েশন পাওয়াটা জরুরী। এপ্রিসিয়েশন দিয়েই বুঝতে পারবো আমার কাজটা কতটা ভালো হচ্ছে। আপনি অভিনয় বলেন আর আইটি ইন্ড্রাস্টির কাজ বলেন এপ্রিসিয়েশন লাগবেই। আইটি ইন্ড্রাস্টিতে হয়তো সাকসেসটা মেজার করা হবে মানি আর্নিং দিয়ে বাট তার চেয়ে বড় মেজারমেন্ট আমাদের তৈরী অ্যাপটা কত মানুষ ব্যাবহার করছে, তাদের ফিডব্যাক কেমন, আসলে তাদের রিয়েল লাইফ প্রবলেম সলভ হচ্ছে কিনা। অভিনয়টাও ওরকম, মঞ্চে উঠার পর বা তার পরের ফিডব্যাকটা ঐ জিনিসটা সবসময় ইম্পোর্ট্যান্ট।

 

খোশগল্প.কম: এপ্রিসিয়েশন পেতে শুরু হয়েছিল  কখন?

সাগর: এটা খুব হুট করে। যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি স্কুলের কালচারাল প্রোগ্রামের দিন সবাই ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’তে খুব সেজে এসেছে। কেউ মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে, কেউ বা বাউল, এক একজন এক একরকম। তো আমার মনে হলো যে আমি কিছু একটা ট্রাই করি, আমিও করি। তখন জামাটা উলটো করে পড়লাম, একটা মোজা ফেলে দিলাম, স্যারের কাছ থেকে একটা কাগজ নিয়ে পাগল লিখে নেমে পড়লাম। তখনো আমাকে কেউ নোটিস করে নাই। তখন আমি হবে কি হবে না জানি না কিন্তু খুব এক্সাইটেড ফিল করছিলাম। তখন একটা স্যার শুধু দেখে বিচার না করে মাইক নিয়ে সবার কাছে যাওয়া শুরু করলো, যখন আমার কাছে মাইক নিয়ে আসলো আমি পাগলের মত অভিনয় করেছিলাম, ঐটা দেখে মাঠে সবাই হাসাহাসি শুরু করে দিলো আলহামদুলিল্লাহ ঐ প্রিপারেশনে আমি থার্ড হয়েছিলাম।

 

তারপর থেকে প্রতিবছর প্রোগ্রাম আসলেই ফ্রেন্ডরা বলতো কি করবি, কি করবি। সবাই আমার কাছে নতুন কিছু দেখতে চাইতো অইভাবেই আস্তে আস্তে শুরু। তখন থেকে অভিনয় করতে ভালো লাগলো;তারপর থেকে অভিনয় চালিয়ে গিয়েছি। একক অভিনয়, দলীয় অভিনয় করা হয়েছ অনেক বার।

 

খোশগল্প.কম: ইউটিউবে আপনার বেশ কিছু নাচের ভিডিও আছে দেখলাম। নাচও ভালো করেন নাকি?

সাগর: না না আমি নাচ বেসিকালি ভালো করি না। ঐখানকার লজিকটা হচ্ছে, আমি এক্সপ্রেশননির্ভর অভিনেতা, আর নাচের ক্ষেত্রে এক্সপ্রেশনটা অনেক কিছু, আমি যাদের দেখি ভালো নাচে যারা তারা তাদের দেখবেন এক্সপ্রেশনটা ঠিকঠাক দেয়। তো আমার নাচ ভালো না কিন্তু এক্সপ্রেশনটা ভালো দেই যার কারণে মনে হয় নাচ ভালো করছি, খারাপ নাচলেও ওটা অমিট হয়ে যায়।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, আপনার প্রতিষ্ঠান টেক কেয়ারের উদ্যোগটা শুরু করেছিলেন কখন?

সাগর: অফিসিয়ালি শুরু করেছি ২০১৩ সালে, রুয়েটের থার্ড ইয়ারে। তার আগে থেকেই ফার্স্ট ইয়ার থেকেই অনেকগুলা চেষ্টা ছিল, ফেইলার ছিল। ২০১৩ তে গিয়ে ভালোভাবে শুরু করি।

 

খোশগল্প.কম: প্রথম দিকের উদ্যোগগুলো কী কারণে ফেইল করছিল, এখন আপনার কাছে কি কারণ মনে হয়?

সাগর: ওগুলো ফেইল করেছিল তার মেইন রিজন আমার কাছে মনে হয় আমার একটা ভুল মটো ছিল। যেটা অনেকেরই থাকে, আমি উদ্যোগগুলো খুব গোপনে করতাম। ভেতরে ভেতরে টিম ঠিক করে ফেলতাম, কাজ করতেছি আর মনে মনে বলতেছি যে শুক্রুবারে দেখাই দিবো আমি কি জিনিস, এই যে একটা টেন্ডেসি যে পরের সেমিস্টারে দেখাই দিবো আমি কি জিনিস এই জিনিসটা ছিল। যে আমার আইডিয়া আমি কারো সাথে শেয়ার করবো না, একেবারে দেখাই দিবো দেখো আমি কি করে ফেলছি! ঐটা ফেইলারের একটা বড় কারণ ছিল। পরে বুঝতে পারছি যে আইডিয়া শেয়ার করলে আইডিয়া চুরিও হয় না বরং কিছু মানুষের ফিডব্যাক পাওয়া যায় জিনিসটা কেমন হতে যাচ্ছে। গোপনে কাজ করার মধ্যে সফলতা নাই। যে কারণে আমি কারো কাছে পরামর্শ নিতাম না বা অনেক মানুষ কানেক্ট হতো না; দেখাই দিতো না আমি ভুল করতেছি না সঠিক করতেছি। তো মেইন রিজন আমার কাছে অইটা মনে হইছে।

 

খোশগল্প.কম: তখনকার উদ্যোগ কি ধরণের ছিল? আইটি কেন্দ্রিক না অন্য কিছু?

সাগর: হ্যাঁ, ম্যাক্সিমাম আইটি কেন্দ্রিক ছিল। আবার একবার রেডিও স্টেশন দেওয়ার চিন্তা করেছিলাম,  ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চিন্তা করেছিলাম, এনিমেশন স্টুডিও চিন্তা করেছিলাম এরকম অনেক কিছু! এটা হাতে গুণে বলা যাবে না আসলে (হাঁসি) ফেইলার আসতো, কিন্তু আবার শুরু করতাম।

 

খোশগল্প.কম: আর সবশেষ উদ্যোগটা সফল হবার কারণ কী মনে হয়?

সাগর: তখন অনেক বার ফেইল হতে হতে অনেক চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসলো। মার্কেট এনালাইসিস করতাম, স্টাডি করতাম, সামনে ছিল সোহাগ ভাই, লিটন ভাই ওনাদের সাথে পরামর্শ করতাম, ওনারা অনেক কিছু দেখিয়ে দিলেন। তারপরে সাহস নিয়ে পথে নামলাম, ফেইল করি, উঠে দাঁড়াই, কিন্তু হাল ছাড়িনি।

 

খোশগল্প.কম: থার্ড ইয়ারে থাকতে চাকরির ফিল না পেয়েই কেন উদ্যোগের কথা ভাবলেন?

সাগর: চাকরি করতে পারবো না, ঐটা প্রথম দিনই বুঝে গেছিলাম।  রুয়েটের ক্লাস শুরু হইতে আটটায়, মানে টাইম মেইন্টেইন করে। আমি ম্যাক্সিমাম টাইম ধরতে পারতাম না। তখন আমার মনে হইছে এই নয়টা-পাঁচটার চাকরি আমাকে দিয়ে হবে না।

 

খোশগল্প.কম: এই ছোট ব্যাপারে শিউর হলেন চাকরি হবে না?

সাগর: তখন শিওর হইনাই। তখন রুলগুলা ব্রেক করতে শুরু করলাম। তখনো আমার অর্গানাইজেশনাল ক্যাপাবিলিটি ছিল না।

 

রুয়েটের ঐ সময়কার সবচেয়ে বড় প্রোগ্রাম ‘সিএসসি ফেস্ট ২০১২’  আমি সফলভাবে এরেঞ্জ করি, ঐখানে অনেক ভলান্টিয়ার ছিল, পুরো বাংলাদেশ থেকে কনটেস্টেন্ট নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। তখন আমি দেখলাম যে আমার অর্গানাইজেশনাল এক্সপেরিয়েন্সটা ভালো হয়ে গেলো এবং আমি আনন্দ পাচ্ছিলাম। তখন মনের মধ্যে অনেকজন কাজ করছিল মিলে কিছু একটা করা, কিছু একটা অনেক মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেয়া এগুলা ভাল লাগছিলো। সবকিছু মিলেই একটা ফরমেশনে আসছে।

 

খোশগল্প.কম: যখন নাইন-টেন কি হবো এরকম সময়ে নিজেকে কী ভাবতেন, যে এটা করবো

সাগর: তখনকার স্বপ্ন তো আসলে অনেক বড় হয় যেটার কোন লিমিট থাকে না, যেটার কোন ফিজিবিলিটি টেস্ট থাকে না। নাইন-টেন, ইন্টারমিডিয়েটে থাকতেও সব সেক্টর নিয়ে চিন্তা করতাম। বাংলাদেশের সব সেক্টরে একসাথে ইম্প্যাক্ট ফেলায় দেয়া যাবে এমন কি আছে(হাঁসি) এইভাবে ভাবতাম। ইন্টারমিডিয়েটে গিয়ে ফাইনালি মনে হলো সব সেক্টরে ইম্প্যাক্ট ফেলায় দেয়া যাবে এমন কিছু করতে হলে আমাকে প্রেসিডেন্ট হইতে হবে। আমার তো পলিটিকাল ব্যাকগ্রাউন্ড নাই পরে আবার আর্মির মেজর, তারপর সেনাপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তাহলে প্রেসিডেন্ট হওয়া সহজ হবে। তো ছোটবেলায় আসলে লিমিটলেস ইমাজিনেশন থাকে।

 

আবার ছোটবেলায় একবার ডিসিশান নিয়েছিলাম ইঞ্জিনিয়ার হবো তখন খুব বড় একজন ডাক্তারের কাছে আম্মু চিকিৎসা করতে গেলো তখন আমিও ছিলাম সাথে। তো ডাক্তার আমার মাথায় হাত দিয়ে বললো যে “বাবা তুমি আমার চেয়েও বড় ডাক্তার হও” তখন আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। আম্মু জিজ্ঞেস করলে  মন খারাপ করে বলি “আমি তো ইঞ্জিনিয়ার হইতে চাইছিলাম! দোয়াতো ডাক্তারের পেলাম এখন কি হবে” !

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, আপনার প্রতিষ্ঠান টেক কেয়ারের পরিচয় শুনি।

সাগর: আমি প্রতিষ্ঠাতা, আমার সহ-প্রতিষ্ঠাতা তোফায়েল হোসেন পাপ্পু। তিন বছরের বেশী হয়ে গেলো। মোটামুটি আটজন ফুল টাইম ডেভেলপার হিসেবে কাজ করে। আমাদের কিছু এমপ্লয়ি দেশের বাইরেও কাজ করে, ভিয়েতনাম, ইন্ডিয়া, চায়নায় চারজন দেশের বাইরে থেকে কাজ করে। আমাদের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ক্লায়েন্ট আছে।

 

খোশগল্প.কম: যখন শুরু করেছিলেন তখন কতজন নিয়ে শুরু করেছিলেন, ফান্ডিং কেমন ছিল?

সাগর: ফান্ডিং কিছুই ছিল না, টিউশনির টাকা যা হতো তাই দিয়ে। কারণ সফটওয়্যার বিজনেসে আমার মনে হয় না যে খুব বেশী ফান্ডিং লাগে। শুরু আমরা দু’জনেই করেছিলাম। পরে অনেকে এসেছে, আবার চলেও গেছে।আমরা প্রথম যখন শুরু করি তখন ছিল কম্পিউটার ই-কমার্স, প্রথম প্রথম বাসায় গিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা কম্পিউটার সেরে দিয়ে আসতো। প্রথম দিকে আমরা খুব ভালো রেসপন্স পাই কারণ তখন বড় সিপিইউ নিয়ে মানুষ মুভ করতে সমস্যায় পড়তো বিশেষ করে বৃদ্ধ মানুষ। তখন আমরা বেশ কিছু স্কুল-কলেজ, পার্সোনাল ইউজার পেয়েছিলাম। আমার মনে আছে আমি আমার ফ্রেন্ড পাপ্পু আমরা নিজেরা বাসায় গিয়ে কম্পিউটার ঠিক করে দিয়ে আসছি। তখন প্যাশন থেকে করতাম, আর জীবনে শাইন করতে হলে ঐখান থেকেই উঠে আসতে হয়। যখন ঢাকায় আসলাম তখন দেখলাম ঐ বিজনেস ঢাকায় করতে হলে ব্র্যান্ডিং খরচ অনেক পড়ে যাবে প্লাস ট্রাস্টের একটা ব্যাপার আছে। তখন আমাদের অ্যাপ রিলেটেড কাজগুলো বাড়তে থাকলো তখন আমরা মোবাইল এপ্লিকেশনে সুইচ হয়ে গেছি অনেক আগেই।

 

খোশগল্প.কম: যখন কাজ শুরু করেছিলেন আর এখনকার মোটো দুটো কি একই আছে?

সাগর: মেইন যে লক্ষ্য সেটা চেইঞ্জ হয়নি, সার্ভিসে অনেক বড় একটা ট্রাঞ্জিশন এসেছে।

 

খোশগল্প.কম: এক্সপেরিয়েন্সের ক্ষেত্রে কী পার্থক্য দেখতে পান?

সাগর: যখন শুরু করেছিলাম তখন ম্যাচুরিটি কম ছিল, যেটা নিয়ে বেশী এক্সাইটেড সেটা দেখা যেত কিছুই না। আস্তে আস্তে দিন যাচ্ছে ম্যাচুরিটি হচ্ছে যে আসলে কোনটা কাজ করবে। এই জ্ঞানটাই তখন আর এখনকার পার্থক্য। সামনে আরো বাড়বে। সো যতদিন যাচ্ছে এক্সপেরিয়েন্স হচ্ছে, কাজ শেইপেউপে আসছে।

 

খোশগল্প.কম: আপনাদের উদ্যোগের বয়স ৩ বছর। একটা স্টার্ট আপ বা উদ্যোগের জন্য তিন বছর কতটুকু সময়?

সাগর: এনাফ সময়! যদি ঠিকমত প্ল্যান করে আগানো যায়।  কিন্তু আমাদের প্রথম একবছর রুয়েটেই চলে গেছে। যখন আমরা ফুলটাইম দিতে পারি নাই। এটা ডিপেন্ড করে  কি প্রোডাক্ট বা কি নিয়ে কাজ হচ্ছে। তিন বছরে একটা কোম্পানী ব্রেক ইভেনে পৌঁছুতে পারে। যেহেতু আমরা প্রোডাক্ট বেইসড না, সার্ভিস বেইসড কোম্পানী তাই এক হিসেবে আমরা প্রথম বছরেই ব্রেক ইভেন বা লাভে ছিলাম।

 

খোশগল্প.কম: যখন গ্রাজুয়েশন শেষ করলেন ফ্রেন্ডরা জবে ঢুকছে, স্টুডেন্ট লাইফ শেষ তখনো এন্টারপ্রিনেশনের  ডিসিশনে স্টিক টু থাকা…কখনো মনে হয় নি অন্যদিকে সুইচ করি?

সাগর: হ্যাঁ, খুবই অল্প সময়ের জন্য একবার মনে হয়েছিল ঢাকায় আসার পর। অনেক ভালো একটা জায়গা থেকে বিগ একটা অফার পেয়েছিলাম স্যালারির দিক থেকে। ঐসময় মনে হয়েছে আজকে যদি আমি শুধু হ্যাঁ বলে দেই এত কষ্টের জীবন আমার এক নিমেষে শেষ হয়ে যাবে। তখন ইনডিসিশানে ছিলাম জাস্ট একটা-দুইটা দিন। তারপর আমি আবার আমার জায়গায় ছিলাম।

 

খোশগল্প.কম: এখন কেউ আপনার মত স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় নিজে উদ্যোগ নিতে চাইলো এবং তারও আপনার মত হাজারটা অসফল উদ্যোগ আছে। তাদের জন্য কী বলবেন?

সাগর: আমিই নতুন উদ্যোক্তা, পরামর্শ দেয়ার মত পর্যায়ে আমি যাই নি। এইটুক অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে আইডিয়াটা শেয়ার করা উচিৎ, আইডিয়া আসলে চুরি হয় না। আর আইডিয়া দিয়ে কিছু হয় না, এক্সিকিউশনই মূল চ্যালেঞ্জ। আর নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, “আমি এইটা করবো, অনেকেই তো এই জিনিসটা করে ফেলছে” এইটা রং জিনিস, আমার কথা হচ্ছে কেউ যদি করে ফেলে তাহলে তার জন্য মার্কেটটা বরং বাড়লো। আর যে নতুন করেছিল সে তোমার জন্য ইনভেস্ট করে মার্কেট ক্রিয়েট করে দিলো সো সেখানে গিয়ে তুমি তার চাইতেও বেটার সার্ভিস দিতে পারবা। ইট’স অল এবাউট এক্সিকিউশন।

 

আরেকটা জিনিস হচ্ছে যারা উদ্যোক্তা হয় তারা প্রথম দিন থেকেই ফান্ডিং এর পেছনে দৌড়ায়, ফান্ডিং এর জন্য ব্যাংক বা কোম্পানী কি দেখে এইটা স্টুডেন্টরা ক্লিয়ার না। তারা মনে করে আইডিয়াটা দেখবে, বাট আমার ধারণা তারা টিমটা দেখে, কতদিন ধরে আছে, কতটা প্রমিজিং, তারা এন্টারপ্রিনারের উপর ইনভেস্ট করে নট দি আইডিয়া অনলি। আর বাংলাদেশে ফান্ড পাওয়া যায় না এই কনসেপ্টে তারা হতাশ হয়ে পড়ে দ্রুত। আর অনেকে মনে করে আজকে শুরু করলাম, কালকেই অনেক বিজনেস করে ফেলবো। বাট দেয়ার ইজ নো শর্টকাট ইন দিস ফিল্ড। ইউ হ্যাভ টু ওয়ার্ক হার্ড ইন দিস ফিল্ড ফর এ লং টাইম।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, ম্যাক্সিমাম প্রথম উদ্যোগই তো ফেইল করে। তো সাকসেসফুল না হওয়ার ভয়ে অনেকেই তো আইডিয়া শেয়ার করবে না যে আমি তো সাকসেস হইতে পারি না।

সাগর: আসলে উদ্যোক্তাদের গায়ের চামড়া মোটা হইতে হবে, এইসব জিনিস যদি সে কেয়ার করতে শুরু করে তাহলে সে ডেফিনিটলি ফেইল করবে। সে যত আগাবে তার ফ্যামিলি প্রেশার, আত্মীয় স্বজনের প্রেশার এগুলো বাড়তেই থাকবে। আর যে কথা দ্বারা প্রভাবিত হয় তাকে দিয়ে আর যাই হোক এন্টারপ্রিনারশিপ সম্ভব না।

 

আমার ক্ষেত্রেও খুব ক্লোজ রিলেটিভরাই বলতো আমি ফটোকপির দোকান দিয়ে বসে আছি , তারা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে মনে করে হয়তো ফটোকপির দোক্সন দিয়ে বসে আছি।  এই ধরণের কথা আমার বাবা-মাকেও বলতো। তো আমি বা আমার বাবা-মা ডিমোটিভেটেড হইতো না। বরং তাদের কথা শুনি ঐটা থেকে অনুপ্রেরণা নিতাম “আরে জোস! এইরকম একটা কথা বলছে এইবার না কাজ করে আরো মজা পাওয়া যাবে” সো চামড়া মোটা হইতে হবে। আর আমি যদি ঐসময় ফেল করছি দেখে ছেড়ে দিতাম তাহলে আজকদের দিনটা আমার জন্য অন্যরকম হতো। আমার তো ১০-১৫-২০ এরকম অসংখ্য প্ল্যান ফেইল করছে।

 

খোশগল্প.কম: যখন এরকম একের পর এক প্ল্যান ফেইল করছে, বা এইখানেই যখন খারাপ সময় যাচ্ছে সেখান থেকে ওভারকাম করতেন কীভাবে? স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় তো কনসালটেন্সি নেয়ার সুযোগও কম।

সাগর: কোম্পানী যত বড় হোক তাদের খারাপ সময় আসেই বা সবসময়ই ভালো যায় না। আমাদেরও খারাপ সময় গেছে কিন্তু আমরা মনোবলের কারণে ওগুলো সলভ হয়ে গেছে।

 

খারাপ সময় আসতো তখন সোহাগ ভাই বা এরকম যারা আছে তাদের সাথে কথা বলতাম, স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় বই পড়তাম। আর তাদের কাছে জানতে চাইতাম তারা তাদের খারাপ সময়ে কী করতো। এবং যেটা দেখলাম সেটা হচ্ছে করার কিছু নাই, যেটা হয় নজরভঙ্গিটা চেঞ্জ করলে হয়ে যাবে। খারাপ সময় বরং আমাদের কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়। এটাই ঘটছে একচুয়ালি আমাদের সাথে, ঐ সময়ে আমাদের যে ট্রান্সফর্মটা হয়, আমরা যা শিখছি ভালো সময়ে আমরা সেটা শিখতাম না। খারাপ সময়ে আমরা এতো বেশী ইফোর্ট দিতাম যে যেটা আমরা ভালো সময়ে ছয়মাসে শিখতে পারিনাই, সেটা আমরা সাতদিনে শিখে ফেলছি। এটা আমাদের টিমমেটদের মধ্যে বাস্তব উদাহরণ। সো খারাপ সময়টা একচুয়ালি আমাদের বেস্ট ইফোর্ট কে বের করার জন্য একটা পুশ। এবং কোম্পানী এক ফরম্যাটে চলতেছে তখন আমরা আমাদের ফরম্যাট চেইঞ্জ করে এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকি। 

 

খোশগল্প.কম: এমন কেউ ছিলেন বা আছেন যারা নিরুৎসাহিত না করে আপনার উদ্যোগকে ইনস্পায়ার করতেন?   

সাগর: শৈশবে আমার কোন আইডল ছিল না কারণ ঐসময় আমি বিভিন্ন জিনিস ট্রাই করছি। বাট উদ্যোগের ক্ষেত্রে, হ্যাঁ অবশ্যই। মাহমুদুল হাসান সোহাগ ভাই, লিটন ভাই, নিজাম ভাই, ম্যাগনেটো ডিজিটালের রিয়াদ ভাই। আর এ ছাড়াও আমার জন্য অনেকে ইন্সপিরেশনাল এন্টারপ্রেনার যেমন এলেন মাস্ক, স্টিভ জবস আছেন। তবে আমাকে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছেন সোহাগ ভাই।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। একবার বলছিলেন ফ্যামিলি প্রেশারের কথা। উদ্যোক্তাদের শুরুর জীবনে সবচেয়ে অসহায় সমস্যারগুলোর একটা ফ্যামিলির সাপোর্ট না পাওয়া। অনিশ্চিত জীবনের সমর্থন কেউই দেয় না। বিশেষত যখন পরিবারও সময় পায় না। ঐ সময় আপনার ক্ষেত্রে কেমন ছিল

সাগর: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি কোপ আপ করতাম এভাবে যার সাপোর্ট আমার দরকার, যারা আমার লাইফে ইম্পোর্ট্যান্ট যেমন আমার বাবা-মা, আমার ওয়াইফ, ইভেন আমার শ্বাশুড়ি তাদের ক্ষেত্রে আমি জাস্ট ওমিট করতাম না। তাদের কাছে গিয়ে বরং আমি আমার যে আইডিয়াটা সেটা স্পীচ করতাম। তারা যখন এক্সাইটেড হয়ে যাইতো তখন তারা আমার এইমের সাথে অটো কানেক্টেড হয়ে যায়। আমার সাকসেসের সাথে তারাও তখন ইনভলব হয়।

 

খোশগল্প.কম: সবার ক্ষেত্রে কিংবা সবসময় তো পজিটিভ রেজাল্ট আসবে না। ভালো একটা সাবজেক্টে গ্রাজুয়েশনের পর যখন ক্লাসমেটরা কম্পারেটিভলি স্ট্যাবলিশড এন্ড সিকিউরড জবে থাকবে তখন ফ্যামিলির অটো কম্পারিজন চলে আসে। তখন কী করবে?

সাগর: হ্যাঁ, এটা হয়। “এত বছর ধরে কি করতেছ, অমুক এটা করতেছে, তমিক এইটা করতেছে”। যেমন বাবা-মা ঢাকার বাইরে থাকেন, ফ্রেন্ডরা অনেকে বাড়িতে যাচ্ছে, হয়তো মান্থলি একটা এমাউন্ট রেগুলার দিচ্ছে, আমি তো প্রথমত সময় দিতে পারি না, দ্বিতীয়ত ঐভাবে আর ১০ জনের মত করা হয় না। তো কম্পারিজন সবসময় থাকবে, আমি যদি জব করতাম তাদের চেয়ে ভালো করতাম তারপর ও কোথাও না কোথাও আমাকে তুলনায় পড়তেই হইতো। আমি কীভাবে নিচ্ছি আর কীভাবে তাদের বলছি এটাই আমার কাছে ইম্পোর্ট্যান্ট মনে হয়।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। টেককেয়ারের এচিভমেন্ট নিয়ে শুনি, প্রাইজ বা এওয়ার্ড বেইসড এচিভমেন্ট না; যেটার জন্য মেন্টাল পিস ফিল করেন।

সাগর: আমাদের ছোট-খাটো অনেক এচিভমেন্ট আছে। বাট আমরা সবচেয়ে সাকসেস ফিল করি যেটার জন্য সেটা হচ্ছে আমাদের টিম। আমরা টিমমেটরা আসলে এখানে কাজ করি না বা কাজ করে কখনো টায়ার্ড ফিল করি না। বরং এখানটা আমাদের রিফ্রেশমেন্টের জায়গা। আমরা প্রত্যেকেই এমন।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। টিম প্রসঙ্গে, অনেক ক্ষেত্রেই এন্টারপ্রিনার, বিজনেস লিডিং বা যে কোন কাজেই এ টিমওয়ার্ক অনেক ইম্পোর্ট্যান্ট। টিম সিলেকশন এমন যেন একজনের যে এফিশিয়েন্সি নেই সেটা সহ-উদ্যোক্তার থাকতে হবে। লাইক একজনের প্যাশেন্স কম বাট তার মার্কেটিং নলেজ ভালো সো অন্যজনের প্যাশেন্স তাদের একটা ফুল ইফোর্টের পরিবেশ দেয়। এই প্রসঙ্গে আপনার টিম নিয়ে কী বলবেন?

সাগর: আমার কাছে মনে হয় উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে এরকম গুণের ইম্পোর্ট্যান্স নাই। আমার ক্ষেত্রে যেটা হইছিলো আমার কোন গুণই নাই শুধু প্রচণ্ড ইচ্ছাটা আছে। সো উদ্যোগের জন্য লেগে থাকার ধৈর্য্য থাকলেই হবে। তাহলে একভাবে না একভাবে আপনি শিখে হোন, নিজে  ট্রান্সফর্ম করে হোন আপনার মধ্যে সেই জিনিসগুলো চলে আসবে। এমন না যে গুণ নিয়েই মার্কেটে নামতে হবে।

 

আর আমাদের নতুন মেম্বারের ক্ষেত্রে আমরা দেখি মানুষ ভালো কিনা আর প্রচন্ড ইচ্ছা আছে কিনা। এই দুইটা থাকলে সে প্রথমত আমার টিমের সাথে কালচারালি অটোফিট হয়ে যাবে আর ইচ্ছা থাকলে সে শিখে নিতে পারবে। হয়তো দেরী হবে বাট  এমন না যে স্কিল নিয়েই শুরু করতে হবে।

 

খোশগল্প.কম: বেসিস রেজিস্টার্ড কয়েকশত সফটওয়্যার কোম্পানী আছে  বাংলাদেশে, যারা অ্যাপ, সফটওয়্যার ডেভেলপ করে । আপনারা কোথায় আলাদা?

সাগর: রিসেন্টলি আমরা এক্সাক্ট এইজায়গায়ই কাজ করছি আমরা আসলে কোথায় আলাদা। আমরা বেসিকালি আলাদা আমাদের ইউ এক্সে, যেটাকে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সও বলতে পারেন। সফটওয়্যার ফার্মে সবাই মনে করে কোড করা বা সফটওয়্যার বানানোটাই আসল। বাট আমরা বিলিভ করি আমরা সফটওয়্যারটা যাদের জন্য বানাচ্ছি তারা আমাদের কাজ পছন্দ করছে কিনা। তারা ইউজ করে কতটা ওয়াও ফিল করতেছে, কতটা সহজ হচ্ছে তাদের জন্য।

 

যেমন আমরা এখন একটা কাজ করতেছি ‘নবান্ন’ অ্যাপ নিয়ে। আমাদের ট্যাগলাইন হচ্ছে ‘কৃষকের জন্য প্রযুক্তি’।  এটা গাছের রোগ  ডিটেক্ট করবে। আপনি মোবাইল দিয়ে গাছের পাতার ছবি তুলবেন, তখন ছবি দেখে অ্যাপ আপনাকে বলে দেবে গাছে কি রোগ হইছে এবং কি করতে হবে সেটা সাজেস্ট করবে। আমরা সার্ভে করে দেখছি প্রতি বছর শুধু ধানেই ৩৭ শতাংশ কম ফলন হচ্ছে এই রোগের কারণে। এমন না যে রোগগুলোর প্রতিকার নেই বরং ভুল চিকিৎসার জন্য এমন হচ্ছে। কৃষক যেটা করে হাটে যায়, দোকানদারকে বলে এই এই হইছে তারা শুনে শুনে একটা ওষুধ বা সার দিয়ে দেয়। ৩৭ শতাংশ! ইটস হিউজ। লাখ লাখ টন ধান আমরা পাচ্ছি না। এখন আমার এই অ্যাপের ইউজার হচ্ছে কৃষক, আরো স্পেসফিকলি বলতে গেলে যারা স্মার্টফোন ইউজ করে, মোটামুটি জমি আছে।

 

15337466_1669647993060641_4333516212590683187_n

 

এখানে আমার খেয়াল করতে হবে, অ্যাপটা আমার বাংলায় দিতে হবে, আবার যে পড়তে পারে না তার জন্য ভয়েস অ্যাড করতে হবে। আমরা এইসব জায়গায় ফোকাস করি,  জাস্ট ছবি তুলে সমাধানেই শেষ না। আমার ইউজার যারা হয়তো চোখে কম দেখে, টাচ করতে গিয়ে হয়তো হাতটা কাঁপবে এসব জায়গায় আমরা ফোকাস করে অ্যাপকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করি। 

 

আমরা যেটা করি অ্যাপটা বানানোর আগে প্রোটোটাইপ বানাই, যেটা দিয়ে একটা প্রাক্টিকাল এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবো আমরা। আমি যদি পরিচিত মানুষের কাছে যাই তারা কি বলবে? তারা বলবে “ভালো হইছে, ভালো হইছে” এরা আমার অ্যাকচুয়াল ফিডব্যাক না। আমরা তখন দুইটা ক্যামেরা লাগাই, একটা ডিভাইসের উপর আরেকটা তার মুখের উপর। এরকম অনেকজনকে ইউজ করতে দেয়ার পর আমরা তার মুখের ভঙ্গিটা খেয়াল করি আর দেখি সে কোথায় ক্লিক করতেছে। এরপরে আমরা যখন ঐ ৫-১০ জনের ভিডিওটা দেখি আমরা দেখবো তারা একটা কমন জায়গায় কোন এক্সপ্রেশন দিচ্ছে। তখন আমরা ফাইন্ড আউট করে আমাদের ডিসিশনে আসতে পারি। আমরা মনে হয় ঐ জায়গাটায় স্ট্রং। আমরা কালার চয়েজ, কন্টেন্ট এগুলো নিয়ে প্যাশনেট।

 

আমরা কত সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করলাম এর চেয়ে বড় তারা কত সুন্দরভাবে জিনিসটাকে এক্সেপ্ট করলো।

 

খোশগল্প.কম: এরকম প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের মত একটা ডেভেলপিং কান্ট্রির কৃষকদের কাছে আপনি পৌঁছুবেন কীভাবে?

সাগর: একভাবে আমরা পৌঁছুতে পারবো না। অ্যাপটা যদি ভালো হয় আমার মনে হয় এটা নিজে নিজে থেকেই ভাইরাল হবে। এছাড়াও আমরা পেপার-পত্রিকার সাথেও যোগাযোগ করছি, তারাও এরকম উদ্যোগ নিজেরাই প্রচার করতে আগ্রহী। তারপরেও আমাদের কিছু মার্কেটিং পলিসি আছে।

 

আর আমাদের টার্গেট কিন্তু একদম কোর লেভেলের কৃষক না। আমাদের টার্গেট হচ্ছে যার ৫-১০ বিঘা জমি আছে, একটু শিক্ষিত, কৃষকদের দিয়ে কাজ করায়। এদের কাছ পর্যন্ত যদি আমরা যেতে পারি তাহলে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে অটো পৌঁছুতে পারব। আর যেহেতু প্রতিবছর ৬০% হারে স্মার্টফোন ইউজার বাড়ছে সো এটা একসময় ভাইরাল হবেই।

 

খোশগল্প.কম: ‘নবান্নর মতো আর কী কী অ্যাপ আছে বা আপনাদের টার্গেট ইউজার কারা?

সাগর: আমরা ‘প্রহরী’ নামে একটা ভেইকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম করেছি যেটা ‘অন্যরকম গ্রুপের’ । তারপর ডিআইটিএফ নামে একটা অ্যাপ করেছি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ারের জন্য। যে ঐখানে গিয়ে কোথায় কি স্টল আছে ম্যাপে সহজেই  দেখতে পারবে। আমার একটা জায়নামাজ দরকার আমি এত ভিড়ের মধ্যে কীভাবে পাবো? অ্যাপে সার্চ দিলে সেটা আপনাকে আপনার অবস্থানসহ সেই স্টলের ডিরেকশন দেখিয়ে দিবে। 

 

আমরা আমাদের কোম্পানীর বেসিক মটো বলি, সেটা হচ্ছে রিয়েল লাইফ প্রবলেম সলভিং টেকনোলজি। আমরা নিজেরা বা ক্লায়েন্টের যেটাই করি সেটা এনশিউর করি প্র্যাক্টিকাল লাইফের প্রবলেম সলভ করতেছে কিনা।

 

খোশগল্প.কম: কী ধরণের রিয়েল লাইফ প্রবলেম নিয়ে অ্যাপ তৈরির প্ল্যান নাছে?

সাগর: এন্টারপ্রিনারদের সমস্যা এত এত আইডিয়া মাথায় আসে যে রাতে ঘুম হয় না।

আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশে উদ্যোক্তা হওয়া এক হিসেবে সোজা। না হওয়ার অনেক কারণ আছে বাট পজিটিভ একটা বড় কারণ মনে হয় বাংলাদেশের প্রবলেম আছে অনেক, আর যত প্রবলেম তত সল্যূশন, তত বিজনেস ক্রিয়েট হবে !

 

খোশগল্প.কম: এখন পর্যন্ত কতগুলা অ্যাপ করেছেন?

সাগর: এখন পর্যন্ত ২৫টার উপরে অ্যাপ করা হইছে।

 

খোশগল্প.কম: অন্য সেক্টরে উদ্যোগ নেয়া আর আইটি সেক্টরে উদ্যোগ নেয়ার প্লাস পয়েন্ট কোনটা মনে হয় আপনার কাছে?

সাগর: আইটি সেক্টরে প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে ইনিশিয়াল কোন ফান্ডিং লাগে না। আমি আর আমার ল্যাপটপ মিলেই শুরু করে দিতে পারি। তারপর আস্তে আস্তে সেটা বড় হতে পারে। আমি শুধু স্কিল বা সার্ভিস দিয়েই কাজ করতে পারছি। আর অন্যান্য ক্ষেত্রে একটা ফান্ডিং নিতেই হচ্ছে। কিছু লোক লাগছেই, ইনভেস্টমেন্ট লাগছেই। সেক্ষেত্রে শুরুটা হয়তো কঠিন হয়।  

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা, শেষ প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে বা ব্যক্তিগত গোল কী?

সাগর: ‘টেক কেয়ার’ নিয়ে স্বপ্ন এটাকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড পরিচিতি দেয়া। আর কৃষকদের নিয়ে সরকারি পর্যায় ছাড়া প্রাইভেট সেক্টরে তেমন কাজ হয় নাই, সো আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে দেশ নিয়ে। আর আমার মনে হয় যে নিজ নিজ জায়গা থেকে যাকাত-ফিতরা দেয়ার চেয়ে অনেক মানুষের জন্য উপকারী কিছু করাও কোন অংশে কম না। আর ব্যক্তিগত গোল হচ্ছে কোম্পানীকে ভালো একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে আমি হয়তো নাটক-ফাটকে একটু টাইম দিতে পারবো (হাঁসি) ।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn19Pin on Pinterest0

মতামত