সময়ের সাথে সাথে আপনাকে ডিসিশন মেক করতে হবে, আর নিজের ভেতরেও তাকিয়ে দেখার দরকার আছে, আপনি কি পছন্দ করেন এন্ড হোয়াট আর ইউ গুড এট?

রাকিবুল কাদির, একজন প্রকৌশলী গবেষক। কথা বলছেন ভার্সিটি লাইফে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে বের করার উপায়, পাশ  করার পর পর চাকরি না পাবার হতাশা কাটিয়ে ওঠা নিয়ে আর ম্যাটেরিয়াল ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে নিজের স্বপ্ন নিয়ে….

‘নিজের ভেতরেও তাকিয়ে দেখার দরকার আছে আপনি কি পছন্দ করেন এন্ড হোয়াট আর ইউ গুড এট?’

লিখেছেন...admin...জানুয়ারী 31, 2017 , 3:37 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: প্রথমে পরিচয় দিয়ে শুরু করি।
রাকিব: আমি আমি রাকিবুল কাদির, একজন প্রকৌশলী।

আমার ফাদার সরকারী জব করতেন, ছেলেবেলাটা মফস্বলে মফস্বলে কেটেছে। মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিলাম শেরপুর গভঃ ভিক্টোরিয়া একাডেমি থেকে, বগুড়া শেরপুর না, নেত্রকোণা শেরপুর। তারপরে ওখান থেকে নটরডেম কলেজে চলে আসি। তারপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েই শুধু পরীক্ষা দিয়েছিলাম, এখানেই হয়ে গেলো। এটা একটা ড্রিম ছিল ইঞ্জিনিয়ার হব বা বুয়েটে পড়ব। তারপর ভর্তি হয়ে যাই।

আমি ছিলাম বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগে যেটা এমএমই নামে বেশী পরিচিত। এখন আমি এখানকারই পার্টটাইম মাস্টার্সও পারস্যু করতেছি। হোপফুলি এ বছর নাগাদ শেষ করতে পারব।

 

খোশগল্প.কম: শুধু বুয়েটেই দিয়েছিলেন…….. আর কোথাও পড়ার ইচ্ছা ছিল না বা খুব ভাল ছাত্র ছিলেন…

রাকিব: বুয়েটের পরীক্ষাটা সবার আগে হয় আর রেজাল্টও দ্রুত হয়। প্রথম পরীক্ষাটায়ই হয়ে যাওয়ায় আর কোথাও দেয়ার দরকার পড়ে নি। আর আমি কখনই খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম না। অল্প কিছুদিন এডমিশন কোচিং করেছিলাম, সেখানে স্টুডেন্ট কোয়ালিটি বেইস করে প্লাটিনাল পুল, গোল্ডেন পুল এরকম পুল ছিল। আমি সবসময় আয়রন পুল, কপার পুলে থাকতাম হা হা হা। আর যারা ঢাকার বাইরে থেকে আসে তারা খুব নরমালি ইনসিকিউর ফিল করে। এখানকার ছেলেমেয়েদের বড় হবার পরিবেশ, পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে আগে-ভাগেই পরিচিত হয়ে যাওয়াটা ঢাকার বাইরের ছেলেমেয়েদেরকে কনিফিডেন্সে পিছিয়ে দেয়। আমার স্বপ্ন ছিল, আলহামদুলিল্লাহ হয়ে গেছে। সাবজেক্ট কোনটা পাইছি ঐদিকে তাকাই নাই আসলে।

খোশগল্প.কম: ভার্সিটিতে কি হলে থাকতেন ?
রাকিব: বুয়েট লাইফের শুরুতে বাসা ছিল নারায়ণগঞ্জ, সেখান থেকে রেগুলার আসা-যাওয়ায় সমস্যা হওয়ায় ফার্স্ট ইয়ার শেষের দিকে সোহরাওয়ার্দী হলে ছিলাম। তারপর পানিতে কিছু সমস্যা হল, টাইফয়েড ধরা পড়লো, বাসায় কান্না-কাটির রোল পড়ল পরে আবার বাসায় ব্যাক করতে হল। হল ছাড়ার পরও প্রায়ই ফ্রেন্ডের রুমে থাকতাম, মায়া কাটাইতে পারি নাই। তো বাসায়-হলে দু-জায়গায়ই ছিলাম আসলে।

 

খোশগল্প.কম: এখন যখন ঐ সময় মনে করেন, কী মনে পড়ে?
রাকিব: বুয়েটে আসার পর সিচুয়েশন একটু ডিফরেন্ট ছিল। সিট ছিল ৩০টা, শেষ পর্যন্ত থাকলো ১৮ জন। অল্পজন হওয়ায় সবার মধ্যে ইন্টিমেসি ভালো ছিল। সকাল বেলায় বুয়েটের গাড়ি করে বাসা থেকে বুয়েটে এসে ক্লাস না করে ক্যান্টিনে আড্ডা দিতাম, কার্ড খেলতাম, এগুলো করতে গিয়ে অনেক ভালো কিছু বন্ধু হইছে। আরেকটা আফসোস কাজ করে এখন, এখনকার ছেলেমেয়েরা ভার্সিটি লাইফে অনেক বেশী ক্রিয়েটিভ, এই টাইমে অনেকেই কোন একটা ইন্সট্রুমেন্ট শিখতেছে, ফটোগ্রাফি শিখতেছে তারা অনেক বেশী ক্রিয়েটিভ। আমরা মনে করতাম আমরা কোন ক্রিয়েটিভিটির মধ্যে যাবো না, বিকজ উই আর সো মাচ কুউউল! আমাদের কোন ক্রিয়েটিভিটির দরকার নাই। দিস ওয়াজ দ্য চিলেস্ট ওয়ে টু পাস দ্য টাইম। বাট এখন মনে হয় আমরা কত বোকা ছিলাম। যদি আবার ঐ সময় পাওয়া যেত হয়তো ডিফরেন্টভাবে ঐ চারটা বছর পার করতাম।

হল লাইফটা হচ্ছে নিজের ভরসায় চলার একটা কনফিডেন্ট। বাসায় যেমন মায়ের আদর, কাপড়টা রেডি আছে, সব গোছানো আছে, যেয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম, একটা কেয়ারের জায়গা। হল হচ্ছে হার্শ একটা জায়গা এর মধ্যে আবার একটা ফান আছে। এই হলের সাথে ঐ হলের রঙ মাখামাখি, বন্ধুত্ব-শত্রুতা সবা ব্যাপারের মধ্যে একটা চার্ম আছে। আমার কাছে মনে হয় যে ভার্সিটি লাইফে শখ করে হইলেও হলে থাকা উচিৎ কিছুদিন।

 

খোশগল্প.কম: হলে থাকার সময়ের একদম মেনশন করার মত কোন গল্প শুনি।
রাকিব: অনেক কিছুই। এখনো এলবামের পাতার মত মনে করতে পারি। রাত জেগে আড্ডা দিতাম, গান-বাজনা করতাম। এটা একটা ডিফরেন্ট বন্ডিং। আপনার একটা ক্লোজ ফ্রেন্ড, তার সাথে আপনি কতদূর পর্যন্ত শেয়ার করতে পারবেন? কতটুকু চেনেন এজ এ হিউম্যান বিয়িং? এরকম সিচুয়েশনগুলাতে মানুষ নিজেকে অনেক বেশী ওপেন করে রাখতে পারে। এবং তাদের সাথে ফিলসফি, রাষ্ট্র পরিচালনা, ধর্মতত্ত্ব, মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে একদম নিছক কার প্রেম ভেঙে গেলো সবই নিয়ে কথা বলা হয়। এগুলো গল্পের ছলে করা বাট এখান থেকেই আপনি তার ফিলসফির কোর থেকে আপনি তাকে চিনতে পারবেন। এই জিনিসগুলা মানুষ হিসেবে দৃষ্টি ভঙ্গিতে অনেক চেইঞ্জ আনে। আপনি কোন একটা বিষয় নিয়ে তর্ক করছেন, আপনি যদি বিষয়টাকে একদম ওপেনলি নাই ডিসকাস করতে পারেন ঐটা কখনো আপনাকে রিচ করবে না। আর এইটা শুধু ঐরকম ফ্রেন্ডের সাথেই পসিবল যে আপনার কথা বুঝে আপনাকে যুক্তি দেখবো। এইগুলো হল লাইফের মেনশন করার মত গুটিকয়েক বিষয়ের মধ্যে একটা। যে মানুষ জনের থেকে ফিলসফি, ওয়ে অফ থিংকিং এগুলা শিখতে পারছি।

 

খোশগল্প.কম: বলছিলেন এখন যদি সেই সময় পেতেন ভিন্ন ভাবে  কাটাতেন, কী করতেন একচুয়ালি সেই সময়ে যেতে পারলে?
রাকিব: অনেক কিছুই করতাম। যেমন খুব গিটার শেখার শখ ছিল। এখন চাকরি করি, সংসার হইছে এখন নিজের জন্য সময় নাই। মানুষের খুব স্বার্থপরের মত হইলেও নিজের জন্য একটা সময় বের করে নিতে হয়। এই উপলব্ধিটা এখন আসছে। ঐ সময়ে যা যা মনে হইতো করা দরকার ছিল। আড্ডা দিতাম, টিউশনি করে টাকা পাইতাম, প্রেম করতাম খরচ হয়ে যাইতো। বাট ঐ টাকা দিয়ে আরো অনেক ভালো কিছু করা যাইত। যেমন যখন মফঃস্বলে থাকতাম বই পড়ার প্রচণ্ড নেশা ছিল, এখন মনে হয় যদি একটা করেও বই কিনতাম নিজের একটা লাইব্রেরী থাকতো; এইগুলাই ডিফরেন্ট। নিজেকে যেভাবে তৈরী করতে চেয়েছিলাম, যেভাবে স্বপ্ন দেখেছিলাম ঐ মানুষটা হইতে পারি নাই।

নিজেকে বিল্ড আপ করার করার টাইম হচ্ছে ভার্সিটি লাইফ। যেটা করতে আপনার ভালো লাগে সেখানে আরো স্কিল ডেভেলপ করে নিজেকে আগাই নেন। আপনি হয়তো ভালো ছবি আঁকেন আপনি প্রফেশনাল লাইফে ঢুঁকে যাওয়ার পর ছবি আঁকার জন্য আর সময় পাবেন না। নিজের পছন্দের কাজকে শার্প করার বেস্ট টাইম ইউনিভার্সিটি লাইফ। ভার্সিটি লাইফের চার্মের আড়ালে এই জিনিসকে হারিয়ে ফেলা সবচেয়ে বড় ভুল। যার যেটা স্বপ্ন, হোক সেটা পাগলামি সেটা করা উচিৎ।

যেমন একবার আমাদের মনে হইলো আমরা একটা নাটক বানাবো। আমাদের প্রিভিয়াস কোন এক্সপেরিয়েন্স নাই, জানিও না কীভাবে কি করে। আমরা আমাদের এক ফ্রেন্ড স্ট্যামফোর্ডে ফিল্ম স্টাডিজে পড়তো, ওকে বললাম ওদের ল্যাব থেকে ক্যামেরা ভাঁড়া করে আনতে। তারপর তিনদিন শ্যুট করে নাটক শেষ করার পর যখন টেপটা কম্পিউটারে দেখতে বসলাম, এত এত অসংগতি! আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার কোন ডায়লগের কোন সাউন্ডই আসে নাই! হা হা হা। তো নতুন কিছু করার টাইম হচ্ছে ভার্সিটি লাইফ, পরে যাতে আফসোস না হয়।

 

খোশগল্প.কম: নাটকে আপনার ভূমিকা কি ছিল?
রাকিব: ওখানে আমি প্রধান সমন্বয়ক, প্রযোজক, চিত্রগ্রাহক, পরিচালক এরকম প্রধান যত ভুমিকা ছিল সব আমার হা হা হা।

 

খোশগল্প.কম: এরকম প্রধান সমন্বয়কের মত স্কুল-কলেজ লাইফে  কো-কারিকুলার এক্টিভিটিসে কন্ট্রিবিউট করতেন?
রাকিব: না, আমি স্কুল লাইফে কোন কো-কারিকুলার এক্টিভিটিসে ছিলাম না। তবে এরকম পাগলামি ছিল কিছু। যেমন নটরডেমে পড়ার সময় ফিজিক্স ক্লাসে স্যার পড়ালো লেন্সের বিবর্ধন। এটা পড়ে বাসায় গিয়ে মনে হইলো আরে আমি তো খুব ভালো ফিজিক্স বুঝে গেছি! এখন আমাকে তাইলে একটা টেলিস্কোপ বানাইতে হবে। বাসায় বললাম একটা প্রাইভেট পড়তে হবে, হাজার বারোশো টাকা লাগবে, পাঠাও; পাঠালো। হাটখোলা খুঁজে সেই লেন্স পেলাম না, আমার যে ক্যালকুলেশন ছিল সেরকম লেন্স পাওয়া যায় না। তারপর বায়তুল মোকাররমের একটা চশমার দোকানে বললো ওরা বানাই দিতে পারবে । ঐ দোকানে আমি অর্ডার দিয়ে ফেললাম। দুইহাজার টাকা লাগবে, একহাজার টাকা এডভান্স দিলাম। সেই দিন বাসায় গিয়ে খুব আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলাম যে আমি খুব ভালো একজন ফিজিক্স বোদ্ধা হয়ে গেছি। তো আরেকবার সব নিয়ে বসলাম, যেহেতু সব সেট করতে হবে। তারপর দেখা গেলো আমার ফর্মূলায়ই ভুল ছিল হা হা হা। এক হাজার টাকা তো গেছেই, আরো এক হাজার দিলেও সেটা দিয়ে কিছু হবে না। পরের প্রায় ছয় মাস আমি বায়তুল মোকাররমের আশে পাশে যাই নি, তুলে তো আনিই নি।

আমি যে একটা জিনিস চেষ্টা করে ব্যার্থ হইছি এটা নিয়ে আমার আফসোস নাই। এখন যে আমি আপনাকে আমার একটা সুখের স্মৃতি বলতে পাইছি এটাই অর্জন। এবং এটা করে আমি যে অসম্ভব আনন্দ পাইছি সেটার কোন বিকল্প নাই। আসলে কমপ্লিট ফেইলর বলতে কিছু নাই, ফেইলরের মধ্যেও কোন একটা প্রাপ্তি থাকে।

আবার একবার স্কুল থেকে উপস্থিত বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমাদের কয়েকজনকে নিয়ে গেলো, যাওয়ার পর শুনি ওটা উপস্থিত বক্তৃতা না, উপস্থিত বিতর্ক। আমাদের বিপক্ষ দল হচ্ছে গার্লস স্কুল আর আমাদের বিতর্কের বিষয় হচ্ছে ‘নারী শিক্ষা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক কি না’ আমাদের পড়লো বিপক্ষে বলার জন্য! বোঝেন অবস্থা, এরকম একটা টপিকে আপনি কী যুক্তি দিবেন? ঐ বার তো গার্লস স্কুলের সামনে বাজেভাবে হারলাম।

 

খোশগল্প.কম: প্রথম সারির দিকে স্টুডেন্ট ছিলেন সেটা কি নিজে আগ্রহী হয়ে পড়ালেখা নাকি ফ্যামিলির তাড়না?
রাকিব: বাবার তাড়নাটাই বেশী ছিল। বাবাকে ভয় পেতাম প্রচণ্ড। রেজাল্ট ভালো না করলে মাদ্রাসায় দিয়ে দেবো এইটা ছিল বাবার কথা। ইনফ্যাক্ট আমি ৪ বছর মাদ্রাসাতেও পড়েছি। সারা বছর মাদ্রাসায় পড়ে বছর শেষে স্কুলে গিয়ে পরীক্ষা দিতাম।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। এই সুযোগে জিজ্ঞেস করি যেহেতু আপনি মাদ্রাসায় ছিলেন, প্রায়ই দেখা যায় দাখিল বা আলিম  করেছে এমন স্টুডেন্টরা ভার্সিটি এডমিশন টেস্টের সময় প্রায়ই দেখা যায় ফার্স্ট প্লেস করছে বা জব ফিল্ডে খুব ভালো প্লেস করছে যেটা আলাদা করে চোখে পড়ার মত- আপনার অভিজ্ঞতা থেকে এটার কারণ কী মনে হয়?
রাকিব: স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বাদ দিয়ে আমার ছোটবেলা থেকে যেটা মনে হয়, তিন ক্রাইটেরিয়ার বাচ্চা পড়তো মাদ্রাসায়। ফার্স্ট, অধিকাংশ বাচ্চা এতিম, সেকেন্ড যাদের বাবা-মার সংগতি নেই স্কুলে পড়াবার আর থার্ড ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে এক্সেপশনালি ট্যালেন্টেড সাম চিলড্রেন যাদের মনযোগটা ঠিক পড়ালেখার দিকে নাই। অনেক দুষ্টু বাচ্চা থাকে না খুব মেধাবী বাট সে পড়তে চায় না, এইরকম ছেলেদের শেষ ভরসা হিসেবে মাদ্রাসায় পাঠানো হয়।

আর মাদ্রাসার লাইফে যেটা হয় আপনাকে ২৪ ঘণ্টাই সুপারভিশনে থাকতে হয়, বাধ্যতামূলক ধর্মীয় কার্যক্রম করতে হবে এবং আপনি মাদ্রাসার পড়াটাও পড়বেন। যখন আপনার অন্য সব মনযোগের জায়গাটা বন্ধ করে একটা জায়গাকে খুলে দেয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এডপ্ট করে নেয়ার চেষ্টা করে। আর মাদ্রাসার ছেলেদের স্ট্রং একটা পয়েন্ট হচ্ছে এরা অসম্ভব পরিশ্রম করতে পারে। এটার সাথে যখন আপনি একটা স্পিরিচুয়াল ব্যাপারকে মিলিয়ে দিবেন যে এটা তুমি চর্চা করো তাহলে নট অনলি ম্যাটেরিয়ালস্টিক ওয়ার্ল্ডে লাভবান হবা বাট অলসো স্পিরিচুয়াল ওয়ার্ল্ডেও। এইটা হচ্ছে গ্রেটেস্ট মোটিভেশন দ্যাট ক্যান এভার বি পসিবল। এইটা ছিল তখনকার সময়।

তো যেটা বললেন ভার্সিটি বা চাকরি বাকরির জায়গায় একটা মেরিট নিচ্ছে এইটা আসলে তারা ডিজার্ভ করে। তারা পরিশ্রম করে, এবং যেসব দিকে গেলে মানুষের মনযোগ ডিস্ট্রাক্ট হয়ে যায় ঐগুলো থেকে তারা ইচ্ছা করেই হোক বাধ্য হয়েই হোক দূরে আছে। আর আপনি যদি পরিশ্রম করেন তাহলে তো আপনি ভালো পাবেনই। আমি এরকম মনে করি।

খোশগল্প.কম: আপনি একবার বলছিলেন, যে যেটা করতে পছন্দ করে সেটা নিয়েই তাকে কাজ করা উচিৎ, ভার্সিটি লাইফের একটা বড় সময় যায় আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে, কি পছন্দ করি সেটা খোঁজার চেষ্টা করতে করতে, প্রায় সময় নিজেই জানছি না আমি আসলে কী করতে চাই। কি করতে চাই, কি পছন্দ করি এটা কি সময়ের সাথে সাথে বের হয়ে যায় ? কিংবা খোঁজার প্রসেসটা কী?
রাকিব: আপনি আসলে কী পছন্দ করেন সেটা এক্সপেরিমেন্ট করার বয়স, ডিসকাভার করার সময়টা হচ্ছে এই ভার্সিটি লাইফই, কিংবা অনেকের জন্য পাশ করার পরে পরে। ক্যারিয়ার গোল ঠিক করাটা মানুষের অনেক পরে আসে। আই বিলিভ যে এটা অনেক তৈরী করতে হয়। আমি এটা বলছি না যে ভার্সিটি লাইফের শুরুতেই ঠিক করতে হবে আপনি চার্টাড একাউন্টেন্ট হবেন বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন।

মানুষের কিছু লং টার্ম গোল থাকে, কিছু শর্ট টার্ম গোল থাকে। আমার পার্সোনাল পয়েন্ট অব ভিউ আমি আপনার সাথে শেয়ার করি, আমি যখন ভার্সিটি লাইফের শেষের দিকে তখন পর্যন্ত আমার লং টার্ম গোল ছিল আমি দেশ ছেড়ে যাবো না, দেশে থাকবো। সেটা যদি ঠিক হয় তাহলে আমার জিআরই, আইইএলটিএস এইগুলো আমার জন্য বাদ হয়ে গেলো। আর দেশে থাকলে ভার্সিটি শেষের পর এক-দেড় বছর যদি আমি আদারস প্রিপারেশনে সময় নিই তাহলে আবার গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে! তখনই কিন্তু আমার শর্ট টার্ম গোলগুলো অনেক পরিষ্কার হয়ে গেলো। আমি যেহেতু দেশে থাকবো তাহলে আমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে দেশে আমার একটা সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরী হয়। এখন আমার পড়ার ক্যারিয়ারে দেশে ভালো জব সেক্টর হচ্ছে স্টিল মিল আর গভঃ সেক্টরে দুইটা সুযোগ, একটা হচ্ছে এটমিক ইঞ্জিনিয়ারিং কমিশন আরেকটা এই সায়েন্স ল্যাবরেটরি। তো এইজন্য আমি পাশ করার উইদিন সিক্স মান্থ যা পাই আমাকে ঢুকে যাইতে হবে এইরকম মেন্টাল প্রিপারেশনে চলে যাই। আর স্টিল মিলে ঢুকতে হইলে মিনিমাম একটা এক্সপেরিয়েন্স দেখাইতে হবে। তখন আমি একটা গার্মেন্টসে ঢুকলাম। আপনি চিন্তা করেন আমি বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমি একটা গার্মেন্টে ঢুকেছি। সেটা ছিল ঢাকা ইপিজেডে, আমি থাকতাম নারায়ণগঞ্জে, ডেইলি ৬-৭ ঘণ্টা জার্নি করতাম। সেখানে আমার খুব স্ক্রিক্ট কোন কাজ ছিল না। কিউসি (কোয়ালিটি চেক) থেকে শুরু করে আইএসও নিয়ে পড়তে হইছে। ঐখানে ডেফিনিট কোন জব ডেস্ক্রিপশন ছিল না, কোন ডিগনিটি ছিল না, ঐখানে পয়সা ছিল না, জায়গাটা আমার জন্য কনভেনিয়েন্ট ছিল না। বাট আমার টার্গেট ছিল আমি এখানে যতদিন পারি শুধু এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে আমার যেটা একচুয়াল ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ, স্টিল মিলে ঢুকবো। ওখানে তিনমাস চাকরি করে তারপর একটা স্টিল মিলে ঢুকি। সেখানে দু’বছর চাকরি করেছিলাম। তারপর আমাকে একটা ক্রুশাল ডিসিশান নিতে হয়েছিল। স্টিল মিলে ঢোকার কাছাকাছি সময়টাতেই আমি এখন যেখানে জব করছি এখানে এপ্লাই করেছিলাম, কারণ তখন আমাকে প্রত্যেকটা খোলা দরজায় নক করতে হয়েছে যে আমি কোথায় যেতে পারি। যখন স্টিল মিলে দু’বছর হয়ে যায় তখন আমার এই চাকরির জয়েনিং লেটার আসে। তো আপনি যেটা বলছিলেন আমি কি করতে চাই, কি পছন্দ করি তখন যদি আমি থাকি তাহলে প্রি ম্যানেজেরিয়াল বা ম্যানেজার পোস্ট পাবো, আমার বেতনও তিন-চারগুণ বেড়ে যাবে, আমার ব্যস্ততাও তিন-চারগুণ বেড়ে যাবে এবং অবভিয়াসলি ঢাকার বাইরে চলে যেতে হবে। আর যদি আমি সরকারি চাকরিতে সুইচ করি তাহলে আমার স্যালারি হয়ে যাবে ওয়ান থার্ড, এন্ড আই এম অলরেডি ম্যারিড! আমি ঢাকায় থাকতে পারবো এবং আমি যেটা পছন্দ করি-রিসার্চ সেটা আমি করতে পারবো। নট অনলি দ্যাট, রিসার্চ করার জন্য আমার খরচ হবে না, সরকার আমাকে সহায়তা করবে রিসার্চ করতে। এন্ড আই টুক দ্য ডিসিশান। আমার যেটা ভাল লাগে আমি সেটাই করবো। আমার বন্ধু, পরিচিতজন, ফ্যামিলি সবার এগেন্সটে আমি ডিসিশান নিই। জীবনে আমার অনেক টাকা পয়সা থাকবে না কিন্তু প্রতিদিনের আত ঘণ্টা কাজে আমার স্যাটিসফ্যাকশন থাকবে।

সময়ের সাথে সাথে ডিসিশান মেকিং এর একটা ব্যাপার আছে আর সাথে নিজের ভেতরেও তাকিয়ে দেখার দরকার আছে আপনি কি পছন্দ করেন এন্ড হোয়াট আর ইউ গুড এট?

..12485901_1136990386318875_1035337557416702928_o

 

খোশগল্প.কম: পাশ করার পর পর বলছিলেন আপনাকে কিছু একটা শুরু করে দিতে হবে এটা নিয়ে আপনি ক্লিয়ার ছিলেন এবং কাজ করেছেন যদিও আপনি সেই কাজ নিয়ে হ্যাপি না তারপরও আপনি কাজ করছেন, আবার কেউ পাশ করার পর পর একটা বড় চাকরি শুরু করে দিবো এইরকম আশা নিয়ে বসে আছে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন- দু’দলের জন্যেই পাশ করার পর পর হতাশার এই সময়টা আসলে কেমন?
রাকিব: এইটা খুব হার্শ ট্রু যে ওয়ান ফাইন মর্নিং আপনি দেখলেন আপনার করার কিছু নাই। এটা অনেকটা জব লাইফের রিটায়ারমেন্টের মত। আপনার জবও নাই আবার পড়াশুনাও শেষ। ঐ সময়ে যেটা বেশী দরকার কাউন্সিলিং, কাছের লোকজনের কিংবা নিজেই নিজেকে। যে আমাকে এখন হয়তো ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছরও বসে থাকতে হইতে পারে। আমি যেটা করতে চাই সেটার জন্য এই সময়ে আমার নিজেকে প্রিপেয়ার হইতে হবে। যেমন পাশ করার পর পর আমার ফ্রেন্ডরা কেউ জিআরই প্রিপারেশন নিচ্ছে, কেউ বাইরের ইউনিভার্সিটি নক করছে, কারো আবার হয়েও গেছে, আর তখন আমি বসে সিভি লিখছি! ভার্সিটি লাইফ শেষ হওয়ার বয়সটা খুব ফানি বয়স, কারো গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, কোন ফ্রেন্ড মাল্টিন্যাশনালে জব পাইছে সাথে গাড়ি! বাসা থেকে একটা প্রেশার, পাশ করছো বাসায় কেন! ঐ সময়ে বেশী দরকার ধৈর্য্য, একটু স্থিতি আর শর্ট টার্ম গোল যেটা সেটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে। এই সময়ের ছোট-খাটো ঘটনাও অনেক ওজন নিয়ে ফ্রাস্টেশন তৈরী করে।

পাশ করার পর আপনি যদি গুছিয়ে ডিসিশান নিতে না পারেন আপনার ফ্রাস্টেশন সময় যাবে বাট ভয় পাওয়ার কিছু নাই। কেউ আপনাকে ডিসিশান নিতে হেল্প করলো যে এটা তোমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি তখন কিছুটা ওভারকাম করা যায়।

 

খোশগল্প.কম: লাইফের প্রাইম গোল গুলো রিচ করে ফেলার পর লং টার্মে আর গোল কোন সেট করেছিলেনন?
রাকিব: গোল বা ড্রিম তো অনেকগুলাই আছে। তার মধ্যে একটা আমি কক্সবাজারে যদি ছোট একটা জায়গা কিনতে পারি সেখানে থাকবো, সেখানে ছোট একটা স্কুল দিবো তার পাশে একটা নার্সারী থাকবে, এটা আমার এই মুহুর্তের ড্রীম। আমি একা একা বসে এই আকাশ-কুসুম চিন্তা করি। আর শর্ট টার্ম গোল হচ্ছে আমি খুব ইমিডিয়েটলি পিএইচডি করতে বাইরে যেতে চাই। কারণ আমার কাছের মনে হচ্ছে আমার দেখার চোখ বা আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরেকটু ম্যাচিউর করতে না পারলে আমার প্রফেশনাল লাইফে এর থেকে আর বেটার ইনপুট দিতে পারবো না। এখন পর্যন্ত আমি যা শিখেছি সেটারই ইনপুট দিচ্ছি বাট আমার আরো পটেনশিয়ালিটি আছে, আমি আরো বেটার কাজ করতে পারবো সেটার জন্য আমার জ্ঞানের উন্নতি দরকার। আর লং টার্ম গোল হচ্ছে আমার দেশে ম্যাটেরিয়াল ইন্ডাস্ট্রিকে আরেকটু সংগঠিত করা। আমি একটা ইন্সটিটিউট করার স্বপ্ন দেখি যাতে আমাদের গ্রাজুয়েটরা চাকরি পায়, এই সাবজেক্টের ফার্স্ট হ্যান্ড উপকারিতাটা মানুষ পাওয়া শুরু করে।

 

খোশগল্প.কম: আচ্ছা। আপনার রিসার্চ নিয়ে শুনি, রিসার্চের বিষয়বস্তু সহজভাষায় কীভাবে বলবেন?
রাকিব: আমার যে সাবজেক্ট নিয়ে পড়েছি সেখানে হাইলি স্পেশালাইজড ম্যাটেরিয়াল ছাড়া ইট-বালি থেকে শুরু করে সিমেন্ট, কম্পোজিট, গ্লাসওয়্যার সমস্ত ম্যাটেরিয়ালই এর আওতায় পড়ে। আমাদের গবেষণায় কিছু মেন্ডেন আছে যেটাকে সহজভাবে বলা যায় যেটা আমাদের মত দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় কন্ট্রিবিউট করতে পারে এইরকম বাণিজ্যিক রিসার্চ। ধরেন আমি একটা সোলার প্যানেল আবিষ্কার করে ফেললাম যেটা এফিশিয়েন্সি খুব ভালো বাট খরচ এক কোটি টাকা তাহলে তো আমাদের দেশের জন্য ভায়োবেল না। আমাদের দেশের মানুষের জন্য এপ্লিকেবল না এর বাইরে গিয়ে লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোর যে সমস্ত প্রবলেম সেগুলোর ট্রাবলশুট করা হইতে পারে, তাদের প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্টে হেল্প করা হইতে পারে। আবার আমরা যে সমস্ত স্পেয়ার পার্টস, টুলস ইম্পোর্ট করি এগুলা যদি দেশেই তৈরী করার একটা ফরমুলেশন বের করতে পারি আর সেটা যদি আমাদের দেশের মাঝারি-ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা লিজ নিয়ে প্রডাক্ট হিসেবে বাজারে ছাড়ে আমার দেশের চাহিদা মিটছে, এমপ্লয়মেন্ট হচ্ছে, দেশের টাকা দেশে থাকছে। আমরা আমাদের রিসার্চকে এই অংশে সীমাবদ্ধ রাখছি।

 

খোশগল্প.কম: ইন্টারভিউ এর শেষের দিকে আসছি, জীবনের এই সময়ে এসে পিছনের সময়ে তাকিয়ে কোন বোধ কি আসে?
রাকিব: আমি খুব হ্যাপি যে ফাইনালি শেষ হচ্ছে হা হা হা।

 

কঠিন একটা প্রশ্ন করেছেন, আপনি যেটা বলেছেন এটা ভালো উত্তর কোন ফিলোসফার দিতে পারবে। আমার উপলব্ধি হচ্ছে, আমাদের যে সৃষ্টি, যিনিই সৃষ্টি করেছেন বা আমরা যে মানুষ হয়েই জন্মালাম এইটা উইদাউট এনি কজ বা র‍্যান্ডম একটা প্রসেস এইটা আমি বিশ্বাস করি না। দেয়ার ইজ নাথিং কমপ্লিটলি র‍্যান্ডম। নেচারও কোন একটা কারণে কিছু তৈরী করে। আমি বিশ্বাস করি আমি এইভাবে জন্মানোর, বড় হওয়ার কোন কারণ আছে। সেটা হচ্ছে একদম মিনিমাম যদি বলি আমার ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দেয়া, আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা, মানুষকে আমার কাজ, আমার চিন্তা ভাবনা দিয়ে হেল্প করা, আমি যে সেক্টরে পড়েছি সেটার বেস্ট ইউটিলাইজ করা। আমার দেশকে আমার মানব জন্মকে যাতে একটা ফিডব্যাক দিতে পারি, নাহলে তো আমার মানবজন্ম বৃথা। এটাই মাই লাইফ ফিলসফি।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত