জনি হোসেন কাব্য। পঞ্চম শ্রেণিতেই লেখালেখির হাতেখড়ি। পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক- কালের কন্ঠ, ইত্তেফাক, নয়াদিগন্ত, বাংলাদেশ সময়, সোনারদেশ, ভোরের কাগজ সহ প্রায় সবকটি পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হয়। মূলত ছড়াকার হলেও ছোটগল্প, কবিতা, আঁকাআকির চর্চাও অব্যাহত রেখেছেনতার প্রকাশিত তিনটি ছড়ার বই যথাক্রমে-“ছড়ার প্যাকেট” “নেটওয়ার্কের বহিরে” এবং “ছড়ার মিনার”।

তখন ভাবতাম, ছড়া লিখতেও নিয়ম কানুন আছে নাকি!

লিখেছেন...admin...মার্চ 14, 2017 , 3:50 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: কেমন আছেন?

কাব্য: আলহামদুলিল্লাহ্ । আমি ভালো আছি।

 

খোশগল্প.কম:  নিজের পরিচয়টা কীভাবে দেবেন।

কাব্য: আমি জনি হোসেন কাব্য। একজন তরুণ ছড়াকার। নিজেকে ছড়াকার হিসাবেই পরিচয় দিতে ভালোবাসি। যেহেতু এখন আর অন্য কোন কাজ করছি না কিংবা পড়া-লেখা শেষ করি নি তাই আপাততো আর অন্য কোন পরিচয় নেই। আর যখন  পড়া-লেখা শেষ করবো  তারপর, তখন যদি জবে ঢুকি হয়তো তখন অন্য কোন পরিচয় থাকবে।

 

খোশগল্প.কম: তার মানে আপনি ছড়া, লেখা-লেখিকে প্রফেশনালি নিচ্ছেন না?

কাব্য: খুব কঠিন প্রশ্ন করেছেন। হুম, ঠিক ধরেছেন আমি ছড়াটাকে প্রফেশনালি নিচ্ছি না এখন। কারণ বর্তমানে আমি পড়া-লেখার পাশাপাশি ছড়া লেখাটাকে নিজের শখের খোরাক হিসাবেই নিচ্ছি। তবে সামনের দিকে হয়তো এমনটা না ও ভাবতে পারি। হয়তো ছড়া লেখা কিংবা লেখালেখিটাকেই প্রফেশনালি নিতে পারি। শুধু এতোটুকুই বলবো ছড়া লেখাটা আমার শখের একটা জায়গা, এখন এই পজিশনে থেকে আমি ছড়া লেখে আনন্দ পাই। তার সাথে সবার উৎসাহ আমাকে পথ চলতে ভীষণ আগ্রহী করে তুলে। বলতে পারেন আমার নিজের শখ আবার সবার উৎসাহ এদুটি কারণেই আমি নিয়মিত ছড়া লিখছি।

 

খোশগল্প.কম: তো, কিভাবে ছড়া লেখাটাকে নিজের শখের জায়গায় বসালেন? এর শুরুর গল্পটা বলুন।

কাব্য: এই শখের ব্যাপারটি  আমার ছোট বেলা থেকেই সৃষ্টি হয়েছিলো। ছোট বেলায় নিয়মিত আমাদের ঘরে একটা ম্যাগাজিন রাখা হতো, যেটা ছিলো মাসিক প্রকাশিত। আর এই ম্যাগাজিনটি রাখতো আমার বড় ভাইয়া। তো, প্রথম দিকে আমি ম্যাগজিনটির ছড়া,গল্প না পড়লেও এর ভিতরে বিভিন্ন চিত্রাংকণ এবং কার্টুনগুলো সব সময় দেখতাম। এবং এটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগতো। যখন আস্তে আস্তে সময়ের সাথে আমি বড় হতে থাকলাম, তখন আমি ম্যাগাজিনটার ছড়াগুলোও নিয়মিতো পড় শুরু করলাম। তো, যখন পড়া শুরু করলাম তখন আমি লক্ষ্য করলাম ম্যাগাজিনটির অনেক ছড়াই শিশুদের লেখা। যেমন অমুক নাম পঞ্চম শ্রেণী, ছষ্ঠ শ্রেণি এরকম। তো, হঠাৎ করে আমি ভাবলাম আমিও তো পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি, আমি কেনো লিখতে পারবো না। আমার নাম যদি এরকম ম্যাগাজিনে থাকে তাহলে তো বিষয়টি মন্দ না! সেই ভাবনা থেকেই আমি প্রথম ছড়া লিখি। যদিও এখন বুঝতে পারছি আসলে ঐ ছড়াটার ছন্দ তাল কিছুই ঠিক ছিল না। যাই হোক, আমি তো ছড়া লিখে ভীষণ খুশি। তখন খুশিটা আর নিজের কাছে একে আবদ্ধ করে ধরে রাখতে পারলামনা। বন্ধুদের কাছে ছড়াটা শুনালাম। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে তখন সবার কাছ থেকেই আমি অনেক প্রশংসা এবং উৎসাহ পেতে থাকলাম। সেখান থেকেই ছড়া লিখাটা আমার একটা শখের জায়গা দখল করে নিয়েছে।

 

খোশগল্প.কম: তো, সময়ের পরিক্রমায় ছড়ার ছন্দ, অন্তমিল, পর্ব ইত্যাদি বিষয়কে কীভাবে নিজের কাছে কাবু করেছেন।

কাব্য: সবটা কাবু করতে পেরেছি কিনা বলতে পরবেনা। তবে, চেষ্টার ফলে যতটুকু হয়েছে তারি প্রতিফলন আর কি। আমি যখন ক্লাস ফাইভে থাকতে প্রথম ছড়া লিখেছিলাম, তারপরে কিছুদিন কন্টিনিউ করে রেখেছিলাম কিন্তু, তারপরেও একটা বিশাল গ্যাপ তৈরি হয়েছিলো। তারপের আবার ক্লাস এইটের দিকে আবার শুরু করলাম লেখা। কিন্তু, এবারো কিছুদিন লিখে থামতে হয়েছিলো। তো, এভাবেই চলছিলো লিখছি কিছুদিন তো আবার থামছি। ফাইনালি ইন্টরমিডিয়েটে এসে তুমুল ভাবে লিখতে শুরু করলাম। তখন নিজের সকল লেখাই ফেসবুকে আপডেট দিতাম। তো, এতে আমার ফ্রেন্ড লিস্টে অনেক লেখক ছিলো যারা ছড়া লেখা কিংবা ছন্দের নিয়ম কানুন সকল কিছু জানতো। তারা আমাকে অনেকই নক করতো যে, তোমারতো ছড়ার ছন্দ ঠিক হচ্ছেনা। তখন আমি মনে মনে ভাবলাম  এটা আবার কি বলে ছড়া লিখতেও নিয়ম কানুন আছে নাকি! তখন আমি গুগল থেকে  ছন্দ বিষয় এবং এর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে পড়তে থাকলাম। আবার ফেসবুক থেকেও বিভিন্ন লেখক বন্ধুদের কাছ থেকে হেল্প নিতে থাকলাম। তারপর যখন নিজে ভাবলাম যে এসব বিষয়ে আমার মোটামুটি আয়ত্ব হয়েছে। তখন নিয়ম মেনেই লিখতে শুরু করলাম। আর থামিনি। কন্টিনিউ আমি লিখে গেছি এমনকি এখনো লিখছি।

 

খোশগল্প.কম: কন্টিনিউ লেখাটা কিন্তু মানসিক পরিশ্রমের একটা কাজ। আপনি এমন কষ্টের কাজটি কিভাবে সহজ করে রোজ চালিয়ে গিয়েছেন?

কাব্য: আসলে আমি ছোট বেলা থেকেই একটু অন্যরকম ছিলাম। বাহিরের মানুষ কিংবা বাহিরর পরিবেশের সাথে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারতামনা। যার ফলে আমি একটু একা থাকতেই ভালো বাসতাম। এর মানে এই নয় যে আমি সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। সবার কাছে থেকেও নিজেকে আলাদা রাখতে আমার ভালো লাগতো, এমনকি করতামও। আর এর কারণেই আমার নিজস্ব একটা জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে আমি বিভিন্ন বই পড়তাম, ছড়া লিখতাম কিংবা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবেতাম। টোটালি আমার বিস্তর সময়টাকে আমি আমার নিজস্ব জগতেই ব্যাবহার করতাম। তারপরে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে ছিলাম তখন আমি পড়া-লেখার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ি। তো সাইন্স বিভাগে ছিলাম, এখানের বিষয়গুলোতে আমি কম্ফোর্ট ফিল করতাম না। বিশেষ করে ম্যাথ সাবজেক্টের প্রতি আমার তেমন ইন্টারেস্টই ছিলোনা। আর এই কারণেই ইন্টারমিডিয়েটের  ফাইনাল রেজাল্টে আমার অননান্য সাবজেক্ট ভালো রেজাল্ট হলেও আমি এই সাবজেক্টে আমি ব্যর্থ হই। তো তারপরে আমার আমার জগৎটা আরো ফাঁকা হয়ে গেলো। বলতে গেলে আমি একেবারে ঘরকুনো হয়ে গিয়েছিলাম। মনমরা হয়ে রয়েছিলাম কিছুদিন। এ সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের একটা সময় ছিলো। এমনিতে সবার সাথে একটু কম মেশা হতো তার উপরে এমনটা হলো। যেন, নিজেকেই নিজে বুঝাতে পারছিনা। ভাবতে থাকলাম কি করা যায় এখন? যে স্যাররা অনেক আদর করতো হয়তো তারা ভাববে আমি বখে গেছি। এমন হাজার চিন্তা ভাবনা আমার মাথায় ভর করলো। কিন্তু, এ সময়টাতে আমার বড় ভাইয়া আমাকে নানান বুঝিয়েছে যে, আসলে এখানেই ভেঙ্গে পড়লে চলবেনা। এমনটা মানুষের জীবনে ঘটতেই পারে। তারপর সকল কিছু মাথা থেকে তাড়িয়ে এই সময়টাকে কাজে লাগাতে শুরু করলাম ছড়া লিখে। সেখান থেকে একটা লেখার প্রতি একটা গতি সৃষ্টি হয়েছিলে যেটা এখনো থামতে দেইনি।

 

17160474_1152468914875679_179498801_n

 

খোশগল্প.কম: তো, আপনিতো পড়ছেন জার্নালিজম এন্ড মিডিয় স্ট্যাডিজে। যেখানে সবার সাথে কমিনিউকেশনটা মুখ্য বিষয়। কিন্তু, আপনিই বলেছেন আপনি ইন্ট্রোভার্ট। তো, এটা আপনার প্রবলেম হবে কি মনে করেন?

কাব্য: হা..হা..হা.. আসলে ইন্ট্রোভার্ট ছিলাম, এখন নেই। এখন আমি সবার সাথে মিশতেই ভালোবাসি। কতোটুকু পারছি জানিনা তবে সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করছি। আর আমার এমন পরিবর্তনটা এসেছে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে। কারণ যখন ভার্সিটিতে ভর্তি হবো, তখন আমার ইচ্ছাতেই আমাকে এখানে ভর্তি করানো হয়। ভর্তি হওয়ার পর নিজেই ভাবলাম আমার পরিবর্তন আনা দরকার, যেহেতু আমার  এই বিভাগে সবার সাথে কমিনিউকেশনের একটা ব্যাপার আছে। তো, তখন থেকেই আস্তে আস্তে আমার আগের খোলসটাকে বদলাতে চেষ্টা করেছি। ইভেন, এখনও করছি।

 

খোশগল্প.কম:  লাইফের সামনের সময়টা কিভবে কাটাবেন ভাবছেন?

কাব্য: পড়া-লেখা শেষ করে একটা ভালো পত্রিকা কিংবা মিডিয়াতে যুক্ত হবো। আর, তার পাশাপাশি আমি লিখে যাবো আপন মনে।

 

খোশগল্প.কম : ধন্যবাদ আপনাকে, আমাকে সময় দেওয়ার জন্য।

কাব্য: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

 

 

 

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত