কৃষ্ণস্বামী রেভারেণ্ড।  তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের ‘সপ্তপদী’ উপন্যাসের নায়ক হলেও বিনয়ী এই মানুষটি মনে করেন, এই জীবনে তাঁর নিজের কোন অবদান নেই।  কুম্ভকোণম সেবায়তনে যখন তাঁর সাথে কথা হচ্ছিল তখনও চিকিৎসা চলছে কুষ্ঠ রোগের।  প্রথমদিকে দ্রুতবেগেই বেড়েছিল রোগটা।  এখন রোগের গতি রুদ্ধ হয়েছে।  এক সময়ের ফার্স্ট ডিভিশনে আইএসসি পাশ করা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র কৃষ্ণেন্দু এখন মাদ্রাজ উপকূলের এক বিরাট কুষ্ঠাশ্রমে শেষ দিনগুলি কাটাচ্ছেন।  এর মধ্যেই অন্যদের সেবা করে যাচ্ছেন।  সবচেয়ে কঠিন রোগীদের  চিকিৎসা করান তিনি।

 

অতীতের আগুনের তাপে বর্তমানকে পুড়িয়ে কি হবে?

লিখেছেন...admin...এপ্রিল 1, 2017 , 3:01 অপরাহ্ন

খোশগল্প.কম: কালাচাঁদ গুপ্ত থেকে কৃষ্ণেন্দু।  এরপর ধর্মান্তরিত হওয়াতে নাম হলো কৃষ্ণস্বামী রেভারেণ্ড।  এখন তো জনমানুষের ভালোবাসার ‘পাগলা পাদ্রী’।  এতোবার নাম বদলের গল্পগুলো বলবেন?

কৃষ্ণেন্দু: প্রথমবার নাম পাল্টানোর বিষয়টা একেবারেই কম বয়সের গল্প।

আইএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই কোর্টে এফিডেভিট করে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দরখাস্ত করে নাম পাল্টেছিলাম।  এমনিতে সমস্যা ছিলো না।  তবে বাবা-মাকে চিঠিতে জানানোর পর অবশ্য বাবা উত্তর দেননি, মা উত্তর দিয়েছিলেন, ‘বেশ করিয়াছ; তাহাতে আমরা মনে কিছু করি নাই।’
ব্যাপটাইজড হওয়ার পর থেকে আমি কৃষ্ণস্বামী রেভারেণ্ড।  ধর্মান্তরিত হবো এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথমে মনে হয়েছিলো বাবার কথা।  প্রায় সাথে সাথে ট্রেনে করে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।  আমার বাবা স্বল্পবাক গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ।  পূজা আর অর্চনা নিয়ে থাকেন।  ব্যাপটাইজড হবো, রিনাকে ছাড়া বাঁচবো না- এ কথা জানানোর পর তিনি আমাকে এক কথায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, রিনাকে বিয়ে করলে আমি তার কাছে মৃত, তাকে না পেয়ে মারা গেলেও তাই।  বাবা তাঁর কষ্টটুকু অস্বীকার করেননি, কোন ক্রমেই তার ধর্ম বা আচারকে অসম্মান করেননি, আবার আমার উপরে কোন কিছু চাপিয়েও দেননি।  যখন তাঁর কাছ থেকে চলে আসছি, একবার ফিরেও ডাকেন নি।

 

 

খোশগল্প.কম: পরিবারে কে কে আছেন?

কৃষ্ণেন্দু: এই কুম্ভকোণম সেবায়তনে আসার আগে শেষবারের মতো একটা আস্তানা ছিলো বটে! সঙ্গীর মধ্যে কয়েকটা পাখি, দুটি গরু, একটি দম্পতি।  যোসেফ আর সিন্ধু।  আর একটি সাঁওতাল মেয়ে ঝুমকি।  মৃত্যুর আগে আমার শেষ ইচ্ছা বলো আর শেষ দুর্ভাবনাই বলো, সব ওই মেয়েটিকে নিয়ে।  ঝুমকির বিয়ে হয়েছিলো তিনবার।  তিন স্বামীই অল্প দিনের মধ্যে মারা যায়।  তারপর সকলের সন্দেহ হয় ঝুমকি ডাইনী।  সাঁওতালদের সমাজপতিরা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো ওকে।  অনেক কষ্টে বাঁচিয়েছিলাম সেবার।  জানি না মেয়েটির এখন কি হবে!

প্রথম জীবনে পরিবার বলতে ছিলেন মা আর বাবা।  তারা বেশ আগেই পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছিলেন।

 

 

খোশগল্প.কম:  ফুটবল খেলা- কবিতা আবৃত্তি- লেখাপড়া- ডাক্তারি সবকিছুতেই আপনি সফল।  উপন্যাসে নায়ককে ওভারগ্লোরিফাইড করার প্রবণতা থেকেই এই সুবিধাটা পেলেন নাকি এর অন্য কোন ব্যাখ্যা আছে?

কৃষ্ণেন্দু: তুমি যদি বিষয়টাকে সেভাবে দেখতে চাও, আপত্তি নেই।  তবে হ্যাঁ! সেসময় আমার জীবনীশক্তি আর আত্মবিশ্বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে কেউ পারতো না।  আমি যা চাই, আমি তা পাবোই- সে বিশ্বাস আমার মা আমাকে দিয়েছিলেন।  আমার অশুদ্ধ গ্রাম্য উচ্চারণ, অন্য ছেলেমেয়েদের হাসাহাসি, ভাঙা ভাঙা গলা- কোনকিছুতে খেয়ালও ছিলো না, গ্রাহ্যও করতাম না।  সবকিছুতে একটা বিশেষ শক্তিতে নিজেকে ঢেলে দিতাম, ওই সঞ্চিত জলরাশির নিম্নগতিবেগের মত, প্রতিটি জলবিন্দুর শক্তি প্রয়োগের মত আমার দেহমন দুয়েরই প্রতি অণু পরমাণু যা-ই করতাম না কেন, তাতেই তন্ময় হয়ে যেতো।

 

 

খোশগল্প.কম:  জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে পুরীর পথের ধারে সেই আশ্রমে যখন জীবন সুস্থির, তখন আবার নাটকীয়তা।  উপন্যাসের বর্তমানের গল্পটা এই থেকেই শুরু।  এতোদিন পরে রিনা ব্রাউনের সাথে দেখা হওয়ার প্রথম অনুভূতি কেমন ছিলো?

কৃষ্ণেন্দু:  জীবনের বন্ধ-করা ঘরে যেন ভিতর থেকে ঘা পড়লো।  কে যেন মাথা ঠুকছিলো।  আমাকে যে ফিরিয়ে দিলো ঈশ্বরের অজুহাতে, সেই রিনা আজ ঈশ্বর পরিত্যক্ত! এই রিনাকে দেখে সেই রিনাকে ভুলবো কী করে? মরুভুমির মধ্যে যে নদীটি আগে বইত- তার স্মৃতি কি ভোলা যায়?

 

 

খোশগল্প.কম:  হুমমম…. পরিচয় হলো, তিক্ততাও কাটলো। প্রণয় জাগলো হৃদয়ের গহীন গোপনে, তবে বন্ধুর মনোনীতা বধূর সাথে প্রেম হলো না। তাহলে প্রেম এলো কবে, কিভাবে?

কৃষ্ণেন্দু: Its strikes where it doth love. She wakes.

আমাদের প্রথম পরিচয়টা কিছুটা তিক্ততার, ছেলেমানুষী ভুলে ভরা।  তবুও কিভাবে যেন দুজনের বিরোধের মধ্যে আশ্চর্যভাবে সেতু গড়ে উঠেছিলো।  তবে আমার অনুভূতি তাকে জানানোর মুহূর্তের একটা গল্প আছে।

ক্লেটন পাস করলো।  নূতন চাকরি নিয়ে চলে যাবে।  ক্লেটনের উদ্যোগেই ওথেলোর সেই দৃশ্যটি অভিনীত হল।  তারই প্রস্তাবে আমি ওথেলো ডেসডিমোনা রিনা।  একটি বিশেষ দৃশ্যে প্রথমবারের মতো সেই আবেগের স্পর্শ। প্রখর স্পষ্ট হয়ত নয়, তবু অন্ধকারাবৃতের মত অব্যক্ত নয়।  ‍কুয়াশার মধ্যে বর্ণের আভাসের মত অস্পষ্ট। অস্পষ্ট থাকলেও অজ্ঞাত নয় পরস্পরের কাছে। এরপর দুজনের দেখা হলেই একটা কম্পন বুকের মধ্যে অনুভূত হতো।  রিনার সাথে সপ্তপদ হাঁটা হয়নি।  ওপথে আর পদক্ষেপ করব না স্থির করেছিলাম, কারণ রিনা ক্লেটনের মনোনীতা বধূ।  বাবা মায়ের চিঠির কথা না মেনেও সাবধান হলাম। পরদিন থেকে রিনাদের বাড়ি যাওয়া ছেড়ে দিলাম।

 

 

খোশগল্প.কম:  রিনা ব্রাউনের প্রথম জীবনের প্রথমবার আঘাতের ঘটনার সাথে আপনার জীবন জড়িয়ে গেলো। পরিণতি কি ছিলো সেই সংঘাতের?

কৃষ্ণেন্দু:  দেখো, মূল আঘাতটা কিন্তু রিনা, ক্লেটনের কাছ থেকে পায়নি।  আমি ধর্মান্তরিত হয়েছি এটা তার কাছে ভয়াবহ কষ্টের ছিল বৈকি তবে তার জন্মের সত্য ঘটনাটাই তাকে একেবারে ছিঁড়েখুঁড়ে দিল।  তার ব্যভিচারী জন্মদাতা ব্রাউন বলেছিল-রিনার ধর্মে অধিকার নেই-ঈশ্বরে অধিকার নেই-পবিত্রতায় অধিকার নেই। সব অধিকার হারিয়ে সে ঝাঁপ দিলো নরককুণ্ডে।  আর আমি? আমি কৃষ্ণস্বামী হয়ে অরণ্য অঞ্চলে রোগীর চিকিৎসা এবং কুষ্ঠ রোগীর সেবার মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দিলাম। ঈশ্বরকে পেতে হবে, এই-ই জীবনের একমাত্র গন্তব্য।

 

 

17760269_619682831568314_233463328_n

‘সপ্তপদী’ উপন্যাসে নির্মিত চলচ্চিত্রের একটি মূহুর্ত

 

 

খোশগল্প.কম: রিনা ব্রাউনের প্রত্যাখান বলয়ের কোন বিষয়টি আপনাকে তীব্রভাবে এবং সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিলো?

কৃষ্ণেন্দু: রিনা বলেছিল, ‘বিশেষ ধর্মকে অতিক্রম করে মানুষ নির্বিশেষে মানবধর্মে পৌঁছেছে। মানুষ একজনের জন্য নয়, একটি নারীকে বা একটি পুরুষকে পাবার জন্য নয়, সকল মানুষকে আপনার বলে পাবার জন্য। ‘ আমার ঈশ্বরকে ত্যাগ করলাম আমি, সে অপরাধে রিনাও ত্যাগ করল আমাকে।  আমার মনে হল, যে ঈশ্বরকে উপেক্ষা করার জন্য রিনা আমাকে ভয় করেছিল, সে ঈশ্বরকে পেতেই হবে। তাকে খুঁজেছি।  তার সন্ধানও পেয়েছি।  মানুষের বস্তুময় দেহের মধ্যে তাঁকে তপস্যারত দেখেছি।

 

 

খোশগল্প.কম: এখানে দু’টো চরিত্রের চারিত্রিক ইমব্যালেন্সের ব্যাপার রয়েছে। একেবারে সংখ্যারেখার ধনাত্মক দিক থেকে দ্বিগুণ বেগে ঋণাত্মক মানে প্যেঁছানো। একজন ধাক্কা খেয়ে জীবনকে এলামেলো করে দিলো, আরেকজন ধাক্কা খেয়ে উঠে দাঁড়ালো। লোকে রিনা ব্রাউনের করুণ অবস্থার জন্য নিয়তিকে দায়ী করতে পারে। কিন্তু সব হারানোর যন্ত্রণাতো আপনারও ছিলো। একজন জীবনের নিষ্ঠুরতাকে মানতে না পেরে নিজেও নিষ্ঠুরতা অর্জন করলো, আরেকজন মহানুভবতা। এই বিষয়টিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

কৃষ্ণেন্দু: যে বিষয়টির উল্লেখ করে তোমরা আমাকে মহানুভব সাজাতে চাইছো, তার শতভাগ কৃতিত্বই যে রিনা ব্রাউনের! আগেকার কৃষ্ণেন্দু ছিল মায়ের গোপাল। সংসারের সব জিনিসে ছিল তারই অগ্রাধিকার।  সে নিতেই জানত, দিতে জানত না।  শেখে নি।  প্রথম দিতে শিখলাম, রিনার হাতে নিজেকে দিয়ে। রিনা আমাকে ঠেলে দিল ঈশ্বর সন্ধানের পথে।  বিজ্ঞান যদি বলে ফ্রাস্টেশনের পথে তো বলুক, হয়তো একটু হাসবো, তবে প্রতিবাদ করবো না। 

 

 

খোশগল্প.কম: আপনার জীবনের আমূল পরিবর্তনের সকল কৃতিত্ব রিনা ব্রাউনেরই? আদৌ কি ঈশ্বর ছিলেন রিনার মাঝে কখনোই?

কৃষ্ণেন্দু: ছিল। নিশ্চয়ই ছিল।  হিন্দুপুরাণ মহাভারতের কুন্তীর কুমারী জীবনের সন্তান- কর্ণ কবচকুণ্ডল নিয়ে জন্মেছিল। রিনার জন্মগত ঈশ্বরবিশ্বাসও তাই। কর্ণ কবচকুণ্ডল দান করে মৃত্যুবরণ করেছিল। রিনা তার ঈশ্বরবিশ্বাস আমাকে দিয়ে তাপসী হয়ে গেলো।  নিজের জীবনে নিঃস্ব হয়ে গেল।  হয়তো আমার আগের জীবনের অবিশ্বাস রিক্ততা তিক্ততা হাহাকার-ভয়ঙ্করতা নিয়ে গেলো নিজের সাথে।

 

 

খোশগল্প.কম: কৃষ্ণেন্দুর সাথে পরিচয়, এরপর ঝোড়ো জীবনকে-নিজেকে দিন দিন শেষ করে দেওয়া এবং শেষ পর্বে হ্যাপি এন্ডিং- রিনা ব্রাউনের জীবনের এই তিন পর্বের মাঝের সময়টাতে আপনাকে সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলো না। এমনকি খুন করে হলেও আপনার কাছ থেকে মানসিক নিষ্কৃতি চাইছিলো। তার এতো অস্থিরতার কারণ কি ছিলো?

কৃষ্ণেন্দু: অনুতাপবোধ।  ঈশ্বরকে হারিয়ে, বিশ্বাস হারিয়ে নিঃস্ব রিনা ভেবেছিল আমি এই মিথ্যা জীবন, মৃত ঈশ্বরের পথ বেছে নিয়েছি শুধুমাত্র তার জন্য।  ঈশ্বরকে একদা উপেক্ষা করেছিলাম, আজ সেই আমাকে ঈশ্বরসন্ধানী দেখে রিনা ভয় পেল, সঙ্কুচিত হয়ে গেল, হিংস্র হয়ে উঠল মানুষ দেখে সরীসৃপের মত।  সে বারবার একটি ভাবনাই ভেবেছে,-‘জীবনটাকে নষ্ট করলে কৃষ্ণেন্দু! আই অ্যাম দি কজ আই অ্যাম দি কজ। ঈশ্বর নেই। নাথিং ইজ সিন-পাপ নেই, পুণ্য নেই, ঈশ্বর নেই। ‘

 

 

খোশগল্প.কম: ‘শুনেছিনু প্রেমের পাথার/ নাই কো তাহার কোন দিশা/ শুনেছিনু প্রেমের মধ্যে/ অসীম ক্ষুধা, অসীম তৃষা’ – সাধারণত প্রেম বলতে তো এমনই জানি সবাই! তাহলে রিনা ব্রাউনের কাছে সেই মুহূর্তে ধর্ম কেন এতো বড় হয়ে দাঁড়ালো? কেন আপনার প্রতি ভালোবাসা সমাজ সংসার সবকিছুকে ছাপিয়ে যেতে পারলো না? এক মুহূর্তের জন্যেও কি আপনার কাছে রিনার ভালোবাসাকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ভাবতে ইচ্ছে করেনি?

কৃষ্ণেন্দু: এমনটা ভাবতে ইচ্ছে করে না।  প্রেমের বৈচিত্র্যময়তা আছে, রকমফের আছে।  রিনার আর আমার প্রেমের-পরিণয়ের উপযোগী মুহূর্তগুলো আহত হওয়ার পেছনে পরিস্থিতিরও দায় আছে।  সেই অন্ধকার সময়টা না এলে কি ঘটতো তা-ও বলা যায় না।  ক্লেটনও তো ফিরে এসেছিলো দ্বিতীয়বার। মৃতপ্রায় রিনাকে এক মাস প্রাণপণে সেবা করে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলেছিল।  তার ভালবাসা নিয়ে কি এখন প্রশ্ন তোলা ঠিক? অতীতের আগুনের তাপে বর্তমানকে পুড়িয়ে কি হবে?

 

 

(বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে চলে আসার সময় তার শারীরিক অবস্থার খবর জানতে চাইলাম।  বিশ্রাম হচ্ছে কি না, আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে খানকিটা হেসে শান্ত কন্ঠে কৃষ্ণস্বামী রেভারেণ্ড বললেন, ‘আই এ্যাম হিয়ার টু বি ক্রুশিফায়েড এগেন’)

 

 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সপ্তপদী’ বইটি কিনতে চাইলে-

https://www.rokomari.com/book/40815

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Pin on Pinterest0

মতামত