“আমি ৯-৫টার চাকরিই করলাম, আমার অনেক টাকাই হলো পকেটে বা নাই হলো কিন্তু আর্ট-কালচার এই জায়গাগুলোতে আমি কন্ট্রিবিউট করতে পারলাম না, বা দশটা মানুষকে মোটিভেট করতে না পারি হায়ার লেভেল অব সিকিং এর দিকে তখন আমার কাছে মনে হবে আমি হ্যাপি না”

মুশফিকুর রহমান আরাফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আজ শুনি তার ভাবনা…..

”লাইফে এভ্রি সিঙ্গেল ইয়ার আমাদের থিংকিং প্রসেসে ডেভেলপমেন্ট আনে”

লিখেছেন...admin...ফেব্রুয়ারী 7, 2017 , 3:43 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: প্রথমে তোমার পরিচয় শুনবো, নিজেকে কীভাবে পরিচয় দিতে চাইবে?

আরাফ: আমি মুশফিকুর রহমান আরাফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি।

 

নিজেকে নিয়ে ইভালুয়েশনটা টাফ। মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে গেলে সংক্ষেপে আমি আর্ট পছন্দ করি, এনিমেল লাভার, ঘোরা-ফেরা করতে ভাল লাগে, খাওয়া-দাওয়া করতে ভাল লাগে, খুবই এভারেজ টাইপ মানুষ, অনেক বেশী গেদারিং পছন্দ করি না, ছোট পরিসরে থাকতে পছন্দ করি, কিন্তু এইটা নিয়ে আমি কোন ইনফিরিওরিটিতে ভুগি না।

 

খোশগল্প.কম: নিজের ভেতরে একা থাকা- সেটা নিয়ে কখনো সমস্যায় পড়ো না কিংবা ইনফিরিওরিটি আসে না?

আরাফ: থিওরিটিক্যালি প্রতিটা মানুষই ইনিফিরিওরিটিতে ভোগে তবে আমার ভেতর ডমিনেটিং ইনফিরিওর ওভাবে কাজ করে না বিকজ আমি সেলফ মোটিভেটেড ইন্ট্রোভার্ট। আমি আমার জন্য সোশ্যালাইজ করাটা খুব একটা পছন্দ করি না, উদ্যোগীও কখনো ছিলাম না। সো ইনফিরিওরিটিতে ভোগার প্রাইমারি যে পারপাস যে, অনেক মানুষের দ্বারা পজিটিভিলি বা নেগেটিভলি মোটিভেটেড হওয়া এবং তাদের সাথে কম্পারিজন করার যে জায়গাটা ঐটা আমার ভেতর স্ট্রংলি ফিল হতে দিই না। কখনো যে হয় না তা না, বাট আমি হতে দিই না। ঐ কারণে ইন্ট্রোভার্টেড হওয়াতে আমি মেন্টালি স্যাটিসফাইড থাকি অনেক বেশী। মাঝে মাঝে মনে হয় যে আমার বয়সী যারা আছে তাদের একটা হিউজ ফ্রেন্ড সার্কেল বা নেটওয়ার্ক আছে ঐটা দেখে মনে হয় আমারও থাকা উচিৎ বাট ঐ পর্যন্তই! নিজেকে চেইঞ্জে আনার মোটিভেশনটা পাই না যে এই জায়গায় আমার চেইঞ্জ দরকার।

 

ইনফ্যাক্ট আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যদি চেষ্টা করে ইন্ট্রোভার্ট থেকে এক্সট্রোভার্ট হতে, সেটাকে ঠিক ডেভেলপমেন্ট বলা যায় কি না আমি খুব একটা নিশ্চিত না।

 

খোশগল্প.কম: তুমি বলছো তুমি উদ্যোমী হয়ে সোশ্যালাইজ করছো না এবং এইটা নিয়ে তুমি স্যাটিসফাইড, এই স্যাটিসফেকশনটা কেন?

আরাফ: আমার কথা শুনে যদি মনে হয় যে আমি বেশী আনসোশ্যাল তা কিন্তু না! আমি বলছি আমার বয়সী ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টদের প্রায় ম্যাক্সিমাম স্টুডেন্টদের একটা বড় সার্কেল থাকে, ফ্রেন্ডদের একটা চেইন থাকে, অনেকে মিলে ঘুরতে যায়। আমার ভেতরে ঐ প্র্যাকটিসটা নাই। তবে পার্সোনালি আমার অনেক ফ্রেন্ড আছে, আমি রিলেশনশিপ মেইনন্টেইন করি।

 

খোশগল্প.কম: বেসিক জায়গায় আমি ঠিক আছি?

আরাফ: হ্যাঁ, হ্যাঁ বেসিক জায়গায় ঠিক আছি। এমন না আমি একা, আমি লোনলি থাকতে পছন্দ করি তাই আমি লোনলি, বাট এলোন না। লার্জার স্কেলে আমি আনসোশ্যাল বাট সিলেক্টিভ কিছু মানুষের সাথে সোশ্যাল।

 

খোশগল্প.কম: ঘুরতে যেতে পছন্দ করো, বাট অনেক মানুষ পছন্দ না- কন্ট্রাডিকটরি না বিষয়টা?

আরাফ: হ্যাঁ, ডিপার্টমেন্টের যখন ট্যুর হয় আমি যাই না, ১০-১৫ জন মিলে যখন ট্যুর হয় আমি যাই না। তখন যাই না বিকজ ঐটা আমার কাছে কেওয়াজ লাগে বেশী। আমি সিলেক্টিভ কিছু মানুষের সাথে ঘুরি, আমার ক্লোজ ফ্রেন্ডদের সাথে, ফ্যামিলির সাথে এত বেশী কো-রিলেট করতে পারি যে অইটাই আমার কমফোর্ট জোন, ঐখান থেকে যে বের হয়ে নতুন সার্কেলে এডপ্ট করবো সেই প্রয়োজনীয়তাটা বোধ করি না আসলে। আর কিছু মানুষ আছে যারা ঐরকম সিচুয়েশনে যায় নিজেদের কোপ আপ এবিলিটি বাড়ানোর জন্য, নিজদের মধ্যে চেইঞ্জ আনার জন্য বাট আমি পারি না। ওরকম গেদারিং গিয়েও আমাকে দেখলে বোঝা যায় যে আমি বিরক্ত হচ্ছি, ফ্রি ফিল করছি না।

 

খোশগল্প.কম: ইন্ট্রোভার্টেসি নিয়ে তোমার কাজের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হয় না? যেমন কোন কাজ তোমার মেন্টর পছন্দ করছেন না, এজ এন ইন্ট্রোভার্ট পার্সন তোমার পার্স্পেক্টিভ তুমি তাকে বোঝাতে পারো কি? বা মোদ্দা কথা কমিউনিকেশন গ্যাপটা হয় কিনা?

আরাফ: সেরকমটা সো ফার এখনো হয় নি। প্রথম দিকে হতো, রিলেশনশিপটা বিল্ড আপ হয় না যেহেতু সো বুঝতে-বোঝাতে একটু সমস্যা হত। বাট এখন আস্তে আস্তে আমার যা বলার আমি বলতে পারি, কমিউনিকেশন গ্যাপটা হয় না। হ্যাঁ, এজ এন ইন্ট্রোভার্টেড পারসন যে কোন নতুন জায়গাতে গেলে আমি এই প্রবলেম ফেইস করবো এটা আমি মেনে নিয়েছি।

 

খোশগল্প.কম: এখন যেমন স্টুডেন্টরা কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ ওরিয়েন্টেড বা নেটওয়ার্কিং নিয়ে বিজি। তখন কি ইনিসিকিউরিটিটা আসে যে আমারও তো দরকার…….

আরাফ: এটা একটা প্যারাডক্সের মত। ইনসিকিউরিটিটা আসে বাট আমি সেটাকে স্ট্রংলি হয়ে দিই না। আমি ভাবি মাঝে মাঝে আমার পরিচিত ১০জনকে যদি ৫০জনে নিয়ে যাই সেক্ষেত্রে আমার থিংকিংকে রেস্পেক্ট করতে, ফিল করতে পারবে এরকম সংখ্যা খুব বেশী কি হবে? রেস্পেক্ট বললে মানুষ ভাববে আমার লাইফে অনেক এচিভমেন্ট, একচুয়াল ওয়ার্ড টলারেট করতে পারবে না। আমার পরিসর বাড়লো কিন্তু আমার ট্রু সেলফকে তো আমি শো করতে পারলাম না, তাহলে আমার আল্টিমেটলি কি লাভ হলো? এট সাম পয়েন্টস, যেমন কর্পোরেট ফিল্ডে যদি চিন্তা করি আমার একটা হিউজ নেটওয়ার্ক দরকার হবে। সেক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মনে হয় সেলফ রোলটাকে আরেকটু ফ্লুইড করতে পারলে ভালো হত। যে ট্রু সেলফটাকে হাইড করে ইন্টারেক্ট করতে করতে করতে হয়তো আমার ক্রাইটেরিয়ার মানুষ পেয়ে যাবো যার সঙ্গে আর ফ্লুইড হতে হবে না। তো এটা একটা প্যারাডক্স।

 

খোশগল্প.কম: কর্পোরেট প্রসঙ্গে যখন আসলো, আফটার গ্রাজুয়েশন প্ল্যান  কী তোমার?

আরাফ: প্ল্যান নেই একচুয়ালি। আপাতত ইচ্ছা আছে গ্রাজুয়েশনে বাইরে চলে যাওয়ার।

 

খোশগল্প.কম: ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার আগে আর এখন ভর্তি হবার প্রায় তিন বছর পর- এক্সপেক্টেশন কি ফল করেছে না ফিল করেছে?

আরাফ: ফল করে নি, কিছু রাইজ করেছে। ফল করেনি কারণ ইউনিভার্সিটি নিয়ে আমার একদমই ড্রিম ছিল না। ইন ফ্যাক্ট আমি ঐ টাইমটায় খুব হতাশও ছিলাম, আর সাইন্স নিয়ে আর পড়তেও চাচ্ছিলাম না। পরীক্ষা দেয়ার জন্য দেয়া, চান্স পাবো কি পাবো এগুলা কিছুই ছিল না। বিকজ তখন আমি একটা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের মধ্যে ছিলাম। আমি যে কোনদিকে যাবো এইটা নিয়েও কোন মাথাব্যাথা ছিল না। আমার বাবা, বড় ভাই, মেজ ভাই সবাই ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়েছে, সো এইটা একটা জোর করা স্বপ্ন ছিল যে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে হবে। ঢোকার পর ফ্রাস্টেটেড ছিলাম, এখন আস্তে আস্তে ডেভেলপ করছি।

 

আর এখনকার সময়টা নিয়ে আমি পার্সোনালি খুব একটা স্যাটিসফাইড না। সবাই অনেক বেশী জব ওরিয়েন্টেড। আমি বলছি না ওরা বিসিএস নিয়ে সিরিয়াস, ক্যারিয়ার নিয়ে খুব সিনসিয়ার, ব্যাপারটা ভালো না আর আমি যেটা করছ সেটা ভালো, ব্যাপারটা এমন না। আমার কাছে মনে হয় ওরা লাইফের হ্যাপিনেস বলতে যা বোঝায় আমার কাছে সেটা শ্যালো মনে হয়েছে, আমি বলছি না এটা শ্যালো। আমি আবারো বলবো কে কীভাবে লাইফকে দেখবে এটা নিতান্তই তার ব্যাপার। বাট ঐভাবে দেখাটা আমার কাছে শ্যালো লাগে। যার কারণে আমার সাথে ডিপার্টমেন্টের ব্যাচমেটদের মেন্টাল এটাচমেন্ট হয় নি। ওদের ম্যাক্সিমাম হিউম্যানিটিস থেকে এসেছে, ঢাকার বাইরে থেকে এসেছে সো ওদের জন্য ট্রাঞ্জিশনও একটা বড় ব্যাপার। তো সব মিলিয়ে আমার সাথে ইন্টিমেসি হয় নি। ম্যাচটা না হওয়ার জন্য ইউনিভার্সিটিতে ঢোকার সময় আমার যে পজিটিভ ফিলিং ছিল সেটা আর ইমপ্লিমেন্ট হয় নি।

 

তবে, ইউনিভার্সিটির একটা জিনিস ভালো লাগে, এই জায়গাটা হেটেরোজেনাস, শহর-গ্রাম, বিভিন্ন ধরণের ফ্যামিলি থেকে আসা স্টুডেন্ট আছে। কেউ যদি অনেক ধরণের মানুষের সাথে মিশতে চায় তার জন্য এডভান্টেজ। বিভিন্ন ক্লাব আছে, এক্সপার্টাইজদের সাথে কাজ করার একটা লিংক আছে।

 

যেমন আমি ভিডিও এডিটিং নিয়ে কাজ করছি অনেকদিন। এতদিন র‍্যান্ডমলি কাজ করতাম। এ বছর থেকে আমি একটু উদ্যোগী হয়েছি, আমার পার্সোনালি ফিল্ম নিয়ে ইন্টারেস্ট আছে। সো আমি চিন্তা করেছি আমি এই বছর নিজেকে গোছাবো।

 

16593484_1895672114037810_766095354_o

 

খোশগল্প.কম: জব/ক্যারিয়ারকে রিয়েল গোল/হ্যাপিনেস ফিল করো না না, তাহলে তোমার কাছে লাইফের রিয়েল হ্যাপিনেস কী  দাঁড়ায়?

আরাফ: জব সিকিউরিটি অবশ্যই ম্যাটার করে, এস্টাবলিশমেন্টেরও দরকার আছে। আমার লাইফে যদি ঐ জিনিসগুলা আসে যে আমি ৯-৫টার চাকরিই করলাম, আমার অনেক টাকাই হলো পকেটে বা নাই হলো কিন্তু আর্ট-কালচার এই জায়গাগুলোতে আমি কন্ট্রিবিউট করতে পারলাম না, বা দশটা মানুষকে মোটিভেট করতে না পারি হায়ার লেভেল অব সিকিং এর দিকে তখন আমার কাছে মনে হবে আমি হ্যাপি না। সিকিউরিটি প্রয়োজন বাট সেটাকে এমন প্রায়োরিটি দিবো না যে আমার পার্সনাল জার্নি, পার্সোনাল উইশগুলো মরে যাবে। আমার কাছে দুইটা জিনিসের কম্বিনেশন প্রবাবলি হ্যাপিনেস।

 

খোশগল্প.কম: ফিল্ম নিয়ে নিজেকে গোছাবে বলছিলে, নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করছো?

আরাফ: আমি এডিটিং নিয়ে কাজ করছি, সেটাই করবো আর এডিটিং এর সাথে ডিরেকশনের একটা ভালো সম্পর্ক আছে। দুইটা জায়গা নিয়ে আমার কাজ করার ইচ্ছা আছে। এডিটিং এ আমি আরেকটু স্কিলড হয়ে তারপর ডিরেকশনের দিকে মনযোগ দিবো।

 

প্রস্তুতি বলতে ছোট ছোট কিছু কাজ করছি। এখন আমার হাতে কয়েকটা প্রজেক্ট আছে, টার্ম ফাইনালের পর শুরু করবো ভেবেছি। আর নিজে শ্যুট করার জন্য আমি রিসেন্টলি ক্যামেরা কিনেছি যাতে আমার নিজের একটা ভালো ট্যাকনিকাল ব্যাক আপ থাকে। সবকিছি মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সব কিছু ঠিক থাকলে দেড়-দুই বছর পর আমি একটা স্টেবল জায়গায় থাকতে পারবো। স্টেবল বলতে এই সময়ে আমি বুঝতে পারবো আমার ল্যাকিংস, আমি আদৌ আমার ট্র্যাকে আছি কিনা এই জিনিসগুলো বুঝতে পারব।

 

খোশগল্প.কম: লাইফ জার্নির এই সময়ে এসে, লাইফ নিয়ে কী রিয়েলাইজেশন আসে?

আরাফ: নাইন-টেনে থাকতে আমি বিদ্রোহী টাইপ মানুষ ছিলাম। আমার নিজেকে অনেক বুদ্ধিমান মনে হত আর মনে হত মানুষ অনেক বেশী টিপিকাল। বাট গ্রাজুয়ালি বুঝতে পারলাম আমিও তো আসলে এভারেজ! তখন আমার রিয়েলাইজশন পাওয়ার কম ছিল যে জন্য তখন বুঝতে পারি নাই সেটা এখন বুঝতে পারছি। লাইফে এভ্রি সিঙ্গেল ইয়ার আমাদের থিংকিং প্রসেসে ডেভেলপমেন্ট আনে। আজকে আমার বয়স ২৪, যখন ৩৪ হবো তখন হয়তো আবার ভাববো “যখন আমি ২৪ বছরে ছিলাম তখন আমি নিজেকে স্টেবল ভাবতাম, তখন আমি কি ইমম্যাচিউর ছিলাম”  তো টিল দি এন্ড, লাইফে আমরা আসলে শিখতেই থাকবো। লাইফে কখনোই শেখা শেষ হবে না, জানাটাও না; লাইফটা একটা মিস্ট্রির মত থেকে যাবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত